Mishary Rashid Alafasy
✓
Mahmoud Khalil Al-Husary
✓
Abdurrahman As-Sudais
✓
Mohamed Siddiq Al-Minshawi
✓
Abdul Basit Abdul Samad
✓
Ali Al-Hudhaify
✓
Ahmed ibn Ali al-Ajamy
✓
Abu Bakr Ash-Shaatree
✓
Muhammad Ayyoub
✓
Abdullah Basfar
✓
Abdullah Al-Juhani
✓
Maher Al Muaiqly
✓
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ ও ব্যাখ্যা:
- حَاجَّ অর্থ বিতর্ক করা, তর্ক-বিতর্কে লিপ্ত হওয়া।
- أَنْ آتَاهُ اللَّهُ الْمُلْكَ অর্থ—এই কারণে যে, আল্লাহ তাকে রাজত্ব দান করেছিলেন, ফলে সে দাম্ভিক হয়ে গিয়েছিল।
- فَبُهِتَ অর্থ—সে হতবাক ও স্তম্ভিত হয়ে গেল, তার যুক্তি খণ্ডিত হয়ে গেল।
- الظَّالِمِينَ অর্থ—যারা নিজেদের উপর অত্যাচার করে সত্য গ্রহণ না করে।
তাফসীর:
হে নবী! তুমি কি সে ব্যক্তির কথা জানতে পারোনি, যে ইবরাহীম (আঃ)-এর সাথে তার রব সম্পর্কে বিতর্কে লিপ্ত হয়েছিল? সে ছিল নমরূদ—এমন এক অহংকারী শাসক, যাকে আল্লাহ রাজত্ব দান করেছিলেন, আর সেই রাজত্বের অহমিকায় সে সত্যকে অস্বীকার করতে শুরু করে। সে ইবরাহীম (আঃ)-কে জিজ্ঞেস করল, “তোমার রব কে?” ইবরাহীম (আঃ) উত্তরে বললেন, “আমার রব তিনি, যিনি জীবন দান করেন এবং মৃত্যু দেন।” অর্থাৎ তিনিই সৃষ্টিকর্তা, তিনিই জীবন ও মৃত্যুর মালিক।
নমরূদ তখন প্রত্যুত্তরে বলল, “আমিও তো জীবন দান করি এবং মৃত্যু ঘটাই!” সে তার দাবি প্রমাণের জন্য দুজন লোককে ডেকে এনে একজনকে হত্যা করল এবং অন্যজনকে জীবিত রাখল—যেন এটাকেই সে জীবন-মৃত্যুর নিয়ন্ত্রণ বলে চালিয়ে দিতে চাইল। কিন্তু ইবরাহীম (আঃ) তার এই ভ্রান্ত যুক্তির জবাবে আরও স্পষ্ট ও চূড়ান্ত প্রমাণ পেশ করলেন। তিনি বললেন, “আল্লাহ তো সূর্যকে পূর্ব দিক থেকে উদিত করেন। তুমি যদি সত্যিই জীবন-মৃত্যুর মালিক হও, তবে সূর্যকে পশ্চিম দিক থেকে উদিত করাও তো দেখাও!”
এই যুক্তির সামনে নমরূদ সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে গেল। তার কোনো উত্তর ছিল না। সে হতবাক ও লজ্জিত হয়ে পড়ল, কারণ এটা ছিল এমন এক প্রমাণ যা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। আর আল্লাহ অত্যাচারী সম্প্রদায়কে হিদায়াত দেন না—যারা নিজেদের জুলুমের কারণে সত্য গ্রহণ থেকে বঞ্চিত থাকে।
শিক্ষণীয় দিক ও দাওয়াতি বার্তা:
এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, সত্যের পথে দাঁড়ালে অনেক সময় ক্ষমতাধর ও অহংকারী মানুষের মুখোমুখি হতে হয়। কিন্তু ইবরাহীম (আঃ)-এর মতো আমাদেরও প্রজ্ঞা ও সুন্দর যুক্তি দিয়ে সত্য তুলে ধরতে হবে। আল্লাহর অস্তিত্ব ও ক্ষমতার এমন অসংখ্য নিদর্শন আমাদের চারপাশে ছড়িয়ে আছে—সূর্যের উদয়-অস্ত, জীবন-মৃত্যুর চক্র, আকাশ-পৃথিবীর সৃষ্টি। যে ব্যক্তি একবার চোখ খুলে এই নিদর্শনগুলো দেখবে, তার কাছে সত্যকে অস্বীকার করার আর কোনো পথ থাকে না।
আর যারা অহংকার ও জুলুমের কারণে সত্যকে মেনে নেয় না, আল্লাহ তাদের অন্তর থেকে হিদায়াতের পথ বন্ধ করে দেন। তাই আমাদের উচিত বিনয়ী হয়ে সত্য গ্রহণ করা এবং আল্লাহর নিদর্শন নিয়ে চিন্তা করা। কারণ, যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করে, আল্লাহ তাকে এমন জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দান করেন যা দিয়ে সে যেকোনো বিতর্কে বিজয়ী হতে পারে—ঠিক যেমনটি ইবরাহীম (আঃ) পেয়েছিলেন।
📜 আয়াত 256-260 — সূরা আল-বাকারা
অনুবাদ — আল-বাকারা 258
সূরা আল-বাকারা আয়াত 258 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : তুমি কি সে লোককে দেখনি, যে পালনকর্তার ব্যাপারে বাদানুবাদ করেছিল…সূরা আয়াত 258/286 — সূরা আল-বাকারা البقرة (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আল-বাকারা শুনুন, সূরা আল-বাকারা অনুবাদ, সূরা আল-বাকারা mp3, সূরা আল-বাকারা pdf. আয়াত 256–260. বাংলা অর্থ: हिन्दी.
সূরা আল-বাকারা
পবিত্র কুরআন
Monday, September 28, 2026
আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না


