Wa in kuntum fee raibim mimmaa nazzalnaa `alaa `abdinaa fatoo bi Sooratim mim mislihee wad`oo shuhadaaa`akum min doonil laahi in kuntum saadiqeen
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
এতদসম্পর্কে যদি তোমাদের কোন সন্দেহ থাকে যা আমি আমার বান্দার প্রতি অবতীর্ণ করেছি, তাহলে এর মত একটি সূরা রচনা করে নিয়ে এস। তোমাদের সেসব সাহায্যকারীদেরকে সঙ্গে নাও-এক আল্লাহকে ছাড়া, যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকো।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
और अगर तुम लोग इस कलाम से जो हमने अपने बन्दे (मोहम्मद) पर नाज़िल किया है शक में पड़े हो पस अगर तुम सच्चे हो तो तुम (भी) एक सूरा बना लाओ और खुदा के सिवा जो भी तुम्हारे मददगार हों उनको भी बुला लो
এতদসম্পর্কে যদি তোমাদের কোন সন্দেহ থাকে যা আমি আমার বান্দার প্রতি অবতীর্ণ করেছি, তাহলে এর মত একটি সূরা রচনা করে নিয়ে এস। তোমাদের সেসব সাহায্যকারীদেরকে সঙ্গে নাও-এক আল্লাহকে ছাড়া, যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকো।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
রَيْبٍ – সন্দেহ, সংশয়।
نَزَّلْنَا – আমরা অবতীর্ণ করেছি।
عَبْدِنَا – আমাদের বান্দা (অর্থাৎ নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)।
فَأْتُوا – তোমরা নিয়ে আসো, উপস্থিত করো।
سُورَةٍ – একটি সূরা (কুরআনের একটি অধ্যায়)।
شُهَدَاءَكُم – তোমাদের সাহায্যকারী, সহায়ক বা সাক্ষীগণ।
مِن دُونِ اللَّهِ – আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে (উপাস্য বা সাহায্যকারী হিসেবে)।
صَادِقِينَ – সত্যবাদী (তোমাদের দাবিতে)।
তাফসীর (ব্যাখ্যা):
হে কাফির ও সত্যবিরোধী সম্প্রদায়! যদি তোমাদের মনে সন্দেহ থাকে যে, এই কুরআন আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হয়েছে কি না, এবং তোমরা মনে করো যে, এটি কোনো মানুষের রচনা, তাহলে তোমরা চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করো। এই কুরআনের মতো একটি মাত্র সূরা তৈরি করে নিয়ে এসো। কুরআনের কোনো একটি সূরা যত ছোটই হোক না কেন, তার মতো একটি সূরা রচনা করে দেখাও। শুধু নিজেরা নয়, তোমাদের সেই সমস্ত উপাস্য, দেব-দেবী বা সাহায্যকারীদেরও ডেকে আনো যাদের উপর তোমরা নির্ভর করো এবং যাদেরকে আল্লাহ ছাড়া উপাস্য মনে করো। তারা সবাই মিলে চেষ্টা করো, যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকো যে, এই কুরআন মানুষের বানানো কথা।
আল্লাহ তাআলা এখানে তাদেরকে সম্পূর্ণ অপার ও অক্ষম করে দেওয়ার জন্যই এই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। কারণ, কুরআনের মতো বাগ্মিতা, শৈলী, জ্ঞান, সত্যতা ও প্রভাব-প্রতিপত্তি কোনো মানুষের পক্ষে আনা সম্ভব নয়। এটি প্রমাণ করে যে, কুরআন নিশ্চিতভাবে আল্লাহর কালাম। ইতিহাস সাক্ষী, আরবের তৎকালীন সেরা বাগ্মী ও কবিরা এই চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে পারেননি, যদিও তারা ভাষা ও সাহিত্যে ছিল অত্যন্ত পারদর্শী। তাদের পক্ষে একটি ছোট সূরাও রচনা করা সম্ভব হয়নি। এটি কুরআনের চিরন্তন মু'জিযা (অলৌকিকতা)।
শিক্ষা ও উপকারিতা:
কুরআনের সত্যতা প্রমাণিত: এই আয়াত প্রমাণ করে যে, কুরআন আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ একটি চিরন্তন মু'জিযা। যুগে যুগে কেউই এর মতো কোনো গ্রন্থ রচনা করতে পারেনি এবং পারবেও না। এটি মুমিনের ঈমানকে আরও দৃঢ় করে।
মানুষের অক্ষমতা: আল্লাহর সৃষ্টি হিসেবে মানুষের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আল্লাহর কালামের সামনে মানুষের জ্ঞান, বুদ্ধি ও শক্তি সম্পূর্ণ অকেজো। এটি আমাদের বিনয়ী হতে শেখায়।
তাওহীদের শিক্ষা: আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে সাহায্যকারী বা উপাস্য মনে করা সম্পূর্ণ ভুল। এই আয়াত শেখায় যে, সত্য প্রমাণের জন্য আল্লাহর কিতাবই যথেষ্ট, অন্য কিছুর প্রয়োজন নেই।
চ্যালেঞ্জের গুরুত্ব: সত্যকে গ্রহণ করার জন্য প্রমাণ চাওয়া জায়েজ, কিন্তু সত্য প্রমাণিত হওয়ার পর তা অস্বীকার করা ধ্বংসের কারণ। কুরআনের এই চ্যালেঞ্জ চিরকালের জন্য অটুট রয়েছে, যা প্রতিটি প্রজন্মের জন্য একটি উন্মুক্ত পরীক্ষা।
কুরআনের প্রতি ভালোবাসা: এই আয়াত আমাদের কুরআনকে ভালোবাসতে, পড়তে, বুঝতে এবং তার উপর আমল করতে উৎসাহিত করে। কারণ, এটি এমন এক গ্রন্থ যা আল্লাহ নিজে সংরক্ষণের জিম্মা নিয়েছেন এবং যা কিয়ামত পর্যন্ত মানবজাতির জন্য হিদায়াতের উৎস।
হে মানব সমাজ! তোমরা তোমাদের পালনকর্তার এবাদত কর, যিনি তোমাদিগকে এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদিগকে সৃষ্টি করেছেন। তাতে আশা করা যায়, তোমরা পরহেযগারী অর্জন করতে পারবে।
যে পবিত্রসত্তা তোমাদের জন্য ভূমিকে বিছানা এবং আকাশকে ছাদ স্বরূপ স্থাপন করে দিয়েছেন, আর আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করে তোমাদের জন্য ফল-ফসল উৎপাদন করেছেন তোমাদের খাদ্য হিসাবে। অতএব, আল্লাহর সাথে তোমরা অন্য কাকেও সমকক্ষ করো না। বস্তুতঃ এসব তোমরা জান।
এতদসম্পর্কে যদি তোমাদের কোন সন্দেহ থাকে যা আমি আমার বান্দার প্রতি অবতীর্ণ করেছি, তাহলে এর মত একটি সূরা রচনা করে নিয়ে এস। তোমাদের সেসব সাহায্যকারীদেরকে সঙ্গে নাও-এক আল্লাহকে ছাড়া, যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকো।
আর যদি তা না পার-অবশ্য তা তোমরা কখনও পারবে না, তাহলে সে দোযখের আগুন থেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা কর, যার জ্বালানী হবে মানুষ ও পাথর। যা প্রস্তুত করা হয়েছে কাফেরদের জন্য।
আর হে নবী (সাঃ), যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজসমূহ করেছে, আপনি তাদেরকে এমন বেহেশতের সুসংবাদ দিন, যার পাদদেশে নহরসমূহ প্রবাহমান থাকবে। যখনই তারা খাবার হিসেবে কোন ফল প্রাপ্ত হবে, তখনই তারা বলবে, এতো অবিকল সে ফলই যা আমরা ইতিপূর্বেও লাভ করেছিলাম। বস্তুতঃ তাদেরকে একই প্রকৃতির ফল প্রদান করা হবে। এবং সেখানে তাদের জন্য শুদ্ধচারিনী রমণীকূল থাকবে। আর সেখানে তারা অনন্তকাল অবস্থান করবে।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।