আশ-শুরা · 16/53
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আশ-শুরা
وَالَّذِينَ يُحَاجُّونَ فِي اللَّهِ مِن بَعْدِ مَا اسْتُجِيبَ لَهُ حُجَّتُهُمْ دَاحِضَةٌ عِندَ رَبِّهِمْ وَعَلَيْهِمْ غَضَبٌ وَلَهُمْ عَذَابٌ شَدِيدٌ ۝١٦
Wallazeena yuhaaajjoona fil laahi mim ba`di mastujeeba lahoo hujjatuhum daahidatun `inda Rabbihim wa `alaihim ghadabunw wa lahum `azaabun shadeed
📖 বাংলা অর্থ
আল্লাহর দ্বীন মেনে নেয়ার পর যারা সে সম্পর্কে বিতর্কে প্রবৃত্ত হয়, তাদের বিতর্ক তাদের পালনকর্তার কাছে বাতিল, তাদের প্রতি আল্লাহর গযব এবং তাদের জন্যে রয়েছে কঠোর আযাব।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • يُحَاجُّونَ = তারা বিতর্ক করে, তর্ক-বিতর্কে লিপ্ত হয়।
  • اسْتُجِيبَ لَهُ = তার (আল্লাহর বা রাসূলের) ডাকে সাড়া দেওয়া হয়েছে।
  • دَاحِضَةٌ = বাতিল, নিষ্ফল, ধ্বংসপ্রাপ্ত।
  • عِندَ رَبِّهِمْ = তাদের রবের নিকট।
  • غَضَبٌ = ক্রোধ, রাগ।
  • عَذَابٌ شَدِيدٌ = কঠিন শাস্তি।

তাফসীর:

যারা ইসলাম গ্রহণের পর এবং মানুষেরা আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর ডাকে সাড়া দিয়ে ঈমান আনার পরও আল্লাহর দ্বীন সম্পর্কে বিতর্ক করে, তাদের এই বিতর্ক ও যুক্তি-তর্ক সম্পূর্ণ বাতিল ও নিষ্ফল। কারণ সত্য স্পষ্ট হয়ে গেছে, প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। এরপরও যে ব্যক্তি সত্যকে অস্বীকার করে এবং মিথ্যা যুক্তি দিয়ে তাকে খণ্ডন করতে চায়, তার কোনো যুক্তিই আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য নয়। বরং তাদের এই আচরণের কারণে তাদের উপর আল্লাহর ক্রোধ নেমে আসে এবং আখিরাতে তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি — যা জাহান্নামের আগুন।

এই আয়াতে মূলত সেই সব লোকদের কথা বলা হয়েছে যারা ইসলামের বিরুদ্ধে তর্ক করত, যদিও সত্য তাদের কাছে পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল। তারা জেনে-বুঝে সত্যকে প্রত্যাখ্যান করত এবং মানুষকে ইসলাম থেকে ফিরিয়ে রাখার চেষ্টা করত। তাদের এই হঠকারিতা ও অহংকারের কারণে তারা আল্লাহর গজবের উপযুক্ত হয়েছে এবং তাদের জন্য রয়েছে ভয়াবহ আযাব।

শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. সত্য স্পষ্ট হওয়ার পর তা মেনে নেওয়াই ঈমানের দাবি। জেনে-বুঝে সত্যকে অস্বীকার করা এবং বিতর্ক করা মারাত্মক অপরাধ।
  2. দ্বীন সম্পর্কে বিতর্ক তখনই জায়েয, যখন তা সত্য উদঘাটনের জন্য হয় এবং জ্ঞান ও নম্রতার সাথে হয়। কিন্তু হঠকারিতা ও অহংকারবশত বিতর্ক কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।
  3. আল্লাহর ক্রোধ ও শাস্তি থেকে বাঁচতে হলে আমাদের উচিত সত্যকে মেনে নেওয়া এবং রাসূল (সা.)-এর দেখানো পথে চলা।
  4. এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলো নিয়ে অযথা তর্ক-বিতর্ক না করে বরং তা মেনে নিয়ে আমল করার দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত। কারণ ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা, যা মেনে চলার জন্যই এসেছে, তর্ক করার জন্য নয়।


📜 আয়াত 14-18 — সূরা আশ-শুরা

14وَمَا تَفَرَّقُوا إِلَّا مِن بَعْدِ مَا جَاءَهُمُ الْعِلْمُ بَغْيًا بَيْنَهُمْ ۚ وَلَوْلَا كَلِمَةٌ سَبَقَتْ مِن رَّبِّكَ إِلَىٰ أَجَلٍ مُّسَمًّى لَّقُضِيَ بَيْنَهُمْ ۚ وَإِنَّ الَّذِينَ أُورِثُوا الْكِتَابَ مِن بَعْدِهِمْ لَفِي شَكٍّ مِّنْهُ مُرِيبٍ
তাদের কাছে জ্ঞান আসার পরই তারা পারস্পরিক বিভেদের কারণে মতভেদ করেছে। যদি আপনার পালনকর্তার পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অবকাশের পূর্ব সিদ্ধান্ত না থাকত, তবে তাদের ফয়সালা হয়ে যেত। তাদের পর যারা কিতাব প্রাপ্ত হয়েছে, তারা অস্বস্তিকর সন্দেহে পতিত রয়েছে।
15فَلِذَٰلِكَ فَادْعُ ۖ وَاسْتَقِمْ كَمَا أُمِرْتَ ۖ وَلَا تَتَّبِعْ أَهْوَاءَهُمْ ۖ وَقُلْ آمَنتُ بِمَا أَنزَلَ اللَّهُ مِن كِتَابٍ ۖ وَأُمِرْتُ لِأَعْدِلَ بَيْنَكُمُ ۖ اللَّهُ رَبُّنَا وَرَبُّكُمْ ۖ لَنَا أَعْمَالُنَا وَلَكُمْ أَعْمَالُكُمْ ۖ لَا حُجَّةَ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمُ ۖ اللَّهُ يَجْمَعُ بَيْنَنَا ۖ وَإِلَيْهِ الْمَصِيرُ
সুতরাং আপনি এর প্রতিই দাওয়াত দিন এবং হুকুম অনুযায়ী অবিচল থাকুন; আপনি তাদের খেয়ালখুশীর অনুসরণ করবেন না। বলুন, আল্লাহ যে কিতাব নাযিল করেছেন, আমি তাতে বিশ্বাস স্থাপন করেছি। আমি তোমাদের মধ্যে ন্যায় বিচার করতে আদিষ্ট হয়েছি। আল্লাহ আমাদের পালনকর্তা ও তোমাদের পালনকর্তা। আমাদের জন্যে আমাদের কর্ম এবং তোমাদের জন্যে তোমাদের কর্ম। আমাদের মধ্যে ও তোমাদের মধ্যে বিবাদ নেই। আল্লাহ আমাদেরকে সমবেত করবেন এবং তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তণ হবে।
16وَالَّذِينَ يُحَاجُّونَ فِي اللَّهِ مِن بَعْدِ مَا اسْتُجِيبَ لَهُ حُجَّتُهُمْ دَاحِضَةٌ عِندَ رَبِّهِمْ وَعَلَيْهِمْ غَضَبٌ وَلَهُمْ عَذَابٌ شَدِيدٌ
আল্লাহর দ্বীন মেনে নেয়ার পর যারা সে সম্পর্কে বিতর্কে প্রবৃত্ত হয়, তাদের বিতর্ক তাদের পালনকর্তার কাছে বাতিল, তাদের প্রতি আল্লাহর গযব এবং তাদের জন্যে রয়েছে কঠোর আযাব।
17اللَّهُ الَّذِي أَنزَلَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ وَالْمِيزَانَ ۗ وَمَا يُدْرِيكَ لَعَلَّ السَّاعَةَ قَرِيبٌ
আল্লাহই সত্যসহ কিতাব ও ইনসাফের মানদন্ড নাযিল করেছেন। আপনি কি জানেন, সম্ভবতঃ কেয়ামত নিকটবর্তী।
18يَسْتَعْجِلُ بِهَا الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِهَا ۖ وَالَّذِينَ آمَنُوا مُشْفِقُونَ مِنْهَا وَيَعْلَمُونَ أَنَّهَا الْحَقُّ ۗ أَلَا إِنَّ الَّذِينَ يُمَارُونَ فِي السَّاعَةِ لَفِي ضَلَالٍ بَعِيدٍ
যারা তাতে বিশ্বাস করে না তারা তাকে তড়িৎ কামনা করে। আর যারা বিশ্বাস করে, তারা তাকে ভয় করে এবং জানে যে, তা সত্য। জেনে রাখ, যারা কেয়ামত সম্পর্কে বিতর্ক করে, তারা দূরবর্তী পথ ভ্রষ্টতায় লিপ্ত রয়েছে।
আশ-শুরাকুরআন সূচী
53আয়াত
মাক্কীঅবতরণস্থান
16আয়াত

অনুবাদ — আশ-শুরা 16

সূরা আশ-শুরা আয়াত 16 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : আল্লাহর দ্বীন মেনে নেয়ার পর যারা সে সম্পর্কে বিতর্কে প্রবৃত্ত…

সূরা আয়াত 16/53 — সূরা আশ-শুরা الشورى (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আশ-শুরা শুনুন, সূরা আশ-শুরা অনুবাদ, সূরা আশ-শুরা mp3, সূরা আশ-শুরা pdf. আয়াত 14–18. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Thursday, October 1, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না