আল-ফুরকান · 19/77
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আল-ফুরকান
فَقَدْ كَذَّبُوكُم بِمَا تَقُولُونَ فَمَا تَسْتَطِيعُونَ صَرْفًا وَلَا نَصْرًا ۚ وَمَن يَظْلِم مِّنكُمْ نُذِقْهُ عَذَابًا كَبِيرًا ۝١٩
Faqad kazzabookum bimaa taqooloona famaa tastatee`oona sarfanw wa laa nasraa; wa mai yazlim minkum nuziqhu `azaaban kabeeraa
📖 বাংলা অর্থ
আল্লাহ মুশরিকদেরকে বলবেন, তোমাদের কথা তো তারা মিথ্যা সাব্যস্ত করল, এখন তোমরা শাস্তি প্রতিরোধ করতে পারবে না এবং সাহায্যও করতে পারবে না। তোমাদের মধ্যে যে গোনাহগার আমি তাকে গুরুতর শাস্তি আস্বাদন করাব।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • كَذَّبُوكُم — তারা তোমাদেরকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করবে।
  • بِمَا تَقُولُونَ — তোমাদের সেই কথার কারণে যা তোমরা বলতে (অর্থাৎ তাদেরকে উপাস্য বলার কারণে)।
  • صَرْفًا — (আযাব) দূর করা বা প্রতিরোধ করা।
  • نَصْرًا — সাহায্য করা।
  • يَظْلِم — অত্যাচার করে (এখানে অর্থ: শিরক করে)।
  • نُذِقْهُ — আমরা তাকে আস্বাদন করাব।
  • عَذَابًا كَبِيرًا — মহা শাস্তি।

তাফসীর:

আল্লাহ তাআলা এ আয়াতে মুশরিকদের উদ্দেশ্য করে বলছেন: যাদেরকে তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে উপাস্য বানিয়ে ছিলে, তারা কিয়ামতের দিন তোমাদের থেকে সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে এবং তোমাদের সেই দাবিকে মিথ্যা সাব্যস্ত করবে যে, “তোমরা আমাদেরকে উপাস্য বানিয়ে ছিলে।” তারা স্পষ্ট ভাষায় বলবে, “তোমরা মিথ্যা বলছ, আমরা তো তোমাদের ইবাদতের আদেশ কখনো দিইনি, বরং তোমরাই নিজেদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে আমাদেরকে উপাস্য বানিয়েছিলে।”

এরপর আল্লাহ বলেন, “তখন তোমরা নিজেদের থেকে আযাব দূর করতেও সক্ষম হবে না, আর কোনো সাহায্যকারীও পাবে না যে তোমাদেরকে রক্ষা করতে আসবে। অর্থাৎ তোমরা সম্পূর্ণ অসহায় ও শক্তিহীন হয়ে পড়বে।”

অতঃপর আল্লাহ তাআলা সতর্ক করে বলেন, “তোমাদের মধ্যে যে কেউ জুলুম করে — অর্থাৎ শিরক করে এবং এই অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে — আমি তাকে মহা শাস্তি আস্বাদন করাব, যা জাহান্নামের আগুন।” এখানে জুলুম বলতে শিরককে বোঝানো হয়েছে, কারণ শিরক হলো সবচেয়ে বড় জুলুম। আল্লাহ তাআলা অন্য আয়াতে বলেছেন, “নিশ্চয়ই শিরক হচ্ছে মহা জুলুম।” (লুকমান: ১৩)


উপকার ও শিক্ষা:

  1. তাওহীদের গুরুত্ব: এ আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, শিরক এমন একটি অপরাধ যার শাস্তি অত্যন্ত কঠিন। তাই প্রতিটি মুসলিমের উচিত আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করা থেকে সম্পূর্ণরূপে বিরত থাকা এবং তাওহীদে বিশ্বাসী হয়ে জীবনযাপন করা।
  2. মিথ্যা উপাস্যদের অসহায়ত্ব: যারা আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুর পূজা করে, তারা কিয়ামতের দিন দেখতে পাবে যে, তাদের উপাস্যরা তাদের কোনো উপকারে আসবে না, বরং তাদেরকে অস্বীকার করবে। সুতরাং একমাত্র আল্লাহই সত্য উপাস্য, যিনি সবকিছুর মালিক।
  3. আখিরাতের চিন্তা: এই আয়াত আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, আখিরাতের দিন কোনো প্রকার প্রতিরোধ বা সাহায্য ছাড়াই মানুষ তার কর্মফল ভোগ করবে। তাই আমাদের উচিত দুনিয়ার জীবনে এমন আমল করা যা আখিরাতে আমাদের জন্য সুফল বয়ে আনবে।
  4. শিরক থেকে তাওবা: যারা পূর্বে শিরকে লিপ্ত ছিল, তাদের জন্য এই আয়াত তাওবার দরজা খুলে দেয়। জীবদ্দশায় তাওবা করলে আল্লাহ ক্ষমা করবেন, কিন্তু মৃত্যুর পর আর কোনো সুযোগ থাকবে না। তাই দেরি না করে এখনই আল্লাহর দিকে ফিরে আসা উচিত।
  5. ন্যায়বিচারের প্রতি আহ্বান: আয়াতে বলা হয়েছে “যে জুলুম করে” — এটি সাধারণ অর্থেও প্রযোজ্য। একজন মুসলিমের উচিত কারো প্রতি জুলুম না করা, বরং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা, কারণ জুলুমের পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ।


📜 আয়াত 17-21 — সূরা আল-ফুরকান

17وَيَوْمَ يَحْشُرُهُمْ وَمَا يَعْبُدُونَ مِن دُونِ اللَّهِ فَيَقُولُ أَأَنتُمْ أَضْلَلْتُمْ عِبَادِي هَٰؤُلَاءِ أَمْ هُمْ ضَلُّوا السَّبِيلَ
সেদিন আল্লাহ একত্রিত করবেন তাদেরকে এবং তারা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের এবাদত করত তাদেরকে, সেদিন তিনি উপাস্যদেরকে বলবেন, তোমরাই কি আমার এই বান্দাদেরকে পথভ্রান্ত করেছিলে, না তারা নিজেরাই পথভ্রান্ত হয়েছিল?
18قَالُوا سُبْحَانَكَ مَا كَانَ يَنبَغِي لَنَا أَن نَّتَّخِذَ مِن دُونِكَ مِنْ أَوْلِيَاءَ وَلَٰكِن مَّتَّعْتَهُمْ وَآبَاءَهُمْ حَتَّىٰ نَسُوا الذِّكْرَ وَكَانُوا قَوْمًا بُورًا
তারা বলবে-আপনি পবিত্র, আমরা আপনার পরিবর্তে অন্যকে মুরুব্বীরূপে গ্রহণ করতে পারতাম না; কিন্তু আপনিই তো তাদেরকে এবং তাদের পিতৃপুরুষদেরকে ভোগসম্ভার দিয়েছিলেন, ফলে তারা আপনার স্মৃতি বিস্মৃত হয়েছিল এবং তারা ছিল ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতি।
19فَقَدْ كَذَّبُوكُم بِمَا تَقُولُونَ فَمَا تَسْتَطِيعُونَ صَرْفًا وَلَا نَصْرًا ۚ وَمَن يَظْلِم مِّنكُمْ نُذِقْهُ عَذَابًا كَبِيرًا
আল্লাহ মুশরিকদেরকে বলবেন, তোমাদের কথা তো তারা মিথ্যা সাব্যস্ত করল, এখন তোমরা শাস্তি প্রতিরোধ করতে পারবে না এবং সাহায্যও করতে পারবে না। তোমাদের মধ্যে যে গোনাহগার আমি তাকে গুরুতর শাস্তি আস্বাদন করাব।
20وَمَا أَرْسَلْنَا قَبْلَكَ مِنَ الْمُرْسَلِينَ إِلَّا إِنَّهُمْ لَيَأْكُلُونَ الطَّعَامَ وَيَمْشُونَ فِي الْأَسْوَاقِ ۗ وَجَعَلْنَا بَعْضَكُمْ لِبَعْضٍ فِتْنَةً أَتَصْبِرُونَ ۗ وَكَانَ رَبُّكَ بَصِيرًا
আপনার পূর্বে যত রসূল প্রেরণ করেছি, তারা সবাই খাদ্য গ্রহণ করত এবং হাটে-বাজারে চলাফেরা করত। আমি তোমাদের এককে অপরের জন্যে পরীক্ষাস্বরূপ করেছি। দেখি, তোমরা সবর কর কিনা। আপনার পালনকর্তা সব কিছু দেখেন।
21۞ وَقَالَ الَّذِينَ لَا يَرْجُونَ لِقَاءَنَا لَوْلَا أُنزِلَ عَلَيْنَا الْمَلَائِكَةُ أَوْ نَرَىٰ رَبَّنَا ۗ لَقَدِ اسْتَكْبَرُوا فِي أَنفُسِهِمْ وَعَتَوْا عُتُوًّا كَبِيرًا
যারা আমার সাক্ষাৎ আশা করে না, তারা বলে, আমাদের কাছে ফেরেশতা অবতীর্ণ করা হল না কেন? অথবা আমরা আমাদের পালনকর্তাকে দেখি না কেন? তারা নিজেদের অন্তরে অহংকার পোষণ করে এবং গুরুতর অবাধ্যতায় মেতে উঠেছে।
আল-ফুরকানকুরআন সূচী
77আয়াত
মাক্কীঅবতরণস্থান
19আয়াত

অনুবাদ — আল-ফুরকান 19

সূরা আল-ফুরকান আয়াত 19 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : আল্লাহ মুশরিকদেরকে বলবেন, তোমাদের কথা তো তারা মিথ্যা সাব্যস্ত করল,…

সূরা আয়াত 19/77 — সূরা আল-ফুরকান الفرقان (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আল-ফুরকান শুনুন, সূরা আল-ফুরকান অনুবাদ, সূরা আল-ফুরকান mp3, সূরা আল-ফুরকান pdf. আয়াত 17–21. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Wednesday, September 30, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না