আর-রাদ · 34/43
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আর-রাদ
لَّهُمْ عَذَابٌ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا ۖ وَلَعَذَابُ الْآخِرَةِ أَشَقُّ ۖ وَمَا لَهُم مِّنَ اللَّهِ مِن وَاقٍ ۝٣٤
Lahum `azaabun fil hayaatid dunyaa wa la`azaabul Aakhirati ashaaq, wa maa lahum minal laahi min-waaq
📖 বাংলা অর্থ
দুনিয়ার জীবনেই এদের জন্য রয়েছে আযাব এবং অতি অবশ্য আখেরাতের জীবন কঠোরতম। আল্লাহর কবল থেকে তাদের কোন রক্ষাকারী নেই।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

لَّهُمْ عَذَابٌ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا ۖ وَلَعَذَابُ الْآخِرَةِ أَشَقُّ ۖ وَمَا لَهُم مِّنَ اللَّهِ مِن وَاقٍ

শব্দার্থ:

  • عَذَابٌ — শাস্তি, যন্ত্রণা।
  • الْحَيَاةِ الدُّنْيَا — পার্থিব জীবন।
  • أَشَقُّ — অধিকতর কঠিন, মারাত্মক ও ভয়াবহ।
  • وَاقٍ — রক্ষাকারী, বাঁচানোর ব্যবস্থা, প্রতিরোধক।

তাফসীর (ব্যাখ্যা):

যারা আল্লাহর পথে বাধা সৃষ্টি করে এবং তাঁর রাসূলদের প্রতি সত্য প্রত্যাখ্যান করে, তাদের জন্য এই দুনিয়াতেই রয়েছে কঠিন শাস্তি। মুমিনদের হাতে তাদের হত্যা, বন্দিত্ব, লাঞ্ছনা ও অপমানের মাধ্যমে এই শাস্তি প্রকাশ পায়। তবে আখিরাতের শাস্তি এর চেয়ে অনেক বেশি কঠিন, ভয়াবহ ও স্থায়ী। দুনিয়ার শাস্তি সাময়িক, কিন্তু আখিরাতের শাস্তি চিরস্থায়ী এবং তাতে রয়েছে চরম যন্ত্রণা ও লজ্জা। কেয়ামতের দিন তাদের জন্য আল্লাহর শাস্তি থেকে রক্ষা করার কোনো ব্যবস্থা থাকবে না—কোনো অভিভাবক, সুপারিশকারী বা শক্তি তাদেরকে সে শাস্তি থেকে বাঁচাতে পারবে না।

শিক্ষা ও উপকারিতা:

  1. এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, আল্লাহর অবাধ্যতা ও সত্য প্রত্যাখ্যানের পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ—দুনিয়াতেও এবং আখিরাতেও।
  2. মুমিনদের জন্য এটি একটি সান্ত্বনা যে, আল্লাহ তাদের শত্রুদের দুনিয়াতেই শাস্তি দেন এবং আখিরাতে তাদের জন্য আরও কঠিন শাস্তি অপেক্ষমান।
  3. এটি আমাদেরকে আল্লাহর শাস্তি থেকে বাঁচার জন্য তাঁরই দিকে ফিরে আসার শিক্ষা দেয়। আল্লাহ ছাড়া কোনো রক্ষাকারী নেই, তাই আমাদের উচিত কেবল তাঁরই আনুগত্য করা এবং তাঁরই সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করা।
  4. আখিরাতের শাস্তির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে কুরআন আমাদেরকে দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের মোহে বিভ্রান্ত না হওয়ার সতর্ক করে দেয়।


📜 আয়াত 32-36 — সূরা আর-রাদ

32وَلَقَدِ اسْتُهْزِئَ بِرُسُلٍ مِّن قَبْلِكَ فَأَمْلَيْتُ لِلَّذِينَ كَفَرُوا ثُمَّ أَخَذْتُهُمْ ۖ فَكَيْفَ كَانَ عِقَابِ
আপনার পূর্বে কত রাসূলের সাথে ঠাট্টা করা হয়েছে। অতঃপর আমি কাফেরদেরকে কিছু অবকাশ দিয়েছি। , এর পর তাদেরকে পাকড়াও করেছি। অতএব কেমন ছিল আমার শাস্তি।
33أَفَمَنْ هُوَ قَائِمٌ عَلَىٰ كُلِّ نَفْسٍ بِمَا كَسَبَتْ ۗ وَجَعَلُوا لِلَّهِ شُرَكَاءَ قُلْ سَمُّوهُمْ ۚ أَمْ تُنَبِّئُونَهُ بِمَا لَا يَعْلَمُ فِي الْأَرْضِ أَم بِظَاهِرٍ مِّنَ الْقَوْلِ ۗ بَلْ زُيِّنَ لِلَّذِينَ كَفَرُوا مَكْرُهُمْ وَصُدُّوا عَنِ السَّبِيلِ ۗ وَمَن يُضْلِلِ اللَّهُ فَمَا لَهُ مِنْ هَادٍ
ওরা প্রত্যেকেই কি মাথার উপর স্ব স্ব কৃতকর্ম নিয়ে দন্ডায়মান নয়? এবং তারা আল্লাহর জন্য অংশীদার সাব্যস্ত করে। বলুন; নাম বল অথবা খবর দাও পৃথিবীর এমন কিছু জিনিস সম্পর্কে যা তিনি জানেন না? অথবা অসার কথাবার্তা বলছ? বরং সুশোভিত করা হয়েছে কাফেরদের জন্যে তাদের প্রতারণাকে এবং তাদেরকে সৎপথ থেকে বাধা দান করা হয়েছে। আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তার কোন পথ প্রদর্শক নেই।
34لَّهُمْ عَذَابٌ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا ۖ وَلَعَذَابُ الْآخِرَةِ أَشَقُّ ۖ وَمَا لَهُم مِّنَ اللَّهِ مِن وَاقٍ
দুনিয়ার জীবনেই এদের জন্য রয়েছে আযাব এবং অতি অবশ্য আখেরাতের জীবন কঠোরতম। আল্লাহর কবল থেকে তাদের কোন রক্ষাকারী নেই।
35۞ مَّثَلُ الْجَنَّةِ الَّتِي وُعِدَ الْمُتَّقُونَ ۖ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ ۖ أُكُلُهَا دَائِمٌ وَظِلُّهَا ۚ تِلْكَ عُقْبَى الَّذِينَ اتَّقَوا ۖ وَّعُقْبَى الْكَافِرِينَ النَّارُ
পরহেযগারদের জন্যে প্রতিশ্রুত জান্নাতের অবস্থা এই যে, তার নিম্নে নির্ঝরিণীসমূহ প্রবাহিত হয়। তার ফলসমূহ চিরস্থায়ী এবং ছায়াও। এটা তাদের প্রতিদান, যারা সাবধান হয়েছে এবং কাফেরদের প্রতিফল অগ্নি।
36وَالَّذِينَ آتَيْنَاهُمُ الْكِتَابَ يَفْرَحُونَ بِمَا أُنزِلَ إِلَيْكَ ۖ وَمِنَ الْأَحْزَابِ مَن يُنكِرُ بَعْضَهُ ۚ قُلْ إِنَّمَا أُمِرْتُ أَنْ أَعْبُدَ اللَّهَ وَلَا أُشْرِكَ بِهِ ۚ إِلَيْهِ أَدْعُو وَإِلَيْهِ مَآبِ
এবং যাদেরকে আমি গ্রন্থ দিয়েছি, তারা আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে, তজ্জন্যে আনন্দিত হয় এবং কোন কোন দল এর কোন কোন বিষয় অস্বীকার করে। বলুন, আমাকে এরূপ আদেশই দেয়া হয়েছে যে, আমি আল্লাহর এবাদত করি। এবং তাঁর সাথে অংশীদার না করি। আমি তাঁর দিকেই দাওয়াত দেই এবং তাঁর কাছেই আমার প্রত্যাবর্তন।
আর-রাদকুরআন সূচী
43আয়াত
মাদানীঅবতরণস্থান
34আয়াত

অনুবাদ — আর-রাদ 34

সূরা আর-রাদ আয়াত 34 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : দুনিয়ার জীবনেই এদের জন্য রয়েছে আযাব এবং অতি অবশ্য আখেরাতের…

সূরা আয়াত 34/43 — সূরা আর-রাদ الرعد (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আর-রাদ শুনুন, সূরা আর-রাদ অনুবাদ, সূরা আর-রাদ mp3, সূরা আর-রাদ pdf. আয়াত 32–36. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Monday, September 28, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না