আল-মুজাদালা · 10/22
অনুবাদ উচ্চারণ — আল-মুজাদালা
إِنَّمَا النَّجْوَىٰ مِنَ الشَّيْطَانِ لِيَحْزُنَ الَّذِينَ آمَنُوا وَلَيْسَ بِضَارِّهِمْ شَيْئًا إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ ۚ وَعَلَى اللَّهِ فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُؤْمِنُونَ ۝١٠
Innaman najwaa minash shaitaani liyahzunal lazeena aamanoo wa laisa bidaaarrihim shai`an illaa bi-iznil laah; wa `alal laahi falyatawakkalil mu`minoon
📖 বাংলা অর্থ
এই কানাঘুষা তো শয়তানের কাজ; মুমিনদেরকে দুঃখ দেয়ার দেয়ার জন্যে। তবে আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত সে তাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না। মুমিনদের উচিত আল্লাহর উপর ভরসা করা।
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দের অর্থ:

  • নাজওয়া (النجوى): গোপন কথোপকথন বা চুপিচুপি পরামর্শ।
  • শাইতান (الشيطان): শয়তান, যে মানুষকে পথভ্রষ্ট করে।
  • লি-ইয়াহযুন (ليحزن): যাতে দুঃখ/চিন্তা দেওয়া হয়।
  • বি-ইযনিল্লাহ (بإذن الله): আল্লাহর অনুমতি/ইচ্ছা অনুযায়ী।
  • তাওয়াক্কুল (توكل): ভরসা করা, নির্ভর করা।

তাফসীর (ব্যাখ্যা):

এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা মুমিনদেরকে গোপন কথোপকথন বা কানাঘুষা সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। যে গোপন আলোচনা বা কানাঘুষা পাপপূর্ণ বিষয়, শত্রুতা সৃষ্টি করা বা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর অবাধ্যতার উদ্দেশ্যে করা হয়, তা মূলত শয়তানের প্ররোচনা ও কুমন্ত্রণার ফল। শয়তানই মানুষকে এসব গোপন পরামর্শে উৎসাহিত করে, যাতে মুমিনদের মনে দুশ্চিন্তা, ভয় বা হতাশা সৃষ্টি হয়। শয়তান চায় মুমিনরা মনে করুক যে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র চলছে বা তাদের ক্ষতি করা হবে।

কিন্তু আল্লাহ তাআলা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন যে, শয়তানের এই কুমন্ত্রণা বা গোপন ষড়যন্ত্র মুমিনদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না—যদি না আল্লাহ নিজে তা অনুমোদন করেন। কারণ, প্রকৃত ক্ষতি-উপকারের মালিক একমাত্র আল্লাহ। তাঁর অনুমতি ছাড়া কেউ কারও সামান্য ক্ষতিও করতে সক্ষম নয়। তাই মুমিনদের উচিত শয়তানের কুমন্ত্রণায় ভীত না হয়ে, আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা করা। যারা প্রকৃত মুমিন, তারা সব বিষয়ে আল্লাহর ওপরই নির্ভর করে এবং জানে যে, আল্লাহই তাদের রক্ষাকারী ও সাহায্যকারী।


শিক্ষা ও উপকারিতা:

  1. শয়তানের কৌশল সম্পর্কে সতর্কতা: এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, শয়তান মুমিনদের মনে দুশ্চিন্তা ও ভয় সৃষ্টি করার চেষ্টা করে। তাই আমাদের উচিত তার কুমন্ত্রণায় কান না দেওয়া এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা।
  2. ক্ষতি-উপকার আল্লাহর হাতে: কোনো মানুষ বা শয়তানই আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কারও ক্ষতি করতে পারে না। এই বিশ্বাস মুমিনকে সাহসী ও ধৈর্যশীল করে তোলে।
  3. তাওয়াক্কুলের গুরুত্ব: মুমিনের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহর ওপর ভরসা করা জরুরি। যখন আমরা জানি যে, আল্লাহ আমাদের রক্ষক, তখন শত্রুর ষড়যন্ত্র আমাদের ভয় দেখাতে পারে না।
  4. গোপন পরামর্শের আদব: ইসলামে গোপন আলোচনা নিষিদ্ধ নয়, তবে তা যদি হয় কল্যাণকর ও সৎ কাজের জন্য। কিন্তু পাপ, শত্রুতা বা ক্ষতির উদ্দেশ্যে গোপন পরামর্শ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং তা শয়তানের কাজ।
  5. মুমিনের মানসিক শান্তি: যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তার মন সবসময় শান্ত থাকে। শয়তানের কুমন্ত্রণা বা মানুষের ষড়যন্ত্র তাকে বিচলিত করতে পারে না। এই আয়াত মুমিনদের জন্য এক বিশাল সান্ত্বনা ও প্রশান্তির বার্তা বহন করে।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 8-12 — আল-মুজাদালা

8أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ نُهُوا عَنِ النَّجْوَىٰ ثُمَّ يَعُودُونَ لِمَا نُهُوا عَنْهُ وَيَتَنَاجَوْنَ بِالْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ وَمَعْصِيَتِ الرَّسُولِ وَإِذَا جَاءُوكَ حَيَّوْكَ بِمَا لَمْ يُحَيِّكَ بِهِ اللَّهُ وَيَقُولُونَ فِي أَنفُسِهِمْ لَوْلَا يُعَذِّبُنَا اللَّهُ بِمَا نَقُولُ ۚ حَسْبُهُمْ جَهَنَّمُ يَصْلَوْنَهَا ۖ فَبِئْسَ الْمَصِيرُ
আপনি কি ভেবে দেখেননি, যাদেরকে কানাঘুষা করতে নিষেধ করা হয়েছিল অতঃপর তারা নিষিদ্ধ কাজেরই পুনরাবৃত্তি করে এবং পাপাচার, সীমালংঘন এবং রসূলের অবাধ্যতার বিষয়েই কানাঘুষা করে। তারা যখন আপনার কাছে আসে, তখন আপনাকে এমন ভাষায় সালাম করে, যদ্দ্বারা আল্লাহ আপনাকে সালাম করেননি। তারা মনে মনে বলেঃ আমরা যা বলি, তজ্জন্যে আল্লাহ আমাদেরকে শাস্তি দেন না কেন? জাহান্নামই তাদের জন্যে যথেষ্ট। তারা তাতে প্রবেশ করবে। কতই না নিকৃষ্ট সেই জায়গা।
9يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا تَنَاجَيْتُمْ فَلَا تَتَنَاجَوْا بِالْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ وَمَعْصِيَتِ الرَّسُولِ وَتَنَاجَوْا بِالْبِرِّ وَالتَّقْوَىٰ ۖ وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي إِلَيْهِ تُحْشَرُونَ
মুমিনগণ, তোমরা যখন কানাকানি কর, তখন পাপাচার, সীমালংঘন ও রসূলের অবাধ্যতার বিষয়ে কানাকানি করো না বরং অনুগ্রহ ও খোদাভীতির ব্যাপারে কানাকানি করো। আল্লাহকে ভয় কর, যাঁর কাছে তোমরা একত্রিত হবে।
10إِنَّمَا النَّجْوَىٰ مِنَ الشَّيْطَانِ لِيَحْزُنَ الَّذِينَ آمَنُوا وَلَيْسَ بِضَارِّهِمْ شَيْئًا إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ ۚ وَعَلَى اللَّهِ فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُؤْمِنُونَ
এই কানাঘুষা তো শয়তানের কাজ; মুমিনদেরকে দুঃখ দেয়ার দেয়ার জন্যে। তবে আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত সে তাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না। মুমিনদের উচিত আল্লাহর উপর ভরসা করা।
11يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا قِيلَ لَكُمْ تَفَسَّحُوا فِي الْمَجَالِسِ فَافْسَحُوا يَفْسَحِ اللَّهُ لَكُمْ ۖ وَإِذَا قِيلَ انشُزُوا فَانشُزُوا يَرْفَعِ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنكُمْ وَالَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ دَرَجَاتٍ ۚ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ
মুমিনগণ, যখন তোমাদেরকে বলা হয়ঃ মজলিসে স্থান প্রশস্ত করে দাও, তখন তোমরা স্থান প্রশস্ত করে দিও। আল্লাহর জন্যে তোমাদের জন্য প্রশস্ত করে দিবেন। যখন বলা হয়ঃ উঠে যাও, তখন উঠে যেয়ো। তোমাদের মধ্যে যারা ঈমানদার এবং যারা জ্ঞানপ্রাপ্ত, আল্লাহ তাদের মর্যাদা উচ্চ করে দিবেন। আল্লাহ খবর রাখেন যা কিছু তোমরা কর।
12يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا نَاجَيْتُمُ الرَّسُولَ فَقَدِّمُوا بَيْنَ يَدَيْ نَجْوَاكُمْ صَدَقَةً ۚ ذَٰلِكَ خَيْرٌ لَّكُمْ وَأَطْهَرُ ۚ فَإِن لَّمْ تَجِدُوا فَإِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
মুমিনগণ, তোমরা রসূলের কাছে কানকথা বলতে চাইলে তৎপূর্বে সদকা প্রদান করবে। এটা তোমাদের জন্যে শ্রেয়ঃ ও পবিত্র হওয়ার ভাল উপায়। যদি তাতে সক্ষম না হও, তবে আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
আল-মুজাদালাকুরআন সূচী
22আয়াত
মাদানীRevelation
10আয়াত

অনুবাদ — আল-মুজাদালা 10

সূরা আল-মুজাদালা আয়াত 10 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : এই কানাঘুষা তো শয়তানের কাজ; মুমিনদেরকে দুঃখ দেয়ার দেয়ার জন্যে।…

সূরা আয়াত 10/22 — আল-মুজাদালা المجادلة (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আল-মুজাদালা শুনুন, আল-মুজাদালা অনুবাদ, আল-মুজাদালা mp3, আল-মুজাদালা pdf. আয়াত 8–12. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না