আল্লাহ তা’আলা ব্যতীত তাদের কোন সাহায্যকারী থাকবে না, যে তাদেরকে সাহায্য করবে। আল্লাহ তা’আলা যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তার কোন গতি নেই।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
أَوْلِيَاء (অলি/সাহায্যকারী): বন্ধু, সাহায্যকারী বা রক্ষাকারী।
يَنصُرُونَهُم (তারা তাদের সাহায্য করবে): তাদেরকে রক্ষা করা বা উদ্ধার করা।
مِن دُونِ اللهِ (আল্লাহ ছাড়া): আল্লাহর শাস্তি থেকে রক্ষা করার মতো অন্য কাউকে বোঝানো হয়েছে।
يُضْلِلِ اللهُ (আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন): যাকে আল্লাহ হিদায়াত থেকে বঞ্চিত করেন।
سَبِيلٍ (পথ): কোনো উপায় বা রাস্তা।
তাফসির (ব্যাখ্যা):
কিয়ামতের দিন যখন আল্লাহ তাআলা কাফিরদেরকে শাস্তি দেবেন, তখন তাদের জন্য কোনো বন্ধু বা সাহায্যকারী থাকবে না—যারা আল্লাহর শাস্তি থেকে তাদেরকে রক্ষা করবে বা উদ্ধার করবে। তারা যে সমস্ত মিথ্যা উপাস্য বা লোকজনকে দুনিয়ায় সাহায্যকারী মনে করত, সেদিন তাদের কেউই তাদের পাশে দাঁড়াবে না। আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ তাদের বিপদ থেকে উদ্ধার করতে পারবে না।
আর যে ব্যক্তিকে আল্লাহ নিজেই পথভ্রষ্ট করেন—তার কুফরি ও জুলুমের কারণে—তার জন্য হিদায়াতের কোনো পথ খোলা থাকে না। দুনিয়ায় সে সত্য উপলব্ধি করার সুযোগ পায় না, আর আখিরাতে জান্নাতে প্রবেশের কোনো রাস্তা তার জন্য থাকে না। কারণ হিদায়াত ও পথভ্রষ্টতা সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর ইচ্ছাধীন। তিনি যাকে চান হিদায়াত দেন, আর যাকে চান পথভ্রষ্ট করেন—তাঁর বিচক্ষণতা ও ন্যায়বিচার অনুযায়ী। যখন আল্লাহ কাউকে পথভ্রষ্ট করেন, তখন তার জন্য নাজাতের সব দরজা বন্ধ হয়ে যায় এবং সে কখনো সঠিক পথ খুঁজে পায় না।
শিক্ষা ও উপদেশ:
কিয়ামতের দিন কোনো বন্ধু, আত্মীয় বা উপাস্যই কারো কাজে আসবে না। একমাত্র আল্লাহর রহমতই единственный উদ্ধারের উপায়। তাই আমাদের উচিত দুনিয়ায় এমন আমল করা যা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করে।
আল্লাহর হিদায়াতই আসল সম্পদ। যে ব্যক্তি আল্লাহর নির্দেশনা মেনে চলে, আল্লাহ তাকে সঠিক পথে রাখেন; আর যে তার অবাধ্যতা করে, সে নিজেরই ক্ষতি করে।
এই আয়াত আমাদের সতর্ক করে যে, কুফরি ও জুলুমের পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ। তাই আমাদের উচিত আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে চলা এবং অন্যায় থেকে বিরত থাকা।
আল্লাহর শাস্তি থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় হলো তাঁরই আনুগত্য করা এবং তাঁর রাসূলের (সা.) অনুসরণ করা। দুনিয়ার কোনো শক্তি বা সম্পদ আমাদেরকে আল্লাহর শাস্তি থেকে রক্ষা করতে পারবে না।
এই আয়াত মুমিনদের জন্য সান্ত্বনা যে, তারা যদি আল্লাহর পথে থাকে, তবে আল্লাহ তাদের হিদায়াত দান করবেন এবং তাদের জন্য সাফল্যের পথ উন্মুক্ত রাখবেন।
আল্লাহ যাকে পথ ভ্রষ্ট করেন, তার জন্যে তিনি ব্যতীত কোন কার্যনির্বাহী নেই। পাপাচারীরা যখন আযাব প্রত্যক্ষ করবে, তখন আপনি তাদেরকে দেখবেন যে, তারা বলছে আমাদের ফিরে যাওয়ার কোন উপায় আছে কি?
জাহান্নামের সামনে উপস্থিত করার সময় আপনি তাদেরকে দেখবেন, অপমানে অবনত এবং অর্ধ নিমীলিত দৃষ্টিতে তাকায়। মুমিনরা বলবে, কেয়ামতের দিন ক্ষতিগ্রস্ত তারাই, যারা নিজেদের ও তাদের পরিবার-পরিজনের ক্ষতি সাধন করেছে। শুনে রাখ, পাপাচারীরা স্থায়ী আযাবে থাকবে।
আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থেকে অবশ্যম্ভাবী দিবস আসার পূর্বে তোমরা তোমাদের পালনকর্তার আদেশ মান্য কর। সেদিন তোমাদের কোন আশ্রয়স্থল থাকবে না এবং তা নিরোধকারী কেউ থাকবে না।
যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে আপনাকে আমি তাদের রক্ষক করে পাঠাইনি। আপনার কর্তব্য কেবল প্রচার করা। আমি তাদের রক্ষক করে পাঠাইনি। আপনার কর্তব্য কেবল প্রচার করা। আমি যখন মানুষকে আমার রহমত আস্বাদন করাই, তখন সে উল্লসিত, আর যখন তাদের কৃতকর্মের কারণে তাদের কোন অনিষ্ট ঘটে, তখন মানুষ খুব অকৃতজ্ঞ হয়ে যায়।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।