আল-ফাতহ · 14/29
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আল-ফাতহ
وَلِلَّهِ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۚ يَغْفِرُ لِمَن يَشَاءُ وَيُعَذِّبُ مَن يَشَاءُ ۚ وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَّحِيمًا ۝١٤
Wa lillaahii mulkus samaawaati wal ard; yaghfiru limany yashaaa`u wa yu`azzibu many yashaaa`; wa kaanal laahu Ghafoorar Raheemaa
📖 বাংলা অর্থ
নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের রাজত্ব আল্লাহরই। তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন এবং যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেন। তিনি ক্ষমাশীল, পরম মেহেরবান।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • مُلْكُ — রাজত্ব, আধিপত্য, সার্বভৌমত্ব।
  • يَغْفِرُ — ক্ষমা করেন।
  • يُعَذِّبُ — শাস্তি দেন।
  • غَفُورًا — অত্যন্ত ক্ষমাশীল।
  • رَّحِيمًا — পরম দয়ালু।

তাফসীর (ব্যাখ্যা):

আসমান ও জমিনের সম্পূর্ণ রাজত্ব একমাত্র আল্লাহ তাআলারই। তিনি সবকিছুর মালিক এবং সবকিছু তাঁর ইচ্ছা ও ক্ষমতার অধীনে। তিনি চাইলে যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন এবং চাইলে যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেন। তবে তাঁর রহমত ও ক্ষমা তাঁর ক্রোধের ওপর প্রাধান্য পায়। তিনি তাঁর বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু; যারা তওবা করে তাঁর দিকে ফিরে আসে, তিনি তাদের গুনাহ ক্ষমা করে দেন এবং তাদের প্রতি রহমত বর্ষণ করেন। তাঁর ক্ষমা ও দয়া এত ব্যাপক যে, তিনি ছোট-বড় যেকোনো গুনাহ ক্ষমা করতে সক্ষম, যদি বান্দা আন্তরিকভাবে তওবা করে। অন্যদিকে, যারা সত্য প্রত্যাখ্যান করে এবং অন্যায়ের ওপর অটল থাকে, তাদের জন্য তাঁর ন্যায়বিচার অনুযায়ী শাস্তি রয়েছে। তবে আল্লাহর রহমত তাঁর শাস্তির চেয়ে অনেক বেশি; তিনি বান্দাদেরকে তওবা ও ক্ষমার সুযোগ দিয়ে থাকেন।

ফায়দা (উপকারিতা ও শিক্ষা):

  1. আল্লাহ তাআলাই একমাত্র সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী; তাঁর ইচ্ছার বাইরে কিছু ঘটে না। এটি মুমিনের মনে আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও ভরসা সৃষ্টি করে।
  2. আল্লাহর ক্ষমা অপরিসীম; তিনি যেকোনো গুনাহ ক্ষমা করতে পারেন, যদি বান্দা আন্তরিকভাবে তওবা করে। এটি পাপী বান্দাদের জন্য আশার বার্তা।
  3. আল্লাহর রহমত তাঁর ক্রোধের ওপর প্রাধান্য পায়; তাই বান্দার উচিত আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ না হয়ে সর্বদা তাঁর দিকে ফিরে আসা।
  4. এই আয়াত মুমিনকে আল্লাহর ভয় ও ভালোবাসা উভয়ই শেখায় — তাঁর শাস্তির ভয়ে গুনাহ থেকে দূরে থাকা এবং তাঁর ক্ষমার আশায় তওবা করা।
  5. আল্লাহর ক্ষমা ও দয়া আমাদেরকে অনুপ্রাণিত করে যেন আমরাও অন্যদের প্রতি ক্ষমাশীল ও দয়ালু হই, কারণ আল্লাহ ক্ষমাশীলদের ভালোবাসেন।


📜 আয়াত 12-16 — সূরা আল-ফাতহ

12بَلْ ظَنَنتُمْ أَن لَّن يَنقَلِبَ الرَّسُولُ وَالْمُؤْمِنُونَ إِلَىٰ أَهْلِيهِمْ أَبَدًا وَزُيِّنَ ذَٰلِكَ فِي قُلُوبِكُمْ وَظَنَنتُمْ ظَنَّ السَّوْءِ وَكُنتُمْ قَوْمًا بُورًا
বরং তোমরা ধারণ করেছিলে যে, রসূল ও মুমিনগণ তাদের বাড়ী-ঘরে কিছুতেই ফিরে আসতে পারবে না এবং এই ধারণা তোমাদের জন্যে খুবই সুখকর ছিল। তোমরা মন্দ ধারণার বশবর্তী হয়েছিলে। তোমরা ছিলে ধ্বংসমুখী এক সম্প্রদায়।
13وَمَن لَّمْ يُؤْمِن بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ فَإِنَّا أَعْتَدْنَا لِلْكَافِرِينَ سَعِيرًا
যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলে বিশ্বাস করে না, আমি সেসব কাফেরের জন্যে জ্বলন্ত অগ্নি প্রস্তুত রেখেছি।
14وَلِلَّهِ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۚ يَغْفِرُ لِمَن يَشَاءُ وَيُعَذِّبُ مَن يَشَاءُ ۚ وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَّحِيمًا
নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের রাজত্ব আল্লাহরই। তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন এবং যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেন। তিনি ক্ষমাশীল, পরম মেহেরবান।
15سَيَقُولُ الْمُخَلَّفُونَ إِذَا انطَلَقْتُمْ إِلَىٰ مَغَانِمَ لِتَأْخُذُوهَا ذَرُونَا نَتَّبِعْكُمْ ۖ يُرِيدُونَ أَن يُبَدِّلُوا كَلَامَ اللَّهِ ۚ قُل لَّن تَتَّبِعُونَا كَذَٰلِكُمْ قَالَ اللَّهُ مِن قَبْلُ ۖ فَسَيَقُولُونَ بَلْ تَحْسُدُونَنَا ۚ بَلْ كَانُوا لَا يَفْقَهُونَ إِلَّا قَلِيلًا
তোমরা যখন যুদ্ধলব্ধ ধন-সম্পদ সংগ্রহের জন্য যাবে, তখন যারা পশ্চাতে থেকে গিয়েছিল, তারা বলবেঃ আমাদেরকেও তোমাদের সঙ্গে যেতে দাও। তারা আল্লাহর কালাম পরিবর্তন করতে চায়। বলুনঃ তোমরা কখনও আমাদের সঙ্গে যেতে পারবে না। আল্লাহ পূর্ব থেকেই এরূপ বলে দিয়েছেন। তারা বলবেঃ বরং তোমরা আমাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করছ। পরন্তু তারা সামান্যই বোঝে।
16قُل لِّلْمُخَلَّفِينَ مِنَ الْأَعْرَابِ سَتُدْعَوْنَ إِلَىٰ قَوْمٍ أُولِي بَأْسٍ شَدِيدٍ تُقَاتِلُونَهُمْ أَوْ يُسْلِمُونَ ۖ فَإِن تُطِيعُوا يُؤْتِكُمُ اللَّهُ أَجْرًا حَسَنًا ۖ وَإِن تَتَوَلَّوْا كَمَا تَوَلَّيْتُم مِّن قَبْلُ يُعَذِّبْكُمْ عَذَابًا أَلِيمًا
গৃহে অবস্থানকারী মরুবাসীদেরকে বলে দিনঃ আগামীতে তোমরা এক প্রবল পরাক্রান্ত জাতির সাথে যুদ্ধ করতে আহুত হবে। তোমরা তাদের সাথে যুদ্ধ করবে, যতক্ষণ না তারা মুসলমান হয়ে যায়। তখন যদি তোমরা নির্দেশ পালন কর, তবে আল্লাহ তোমাদেরকে উত্তম পুরস্কার দিবেন। আর যদি পৃষ্ঠপ্রদর্শন কর যেমন ইতিপূর্বে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করেছ, তবে তিনি তোমাদেরকে যন্ত্রনাদায়ক শাস্তি দিবেন।
আল-ফাতহকুরআন সূচী
29আয়াত
মাদানীঅবতরণস্থান
14আয়াত

অনুবাদ — আল-ফাতহ 14

সূরা আল-ফাতহ আয়াত 14 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের রাজত্ব আল্লাহরই। তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন…

সূরা আয়াত 14/29 — সূরা আল-ফাতহ الفتح (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আল-ফাতহ শুনুন, সূরা আল-ফাতহ অনুবাদ, সূরা আল-ফাতহ mp3, সূরা আল-ফাতহ pdf. আয়াত 12–16. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Wednesday, September 30, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না