অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
- كَذَّبُوكُم — তারা তোমাদেরকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করবে।
- بِمَا تَقُولُونَ — তোমাদের সেই কথার কারণে যা তোমরা বলতে (অর্থাৎ তাদেরকে উপাস্য বলার কারণে)।
- صَرْفًا — (আযাব) দূর করা বা প্রতিরোধ করা।
- نَصْرًا — সাহায্য করা।
- يَظْلِم — অত্যাচার করে (এখানে অর্থ: শিরক করে)।
- نُذِقْهُ — আমরা তাকে আস্বাদন করাব।
- عَذَابًا كَبِيرًا — মহা শাস্তি।
তাফসীর:
আল্লাহ তাআলা এ আয়াতে মুশরিকদের উদ্দেশ্য করে বলছেন: যাদেরকে তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে উপাস্য বানিয়ে ছিলে, তারা কিয়ামতের দিন তোমাদের থেকে সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে এবং তোমাদের সেই দাবিকে মিথ্যা সাব্যস্ত করবে যে, “তোমরা আমাদেরকে উপাস্য বানিয়ে ছিলে।” তারা স্পষ্ট ভাষায় বলবে, “তোমরা মিথ্যা বলছ, আমরা তো তোমাদের ইবাদতের আদেশ কখনো দিইনি, বরং তোমরাই নিজেদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে আমাদেরকে উপাস্য বানিয়েছিলে।”
এরপর আল্লাহ বলেন, “তখন তোমরা নিজেদের থেকে আযাব দূর করতেও সক্ষম হবে না, আর কোনো সাহায্যকারীও পাবে না যে তোমাদেরকে রক্ষা করতে আসবে। অর্থাৎ তোমরা সম্পূর্ণ অসহায় ও শক্তিহীন হয়ে পড়বে।”
অতঃপর আল্লাহ তাআলা সতর্ক করে বলেন, “তোমাদের মধ্যে যে কেউ জুলুম করে — অর্থাৎ শিরক করে এবং এই অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে — আমি তাকে মহা শাস্তি আস্বাদন করাব, যা জাহান্নামের আগুন।” এখানে জুলুম বলতে শিরককে বোঝানো হয়েছে, কারণ শিরক হলো সবচেয়ে বড় জুলুম। আল্লাহ তাআলা অন্য আয়াতে বলেছেন, “নিশ্চয়ই শিরক হচ্ছে মহা জুলুম।” (লুকমান: ১৩)
উপকার ও শিক্ষা:
- তাওহীদের গুরুত্ব: এ আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, শিরক এমন একটি অপরাধ যার শাস্তি অত্যন্ত কঠিন। তাই প্রতিটি মুসলিমের উচিত আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করা থেকে সম্পূর্ণরূপে বিরত থাকা এবং তাওহীদে বিশ্বাসী হয়ে জীবনযাপন করা।
- মিথ্যা উপাস্যদের অসহায়ত্ব: যারা আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুর পূজা করে, তারা কিয়ামতের দিন দেখতে পাবে যে, তাদের উপাস্যরা তাদের কোনো উপকারে আসবে না, বরং তাদেরকে অস্বীকার করবে। সুতরাং একমাত্র আল্লাহই সত্য উপাস্য, যিনি সবকিছুর মালিক।
- আখিরাতের চিন্তা: এই আয়াত আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, আখিরাতের দিন কোনো প্রকার প্রতিরোধ বা সাহায্য ছাড়াই মানুষ তার কর্মফল ভোগ করবে। তাই আমাদের উচিত দুনিয়ার জীবনে এমন আমল করা যা আখিরাতে আমাদের জন্য সুফল বয়ে আনবে।
- শিরক থেকে তাওবা: যারা পূর্বে শিরকে লিপ্ত ছিল, তাদের জন্য এই আয়াত তাওবার দরজা খুলে দেয়। জীবদ্দশায় তাওবা করলে আল্লাহ ক্ষমা করবেন, কিন্তু মৃত্যুর পর আর কোনো সুযোগ থাকবে না। তাই দেরি না করে এখনই আল্লাহর দিকে ফিরে আসা উচিত।
- ন্যায়বিচারের প্রতি আহ্বান: আয়াতে বলা হয়েছে “যে জুলুম করে” — এটি সাধারণ অর্থেও প্রযোজ্য। একজন মুসলিমের উচিত কারো প্রতি জুলুম না করা, বরং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা, কারণ জুলুমের পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ।
📜 আয়াত 17-21 — আল-ফুরকান
অনুবাদ — আল-ফুরকান 19
সূরা আল-ফুরকান আয়াত 19 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : আল্লাহ মুশরিকদেরকে বলবেন, তোমাদের কথা তো তারা মিথ্যা সাব্যস্ত করল,…সূরা আয়াত 19/77 — আল-ফুরকান الفرقان (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আল-ফুরকান শুনুন, আল-ফুরকান অনুবাদ, আল-ফুরকান mp3, আল-ফুরকান pdf. আয়াত 17–21. বাংলা অর্থ: हिन्दी.
পবিত্র কুরআন
Tuesday, August 18, 2026
আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না








