আল-ফুরকান · 18/77
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আল-ফুরকান
قَالُوا سُبْحَانَكَ مَا كَانَ يَنبَغِي لَنَا أَن نَّتَّخِذَ مِن دُونِكَ مِنْ أَوْلِيَاءَ وَلَٰكِن مَّتَّعْتَهُمْ وَآبَاءَهُمْ حَتَّىٰ نَسُوا الذِّكْرَ وَكَانُوا قَوْمًا بُورًا ۝١٨
Qaaloo Subhaanaka maa kaana yambaghee lanaaa an nattakhiza min doonika min awliyaaa`a wa laakim matta`tahum wa aabaaa`ahum hattaa nasuz zikra wa kaanoo qawmam booraa
📖 বাংলা অর্থ
তারা বলবে-আপনি পবিত্র, আমরা আপনার পরিবর্তে অন্যকে মুরুব্বীরূপে গ্রহণ করতে পারতাম না; কিন্তু আপনিই তো তাদেরকে এবং তাদের পিতৃপুরুষদেরকে ভোগসম্ভার দিয়েছিলেন, ফলে তারা আপনার স্মৃতি বিস্মৃত হয়েছিল এবং তারা ছিল ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতি।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • সুবহানাকা – (হে আল্লাহ!) আপনি পবিত্র, আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি।
  • মা কানা ইয়ামবাগি – আমাদের জন্য শোভনীয় ছিল না, সঙ্গত ছিল না।
  • আউলিয়া – বন্ধু, অভিভাবক, সাহায্যকারী।
  • মাত্তা'তাহুম – আপনি তাদের ভোগ-সম্ভার দান করেছিলেন।
  • যিকর – উপদেশ, কুরআন, আল্লাহর স্মরণ।
  • বুরান – ধ্বংসপ্রাপ্ত, বিনাশপ্রাপ্ত, হালাক।

তাফসির (ব্যাখ্যা):

যাদেরকে আল্লাহর পরিবর্তে উপাস্য বানানো হয়েছিল, তারা কিয়ামতের দিন আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়ে বলবে: “হে আমাদের রব! আপনি পবিত্র, আপনার কোনো শরিক নেই। আমাদের পক্ষে শোভনীয় ছিল না যে, আমরা আপনাকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে বন্ধু বা অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করব। আমরা তো আপনারই অনুগত বান্দা ছিলাম। কিন্তু আপনি এই মুশরিকদের এবং তাদের পূর্বপুরুষদেরকে দুনিয়ায় ধন-সম্পদ, সুস্থতা ও দীর্ঘ জীবনের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য দান করেছিলেন। এই নেয়ামতের প্রাচুর্য তাদেরকে অহংকারী করে তুলেছিল এবং তারা আপনার স্মরণ ও উপদেশ ভুলে গিয়েছিল। ফলে তারা আপনার সাথে শিরক করেছিল এবং আপনার অবাধ্যতায় লিপ্ত হয়েছিল। তারা ছিল সম্পূর্ণ ধ্বংসপ্রাপ্ত ও বিনাশযোগ্য এক সম্প্রদায়।”

অর্থাৎ, উপাস্য বানানো ব্যক্তিরা (ফেরেশতা, নবী বা জিন) নিজেদেরকে দায়মুক্ত ঘোষণা করে বলবে যে, তারা কখনো নিজেদের উপাস্য বানানোর আদেশ দেয়নি, বরং তারা নিজেরাও আল্লাহর বান্দা ছিল। কিন্তু আল্লাহর পক্ষ থেকে দুনিয়ার সাময়িক সুখ-সম্ভার পেয়ে মানুষগুলো পথভ্রষ্ট হয়ে গিয়েছিল এবং আল্লাহর স্মরণ ভুলে শিরকে লিপ্ত হয়েছিল।

শিক্ষা ও উপকারিতা:

  1. কিয়ামতের দিন সকল মিথ্যা উপাস্য তাদের উপাসকদের থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে এবং তারা তাদেরকে সাহায্য করবে না। বরং তারা নিজেরাই আল্লাহর সামনে দায়মুক্তি চাইবে। তাই একমাত্র আল্লাহকেই উপাস্য ও সাহায্যকারী হিসেবে গ্রহণ করা উচিত।
  2. দুনিয়ার নেয়ামত ও সম্পদের প্রাচুর্য মানুষের জন্য পরীক্ষা। যদি কেউ এই নেয়ামত পেয়ে আল্লাহকে ভুলে যায় এবং অহংকারী হয়ে পড়ে, তবে তা তার ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
  3. আল্লাহর স্মরণ (যিকর) ও তাঁর কিতাবের উপদেশকে ভুলে যাওয়া是人类 পথভ্রষ্টতার মূল কারণ। যে ব্যক্তি আল্লাহর স্মরণ থেকে দূরে থাকে, সে ধ্বংসের দিকে ধাবিত হয়।
  4. আমাদের উচিত দুনিয়ার সাময়িক সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে বিভ্রান্ত না হয়ে সর্বদা আল্লাহর আনুগত্য করা এবং তাঁর স্মরণে থাকা, যাতে আখিরাতে আমরা সফল হতে পারি।


📜 আয়াত 16-20 — সূরা আল-ফুরকান

16لَّهُمْ فِيهَا مَا يَشَاءُونَ خَالِدِينَ ۚ كَانَ عَلَىٰ رَبِّكَ وَعْدًا مَّسْئُولًا
তারা চিরকাল বসবাসরত অবস্থায় সেখানে যা চাইবে, তাই পাবে। এই প্রার্থিত ওয়াদা পূরণ আপনার পালনকর্তার দায়িত্ব।
17وَيَوْمَ يَحْشُرُهُمْ وَمَا يَعْبُدُونَ مِن دُونِ اللَّهِ فَيَقُولُ أَأَنتُمْ أَضْلَلْتُمْ عِبَادِي هَٰؤُلَاءِ أَمْ هُمْ ضَلُّوا السَّبِيلَ
সেদিন আল্লাহ একত্রিত করবেন তাদেরকে এবং তারা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের এবাদত করত তাদেরকে, সেদিন তিনি উপাস্যদেরকে বলবেন, তোমরাই কি আমার এই বান্দাদেরকে পথভ্রান্ত করেছিলে, না তারা নিজেরাই পথভ্রান্ত হয়েছিল?
18قَالُوا سُبْحَانَكَ مَا كَانَ يَنبَغِي لَنَا أَن نَّتَّخِذَ مِن دُونِكَ مِنْ أَوْلِيَاءَ وَلَٰكِن مَّتَّعْتَهُمْ وَآبَاءَهُمْ حَتَّىٰ نَسُوا الذِّكْرَ وَكَانُوا قَوْمًا بُورًا
তারা বলবে-আপনি পবিত্র, আমরা আপনার পরিবর্তে অন্যকে মুরুব্বীরূপে গ্রহণ করতে পারতাম না; কিন্তু আপনিই তো তাদেরকে এবং তাদের পিতৃপুরুষদেরকে ভোগসম্ভার দিয়েছিলেন, ফলে তারা আপনার স্মৃতি বিস্মৃত হয়েছিল এবং তারা ছিল ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতি।
19فَقَدْ كَذَّبُوكُم بِمَا تَقُولُونَ فَمَا تَسْتَطِيعُونَ صَرْفًا وَلَا نَصْرًا ۚ وَمَن يَظْلِم مِّنكُمْ نُذِقْهُ عَذَابًا كَبِيرًا
আল্লাহ মুশরিকদেরকে বলবেন, তোমাদের কথা তো তারা মিথ্যা সাব্যস্ত করল, এখন তোমরা শাস্তি প্রতিরোধ করতে পারবে না এবং সাহায্যও করতে পারবে না। তোমাদের মধ্যে যে গোনাহগার আমি তাকে গুরুতর শাস্তি আস্বাদন করাব।
20وَمَا أَرْسَلْنَا قَبْلَكَ مِنَ الْمُرْسَلِينَ إِلَّا إِنَّهُمْ لَيَأْكُلُونَ الطَّعَامَ وَيَمْشُونَ فِي الْأَسْوَاقِ ۗ وَجَعَلْنَا بَعْضَكُمْ لِبَعْضٍ فِتْنَةً أَتَصْبِرُونَ ۗ وَكَانَ رَبُّكَ بَصِيرًا
আপনার পূর্বে যত রসূল প্রেরণ করেছি, তারা সবাই খাদ্য গ্রহণ করত এবং হাটে-বাজারে চলাফেরা করত। আমি তোমাদের এককে অপরের জন্যে পরীক্ষাস্বরূপ করেছি। দেখি, তোমরা সবর কর কিনা। আপনার পালনকর্তা সব কিছু দেখেন।
আল-ফুরকানকুরআন সূচী
77আয়াত
মাক্কীঅবতরণস্থান
18আয়াত

অনুবাদ — আল-ফুরকান 18

সূরা আল-ফুরকান আয়াত 18 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : তারা বলবে-আপনি পবিত্র, আমরা আপনার পরিবর্তে অন্যকে মুরুব্বীরূপে গ্রহণ করতে…

সূরা আয়াত 18/77 — সূরা আল-ফুরকান الفرقان (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আল-ফুরকান শুনুন, সূরা আল-ফুরকান অনুবাদ, সূরা আল-ফুরকান mp3, সূরা আল-ফুরকান pdf. আয়াত 16–20. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Monday, September 28, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না