আশ-শুরা · 15/53
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আশ-শুরা
فَلِذَٰلِكَ فَادْعُ ۖ وَاسْتَقِمْ كَمَا أُمِرْتَ ۖ وَلَا تَتَّبِعْ أَهْوَاءَهُمْ ۖ وَقُلْ آمَنتُ بِمَا أَنزَلَ اللَّهُ مِن كِتَابٍ ۖ وَأُمِرْتُ لِأَعْدِلَ بَيْنَكُمُ ۖ اللَّهُ رَبُّنَا وَرَبُّكُمْ ۖ لَنَا أَعْمَالُنَا وَلَكُمْ أَعْمَالُكُمْ ۖ لَا حُجَّةَ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمُ ۖ اللَّهُ يَجْمَعُ بَيْنَنَا ۖ وَإِلَيْهِ الْمَصِيرُ ۝١٥
Falizaalika fad`u wastaqim kamaaa umirta wa laa tattabi` ahwaaa`ahum wa qul aamantu bimaaa anzalal laahu min Kitaab, wa umirtu li a`dila bainakum Allaahu Rabbunaa wa Rabbukum lanaaa a`maa lunaa wa lakum a`maalukim laa hujjata bainanaa wa baina kumul laahu yajma`u bainanaa wa ilaihil maseer
📖 বাংলা অর্থ
সুতরাং আপনি এর প্রতিই দাওয়াত দিন এবং হুকুম অনুযায়ী অবিচল থাকুন; আপনি তাদের খেয়ালখুশীর অনুসরণ করবেন না। বলুন, আল্লাহ যে কিতাব নাযিল করেছেন, আমি তাতে বিশ্বাস স্থাপন করেছি। আমি তোমাদের মধ্যে ন্যায় বিচার করতে আদিষ্ট হয়েছি। আল্লাহ আমাদের পালনকর্তা ও তোমাদের পালনকর্তা। আমাদের জন্যে আমাদের কর্ম এবং তোমাদের জন্যে তোমাদের কর্ম। আমাদের মধ্যে ও তোমাদের মধ্যে বিবাদ নেই। আল্লাহ আমাদেরকে সমবেত করবেন এবং তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তণ হবে।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ ও ব্যাখ্যা:

  • فَلِذَٰلِكَ - এই দ্বীনের জন্যই (অর্থাৎ তাওহীদের এই সরল পথের দিকে)
  • وَاسْتَقِمْ - এবং তুমি প্রতিষ্ঠিত থাকো, অবিচল থাকো
  • أَهْوَاءَهُمْ - তাদের খেয়াল-খুশি, মনগড়া ইচ্ছা
  • لَا حُجَّةَ - কোনো বিবাদ-বিতর্ক নেই, কোনো তর্ক-বিতর্কের অবকাশ নেই
  • الْمَصِيرُ - প্রত্যাবর্তনস্থল, ফিরে যাওয়ার জায়গা

বিস্তারিত তাফসির:

হে প্রিয় নবী! এই দ্বীনে আহ্বান করো, যে দ্বীনটি আল্লাহ তাঁর নবীগণকে দিয়ে এসেছেন এবং যে দ্বীনটি সকল নবী একই সূত্রে প্রচার করে গেছেন। এই দ্বীনের প্রতিই মানুষকে ডাকো এবং তুমি নিজেও সেই পথে অবিচল থাকো, যেমনটি তোমাকে আদেশ করা হয়েছে। আল্লাহর আদেশ অনুযায়ী তোমার জীবনকে পরিচালিত করো, কোনো প্রকার বিচ্যুতি বা দোলাচল ছাড়াই।

আর যারা সত্যকে অস্বীকার করেছে, যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে, তাদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করো না। তারা চায় তুমি তাদের মিথ্যা ধারণার সাথে আপস করো, তাদের মূর্তিপূজাকে সম্মান করো, কিন্তু তুমি তাদের কোনো প্রস্তাব গ্রহণ করবে না। বরং তাদেরকে স্পষ্টভাবে বলে দাও: "আমি ঈমান এনেছি সেই সমস্ত কিতাবের উপর যা আল্লাহ নবীগণের উপর নাজিল করেছেন। কোনো কিতাবের প্রতি আমি বৈষম্য করি না, সকল কিতাবই আমার কাছে সত্য।"

আর আমি আদিষ্ট হয়েছি তোমাদের মধ্যে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে। আমার বিচারে কোনো পক্ষপাতিত্ব নেই, ধনী-গরিব, উচ্চ-নীচ সবার সাথে আমি সমান আচরণ করব। আল্লাহই আমাদের রব এবং তোমাদেরও রব। তিনি সবার সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা। আমাদের জন্য আমাদের আমল, তোমাদের জন্য তোমাদের আমল। প্রত্যেকে নিজ নিজ কাজের জন্য দায়ী। সৎকর্মশীল ব্যক্তি তার সৎকর্মের ফল পাবে, আর অসৎকর্মশীল ব্যক্তি তার অসৎকর্মের শাস্তি পাবে।

সত্য স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পর আমাদের এবং তোমাদের মধ্যে আর কোনো তর্ক-বিতর্কের প্রয়োজন নেই। আমরা যে পথে আহ্বান করছি তা স্পষ্ট, তোমাদের পথও তোমাদের কাছে স্পষ্ট। আল্লাহই আমাদের সকলকে একত্র করবেন কিয়ামতের দিন। তিনি আমাদের মধ্যকার সকল বিবাদের ফয়সালা করবেন তাঁর ন্যায়বিচারের মাধ্যমে। আর সকলের প্রত্যাবর্তন তাঁরই দিকে। সেদিন প্রত্যেকে তার কাজের ফলাফল দেখতে পাবে, সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে যাবে।


হেদায়াতের আলো:

এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, ইসলামের দাওয়াতের পথে অবিচল থাকতে হবে, কারো খেয়াল-খুশির কাছে মাথা নত করা যাবে না। সত্যের পথে দৃঢ় থাকলে আল্লাহ নিজেই আমাদের সাহায্য করেন। আর যারা সত্যকে গ্রহণ করে না, তাদের সাথে তর্কে জড়ানোর প্রয়োজন নেই; বরং তাদের জন্য দোয়া করতে হবে যেন আল্লাহ তাদের হেদায়াত দেন। কিয়ামতের দিনই সকল হিসাব-নিকাশ হবে, সেদিন প্রত্যেকে তার কাজের ফল পাবে। তাই আমাদের উচিত নিজেদের আমলকে সুন্দর করা, আল্লাহর আদেশ মেনে চলা এবং তাঁর রহমতের আশা করা।



📜 আয়াত 13-17 — সূরা আশ-শুরা

13۞ شَرَعَ لَكُم مِّنَ الدِّينِ مَا وَصَّىٰ بِهِ نُوحًا وَالَّذِي أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ وَمَا وَصَّيْنَا بِهِ إِبْرَاهِيمَ وَمُوسَىٰ وَعِيسَىٰ ۖ أَنْ أَقِيمُوا الدِّينَ وَلَا تَتَفَرَّقُوا فِيهِ ۚ كَبُرَ عَلَى الْمُشْرِكِينَ مَا تَدْعُوهُمْ إِلَيْهِ ۚ اللَّهُ يَجْتَبِي إِلَيْهِ مَن يَشَاءُ وَيَهْدِي إِلَيْهِ مَن يُنِيبُ
তিনি তোমাদের জন্যে দ্বীনের ক্ষেত্রে সে পথই নিধারিত করেছেন, যার আদেশ দিয়েছিলেন নূহকে, যা আমি প্রত্যাদেশ করেছি আপনার প্রতি এবং যার আদেশ দিয়েছিলাম ইব্রাহীম, মূসা ও ঈসাকে এই মর্মে যে, তোমরা দ্বীনকে প্রতিষ্ঠিত কর এবং তাতে অনৈক্য সৃষ্টি করো না। আপনি মূশরেকদেরকে যে বিষয়ের প্রতি আমন্ত্রণ জানান, তা তাদের কাছে দুঃসাধ্য বলে মনে হয়। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা মনোনীত করেন এবং যে তাঁর অভিমুখী হয়, তাকে পথ প্রদর্শন করেন।
14وَمَا تَفَرَّقُوا إِلَّا مِن بَعْدِ مَا جَاءَهُمُ الْعِلْمُ بَغْيًا بَيْنَهُمْ ۚ وَلَوْلَا كَلِمَةٌ سَبَقَتْ مِن رَّبِّكَ إِلَىٰ أَجَلٍ مُّسَمًّى لَّقُضِيَ بَيْنَهُمْ ۚ وَإِنَّ الَّذِينَ أُورِثُوا الْكِتَابَ مِن بَعْدِهِمْ لَفِي شَكٍّ مِّنْهُ مُرِيبٍ
তাদের কাছে জ্ঞান আসার পরই তারা পারস্পরিক বিভেদের কারণে মতভেদ করেছে। যদি আপনার পালনকর্তার পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অবকাশের পূর্ব সিদ্ধান্ত না থাকত, তবে তাদের ফয়সালা হয়ে যেত। তাদের পর যারা কিতাব প্রাপ্ত হয়েছে, তারা অস্বস্তিকর সন্দেহে পতিত রয়েছে।
15فَلِذَٰلِكَ فَادْعُ ۖ وَاسْتَقِمْ كَمَا أُمِرْتَ ۖ وَلَا تَتَّبِعْ أَهْوَاءَهُمْ ۖ وَقُلْ آمَنتُ بِمَا أَنزَلَ اللَّهُ مِن كِتَابٍ ۖ وَأُمِرْتُ لِأَعْدِلَ بَيْنَكُمُ ۖ اللَّهُ رَبُّنَا وَرَبُّكُمْ ۖ لَنَا أَعْمَالُنَا وَلَكُمْ أَعْمَالُكُمْ ۖ لَا حُجَّةَ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمُ ۖ اللَّهُ يَجْمَعُ بَيْنَنَا ۖ وَإِلَيْهِ الْمَصِيرُ
সুতরাং আপনি এর প্রতিই দাওয়াত দিন এবং হুকুম অনুযায়ী অবিচল থাকুন; আপনি তাদের খেয়ালখুশীর অনুসরণ করবেন না। বলুন, আল্লাহ যে কিতাব নাযিল করেছেন, আমি তাতে বিশ্বাস স্থাপন করেছি। আমি তোমাদের মধ্যে ন্যায় বিচার করতে আদিষ্ট হয়েছি। আল্লাহ আমাদের পালনকর্তা ও তোমাদের পালনকর্তা। আমাদের জন্যে আমাদের কর্ম এবং তোমাদের জন্যে তোমাদের কর্ম। আমাদের মধ্যে ও তোমাদের মধ্যে বিবাদ নেই। আল্লাহ আমাদেরকে সমবেত করবেন এবং তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তণ হবে।
16وَالَّذِينَ يُحَاجُّونَ فِي اللَّهِ مِن بَعْدِ مَا اسْتُجِيبَ لَهُ حُجَّتُهُمْ دَاحِضَةٌ عِندَ رَبِّهِمْ وَعَلَيْهِمْ غَضَبٌ وَلَهُمْ عَذَابٌ شَدِيدٌ
আল্লাহর দ্বীন মেনে নেয়ার পর যারা সে সম্পর্কে বিতর্কে প্রবৃত্ত হয়, তাদের বিতর্ক তাদের পালনকর্তার কাছে বাতিল, তাদের প্রতি আল্লাহর গযব এবং তাদের জন্যে রয়েছে কঠোর আযাব।
17اللَّهُ الَّذِي أَنزَلَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ وَالْمِيزَانَ ۗ وَمَا يُدْرِيكَ لَعَلَّ السَّاعَةَ قَرِيبٌ
আল্লাহই সত্যসহ কিতাব ও ইনসাফের মানদন্ড নাযিল করেছেন। আপনি কি জানেন, সম্ভবতঃ কেয়ামত নিকটবর্তী।
আশ-শুরাকুরআন সূচী
53আয়াত
মাক্কীঅবতরণস্থান
15আয়াত

অনুবাদ — আশ-শুরা 15

সূরা আশ-শুরা আয়াত 15 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : সুতরাং আপনি এর প্রতিই দাওয়াত দিন এবং হুকুম অনুযায়ী অবিচল…

সূরা আয়াত 15/53 — সূরা আশ-শুরা الشورى (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আশ-শুরা শুনুন, সূরা আশ-শুরা অনুবাদ, সূরা আশ-শুরা mp3, সূরা আশ-শুরা pdf. আয়াত 13–17. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Thursday, October 1, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না