Alam yaani laillzeena aamanooo an takhsha`a quloo buhum lizikril laahi wa maa nazala minal haqqi wa laa yakoonoo kallazeena ootul Kitaaba min qablu fataala `alaihimul amadu faqasat quloobuhum wa kaseerum minhum faasiqoon
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
যারা মুমিন, তাদের জন্যে কি আল্লাহর স্মরণে এবং যে সত্য অবর্তীর্ণ হয়েছে, তার কারণে হৃদয় বিগলিত হওয়ার সময় আসেনি? তারা তাদের মত যেন না হয়, যাদেরকে পূর্বে কিতাব দেয়া হয়েছিল। তাদের উপর সুদীর্ঘকাল অতিক্রান্ত হয়েছে, অতঃপর তাদের অন্তঃকরণ কঠিন হয়ে গেছে। তাদের অধিকাংশই পাপাচারী।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
क्या ईमानदारों के लिए अभी तक इसका वक्त नहीं आया कि ख़ुदा की याद और क़ुरान के लिए जो (ख़ुदा की तरफ से) नाज़िल हुआ है उनके दिल नरम हों और वह उन लोगों के से न हो जाएँ जिनको उन से पहले किताब (तौरेत, इन्जील) दी गयी थी तो (जब) एक ज़माना दराज़ गुज़र गया तो उनके दिल सख्त हो गए और इनमें से बहुतेरे बदकार हैं
যারা মুমিন, তাদের জন্যে কি আল্লাহর স্মরণে এবং যে সত্য অবর্তীর্ণ হয়েছে, তার কারণে হৃদয় বিগলিত হওয়ার সময় আসেনি? তারা তাদের মত যেন না হয়, যাদেরকে পূর্বে কিতাব দেয়া হয়েছিল। তাদের উপর সুদীর্ঘকাল অতিক্রান্ত হয়েছে, অতঃপর তাদের অন্তঃকরণ কঠিন হয়ে গেছে। তাদের অধিকাংশই পাপাচারী।
وَمَا نَزَلَ مِنَ الْحَقِّ — এবং সেই সত্য যা নাযিল হয়েছে (অর্থাৎ কুরআন)।
فَطَالَ عَلَيْهِمُ الْأَمَدُ — অতঃপর তাদের উপর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয়েছে।
فَقَسَتْ قُلُوبُهُمْ — ফলে তাদের অন্তর কঠোর হয়ে গেছে।
فَاسِقُونَ — অবাধ্য, সত্য থেকে বিচ্যুত।
তাফসির (ব্যাখ্যা):
এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা মুমিনদের প্রতি স্নেহপূর্ণ ভর্ৎসনা ও মৃদু তিরস্কার করেছেন। তিনি জিজ্ঞেস করছেন: যারা ঈমান এনেছে, তাদের কি এখনো সেই সময় আসেনি যে, তাদের অন্তর আল্লাহর যিকিরের সময় কোমল হবে, বিনয়ী হবে এবং কুরআনের সত্য বাণী শুনে তাদের হৃদয় গলে যাবে? অর্থাৎ, ঈমান আনার পর দীর্ঘদিন পার হয়ে গেলেও তাদের অন্তরে যে কঠোরতা ও গাফিলতি রয়ে গেছে, তা কি এখনো দূর হবে না?
তারপর আল্লাহ তাআলা তাদেরকে পূর্ববর্তী আহলে কিতাবদের (ইয়াহুদি ও নাসারাদের) মতো না হওয়ার সতর্ক করেছেন। তাদেরকে তাওরাত ও ইঞ্জিল দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু বহু যুগ পার হয়ে যাওয়ার পর তারা সেই শিক্ষা ভুলে গিয়ে দুনিয়ার মোহে ডুবে যায়। ফলে তাদের অন্তর কঠোর হয়ে যায়, আল্লাহর স্মরণ থেকে বিমুখ হয় এবং অনেকেই সত্য থেকে বিচ্যুত হয়ে পাপাচারে লিপ্ত হয়। আল্লাহ তাআলা মুমিনদের সতর্ক করছেন যে, তারা যেন সেই দীর্ঘকালের গাফিলতির শিকার না হয়। বরং প্রতিটি মুহূর্তে কুরআন ও যিকিরের মাধ্যমে তাদের অন্তরকে জীবিত রাখে।
ফায়দা (শিক্ষা ও উপদেশ):
অন্তরকে সর্বদা সজাগ রাখা: এই আয়াত থেকে শিক্ষা নিতে হবে যে, ঈমান আনার পরও অন্তর যেন কঠোর ও গাফিল না হয়ে যায়। নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত ও আল্লাহর যিকিরের মাধ্যমে অন্তরকে নরম ও জীবিত রাখতে হবে।
সময়ের দীর্ঘতা যেন গাফিলতির কারণ না হয়: দীর্ঘদিন ধরে ঈমানের ওপর থাকলে অনেক সময় অন্তর কঠোর হয়ে যায়। এই আয়াত আমাদের সতর্ক করে যে, সময় যতই দীর্ঘ হোক, ঈমানের সতেজতা ও আল্লাহভীতি যেন কমে না যায়।
পূর্ববর্তী উম্মতদের ভুল থেকে শিক্ষা: ইয়াহুদি-নাসারাদের মতো কিতাবপ্রাপ্ত হওয়া সত্ত্বেও তারা যখন আল্লাহর বিধান ভুলে গিয়ে দুনিয়ার পেছনে পড়ে গেল, তখন তাদের অন্তর কঠোর হলো এবং তারা পাপাচারী হয়ে গেল। আমাদের উচিত তাদের সেই পরিণতি থেকে শিক্ষা নেওয়া এবং কুরআনের বিধানকে সর্বদা প্রাধান্য দেওয়া।
কুরআনের প্রতি ভালোবাসা ও আন্তরিকতা: এই আয়াত মুমিনদের প্রতি কুরআনের গুরুত্ব তুলে ধরে। কুরআন যখন তিলাওয়াত করা হয়, তখন অন্তর যেন কেঁপে ওঠে এবং আল্লাহর ভয়ে অশ্রু ঝরে। এটি মুমিনের অন্তরের জীবন্ততার লক্ষণ।
আল্লাহর স্মরণই অন্তরের প্রশান্তি: যে অন্তর আল্লাহর যিকিরে ধন্য হয়, তা কখনো কঠোর হয় না। বরং প্রতিটি বিপদ-আপদে তা আল্লাহর দিকে ঝুঁকে পড়ে এবং ধৈর্য ও প্রশান্তি লাভ করে। তাই আমাদের উচিত প্রতিদিনের জীবনে আল্লাহর যিকিরকে অপরিহার্য করে তোলা।
তারা মুমিনদেরকে ডেকে বলবেঃ আমরা কি তোমাদের সাথে ছিলাম না? তারা বলবেঃ হঁ্যা কিন্তু তোমরা নিজেরাই নিজেদেরকে বিপদগ্রস্ত করেছ। প্রতীক্ষা করেছ, সন্দেহ পোষণ করেছ এবং অলীক আশার পেছনে বিভ্রান্ত হয়েছ, অবশেষে আল্লাহর আদেশ পৌঁছেছে। এই সবই তোমাদেরকে আল্লাহ সম্পর্কে প্রতারিত করেছে।
অতএব, আজ তোমাদের কাছ থেকে কোন মুক্তিপন গ্রহণ করা হবে না। এবং কাফেরদের কাছ থেকেও নয়। তোমাদের সবার আবাস্থল জাহান্নাম। সেটাই তোমাদের সঙ্গী। কতই না নিকৃষ্ট এই প্রত্যাবর্তন স্থল।
যারা মুমিন, তাদের জন্যে কি আল্লাহর স্মরণে এবং যে সত্য অবর্তীর্ণ হয়েছে, তার কারণে হৃদয় বিগলিত হওয়ার সময় আসেনি? তারা তাদের মত যেন না হয়, যাদেরকে পূর্বে কিতাব দেয়া হয়েছিল। তাদের উপর সুদীর্ঘকাল অতিক্রান্ত হয়েছে, অতঃপর তাদের অন্তঃকরণ কঠিন হয়ে গেছে। তাদের অধিকাংশই পাপাচারী।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।