আর-রুম · 43/60
অনুবাদ উচ্চারণ — আর-রুম
فَأَقِمْ وَجْهَكَ لِلدِّينِ الْقَيِّمِ مِن قَبْلِ أَن يَأْتِيَ يَوْمٌ لَّا مَرَدَّ لَهُ مِنَ اللَّهِ ۖ يَوْمَئِذٍ يَصَّدَّعُونَ ۝٤٣
Fa aqim wajhaka lid deenil qaiyimi min qabli any yaatiya Yawmul laa maradda lahoo minal laahi Yawma`iziny yassadda`oon
📖 বাংলা অর্থ
যে দিবস আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রত্যাহূত হবার নয়, সেই দিবসের পূর্বে আপনি সরল ধর্মে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করুন। সেদিন মানুষ বিভক্ত হয়ে পড়বে।

🎧 শুনুন
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • فَأَقِمْ وَجْهَكَ – তুমি নিজেকে সম্পূর্ণরূপে নিয়োজিত করো, অর্থাৎ নিজের চেহারা ও মনোযোগকে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করো।
  • الدِّينِ الْقَيِّمِ – সরল, সুপ্রতিষ্ঠিত ও বক্রতামুক্ত দ্বীন (ইসলাম)।
  • لَا مَرَدَّ لَهُ – যাকে ফিরিয়ে দেওয়ার বা রদ করার কোনো ক্ষমতা কারো নেই।
  • يَصَّدَّعُونَ – তারা পৃথক হয়ে যাবে, বিভক্ত হয়ে পড়বে (জান্নাতি ও জাহান্নামি দুই দলে)।

তাফসীর:

হে নবী! আপনি আপনার সম্পূর্ণ অস্তিত্ব ও মনোযোগকে সেই সরল ও সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীনের (ইসলামের) দিকে প্রতিষ্ঠিত করুন—যে দ্বীনে কোনো বক্রতা, জটিলতা বা অসারতা নেই। এই দ্বীনকে আঁকড়ে ধরুন এবং এর নির্দেশাবলী পালন করুন, নিষেধাজ্ঞা থেকে বিরত থাকুন। এই কাজটি করুন সেই দিন আসার আগেই, যে দিনটি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত এবং যাকে কোনো শক্তি, কোনো ব্যক্তি বা কোনো উপায়ে প্রতিরোধ বা ফিরিয়ে দিতে পারবে না। সেদিন (কিয়ামতের দিন) সমস্ত সৃষ্টিজীব বিভক্ত হয়ে পড়বে—কেউ যাবে জান্নাতে, কেউ যাবে জাহান্নামে। তারা তাদের কর্ম অনুযায়ী সম্পূর্ণ ভিন্ন ভিন্ন অবস্থায় উপনীত হবে; কেউ হবে চরম সুখ-শান্তিতে, আর কেউ হবে চরম শাস্তি ও দুর্ভোগে। সুতরাং সেই ভয়াবহ দিনের আগেই নিজেকে দ্বীনের উপর সুপ্রতিষ্ঠিত করুন, কারণ সেদিন আর কোনো সংশোধনের সুযোগ থাকবে না।

ফায়দা (শিক্ষা):

  1. ইসলামই একমাত্র সরল ও সত্য পথ, যা আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত এবং যা মানবজাতির জন্য পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা। এই দ্বীনকে আঁকড়ে ধরাই প্রতিটি মুমিনের প্রধান কর্তব্য।
  2. কিয়ামত অবশ্যম্ভাবী এবং এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন এক অনিবার্য সত্য, যাকে কেউ রদ করতে পারবে না। তাই এর জন্য প্রস্তুতি নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
  3. দুনিয়ার জীবনই একমাত্র কর্মক্ষেত্র; আখিরাতে কোনো কাজ করার সুযোগ থাকবে না। তাই সময় থাকতে থাকতে নিজের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা জরুরি।
  4. কিয়ামতের দিন মানুষ দুই দলে বিভক্ত হবে—জান্নাতি ও জাহান্নামি। এই বিভাজন হবে তাদের দুনিয়ার কর্ম ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে। তাই আজকের প্রতিটি কাজ ও বিশ্বাসই আগামীকালের চিরন্তন পরিণতি নির্ধারণ করবে।
  5. এই আয়াত মুমিনকে সতর্ক ও আশাবাদী করে—যে এখনই ফিরে আসার সময়, এখনই তওবা ও সংশোধনের সুযোগ, কারণ আল্লাহর দরজা খোলা আছে; কিন্তু সেই দিন এলে আর কোনো ফেরার পথ থাকবে না।


📜 আয়াত 41-45 — আর-রুম

41ظَهَرَ الْفَسَادُ فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ بِمَا كَسَبَتْ أَيْدِي النَّاسِ لِيُذِيقَهُم بَعْضَ الَّذِي عَمِلُوا لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ
স্থলে ও জলে মানুষের কৃতকর্মের দরুন বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়েছে। আল্লাহ তাদেরকে তাদের কর্মের শাস্তি আস্বাদন করাতে চান, যাতে তারা ফিরে আসে।
42قُلْ سِيرُوا فِي الْأَرْضِ فَانظُرُوا كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الَّذِينَ مِن قَبْلُ ۚ كَانَ أَكْثَرُهُم مُّشْرِكِينَ
বলুন, তোমরা পৃথিবীতে পরিভ্রমণ কর এবং দেখ তোমাদের পুর্ববর্তীদের পরিণাম কি হয়েছে। তাদের অধিকাংশই ছিল মুশরিক।
43فَأَقِمْ وَجْهَكَ لِلدِّينِ الْقَيِّمِ مِن قَبْلِ أَن يَأْتِيَ يَوْمٌ لَّا مَرَدَّ لَهُ مِنَ اللَّهِ ۖ يَوْمَئِذٍ يَصَّدَّعُونَ
যে দিবস আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রত্যাহূত হবার নয়, সেই দিবসের পূর্বে আপনি সরল ধর্মে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করুন। সেদিন মানুষ বিভক্ত হয়ে পড়বে।
44مَن كَفَرَ فَعَلَيْهِ كُفْرُهُ ۖ وَمَنْ عَمِلَ صَالِحًا فَلِأَنفُسِهِمْ يَمْهَدُونَ
যে কুফরী করে, তার কফুরের জন্যে সে-ই দায়ী এবং যে সৎকর্ম করে, তারা নিজেদের পথই শুধরে নিচ্ছে।
45لِيَجْزِيَ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ مِن فَضْلِهِ ۚ إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الْكَافِرِينَ
যারা বিশ্বাস করেছে ও সৎকর্ম করেছে যাতে, আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে নিজ অনুগ্রহে প্রতিদান দেন। নিশ্চয় তিনি কাফেরদের ভালবাসেন না।
আর-রুমকুরআন সূচী
60আয়াত
মাক্কীRevelation
43আয়াত

অনুবাদ — আর-রুম 43

সূরা আর-রুম আয়াত 43 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : যে দিবস আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রত্যাহূত হবার নয়, সেই দিবসের…

সূরা আয়াত 43/60 — আর-রুম الروم (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আর-রুম শুনুন, আর-রুম অনুবাদ, আর-রুম mp3, আর-রুম pdf. আয়াত 41–45. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না