অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ ও ব্যাখ্যা:
- فَلِذَٰلِكَ - এই দ্বীনের জন্যই (অর্থাৎ তাওহীদের এই সরল পথের দিকে)
- وَاسْتَقِمْ - এবং তুমি প্রতিষ্ঠিত থাকো, অবিচল থাকো
- أَهْوَاءَهُمْ - তাদের খেয়াল-খুশি, মনগড়া ইচ্ছা
- لَا حُجَّةَ - কোনো বিবাদ-বিতর্ক নেই, কোনো তর্ক-বিতর্কের অবকাশ নেই
- الْمَصِيرُ - প্রত্যাবর্তনস্থল, ফিরে যাওয়ার জায়গা
বিস্তারিত তাফসির:
হে প্রিয় নবী! এই দ্বীনে আহ্বান করো, যে দ্বীনটি আল্লাহ তাঁর নবীগণকে দিয়ে এসেছেন এবং যে দ্বীনটি সকল নবী একই সূত্রে প্রচার করে গেছেন। এই দ্বীনের প্রতিই মানুষকে ডাকো এবং তুমি নিজেও সেই পথে অবিচল থাকো, যেমনটি তোমাকে আদেশ করা হয়েছে। আল্লাহর আদেশ অনুযায়ী তোমার জীবনকে পরিচালিত করো, কোনো প্রকার বিচ্যুতি বা দোলাচল ছাড়াই।
আর যারা সত্যকে অস্বীকার করেছে, যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে, তাদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করো না। তারা চায় তুমি তাদের মিথ্যা ধারণার সাথে আপস করো, তাদের মূর্তিপূজাকে সম্মান করো, কিন্তু তুমি তাদের কোনো প্রস্তাব গ্রহণ করবে না। বরং তাদেরকে স্পষ্টভাবে বলে দাও: "আমি ঈমান এনেছি সেই সমস্ত কিতাবের উপর যা আল্লাহ নবীগণের উপর নাজিল করেছেন। কোনো কিতাবের প্রতি আমি বৈষম্য করি না, সকল কিতাবই আমার কাছে সত্য।"
আর আমি আদিষ্ট হয়েছি তোমাদের মধ্যে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে। আমার বিচারে কোনো পক্ষপাতিত্ব নেই, ধনী-গরিব, উচ্চ-নীচ সবার সাথে আমি সমান আচরণ করব। আল্লাহই আমাদের রব এবং তোমাদেরও রব। তিনি সবার সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা। আমাদের জন্য আমাদের আমল, তোমাদের জন্য তোমাদের আমল। প্রত্যেকে নিজ নিজ কাজের জন্য দায়ী। সৎকর্মশীল ব্যক্তি তার সৎকর্মের ফল পাবে, আর অসৎকর্মশীল ব্যক্তি তার অসৎকর্মের শাস্তি পাবে।
সত্য স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পর আমাদের এবং তোমাদের মধ্যে আর কোনো তর্ক-বিতর্কের প্রয়োজন নেই। আমরা যে পথে আহ্বান করছি তা স্পষ্ট, তোমাদের পথও তোমাদের কাছে স্পষ্ট। আল্লাহই আমাদের সকলকে একত্র করবেন কিয়ামতের দিন। তিনি আমাদের মধ্যকার সকল বিবাদের ফয়সালা করবেন তাঁর ন্যায়বিচারের মাধ্যমে। আর সকলের প্রত্যাবর্তন তাঁরই দিকে। সেদিন প্রত্যেকে তার কাজের ফলাফল দেখতে পাবে, সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে যাবে।
হেদায়াতের আলো:
এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, ইসলামের দাওয়াতের পথে অবিচল থাকতে হবে, কারো খেয়াল-খুশির কাছে মাথা নত করা যাবে না। সত্যের পথে দৃঢ় থাকলে আল্লাহ নিজেই আমাদের সাহায্য করেন। আর যারা সত্যকে গ্রহণ করে না, তাদের সাথে তর্কে জড়ানোর প্রয়োজন নেই; বরং তাদের জন্য দোয়া করতে হবে যেন আল্লাহ তাদের হেদায়াত দেন। কিয়ামতের দিনই সকল হিসাব-নিকাশ হবে, সেদিন প্রত্যেকে তার কাজের ফল পাবে। তাই আমাদের উচিত নিজেদের আমলকে সুন্দর করা, আল্লাহর আদেশ মেনে চলা এবং তাঁর রহমতের আশা করা।
📜 আয়াত 13-17 — সূরা আশ-শুরা
অনুবাদ — আশ-শুরা 15
সূরা আশ-শুরা আয়াত 15 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : সুতরাং আপনি এর প্রতিই দাওয়াত দিন এবং হুকুম অনুযায়ী অবিচল…সূরা আয়াত 15/53 — সূরা আশ-শুরা الشورى (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আশ-শুরা শুনুন, সূরা আশ-শুরা অনুবাদ, সূরা আশ-শুরা mp3, সূরা আশ-শুরা pdf. আয়াত 13–17. বাংলা অর্থ: हिन्दी.
পবিত্র কুরআন
Tuesday, September 8, 2026
আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না








