Allazee ja`ala lakumul arda firaashanw wassamaaa`a binaaa `anw wa anzala minassamaaa`i maaa`an fa akhraja bihee minas samaraati rizqal lakum falaa taj`aloo lillaahi andaadanw wa antum ta`lamoon
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
যে পবিত্রসত্তা তোমাদের জন্য ভূমিকে বিছানা এবং আকাশকে ছাদ স্বরূপ স্থাপন করে দিয়েছেন, আর আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করে তোমাদের জন্য ফল-ফসল উৎপাদন করেছেন তোমাদের খাদ্য হিসাবে। অতএব, আল্লাহর সাথে তোমরা অন্য কাকেও সমকক্ষ করো না। বস্তুতঃ এসব তোমরা জান।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
जिसने तुम्हारे लिए ज़मीन का बिछौना और आसमान को छत बनाया और आसमान से पानी बरसाया फिर उसी ने तुम्हारे खाने के लिए बाज़ फल पैदा किए पस किसी को खुदा का हमसर न बनाओ हालाँकि तुम खूब जानते हो
যে পবিত্রসত্তা তোমাদের জন্য ভূমিকে বিছানা এবং আকাশকে ছাদ স্বরূপ স্থাপন করে দিয়েছেন, আর আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করে তোমাদের জন্য ফল-ফসল উৎপাদন করেছেন তোমাদের খাদ্য হিসাবে। অতএব, আল্লাহর সাথে তোমরা অন্য কাকেও সমকক্ষ করো না। বস্তুতঃ এসব তোমরা জান।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
ফিরাশ (فراش): বিছানা, বিস্তৃত ও সমতল ভূমি।
বিনা (بناء): ছাদ, সুউচ্চ ও সুদৃঢ় নির্মাণ।
রিযক (رزق): জীবিকা, খাদ্য ও উপজীবিকা।
আন্দাদ (أنداد): সমকক্ষ, অংশীদার, প্রতিদ্বন্দ্বী।
তাফসীর:
তিনিই সেই রব, যিনি তোমাদের জন্য পৃথিবীকে বিছানার মতো সমতল ও সুবিধাজনক করে দিয়েছেন, যাতে তোমরা তার উপর সহজে বসবাস করতে পারো, চলাফেরা করতে পারো এবং আবাদ করতে পারো। আর আকাশকে করেছেন সুউচ্চ, সুদৃঢ় ও নিরাপদ ছাদস্বরূপ, যা তোমাদের উপর থেকে রক্ষা করে। তিনি আকাশ (মেঘ) থেকে বৃষ্টির পানি নাজিল করেন, অতঃপর তা দ্বারা ভূমি থেকে বিভিন্ন প্রকার ফলমূল, শস্য ও উদ্ভিদ উৎপন্ন করেন, যা তোমাদের ও তোমাদের পশুদের জন্য জীবিকা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এই সমস্ত নেয়ামত প্রমাণ করে যে, একমাত্র তিনিই সৃষ্টিকর্তা, রিযিকদাতা ও ইবাদতের যোগ্য। সুতরাং তোমরা জেনে-বুঝে আল্লাহর সাথে কাউকে অংশীদার করো না, তাঁর সমকক্ষ কোনো মাবুদ বানিয়ে তাঁর ইবাদত করো না। তোমরা তো জানো যে, এই সব উপাস্য কোনো কিছু সৃষ্টি করতে পারে না, বরং তারা নিজেরাই সৃষ্ট।
শিক্ষা ও উপকারিতা:
আল্লাহর সৃষ্টি জগতের প্রতি গভীর দৃষ্টি দিলে তাঁর একত্ব ও ক্ষমতার অকাট্য প্রমাণ পাওয়া যায়। পৃথিবী, আকাশ ও বৃষ্টি—প্রতিটি নেয়ামতই আল্লাহর অস্তিত্ব ও করুণার নিদর্শন।
আল্লাহর নেয়ামতের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়, যাতে মানুষের অন্তরে তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা জন্মে এবং ইবাদতে একনিষ্ঠ হয়।
শিরক সবচেয়ে বড় অন্যায় ও অকৃতজ্ঞতা। যে ব্যক্তি আল্লাহর অগণিত নেয়ামত পেয়েও তাঁর সাথে অন্য কাউকে শরিক করে, সে চরম অজ্ঞতা ও অকৃতজ্ঞতা প্রদর্শন করে।
জেনে-শুনে ভুল করা আরও মারাত্মক। তাই প্রতিটি মুমিনের উচিত ইলম অর্জন করা এবং জ্ঞানের আলোকে সঠিক পথে চলা, যাতে অজ্ঞতাবশত শিরকে লিপ্ত না হয়।
দুনিয়ার জীবন পরিচালনার জন্য আল্লাহ প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। তাই আমাদের উচিত এই নেয়ামতগুলোর সদ্ব্যবহার করা এবং আল্লাহর বিধান অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা।
বিদ্যুতালোকে যখন সামান্য আলোকিত হয়, তখন কিছুটা পথ চলে। আবার যখন অন্ধকার হয়ে যায়, তখন ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকে। যদি আল্লাহ ইচ্ছা করেন, তাহলে তাদের শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি ছিনিয়ে নিতে পারেন। আল্লাহ যাবতীয় বিষয়ের উপর সর্বময় ক্ষমতাশীল।
হে মানব সমাজ! তোমরা তোমাদের পালনকর্তার এবাদত কর, যিনি তোমাদিগকে এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদিগকে সৃষ্টি করেছেন। তাতে আশা করা যায়, তোমরা পরহেযগারী অর্জন করতে পারবে।
যে পবিত্রসত্তা তোমাদের জন্য ভূমিকে বিছানা এবং আকাশকে ছাদ স্বরূপ স্থাপন করে দিয়েছেন, আর আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করে তোমাদের জন্য ফল-ফসল উৎপাদন করেছেন তোমাদের খাদ্য হিসাবে। অতএব, আল্লাহর সাথে তোমরা অন্য কাকেও সমকক্ষ করো না। বস্তুতঃ এসব তোমরা জান।
এতদসম্পর্কে যদি তোমাদের কোন সন্দেহ থাকে যা আমি আমার বান্দার প্রতি অবতীর্ণ করেছি, তাহলে এর মত একটি সূরা রচনা করে নিয়ে এস। তোমাদের সেসব সাহায্যকারীদেরকে সঙ্গে নাও-এক আল্লাহকে ছাড়া, যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকো।
আর যদি তা না পার-অবশ্য তা তোমরা কখনও পারবে না, তাহলে সে দোযখের আগুন থেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা কর, যার জ্বালানী হবে মানুষ ও পাথর। যা প্রস্তুত করা হয়েছে কাফেরদের জন্য।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।