Amman huwa qaanitun aanaaa`al laili saajidanw wa qaaa`imai yahzarul Aakhirata wa yarjoo rahmata Rabbih; qul hal yastawil lazeena ya`lamoona wallazeena laa ya`lamoon; innamaa yatazakkaru ulul albaab
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
যে ব্যক্তি রাত্রিকালে সেজদার মাধ্যমে অথবা দাঁড়িয়ে এবাদত করে, পরকালের আশংকা রাখে এবং তার পালনকর্তার রহমত প্রত্যাশা করে, সে কি তার সমান, যে এরূপ করে না; বলুন, যারা জানে এবং যারা জানে না; তারা কি সমান হতে পারে? চিন্তা-ভাবনা কেবল তারাই করে, যারা বুদ্ধিমান।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
(आख़िर) तू यक़ीनी जहन्नुमियों में होगा क्या जो शख्स रात के अवक़ात में सजदा करके और खड़े-खड़े (खुदा की) इबादत करता हो और आख़ेरत से डरता हो अपने परवरदिगार की रहमत का उम्मीदवार हो (नाशुक्रे) काफिर के बराबर हो सकता है (ऐ रसूल) तुम पूछो तो कि भला कहीं जानने वाले और न जाननेवाले लोग बराबर हो सकते हैं (मगर) नसीहत इबरतें तो बस अक्लमन्द ही लोग मानते हैं
যে ব্যক্তি রাত্রিকালে সেজদার মাধ্যমে অথবা দাঁড়িয়ে এবাদত করে, পরকালের আশংকা রাখে এবং তার পালনকর্তার রহমত প্রত্যাশা করে, সে কি তার সমান, যে এরূপ করে না; বলুন, যারা জানে এবং যারা জানে না; তারা কি সমান হতে পারে? চিন্তা-ভাবনা কেবল তারাই করে, যারা বুদ্ধিমান।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
قَانِتٌ — অনুগত, বিনীত, ইবাদতে রত।
آنَاءَ اللَّيْلِ — রাতের বিভিন্ন সময়, রাতের প্রহরসমূহ।
يَحْذَرُ الْآخِرَةَ — আখিরাতের শাস্তিকে ভয় করে।
يَرْجُو رَحْمَةَ رَبِّهِ — তার রবের রহমতের আশা রাখে।
এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা দুটি শ্রেণির মানুষের তুলনা উপস্থাপন করেছেন। একদিকে সেই কাফির বা গাফেল ব্যক্তি, যে নিজের কুফরি ও পাপাচারে মগ্ন থেকে দুনিয়ার সাময়িক সুখ-ভোগে মত্ত; অন্যদিকে সেই মুমিন বান্দা, যে রাতের বিভিন্ন প্রহরে জাগ্রত থেকে আল্লাহর ইবাদতে নিমগ্ন থাকে—কখনো সিজদায়, কখনো দাঁড়িয়ে নামাজে। সে আখিরাতের কঠিন শাস্তিকে ভয় করে এবং নিজের রবের অফুরন্ত রহমতের প্রতিই আশাবাদী থাকে। তার অন্তর ভয় ও আশার মধ্যে দোদুল্যমান—ভয় তাকে পাপ থেকে বিরত রাখে, আর আশা তাকে ইবাদতে অটল রাখে।
আল্লাহ তাআলা বলেন, হে নবী! আপনি তাদের প্রশ্নের উত্তর দিন: যারা তাদের রবকে জানে, তাঁর আদেশ-নিষেধ সম্পর্কে জ্ঞান রাখে এবং সে অনুযায়ী আমল করে, আর যারা এসব কিছুই জানে না—এই দুই শ্রেণি কি কখনো সমান হতে পারে? কখনোই না। জ্ঞানী ও অজ্ঞ ব্যক্তির মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। তবে এই সত্য উপলব্ধি করার ক্ষমতা কেবল সেই বিবেকবান ব্যক্তিদেরই আছে, যারা বুদ্ধি দিয়ে চিন্তা করে, উপদেশ গ্রহণ করে এবং সঠিক পথ বেছে নেয়।
শিক্ষা ও উপকারিতা:
রাতের ইবাদতের বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। রাতের নীরবতায় আল্লাহর সঙ্গে একান্ত কথোপকথন মুমিনের মর্যাদা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
মুমিনের জীবন ভয় ও আশার সমন্বয়ে গঠিত—ভয় তাকে পাপ থেকে বিরত রাখে, আর আশা তাকে ইবাদতে উৎসাহিত করে। এই ভারসাম্যই তাকে সঠিক পথে চালিত করে।
জ্ঞান ও অজ্ঞতা কখনো সমান নয়। ইসলাম জ্ঞানচর্চাকে ইবাদতের মর্যাদা দিয়েছে এবং জ্ঞানী ব্যক্তিকে উচ্চ মর্যাদায় আসীন করেছে।
প্রকৃত বুদ্ধিমান সেই ব্যক্তি, যে কুরআনের এই শিক্ষাগুলো থেকে উপদেশ গ্রহণ করে এবং নিজের জীবনকে আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে সাজায়।
এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, দুনিয়ার সাময়িক সুখ-ভোগের চেয়ে আখিরাতের সফলতাই প্রকৃত সফলতা। তাই আমাদের উচিত রাতের কিছু সময় আল্লাহর ইবাদতে কাটানো এবং জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে নিজেদের ঈমানকে মজবুত করা।
যদি তোমরা অস্বীকার কর, তবে আল্লাহ তোমাদের থেকে বেপরওয়া। তিনি তাঁর বান্দাদের কাফের হয়ে পড়া পছন্দ করেন না। পক্ষান্তরে যদি তোমরা কৃতজ্ঞ হও, তবে তিনি তোমাদের জন্যে তা পছন্দ করেন। একের পাপ ভার অন্যে বহন করবে না। অতঃপর তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কাছে ফিরে যাবে। তিনি তোমাদেরকে তোমাদের কর্ম সম্বন্ধে অবহিত করবেন। নিশ্চয় তিনি অন্তরের বিষয় সম্পর্কেও অবগত।
যখন মানুষকে দুঃখ-কষ্ট স্পর্শ করে, তখন সে একাগ্রচিত্তে তার পালনকর্তাকে ডাকে, অতঃপর তিনি যখন তাকে নেয়ামত দান করেন, তখন সে কষ্টের কথা বিস্মৃত হয়ে যায়, যার জন্যে পূর্বে ডেকেছিল এবং আল্লাহর সমকক্ষ স্থির করে; যাতে করে অপরকে আল্লাহর পথ থেকে বিভ্রান্ত করে। বলুন, তুমি তোমার কুফর সহকারে কিছুকাল জীবনোপভোগ করে নাও। নিশ্চয় তুমি জাহান্নামীদের অন্তর্ভূক্ত।
যে ব্যক্তি রাত্রিকালে সেজদার মাধ্যমে অথবা দাঁড়িয়ে এবাদত করে, পরকালের আশংকা রাখে এবং তার পালনকর্তার রহমত প্রত্যাশা করে, সে কি তার সমান, যে এরূপ করে না; বলুন, যারা জানে এবং যারা জানে না; তারা কি সমান হতে পারে? চিন্তা-ভাবনা কেবল তারাই করে, যারা বুদ্ধিমান।
বলুন, হে আমার বিশ্বাসী বান্দাগণ! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় কর। যারা এ দুনিয়াতে সৎকাজ করে, তাদের জন্যে রয়েছে পুণ্য। আল্লাহর পৃথিবী প্রশস্ত। যারা সবরকারী, তারাই তাদের পুরস্কার পায় অগণিত।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।