আল-ইসরা · 57/111
অনুবাদ উচ্চারণ — আল-ইসরা
أُولَٰئِكَ الَّذِينَ يَدْعُونَ يَبْتَغُونَ إِلَىٰ رَبِّهِمُ الْوَسِيلَةَ أَيُّهُمْ أَقْرَبُ وَيَرْجُونَ رَحْمَتَهُ وَيَخَافُونَ عَذَابَهُ ۚ إِنَّ عَذَابَ رَبِّكَ كَانَ مَحْذُورًا ۝٥٧
Ulaaa`ikal lazeena yad`oona yabtaghoona ilaa Rabbihimul waseelata ayyuhum aqrabu wa yarjoona rahmatahoo wa yakhaafoona `azaabah; inna `azaaba rabbika kaana mahzooraa
📖 বাংলা অর্থ
যাদেরকে তারা আহবান করে, তারা নিজেরাই তো তাদের পালনকর্তার নৈকট্য লাভের জন্য মধ্যস্থ তালাশ করে যে, তাদের মধ্যে কে নৈকট্যশীল। তারা তাঁর রহমতের আশা করে এবং তাঁর শাস্তিকে ভয় করে। নিশ্চয় আপনার পালনকর্তার শাস্তি ভয়াবহ।
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • الْوَسِيلَةَ (ওয়াসিলা) — অর্থ: নৈকট্য, আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের উপায় বা মাধ্যম।
  • يَبْتَغُونَ (ইয়াবতাগূনা) — অর্থ: তারা অন্বেষণ করে, চেষ্টা করে।
  • مَحْذُورًا (মাহযুরান) — অর্থ: ভয়ংকর, যা থেকে সতর্ক থাকা আবশ্যক।

তাফসির (ব্যাখ্যা):

এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা মুশরিকদের সেই ভ্রান্ত ধারণার খণ্ডন করেছেন, যারা নবী, আউলিয়া বা ফেরেশতাদেরকে আল্লাহর সঙ্গে শরিক করে ডাকে এবং তাদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে। আল্লাহ বলেন, যাদেরকে তারা আল্লাহ ছাড়া ডাকে — তারা নিজেরা তো আল্লাহরই বান্দা। তারা নিজেরা সাধ্যমতো সৎকর্মের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করে এবং প্রতিযোগিতায় লিপ্ত থাকে যে, কে আল্লাহর বেশি নৈকট্য অর্জন করতে পারে। তারা আল্লাহর রহমতের আশা করে এবং তাঁর শাস্তিকে ভয় করে। অর্থাৎ, তারা নিজেরাই আল্লাহমুখী, আল্লাহর অনুগ্রহের মুখাপেক্ষী এবং তাঁর শাস্তির ভয়ে কাঁপে। তারা তো কারও ইবাদত বা ডাকের যোগ্য নয়; বরং তারা নিজেরাই আল্লাহর দাস।

আর হে নবী! তোমার রবের শাস্তি অত্যন্ত ভয়ংকর ও কঠিন, যা থেকে প্রত্যেক বান্দার সতর্ক থাকা উচিত। এমনকি নবী-রাসূল ও ফেরেশতারাও তাঁর শাস্তিকে ভয় করেন। সুতরাং যারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্যকে ডাকে, তারা নিজেরাই তো অসহায় — তারা কিভাবে অন্যকে সাহায্য করবে?

শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ডাকা বা তাদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা সম্পূর্ণ ভুল ও শিরক। কারণ, তারা নিজেরাই আল্লাহর মুখাপেক্ষী।
  2. আল্লাহর নৈকট্য লাভের একমাত্র পথ হলো সৎকর্ম ও তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন — কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে মাধ্যম বানিয়ে নয়।
  3. আল্লাহর রহমতের আশা এবং শাস্তির ভয় — এই দুটি বিষয়ই একজন মুমিনের হৃদয়ে সর্বদা থাকা চাই। আশা ও ভয়ের ভারসাম্যই ঈমানের প্রকৃত চিত্র।
  4. আল্লাহর শাস্তি এতই কঠিন যে, নবী ও ফেরেশতারাও তা ভয় করেন। তাই আমাদের উচিত আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে চলা এবং তাঁর শাস্তি থেকে বাঁচার চেষ্টা করা।
  5. এই আয়াত মুমিনদের জন্য অত্যন্ত সান্ত্বনার বিষয় — আল্লাহর রহমতের দরজা সবার জন্য খোলা, যদি কেউ আন্তরিকভাবে তাঁর দিকে ফিরে আসে এবং সৎকর্ম করে।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 55-59 — আল-ইসরা

55وَرَبُّكَ أَعْلَمُ بِمَن فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۗ وَلَقَدْ فَضَّلْنَا بَعْضَ النَّبِيِّينَ عَلَىٰ بَعْضٍ ۖ وَآتَيْنَا دَاوُودَ زَبُورًا
আপনার পালনকর্তা তাদের সম্পর্কে ভালভাবে জ্ঞাত আছেন, যারা আকাশসমূহে ও ভুপৃষ্ঠে রয়েছে। আমি তো কতক পয়গম্বরকে কতক পয়গম্বরের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি এবং দাউদকে যবুর দান করেছি।
56قُلِ ادْعُوا الَّذِينَ زَعَمْتُم مِّن دُونِهِ فَلَا يَمْلِكُونَ كَشْفَ الضُّرِّ عَنكُمْ وَلَا تَحْوِيلًا
বলুনঃ আল্লাহ ব্যতীত যাদেরকে তোমরা উপাস্য মনে কর, তাদেরকে আহবান কর। অথচ ওরা তো তোমাদের কষ্ট দুর করার ক্ষমতা রাখে না এবং তা পরিবর্তনও করতে পারে না।
57أُولَٰئِكَ الَّذِينَ يَدْعُونَ يَبْتَغُونَ إِلَىٰ رَبِّهِمُ الْوَسِيلَةَ أَيُّهُمْ أَقْرَبُ وَيَرْجُونَ رَحْمَتَهُ وَيَخَافُونَ عَذَابَهُ ۚ إِنَّ عَذَابَ رَبِّكَ كَانَ مَحْذُورًا
যাদেরকে তারা আহবান করে, তারা নিজেরাই তো তাদের পালনকর্তার নৈকট্য লাভের জন্য মধ্যস্থ তালাশ করে যে, তাদের মধ্যে কে নৈকট্যশীল। তারা তাঁর রহমতের আশা করে এবং তাঁর শাস্তিকে ভয় করে। নিশ্চয় আপনার পালনকর্তার শাস্তি ভয়াবহ।
58وَإِن مِّن قَرْيَةٍ إِلَّا نَحْنُ مُهْلِكُوهَا قَبْلَ يَوْمِ الْقِيَامَةِ أَوْ مُعَذِّبُوهَا عَذَابًا شَدِيدًا ۚ كَانَ ذَٰلِكَ فِي الْكِتَابِ مَسْطُورًا
এমন কোন জনপদ নেই, যাকে আমি কেয়ামত দিবসের পূর্বে ধ্বংস করব না অথবা যাকে কঠোর শাস্তি দেব না। এটা তো গ্রন্থে লিপিবদ্ধ হয়ে গেছে।
59وَمَا مَنَعَنَا أَن نُّرْسِلَ بِالْآيَاتِ إِلَّا أَن كَذَّبَ بِهَا الْأَوَّلُونَ ۚ وَآتَيْنَا ثَمُودَ النَّاقَةَ مُبْصِرَةً فَظَلَمُوا بِهَا ۚ وَمَا نُرْسِلُ بِالْآيَاتِ إِلَّا تَخْوِيفًا
পূর্ববর্তীগণ কতৃꦣ2453; নিদর্শন অস্বীকার করার ফলেই আমাকে নিদর্শনাবলী প্রেরণ থেকে বিরত থাকতে হয়েছে। আমি তাদেরকে বোঝাবার জন্যে সামুদকে উষ্ট্রী দিয়েছিলাম। অতঃপর তারা তার প্রতি জুলুম করেছিল। আমি ভীতি প্রদর্শনের উদ্দেশেই নিদর্শন প্রেরণ করি।
আল-ইসরাকুরআন সূচী
111আয়াত
মাক্কীRevelation
57আয়াত

অনুবাদ — আল-ইসরা 57

সূরা আল-ইসরা আয়াত 57 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : যাদেরকে তারা আহবান করে, তারা নিজেরাই তো তাদের পালনকর্তার নৈকট্য…

সূরা আয়াত 57/111 — আল-ইসরা الإسراء (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আল-ইসরা শুনুন, আল-ইসরা অনুবাদ, আল-ইসরা mp3, আল-ইসরা pdf. আয়াত 55–59. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না