আল-ইসরা · 58/111
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আল-ইসরা
وَإِن مِّن قَرْيَةٍ إِلَّا نَحْنُ مُهْلِكُوهَا قَبْلَ يَوْمِ الْقِيَامَةِ أَوْ مُعَذِّبُوهَا عَذَابًا شَدِيدًا ۚ كَانَ ذَٰلِكَ فِي الْكِتَابِ مَسْطُورًا ۝٥٨
Wa im min qaryatin illaa Nahnu muhlikoohaa qabla Yawmil Qiyaamati aw mu`az ziboohaa `azaaban shadeedaa; kaana zaalika fil Kitaabi mastooraa
📖 বাংলা অর্থ
এমন কোন জনপদ নেই, যাকে আমি কেয়ামত দিবসের পূর্বে ধ্বংস করব না অথবা যাকে কঠোর শাস্তি দেব না। এটা তো গ্রন্থে লিপিবদ্ধ হয়ে গেছে।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • ক্বারিয়াহ (قَرْيَةٍ): জনপদ, শহর বা গ্রাম।
  • মুহলিকূহা (مُهْلِكُوهَا): আমরা তাকে ধ্বংসকারী।
  • মু‘আযযিবূহা (مُعَذِّبُوهَا): আমরা তাকে শাস্তিদানকারী।
  • আযাবান শাদীদান (عَذَابًا شَدِيدًا): কঠিন শাস্তি।
  • মাসতূরান (مَسْطُورًا): লিখিত, নির্ধারিত।

তাফসীর:

আল্লাহ তাআলা এই আয়াতে কাফির ও সত্য প্রত্যাখ্যানকারী জনপদসমূহকে সতর্ক করেছেন যে, কিয়ামতের পূর্বে প্রতিটি কুফরী ও অবাধ্য জনপদকে অবশ্যই শাস্তি ভোগ করতে হবে। হয় তাদেরকে ধ্বংস করে দেওয়া হবে—মৃত্যু, ভূমিকম্প, বন্যা বা অন্য কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাধ্যমে; অথবা তাদের ওপর কঠিন শাস্তি নাযিল করা হবে—যেমন যুদ্ধ, হত্যা, দুর্ভিক্ষ বা অন্য কোনো বালা-মুসিবতের মাধ্যমে। এই শাস্তি তাদের কুফরী ও পাপাচারের কারণে হবে, যতক্ষণ না তারা ঈমান আনে এবং তাওবা করে। তবে যারা ঈমান এনে সৎকর্ম করে, তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও রহমত।

এই প্রতিশ্রুতি বা শাস্তি কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়; বরং এটি আল্লাহর চিরন্তন বিধান ও ন্যায়নীতি অনুযায়ী নির্ধারিত। এটি ‘লাওহে মাহফুজে’ লিখিত রয়েছে, যা কখনো পরিবর্তন হয় না। প্রতিটি জাতির জন্য তার কর্ম অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে এই শাস্তি কার্যকর হবে। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি সুনির্দিষ্ট ও অনিবার্য প্রতিশ্রুতি, যা তিনি তাঁর প্রজ্ঞা ও ন্যায়বিচার অনুযায়ী বাস্তবায়ন করেন।

শিক্ষা ও উপকারিতা:

  1. আল্লাহর শাস্তি থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় হলো ঈমান আনা, তাওবা করা এবং সৎকর্ম করা। যে জাতি আল্লাহর আদেশ অমান্য করে, তার জন্য ধ্বংস অনিবার্য।
  2. এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, আল্লাহর বিধান অপরিবর্তনীয় এবং তাঁর প্রতিশ্রুতি সত্য। তাই আমাদের উচিত আল্লাহর আদেশ মেনে চলা এবং তাঁর রহমতের আশা রাখা।
  3. এটি মুমিনদের জন্য সান্ত্বনা যে, জালিম ও কাফিরদের শাস্তি অবশ্যই আসবে, যদিও তা দেরিতে হয়। আল্লাহ কখনো অত্যাচারীকে ছেড়ে দেন না।
  4. এই আয়াত আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী এবং প্রতিটি জাতি বা ব্যক্তিকে তার কর্মের ফল ভোগ করতে হবে। তাই আমাদের উচিত দুনিয়ার মোহে বিভ্রান্ত না হয়ে আখিরাতের প্রস্তুতি নেওয়া।
  5. এটি আল্লাহর প্রতি ভয় ও ভালোবাসা সৃষ্টি করে—ভয় তাঁর শাস্তির, আর ভালোবাসা তাঁর রহমতের প্রতি, যা তাওবা ও ঈমানের মাধ্যমে অর্জিত হয়।


📜 আয়াত 56-60 — সূরা আল-ইসরা

56قُلِ ادْعُوا الَّذِينَ زَعَمْتُم مِّن دُونِهِ فَلَا يَمْلِكُونَ كَشْفَ الضُّرِّ عَنكُمْ وَلَا تَحْوِيلًا
বলুনঃ আল্লাহ ব্যতীত যাদেরকে তোমরা উপাস্য মনে কর, তাদেরকে আহবান কর। অথচ ওরা তো তোমাদের কষ্ট দুর করার ক্ষমতা রাখে না এবং তা পরিবর্তনও করতে পারে না।
57أُولَٰئِكَ الَّذِينَ يَدْعُونَ يَبْتَغُونَ إِلَىٰ رَبِّهِمُ الْوَسِيلَةَ أَيُّهُمْ أَقْرَبُ وَيَرْجُونَ رَحْمَتَهُ وَيَخَافُونَ عَذَابَهُ ۚ إِنَّ عَذَابَ رَبِّكَ كَانَ مَحْذُورًا
যাদেরকে তারা আহবান করে, তারা নিজেরাই তো তাদের পালনকর্তার নৈকট্য লাভের জন্য মধ্যস্থ তালাশ করে যে, তাদের মধ্যে কে নৈকট্যশীল। তারা তাঁর রহমতের আশা করে এবং তাঁর শাস্তিকে ভয় করে। নিশ্চয় আপনার পালনকর্তার শাস্তি ভয়াবহ।
58وَإِن مِّن قَرْيَةٍ إِلَّا نَحْنُ مُهْلِكُوهَا قَبْلَ يَوْمِ الْقِيَامَةِ أَوْ مُعَذِّبُوهَا عَذَابًا شَدِيدًا ۚ كَانَ ذَٰلِكَ فِي الْكِتَابِ مَسْطُورًا
এমন কোন জনপদ নেই, যাকে আমি কেয়ামত দিবসের পূর্বে ধ্বংস করব না অথবা যাকে কঠোর শাস্তি দেব না। এটা তো গ্রন্থে লিপিবদ্ধ হয়ে গেছে।
59وَمَا مَنَعَنَا أَن نُّرْسِلَ بِالْآيَاتِ إِلَّا أَن كَذَّبَ بِهَا الْأَوَّلُونَ ۚ وَآتَيْنَا ثَمُودَ النَّاقَةَ مُبْصِرَةً فَظَلَمُوا بِهَا ۚ وَمَا نُرْسِلُ بِالْآيَاتِ إِلَّا تَخْوِيفًا
পূর্ববর্তীগণ কতৃꦣ2453; নিদর্শন অস্বীকার করার ফলেই আমাকে নিদর্শনাবলী প্রেরণ থেকে বিরত থাকতে হয়েছে। আমি তাদেরকে বোঝাবার জন্যে সামুদকে উষ্ট্রী দিয়েছিলাম। অতঃপর তারা তার প্রতি জুলুম করেছিল। আমি ভীতি প্রদর্শনের উদ্দেশেই নিদর্শন প্রেরণ করি।
60وَإِذْ قُلْنَا لَكَ إِنَّ رَبَّكَ أَحَاطَ بِالنَّاسِ ۚ وَمَا جَعَلْنَا الرُّؤْيَا الَّتِي أَرَيْنَاكَ إِلَّا فِتْنَةً لِّلنَّاسِ وَالشَّجَرَةَ الْمَلْعُونَةَ فِي الْقُرْآنِ ۚ وَنُخَوِّفُهُمْ فَمَا يَزِيدُهُمْ إِلَّا طُغْيَانًا كَبِيرًا
এবং স্মরণ করুন, আমি আপনাকে বলে দিয়েছিলাম যে, আপনার পালনকর্তা মানুষকে পরিবেষ্টন করে রেখেছেন এবং যে দৃশ্য আমি আপনাকে দেখিয়েছি তাও কোরআনে উল্লেখিত অভিশপ্ত বৃক্ষ কেবল মানুষের পরীক্ষার জন্যে। আমি তাদেরকে ভয় প্রদর্শন করি। কিন্তু এতে তাদের অবাধ্যতাই আরও বৃদ্ধি পায়।
আল-ইসরাকুরআন সূচী
111আয়াত
মাক্কীঅবতরণস্থান
58আয়াত

অনুবাদ — আল-ইসরা 58

সূরা আল-ইসরা আয়াত 58 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : এমন কোন জনপদ নেই, যাকে আমি কেয়ামত দিবসের পূর্বে ধ্বংস…

সূরা আয়াত 58/111 — সূরা আল-ইসরা الإسراء (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আল-ইসরা শুনুন, সূরা আল-ইসরা অনুবাদ, সূরা আল-ইসরা mp3, সূরা আল-ইসরা pdf. আয়াত 56–60. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Monday, September 28, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না