আশ-শুরা · 48/53
অনুবাদ উচ্চারণ — আশ-শুরা
فَإِنْ أَعْرَضُوا فَمَا أَرْسَلْنَاكَ عَلَيْهِمْ حَفِيظًا ۖ إِنْ عَلَيْكَ إِلَّا الْبَلَاغُ ۗ وَإِنَّا إِذَا أَذَقْنَا الْإِنسَانَ مِنَّا رَحْمَةً فَرِحَ بِهَا ۖ وَإِن تُصِبْهُمْ سَيِّئَةٌ بِمَا قَدَّمَتْ أَيْدِيهِمْ فَإِنَّ الْإِنسَانَ كَفُورٌ ۝٤٨
Fa-in a`radoo famaaa arsalnaaka `alaihim hafeezan in `alaika illal balaagh; wa innaaa izaaa azaqnal insaana minnaa rahmatan fariha bihaa wa in tusibhum saiyi`atum bimaa qaddamat aydeehim fa innal insaana kafoor
📖 বাংলা অর্থ
যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে আপনাকে আমি তাদের রক্ষক করে পাঠাইনি। আপনার কর্তব্য কেবল প্রচার করা। আমি তাদের রক্ষক করে পাঠাইনি। আপনার কর্তব্য কেবল প্রচার করা। আমি যখন মানুষকে আমার রহমত আস্বাদন করাই, তখন সে উল্লসিত, আর যখন তাদের কৃতকর্মের কারণে তাদের কোন অনিষ্ট ঘটে, তখন মানুষ খুব অকৃতজ্ঞ হয়ে যায়।

🎧 শুনুন
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • أَعْرَضُوا = তারা মুখ ফিরিয়ে নিল, বিমুখ হলো।
  • حَفِيظًا = রক্ষক, তত্ত্বাবধায়ক, কর্মের হিসাব গ্রহণকারী।
  • الْبَلَاغُ = পৌঁছে দেওয়া, প্রচার করা।
  • أَذَقْنَا = আমরা আস্বাদন করালাম, দান করলাম।
  • سَيِّئَةٌ = বিপদ-আপদ, অমঙ্গল, কষ্ট।
  • كَفُورٌ = অত্যন্ত অকৃতজ্ঞ, নেয়ামত অস্বীকারকারী।

তাফসীর:

হে নবী! যদি এই মুশরিকরা সত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং তোমার দাওয়াত গ্রহণ না করে, তবে তুমি চিন্তিত হয়ো না। আমরা তোমাকে তাদের কর্মের রক্ষক বা তত্ত্বাবধায়ক করে পাঠাইনি যে, তাদের প্রতিটি কাজের হিসাব তুমি নেবে বা তাদেরকে জোর করে সৎপথে আনবে। তোমার দায়িত্ব শুধু আল্লাহর বাণী তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া। তাদের হিসাব-নিকাশ তো আল্লাহরই কাছে। এরপর আল্লাহ মানুষের স্বভাবের একটি দিক তুলে ধরেছেন— যখন আমরা মানুষকে আমাদের পক্ষ থেকে সুখ-সমৃদ্ধি, সম্পদ, সুস্থতা বা কোনো নেয়ামত দান করি, তখন সে আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে ওঠে এবং গর্বিত হয়। কিন্তু যখন তার কৃতকর্মের কারণে—যা সে নিজের হাতে আগে পাঠিয়েছে, যেমন পাপাচার ও সীমালঙ্ঘন—তার উপর কোনো বিপদ, দারিদ্র্য, রোগ বা কষ্ট নেমে আসে, তখন সে অত্যন্ত অকৃতজ্ঞ হয়ে পড়ে। সে নেয়ামতের কথা ভুলে যায় এবং শুধু বিপদের কথাই গণনা করতে থাকে, আল্লাহর প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করে এবং তাঁর বিধানকে দোষারোপ করে। এটি মানুষের সাধারণ দুর্বলতা, যদিও মুমিনরা এই দুর্বলতা থেকে মুক্ত থাকে; তারা সুখে শুকরিয়া আদায় করে এবং দুঃখে ধৈর্য ধারণ করে।

উপকারিতা ও শিক্ষা:

  1. নবী ও দাওয়াতকারীদের দায়িত্ব সীমিত—শুধু আল্লাহর বাণী পৌঁছে দেওয়া; হিদায়াত দেওয়া আল্লাহর ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল। তাই দাওয়াতের কাজে নিরাশ হওয়া উচিত নয়।
  2. মানুষের প্রতি জোরপূর্বক ঈমান আনার চেষ্টা করা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জন্যেও বৈধ ছিল না, বরং মানুষের ইখতিয়ার ও দায়িত্ববোধের প্রতি সম্মান দেখানো হয়েছে। এটি ইসলামের মানবিক ও যুক্তিনির্ভর দৃষ্টিভঙ্গি প্রমাণ করে।
  3. মানুষের স্বভাব হলো নেয়ামত পেলে আনন্দিত হওয়া এবং বিপদে অকৃতজ্ঞ হওয়া। এই স্বভাবকে নিয়ন্ত্রণ করাই ঈমানের পরীক্ষা। মুমিনের উচিত সুখে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা এবং দুঃখে терпение (ধৈর্য) ধারণ করা।
  4. বিপদ-আপদ মানুষের নিজের কৃতকর্মের ফল—এটি আল্লাহর ন্যায়বিচারের প্রমাণ। তাই কোনো বিপদ এলে নিজের আমল যাচাই করা এবং তওবা করা উচিত, আল্লাহকে দোষারোপ করা নয়।
  5. এই আয়াত মানুষকে আত্মসমালোচনার শিক্ষা দেয়—সুখে অহংকার না করা এবং দুঃখে হতাশ না হয়ে আল্লাহর দিকে ফিরে আসা। এটি ইসলামের পূর্ণাঙ্গ জীবনদর্শনকে তুলে ধরে, যা মানুষের কল্যাণের জন্যই।


📜 আয়াত 46-50 — আশ-শুরা

46وَمَا كَانَ لَهُم مِّنْ أَوْلِيَاءَ يَنصُرُونَهُم مِّن دُونِ اللَّهِ ۗ وَمَن يُضْلِلِ اللَّهُ فَمَا لَهُ مِن سَبِيلٍ
আল্লাহ তা’আলা ব্যতীত তাদের কোন সাহায্যকারী থাকবে না, যে তাদেরকে সাহায্য করবে। আল্লাহ তা’আলা যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তার কোন গতি নেই।
47اسْتَجِيبُوا لِرَبِّكُم مِّن قَبْلِ أَن يَأْتِيَ يَوْمٌ لَّا مَرَدَّ لَهُ مِنَ اللَّهِ ۚ مَا لَكُم مِّن مَّلْجَإٍ يَوْمَئِذٍ وَمَا لَكُم مِّن نَّكِيرٍ
আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থেকে অবশ্যম্ভাবী দিবস আসার পূর্বে তোমরা তোমাদের পালনকর্তার আদেশ মান্য কর। সেদিন তোমাদের কোন আশ্রয়স্থল থাকবে না এবং তা নিরোধকারী কেউ থাকবে না।
48فَإِنْ أَعْرَضُوا فَمَا أَرْسَلْنَاكَ عَلَيْهِمْ حَفِيظًا ۖ إِنْ عَلَيْكَ إِلَّا الْبَلَاغُ ۗ وَإِنَّا إِذَا أَذَقْنَا الْإِنسَانَ مِنَّا رَحْمَةً فَرِحَ بِهَا ۖ وَإِن تُصِبْهُمْ سَيِّئَةٌ بِمَا قَدَّمَتْ أَيْدِيهِمْ فَإِنَّ الْإِنسَانَ كَفُورٌ
যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে আপনাকে আমি তাদের রক্ষক করে পাঠাইনি। আপনার কর্তব্য কেবল প্রচার করা। আমি তাদের রক্ষক করে পাঠাইনি। আপনার কর্তব্য কেবল প্রচার করা। আমি যখন মানুষকে আমার রহমত আস্বাদন করাই, তখন সে উল্লসিত, আর যখন তাদের কৃতকর্মের কারণে তাদের কোন অনিষ্ট ঘটে, তখন মানুষ খুব অকৃতজ্ঞ হয়ে যায়।
49لِّلَّهِ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۚ يَخْلُقُ مَا يَشَاءُ ۚ يَهَبُ لِمَن يَشَاءُ إِنَاثًا وَيَهَبُ لِمَن يَشَاءُ الذُّكُورَ
নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের রাজত্ব আল্লাহ তা’আলারই। তিনি যা ইচ্ছা, সৃষ্টি করেন, যাকে ইচ্ছা কন্যা-সন্তান এবং যাকে ইচ্ছা পুত্র সন্তান দান করেন।
50أَوْ يُزَوِّجُهُمْ ذُكْرَانًا وَإِنَاثًا ۖ وَيَجْعَلُ مَن يَشَاءُ عَقِيمًا ۚ إِنَّهُ عَلِيمٌ قَدِيرٌ
অথবা তাদেরকে দান করেন পুত্র ও কন্যা উভয়ই এবং যাকে ইচ্ছা বন্ধ্যা করে দেন। নিশ্চয় তিনি সর্বজ্ঞ, ক্ষমতাশীল।
আশ-শুরাকুরআন সূচী
53আয়াত
মাক্কীRevelation
48আয়াত

অনুবাদ — আশ-শুরা 48

সূরা আশ-শুরা আয়াত 48 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে আপনাকে আমি তাদের রক্ষক…

সূরা আয়াত 48/53 — আশ-শুরা الشورى (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আশ-শুরা শুনুন, আশ-শুরা অনুবাদ, আশ-শুরা mp3, আশ-শুরা pdf. আয়াত 46–50. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না