مُشْرِكِينَ – যারা আল্লাহর সাথে অন্য কিছুকে শরীক করে।
তাফসীর:
হে নবী! আপনি ঐ সমস্ত লোকদেরকে বলুন যারা আপনার আনা সত্যকে অস্বীকার করছে—তোমরা পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়াও, তবে শুধু পর্যটনের জন্য নয়, বরং চিন্তা-গবেষণা ও শিক্ষা গ্রহণের জন্য। অতীতের জাতিগুলোর দিকে দৃষ্টি দাও—নূহ (আঃ)-এর সম্প্রদায়, আদ, সামুদ, লূতের জাতি এবং অন্যান্য সম্প্রদায়—যারা তাদের নবীদেরকে মিথ্যা বলেছিল। দেখো, তাদের পরিণাম কী হয়েছিল! তাদের বাসভূমি আজ ধ্বংসস্তূপে পরিণত, তাদের প্রাসাদ ও ঘর-বাড়ি জনশূন্য। কেন এমন হলো? কারণ তাদের অধিকাংশই ছিল মুশরিক—আল্লাহর সাথে অন্য কিছুকে শরীক করত, তাঁর পরিবর্তে মূর্তি ও অন্যান্য বস্তুর পূজা করত। এই শিরকের কারণেই তাদের উপর আল্লাহর আযাব নেমে এসেছিল এবং তারা ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। সুতরাং এই ইতিহাস থেকে তোমাদের শিক্ষা নেওয়া উচিত এবং শিরক ও কুফর থেকে বিরত থাকা উচিত।
শিক্ষা ও উপদেশ:
পৃথিবীতে ভ্রমণ করা এবং অতীত জাতির ধ্বংসচিহ্ন দেখা একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষামূলক কাজ, যা মানুষকে আল্লাহর ক্ষমতা ও শাস্তি সম্পর্কে সচেতন করে।
শিরকই是所有 ধ্বংসের মূল কারণ। অতীতের জাতিগুলো শিরকের কারণেই ধ্বংস হয়েছে, তাই শিরক থেকে বেঁচে থাকা প্রতিটি মুমিনের কর্তব্য।
ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়া ঈমানের দাবি। যে ব্যক্তি অতীতের ঘটনা থেকে শিক্ষা নেয় না, সে নিজের ধ্বংস নিজেই ডেকে আনে।
এই আয়াত প্রমাণ করে যে, আল্লাহর রহমত ও শাস্তি উভয়ই সত্য। যারা তাঁর অবাধ্য হয়, তাদের পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ।
ইসলাম মানুষকে চিন্তা-গবেষণা ও জ্ঞান অর্জনে উৎসাহিত করে, কারণ চিন্তা-গবেষণাই মানুষকে সত্যের পথে পরিচালিত করে।
আল্লাহই তোমাদের সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর রিযিক দিয়েছেন, এরপর তোমাদের মৃত্যু দেবেন, এরপর তোমাদের জীবিত করবেন। তোমাদের শরীকদের মধ্যে এমন কেউ আছে কি, যে এসব কাজের মধ্যে কোন একটিও করতে পারবে? তারা যাকে শরীক করে, আল্লাহ তা থেকে পবিত্র ও মহান।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।