আর স্মরণ কর আল্লাহকে নির্দিষ্ট সংখ্যক কয়েকটি দিনে। অতঃপর যে লোক তাড়াহুড়া করে চলে যাবে শুধু দু, দিনের মধ্যে, তার জন্যে কোন পাপ নেই। আর যে লোক থেকে যাবে তাঁর উপর কোন পাপ নেই, অবশ্য যারা ভয় করে। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করতে থাক এবং নিশ্চিত জেনে রাখ, তোমরা সবাই তার সামনে সমবেত হবে।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
और ख़ुदा बहुत जल्द हिसाब लेने वाला है (निस्फ़) और इन गिनती के चन्द दिनों तक (तो) ख़ुदा का ज़िक्र करो फिर जो शख्स जल्दी कर बैठै और (मिना) से और दो ही दिन में चल ख़ड़ा हो तो उस पर भी गुनाह नहीं है और जो (तीसरे दिन तक) ठहरा रहे उस पर भी कुछ गुनाह नही लेकिन यह रियायत उसके वास्ते है जो परहेज़गार हो, और खुदा से डरते रहो और यक़ीन जानो कि एक दिन तुम सब के सब उसकी तरफ क़ब्रों से उठाए जाओगे
أَيَّامٍ مَّعْدُودَاتٍ — নির্দিষ্ট কয়েকটি দিন; অর্থাৎ ১১, ১২ ও ১৩ জিলহজ, যাকে ‘আইয়ামে তাশরিক’ বলা হয়।
تَعَجَّلَ — তাড়াহুড়ো করা; অর্থাৎ ১২ তারিখে রমি সম্পন্ন করে মিনা থেকে বের হয়ে যাওয়া।
تَأَخَّرَ — বিলম্ব করা; অর্থাৎ ১৩ তারিখ পর্যন্ত মিনায় অবস্থান করে রমি করা।
تُحْشَرُونَ — তোমাদেরকে একত্র করা হবে (পুনরুত্থানের দিন)।
তাফসির:
আল্লাহ তাআলা হজ সম্পাদনকারীদের নির্দেশ দিচ্ছেন যে, তারা যেন নির্দিষ্ট কয়েকটি দিনে (আইয়ামে তাশরিকের ১১, ১২ ও ১৩ জিলহজ) আল্লাহর জিকির করে — তাকবির (আল্লাহু আকবার), তাহলিল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) এবং রমি করার সময় প্রতিটি পাথর নিক্ষেপের সাথে তাকবির দেয়। এরপর বলা হচ্ছে, কেউ যদি তাড়াহুড়ো করে ১২ তারিখে রমি সম্পন্ন করে সূর্যাস্তের আগে মিনা ত্যাগ করে, তবে তার ওপর কোনো গুনাহ নেই; কারণ আল্লাহ তাআলা তার জন্য এই সুবিধা রেখেছেন। আর কেউ যদি ১৩ তারিখ পর্যন্ত অবস্থান করে (অর্থাৎ ১২ তারিখে রমির পর মিনায় রাত কাটিয়ে ১৩ তারিখেও রমি করে) তবে তার ওপরও কোনো গুনাহ নেই — বরং এটি অধিক উত্তম ও পূর্ণতর, কারণ এটি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর অনুসৃত পদ্ধতি এবং ইবাদতের অতিরিক্ত সুযোগ। তবে এই অনুমতি ও ক্ষমা শুধুমাত্র তাদের জন্যই, যারা আল্লাহভীরু — অর্থাৎ হজের সময় আল্লাহর নিষেধাজ্ঞা থেকে বিরত থেকেছে এবং হজকে আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী আদায় করেছে। শেষে আল্লাহ তাআলা সবাইকে তাকওয়া অবলম্বনের নির্দেশ দিয়ে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন যে, তোমাদের সকলকে মৃত্যুর পর তাঁরই সামনে একত্রিত করা হবে এবং প্রত্যেককে নিজ নিজ আমলের হিসাব দিতে হবে।
ফায়দা:
এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু — তিনি হজের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতেও সহজতা ও নমনীয়তা রেখেছেন, যাতে কেউ কষ্ট না পায়।
ইবাদতে তাড়াহুড়ো ও বিলম্ব উভয়ই বৈধ, তবে যে বেশি সময় আল্লাহর জিকিরে কাটায় এবং সুন্নাহ অনুসরণ করে, সে অধিক সওয়াবের অধিকারী হয় — এটি আমাদের শেখায় যে, ইবাদতে আগ্রহ ও অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।
তাকওয়া বা আল্লাহভীতি是所有 ইবাদতের মূল চাবিকাঠি — শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং অন্তরের পবিত্রতা ও আল্লাহর নিষেধ থেকে বিরত থাকাই আসল লক্ষ্য।
আয়াতের শেষ অংশ আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, এই দুনিয়ার জীবনই শেষ নয়; আমাদেরকে অবশ্যই একদিন আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে হবে — এই বিশ্বাস একজন মুমিনকে সৎকর্মে উদ্বুদ্ধ করে এবং ভুল-ত্রুটি থেকে বিরত রাখে।
হজের পরও জিকির অব্যাহত রাখার নির্দেশ প্রমাণ করে যে, ইবাদত শুধু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং প্রতিটি মুহূর্তে আল্লাহকে স্মরণ করা মুমিনের বৈশিষ্ট্য।
আর স্মরণ কর আল্লাহকে নির্দিষ্ট সংখ্যক কয়েকটি দিনে। অতঃপর যে লোক তাড়াহুড়া করে চলে যাবে শুধু দু, দিনের মধ্যে, তার জন্যে কোন পাপ নেই। আর যে লোক থেকে যাবে তাঁর উপর কোন পাপ নেই, অবশ্য যারা ভয় করে। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করতে থাক এবং নিশ্চিত জেনে রাখ, তোমরা সবাই তার সামনে সমবেত হবে।
আর স্মরণ কর আল্লাহকে নির্দিষ্ট সংখ্যক কয়েকটি দিনে। অতঃপর যে লোক তাড়াহুড়া করে চলে যাবে শুধু দু, দিনের মধ্যে, তার জন্যে কোন পাপ নেই। আর যে লোক থেকে যাবে তাঁর উপর কোন পাপ নেই, অবশ্য যারা ভয় করে। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করতে থাক এবং নিশ্চিত জেনে রাখ, তোমরা সবাই তার সামনে সমবেত হবে।
আর এমন কিছু লোক রযেছে যাদের পার্থিব জীবনের কথাবার্তা তোমাকে চমৎকৃত করবে। আর তারা সাক্ষ্য স্থাপন করে আল্লাহকে নিজের মনের কথার ব্যাপারে। প্রকৃতপক্ষে তারা কঠিন ঝগড়াটে লোক।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।