Innamal muu`minoonal lazeena aamanoo billaahi wa Rasoolihee summa lam yartaaboo wa jaahadoo biamwaalihim wa anfusihim fee sabeelil laah; ulaaaika humus saadiqoon
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
তারাই মুমিন, যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি ঈমান আনার পর সন্দেহ পোষণ করে না এবং আল্লাহর পথে প্রাণ ও ধন-সম্পদ দ্বারা জেহাদ করে। তারাই সত্যনিষ্ঠ।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
(सच्चे मोमिन) तो बस वही हैं जो ख़ुदा और उसके रसूल पर ईमान लाए फिर उन्होंने उसमें किसी तरह का शक़ शुबह न किया और अपने माल से और अपनी जानों से ख़ुदा की राह में जेहाद किया यही लोग (दावाए ईमान में) सच्चे हैं
তারাই মুমিন, যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি ঈমান আনার পর সন্দেহ পোষণ করে না এবং আল্লাহর পথে প্রাণ ও ধন-সম্পদ দ্বারা জেহাদ করে। তারাই সত্যনিষ্ঠ।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
لَمْ يَرْتَابُوا – সন্দেহ করেনি, দ্বিধা করেনি।
جَاهَدُوا – সর্বাত্মক প্রচেষ্টা করেছে, সংগ্রাম করেছে।
بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنفُسِهِمْ – তাদের সম্পদ ও জীবন দিয়ে।
فِي سَبِيلِ اللهِ – আল্লাহর পথে।
الصَّادِقُونَ – সত্যবাদী, যাদের ঈমান সত্য ও খাঁটি।
তাফসীর:
আল্লাহ তাআলা এই আয়াতে প্রকৃত মুমিনের পরিচয় তুলে ধরেছেন। প্রকৃত মুমিন তারাই, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস স্থাপন করেছে এবং এই বিশ্বাসের পর তাদের অন্তরে কোনো প্রকার সন্দেহ বা দ্বিধা অবশিষ্ট থাকে না। তাদের ঈমান হয় অটল ও সুদৃঢ়, কোনো অবস্থাতেই তা দোলায়িত হয় না। এরপর তারা নিজেদের সম্পদ ও জীবন দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করে—অর্থাৎ আল্লাহর সন্তুষ্টি ও দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য নিজেদের ধন-সম্পদ খরচ করে এবং প্রয়োজনে জীবন পর্যন্ত উৎসর্গ করে। তারা কৃপণতা করে না, বরং আল্লাহর পথে যা কিছু প্রয়োজন তা ব্যয় করে। এই গুণাবলি যাদের মধ্যে বিদ্যমান, তারাই প্রকৃত অর্থে ঈমানে সত্যবাদী। তাদের ঈমান শুধু মুখের কথা নয়, বরং কাজে-কর্মে প্রমাণিত। এই আয়াতটি ইঙ্গিত দেয় যে, ঈমানের দাবি শুধু মুখে স্বীকার করা নয়; বরং এর প্রমাণ দিতে হয় আন্তরিক বিশ্বাস, দৃঢ় প্রত্যয় এবং আল্লাহর পথে আত্মত্যাগের মাধ্যমে।
ফায়েদা (শিক্ষা):
প্রকৃত মুমিনের পরিচয় হলো অটল বিশ্বাস ও সন্দেহমুক্ত অন্তর। আমাদের উচিত ঈমানকে যেকোনো সন্দেহ থেকে রক্ষা করা এবং জ্ঞান-আমলের মাধ্যমে তা মজবুত করা।
ঈমানের প্রকৃত প্রমাণ হলো আল্লাহর পথে সম্পদ ও জীবন ব্যয় করা। যে ব্যক্তি নিজের প্রিয় সম্পদ ও জীবনকে আল্লাহর পথে উৎসর্গ করতে প্রস্তুত, তার ঈমানই সত্য।
এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, ইসলাম শুধু বিশ্বাসের নাম নয়, বরং তা ত্যাগ ও সংগ্রামের নাম। নিজের স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে আল্লাহর সন্তুষ্টিকে প্রাধান্য দেওয়াই মুমিনের বৈশিষ্ট্য।
যে ব্যক্তি এই গুণাবলি অর্জন করবে, আল্লাহ তাকে সত্যবাদী হিসেবে ঘোষণা করবেন এবং তার জন্য রয়েছে জান্নাতের সুসংবাদ। এটি মুমিনের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ সম্মান ও পুরস্কার।
হে মানব, আমি তোমাদেরকে এক পুরুষ ও এক নারী থেকে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি, যাতে তোমরা পরস্পরে পরিচিতি হও। নিশ্চয় আল্লাহর কাছে সে-ই সর্বাধিক সম্ভ্রান্ত যে সর্বাধিক পরহেযগার। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সবকিছুর খবর রাখেন।
মরুবাসীরা বলেঃ আমরা বিশ্বাস স্থাপন করেছি। বলুনঃ তোমরা বিশ্বাস স্থাপন করনি; বরং বল, আমরা বশ্যতা স্বীকার করেছি। এখনও তোমাদের অন্তরে বিশ্বাস জন্মেনি। যদি তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য কর, তবে তোমাদের কর্ম বিন্দুমাত্রও নিস্ফল করা হবে না। নিশ্চয়, আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম মেহেরবান।
বলুনঃ তোমরা কি তোমাদের ধর্ম পরায়ণতা সম্পর্কে আল্লাহকে অবহিত করছ? অথচ আল্লাহ জানেন যা কিছু আছে ভূমন্ডলে এবং যা কিছু আছে নভোমন্ডলে। আল্লাহ সর্ববিষয়ে সম্যক জ্ঞাত।
তারা মুসলমান হয়ে আপনাকে ধন্য করেছে মনে করে। বলুন, তোমরা মুসলমান হয়ে আমাকে ধন্য করেছ মনে করো না। বরং আল্লাহ ঈমানের পথে পরিচালিত করে তোমাদেরকে ধন্য করেছেন, যদি তোমরা সত্যনিষ্ঠ হয়ে থাক।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।