A-ashfaqtum an tuqaddimoo baina yadai najwaakum sadaqaat; fa-iz lam taf`aloo wa taabal laahu `alaikum fa aqeemus Salaata wa aatuz Zakaata wa atee`ul laaha wa rasoolah; wallaahu khabeerum bimaa ta`maloon
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
তোমরা কি কানকথা বলার পূর্বে সদকা প্রদান করতে ভীত হয়ে গেলে? অতঃপর তোমরা যখন সদকা দিতে পারলে না এবং আল্লাহ তোমাদেরকে মাফ করে দিলেন তখন তোমরা নামায কায়েম কর, যাকাত প্রদান কর এবং আল্লাহ ও রসূলের আনুগত্য কর। আল্লাহ খবর রাখেন তোমরা যা কর।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
(मुसलमानों) क्या तुम इस बात से डर गए कि (रसूल के) कान में बात कहने से पहले ख़ैरात कर लो तो जब तुम लोग (इतना सा काम) न कर सके और ख़ुदा ने तुम्हें माफ़ कर दिया तो पाबन्दी से नमाज़ पढ़ो और ज़कात देते रहो और ख़ुदा उसके रसूल की इताअत करो और जो कुछ तुम करते हो ख़ुदा उससे बाख़बर है
তোমরা কি কানকথা বলার পূর্বে সদকা প্রদান করতে ভীত হয়ে গেলে? অতঃপর তোমরা যখন সদকা দিতে পারলে না এবং আল্লাহ তোমাদেরকে মাফ করে দিলেন তখন তোমরা নামায কায়েম কর, যাকাত প্রদান কর এবং আল্লাহ ও রসূলের আনুগত্য কর। আল্লাহ খবর রাখেন তোমরা যা কর।
📜
অনুবাদ — Tafsir
কয়েকটি শব্দের অর্থ:
أَأَشْفَقْتُمْ: তোমরা কি ভয় পেয়েছ?
نَجْوَاكُمْ: তোমাদের গোপন কথোপকথন (রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সাথে চুপে চুপে কিছু বলার প্রয়োজন)।
تُقَدِّمُوا: অগ্রিম পাঠানো / আগে দেওয়া।
تَابَ اللهُ عَلَيْكُمْ: আল্লাহ তোমাদের তাওবা কবুল করেছেন এবং তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছেন।
তাফসীর:
হে ঈমানদারগণ! তোমাদেরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে গোপনীয় কোনো বিষয়ে কথা বলার আগে তোমরা একটি সাদকা (দান) প্রদান করবে। কিন্তু তোমরা কি এই ভয়ে পিছিয়ে পড়েছিলে যে, বারবার সাদকা দিলে তোমাদের অর্থ-সম্পদ কমে যাবে বা তোমরা দরিদ্র হয়ে পড়বে? অর্থাৎ তোমরা কি দারিদ্র্যের আশঙ্কায় এই আদেশ পালন করতে সংকোচ বোধ করেছিলে?
এরপর আল্লাহ তা‘আলা বলেন, যেহেতু তোমরা এই আদেশ পালন করতে পারনি, আল্লাহ তোমাদের প্রতি দয়া করে এই বিধানটি সহজ করে দিয়েছেন এবং তোমাদেরকে এর বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। তিনি তোমাদের অক্ষমতা ও দুর্বলতার কারণে তোমাদের তাওবা কবুল করেছেন এবং তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। সুতরাং এখন তোমরা এই সাদকার বোঝা থেকে মুক্ত।
কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, তোমরা সম্পূর্ণরূপে দায়মুক্ত। বরং এখন তোমাদেরকে সেই সকল গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতের প্রতি যত্নবান হতে হবে যেগুলো ইসলামের মূল স্তম্ভ। যেমন:
নামাজ প্রতিষ্ঠা করা: যথাযথভাবে, নির্ধারিত সময়ে, পূর্ণাঙ্গ রুকন ও শর্তসহকারে নামাজ আদায় করা।
যাকাত প্রদান করা: তোমাদের সম্পদের যে অংশ আল্লাহ তোমাদের উপর ফরজ করেছেন তা নির্ধারিত খাতে ব্যয় করা।
আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করা: জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে চলা এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সুন্নাহ অনুসরণ করা।
আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের সকল কাজ সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত। তোমাদের প্রকাশ্য ও গোপনীয় কোনো কাজই তাঁর অজানা নয়। তিনি তোমাদের নিয়ত ও কর্ম সম্পর্কে জানেন এবং সে অনুযায়ী তোমাদেরকে প্রতিদান দেবেন।
শিক্ষণীয় বিষয়সমূহ:
আল্লাহ সহজ চান, কঠিন নয়: ইসলামের বিধানগুলো মানুষের সামর্থ্যের মধ্যে রাখা হয়েছে। যখন দেখা গেল যে, সাদকার শর্তটি সাহাবাদের জন্য কঠিন হয়ে যাচ্ছে এবং তারা পালনে অক্ষম, তখন আল্লাহ তা‘আলা নিজেই তা সহজ করে দিলেন। এটি প্রমাণ করে ইসলাম একটি সহজ ও বাস্তবসম্মত ধর্ম।
তাওবার দরজা সর্বদা খোলা: মানুষ ভুল করলে নিরাশ হওয়ার কিছু নেই। আল্লাহ তা‘আলা বান্দার তাওবা কবুল করেন এবং ভুলের কারণে সৃষ্ট বাধা দূর করে দেন। এটি আল্লাহর অশেষ রহমতের পরিচয়।
মূল ইবাদতের গুরুত্ব: কখনো কখনো কিছু ঐচ্ছিক বা শর্তযুক্ত বিধান সহজ হয়ে যায়, কিন্তু ফরজ ইবাদত যেমন নামাজ, যাকাত এবং আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য কখনো ছাড় দেওয়া হয়নি। এগুলোই ইসলামের মূল ভিত্তি এবং মুমিনের জীবনের প্রধান কর্তব্য।
আল্লাহর দৃষ্টি সর্বব্যাপী: আমাদের প্রতিটি কাজ, চিন্তা ও নিয়ত আল্লাহর জানা। এই উপলব্ধি আমাদেরকে সর্বদা সৎকর্ম করতে এবং খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকতে উদ্বুদ্ধ করে।
মুমিনগণ, যখন তোমাদেরকে বলা হয়ঃ মজলিসে স্থান প্রশস্ত করে দাও, তখন তোমরা স্থান প্রশস্ত করে দিও। আল্লাহর জন্যে তোমাদের জন্য প্রশস্ত করে দিবেন। যখন বলা হয়ঃ উঠে যাও, তখন উঠে যেয়ো। তোমাদের মধ্যে যারা ঈমানদার এবং যারা জ্ঞানপ্রাপ্ত, আল্লাহ তাদের মর্যাদা উচ্চ করে দিবেন। আল্লাহ খবর রাখেন যা কিছু তোমরা কর।
মুমিনগণ, তোমরা রসূলের কাছে কানকথা বলতে চাইলে তৎপূর্বে সদকা প্রদান করবে। এটা তোমাদের জন্যে শ্রেয়ঃ ও পবিত্র হওয়ার ভাল উপায়। যদি তাতে সক্ষম না হও, তবে আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
তোমরা কি কানকথা বলার পূর্বে সদকা প্রদান করতে ভীত হয়ে গেলে? অতঃপর তোমরা যখন সদকা দিতে পারলে না এবং আল্লাহ তোমাদেরকে মাফ করে দিলেন তখন তোমরা নামায কায়েম কর, যাকাত প্রদান কর এবং আল্লাহ ও রসূলের আনুগত্য কর। আল্লাহ খবর রাখেন তোমরা যা কর।
আপনি কি তাদের প্রতি লক্ষ্য করেননি, যারা আল্লাহর গযবে নিপতিত সম্প্রদায়ের সাথে বন্ধুত্ব করে? তারা মুসলমানদের দলভুক্ত নয় এবং তাদেরও দলভূক্ত নয়। তারা জেনেশুনে মিথ্যা বিষয়ে শপথ করে।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।