Sa yaqoolul mukhalla foona izan talaqtum ilaa maghaanima litaakhuzoohaa zaroonaa nattabi`kum yureedoona any yubaddiloo Kalaamallaah; qul lan tattabi`oonaa kazaalikum qaalal laahu min qablu fasa yaqooloona bal tahsudoonanna; bal kaanoo laa yafqahoona illaa qaleela
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
তোমরা যখন যুদ্ধলব্ধ ধন-সম্পদ সংগ্রহের জন্য যাবে, তখন যারা পশ্চাতে থেকে গিয়েছিল, তারা বলবেঃ আমাদেরকেও তোমাদের সঙ্গে যেতে দাও। তারা আল্লাহর কালাম পরিবর্তন করতে চায়। বলুনঃ তোমরা কখনও আমাদের সঙ্গে যেতে পারবে না। আল্লাহ পূর্ব থেকেই এরূপ বলে দিয়েছেন। তারা বলবেঃ বরং তোমরা আমাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করছ। পরন্তু তারা সামান্যই বোঝে।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
(मुसलमानों) अब जो तुम (ख़ैबर की) ग़नीमतों के लेने को जाने लगोगे तो जो लोग (हुदैबिया से) पीछे रह गये थे तुम से कहेंगे कि हमें भी अपने साथ चलने दो ये चाहते हैं कि ख़ुदा के क़ौल को बदल दें तुम (साफ) कह दो कि तुम हरगिज़ हमारे साथ नहीं चलने पाओगे ख़ुदा ने पहले ही से ऐसा फ़रमा दिया है तो ये लोग कहेंगे कि तुम लोग तो हमसे हसद रखते हो (ख़ुदा ऐसा क्या कहेगा) बात ये है कि ये लोग बहुत ही कम समझते हैं
তোমরা যখন যুদ্ধলব্ধ ধন-সম্পদ সংগ্রহের জন্য যাবে, তখন যারা পশ্চাতে থেকে গিয়েছিল, তারা বলবেঃ আমাদেরকেও তোমাদের সঙ্গে যেতে দাও। তারা আল্লাহর কালাম পরিবর্তন করতে চায়। বলুনঃ তোমরা কখনও আমাদের সঙ্গে যেতে পারবে না। আল্লাহ পূর্ব থেকেই এরূপ বলে দিয়েছেন। তারা বলবেঃ বরং তোমরা আমাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করছ। পরন্তু তারা সামান্যই বোঝে।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
المُخَلَّفُونَ – যাদেরকে (জিহাদ থেকে) পিছনে রাখা হয়েছে; অর্থাৎ যারা হুদাইবিয়ার সফরে যেতে অস্বীকার করেছিল।
مَغَانِمَ – যুদ্ধলব্ধ সম্পদ; এখানে খায়বরের গনিমত।
ذَرُونَا – আমাদের ছেড়ে দাও, আমাদেরকে অনুমতি দাও।
يُبَدِّلُوا كَلَامَ اللَّهِ – আল্লাহর বাণী/প্রতিশ্রুতি পরিবর্তন করতে চাওয়া।
لَا يَفْقَهُونَ – তারা বুঝে না/উপলব্ধি করে না।
তাফসীর:
হে নবী! আপনি এবং আপনার সাহাবীরা যখন খায়বরের গনিমতের দিকে রওনা হবেন—যে গনিমতের ওয়াদা আল্লাহ কেবলমাত্র হুদাইবিয়ায় উপস্থিত মুমিনদের জন্য করেছেন—তখন যারা হুদাইবিয়ার সফরে আপনার সাথে যাওয়া থেকে পিছনে থেকে গিয়েছিল (মুনাফিক ও দুর্বল ঈমানদাররা) তারা বলবে, “আমাদেরকে ছেড়ে দাও, আমরাও তোমাদের সাথে যাই এবং এই গনিমতে অংশ নিই।” কিন্তু তাদের এই অনুরোধের মাধ্যমে তারা আল্লাহর সেই স্পষ্ট ওয়াদা ও ফয়সালাকে পরিবর্তন করতে চায়, যা তিনি পূর্বেই ঘোষণা করেছেন যে খায়বরের গনিমত শুধুমাত্র হুদাইবিয়ায় উপস্থিতদের জন্যই নির্ধারিত।
আপনি তাদেরকে বলুন, “তোমরা কখনো আমাদের সাথে যেতে পারবে না। আল্লাহ তাআলা আগেই আমাদেরকে এ নির্দেশ দিয়েছেন যে, খায়বরের গনিমতে কেবল তারাই শরিক হবে যারা হুদাইবিয়ার সন্ধিতে উপস্থিত ছিল।” তখন তারা হঠকারিতাবশত বলবে, “আসলে তোমরা আমাদের প্রতি হিংসা করছ বলেই আমাদেরকে সাথে নিতে চাও না।” কিন্তু প্রকৃত ব্যাপার তা নয়; বরং তারা আল্লাহর দ্বীন সম্পর্কে খুবই সামান্য জ্ঞান রাখে বলেই তাঁর আদেশ-নিষেধ ও প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে পারে না। তাদের অন্তরে মুনাফিকি ও অজ্ঞতার কারণে তারা আল্লাহর ফয়সালাকে মেনে নিতে অক্ষম।
ফায়দা ও শিক্ষা:
আল্লাহ তাআলার সিদ্ধান্ত ও বণ্টন-নীতি অপরিবর্তনীয়; কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী তা পরিবর্তন করার ক্ষমতা রাখে না। মুমিনের কর্তব্য আল্লাহর ফয়সালায় সন্তুষ্ট থাকা।
মুনাফিক ও দুর্বল ঈমানদারদের স্বভাব হলো—তারা যখন কোনো পার্থিব লাভের আশা দেখে, তখন সওয়াবের কাজে এগিয়ে আসে; কিন্তু কষ্ট ও পরীক্ষার সময় পিছিয়ে থাকে। মুমিনের বৈশিষ্ট্য হলো—আল্লাহর নির্দেশ পালনে সর্বাবস্থায় প্রস্তুত থাকা।
হিংসা ও ভুল ধারণা থেকে মানুষ অন্যায়ভাবে অন্যদেরকে দোষারোপ করে। কিন্তু প্রকৃত মুমিনের উচিত আল্লাহর সিদ্ধান্তকে মেনে নেওয়া, নিজের মতামতকে প্রাধান্য না দেওয়া।
দ্বীনের জ্ঞান অর্জন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; কারণ অজ্ঞতার কারণেই মানুষ আল্লাহর আদেশ-নিষেধ সম্পর্কে ভুল ধারণা পোষণ করে এবং গুনাহের কাজে লিপ্ত হয়। জ্ঞানই মানুষকে সঠিক পথে পরিচালিত করে।
এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, আল্লাহ তাঁর অনুগত বান্দাদেরকে বিশেষ মর্যাদা ও পুরস্কার দেন, যারা কষ্ট ও পরীক্ষার সময় তাঁর সাথে থাকে। তাই আমাদের উচিত আল্লাহর রাস্তায় সবসময় ধৈর্য ও আনুগত্যের সাথে থাকা, যাতে আমরা তাঁর বিশেষ রহমতের অধিকারী হতে পারি।
তোমরা যখন যুদ্ধলব্ধ ধন-সম্পদ সংগ্রহের জন্য যাবে, তখন যারা পশ্চাতে থেকে গিয়েছিল, তারা বলবেঃ আমাদেরকেও তোমাদের সঙ্গে যেতে দাও। তারা আল্লাহর কালাম পরিবর্তন করতে চায়। বলুনঃ তোমরা কখনও আমাদের সঙ্গে যেতে পারবে না। আল্লাহ পূর্ব থেকেই এরূপ বলে দিয়েছেন। তারা বলবেঃ বরং তোমরা আমাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করছ। পরন্তু তারা সামান্যই বোঝে।
গৃহে অবস্থানকারী মরুবাসীদেরকে বলে দিনঃ আগামীতে তোমরা এক প্রবল পরাক্রান্ত জাতির সাথে যুদ্ধ করতে আহুত হবে। তোমরা তাদের সাথে যুদ্ধ করবে, যতক্ষণ না তারা মুসলমান হয়ে যায়। তখন যদি তোমরা নির্দেশ পালন কর, তবে আল্লাহ তোমাদেরকে উত্তম পুরস্কার দিবেন। আর যদি পৃষ্ঠপ্রদর্শন কর যেমন ইতিপূর্বে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করেছ, তবে তিনি তোমাদেরকে যন্ত্রনাদায়ক শাস্তি দিবেন।
অন্ধের জন্যে, খঞ্জের জন্যে ও রুগ্নের জন্যে কোন অপরাধ নাই এবং যে কেউ আল্লাহ ও তাঁর রসূলের অনুগত্য করবে তাকে তিনি জান্নাতে দাখিল করবেন, যার তলদেশে নদী প্রবাহিত হয়। পক্ষান্তরে যে, ব্যক্তি পৃষ্ঠপ্রদর্শন করবে, তাকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি দিবেন।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।