Innaman najwaa minash shaitaani liyahzunal lazeena aamanoo wa laisa bidaaarrihim shai`an illaa bi-iznil laah; wa `alal laahi falyatawakkalil mu`minoon
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
এই কানাঘুষা তো শয়তানের কাজ; মুমিনদেরকে দুঃখ দেয়ার দেয়ার জন্যে। তবে আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত সে তাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না। মুমিনদের উচিত আল্লাহর উপর ভরসা করা।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
(बरी बातों की) सरगोशी तो बस एक शैतानी काम है (और इसलिए करते हैं) ताकि ईमानदारों को उससे रंज पहुँचे हालॉकि ख़ुदा की तरफ से आज़ादी दिए बग़ैर सरगोशी उनका कुछ बिगाड़ नहीं सकती और मोमिनीन को तो ख़ुदा ही पर भरोसा रखना चाहिए
এই কানাঘুষা তো শয়তানের কাজ; মুমিনদেরকে দুঃখ দেয়ার দেয়ার জন্যে। তবে আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত সে তাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না। মুমিনদের উচিত আল্লাহর উপর ভরসা করা।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দের অর্থ:
নাজওয়া (النجوى): গোপন কথোপকথন বা চুপিচুপি পরামর্শ।
শাইতান (الشيطان): শয়তান, যে মানুষকে পথভ্রষ্ট করে।
এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা মুমিনদেরকে গোপন কথোপকথন বা কানাঘুষা সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। যে গোপন আলোচনা বা কানাঘুষা পাপপূর্ণ বিষয়, শত্রুতা সৃষ্টি করা বা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর অবাধ্যতার উদ্দেশ্যে করা হয়, তা মূলত শয়তানের প্ররোচনা ও কুমন্ত্রণার ফল। শয়তানই মানুষকে এসব গোপন পরামর্শে উৎসাহিত করে, যাতে মুমিনদের মনে দুশ্চিন্তা, ভয় বা হতাশা সৃষ্টি হয়। শয়তান চায় মুমিনরা মনে করুক যে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র চলছে বা তাদের ক্ষতি করা হবে।
কিন্তু আল্লাহ তাআলা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন যে, শয়তানের এই কুমন্ত্রণা বা গোপন ষড়যন্ত্র মুমিনদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না—যদি না আল্লাহ নিজে তা অনুমোদন করেন। কারণ, প্রকৃত ক্ষতি-উপকারের মালিক একমাত্র আল্লাহ। তাঁর অনুমতি ছাড়া কেউ কারও সামান্য ক্ষতিও করতে সক্ষম নয়। তাই মুমিনদের উচিত শয়তানের কুমন্ত্রণায় ভীত না হয়ে, আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা করা। যারা প্রকৃত মুমিন, তারা সব বিষয়ে আল্লাহর ওপরই নির্ভর করে এবং জানে যে, আল্লাহই তাদের রক্ষাকারী ও সাহায্যকারী।
শিক্ষা ও উপকারিতা:
শয়তানের কৌশল সম্পর্কে সতর্কতা: এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, শয়তান মুমিনদের মনে দুশ্চিন্তা ও ভয় সৃষ্টি করার চেষ্টা করে। তাই আমাদের উচিত তার কুমন্ত্রণায় কান না দেওয়া এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা।
ক্ষতি-উপকার আল্লাহর হাতে: কোনো মানুষ বা শয়তানই আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কারও ক্ষতি করতে পারে না। এই বিশ্বাস মুমিনকে সাহসী ও ধৈর্যশীল করে তোলে।
তাওয়াক্কুলের গুরুত্ব: মুমিনের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহর ওপর ভরসা করা জরুরি। যখন আমরা জানি যে, আল্লাহ আমাদের রক্ষক, তখন শত্রুর ষড়যন্ত্র আমাদের ভয় দেখাতে পারে না।
গোপন পরামর্শের আদব: ইসলামে গোপন আলোচনা নিষিদ্ধ নয়, তবে তা যদি হয় কল্যাণকর ও সৎ কাজের জন্য। কিন্তু পাপ, শত্রুতা বা ক্ষতির উদ্দেশ্যে গোপন পরামর্শ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং তা শয়তানের কাজ।
মুমিনের মানসিক শান্তি: যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তার মন সবসময় শান্ত থাকে। শয়তানের কুমন্ত্রণা বা মানুষের ষড়যন্ত্র তাকে বিচলিত করতে পারে না। এই আয়াত মুমিনদের জন্য এক বিশাল সান্ত্বনা ও প্রশান্তির বার্তা বহন করে।
আপনি কি ভেবে দেখেননি, যাদেরকে কানাঘুষা করতে নিষেধ করা হয়েছিল অতঃপর তারা নিষিদ্ধ কাজেরই পুনরাবৃত্তি করে এবং পাপাচার, সীমালংঘন এবং রসূলের অবাধ্যতার বিষয়েই কানাঘুষা করে। তারা যখন আপনার কাছে আসে, তখন আপনাকে এমন ভাষায় সালাম করে, যদ্দ্বারা আল্লাহ আপনাকে সালাম করেননি। তারা মনে মনে বলেঃ আমরা যা বলি, তজ্জন্যে আল্লাহ আমাদেরকে শাস্তি দেন না কেন? জাহান্নামই তাদের জন্যে যথেষ্ট। তারা তাতে প্রবেশ করবে। কতই না নিকৃষ্ট সেই জায়গা।
মুমিনগণ, তোমরা যখন কানাকানি কর, তখন পাপাচার, সীমালংঘন ও রসূলের অবাধ্যতার বিষয়ে কানাকানি করো না বরং অনুগ্রহ ও খোদাভীতির ব্যাপারে কানাকানি করো। আল্লাহকে ভয় কর, যাঁর কাছে তোমরা একত্রিত হবে।
এই কানাঘুষা তো শয়তানের কাজ; মুমিনদেরকে দুঃখ দেয়ার দেয়ার জন্যে। তবে আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত সে তাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না। মুমিনদের উচিত আল্লাহর উপর ভরসা করা।
মুমিনগণ, যখন তোমাদেরকে বলা হয়ঃ মজলিসে স্থান প্রশস্ত করে দাও, তখন তোমরা স্থান প্রশস্ত করে দিও। আল্লাহর জন্যে তোমাদের জন্য প্রশস্ত করে দিবেন। যখন বলা হয়ঃ উঠে যাও, তখন উঠে যেয়ো। তোমাদের মধ্যে যারা ঈমানদার এবং যারা জ্ঞানপ্রাপ্ত, আল্লাহ তাদের মর্যাদা উচ্চ করে দিবেন। আল্লাহ খবর রাখেন যা কিছু তোমরা কর।
মুমিনগণ, তোমরা রসূলের কাছে কানকথা বলতে চাইলে তৎপূর্বে সদকা প্রদান করবে। এটা তোমাদের জন্যে শ্রেয়ঃ ও পবিত্র হওয়ার ভাল উপায়। যদি তাতে সক্ষম না হও, তবে আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।