Wa katabnaa lahoo fil alwaahi minkulli shai`immaw `izaanw wa tafseelal likulli shai`in fakhuzhaa biquwwatinw waamur qawmaka yaakhuzoo bi ahsanihaa; wa ooreekum daaral faasiqeen
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
আর আমি তোমাকে পটে লিখে দিয়েছি সর্বপ্রকার উপদেশ ও বিস্তারিত সব বিষয়। অতএব, এগুলোকে দৃঢ়ভাবে ধারণ কর এবং স্বজাতিকে এর কল্যাণকর বিষয়সমূহ দৃঢ়তার সাথে পালনের নির্দেশ দাও।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
और हमने (तौरैत की) तख्तियों में मूसा के लिए हर तरह की नसीहत और हर चीज़ का तफसीलदार बयान लिख दिया था तो (ऐ मूसा) तुम उसे मज़बूती से तो (अमल करो) और अपनी क़ौम को हुक्म दे दो कि उसमें की अच्छी बातों पर अमल करें और बहुत जल्द तुम्हें बदकिरदारों का घर दिखा दूँगा (कि कैसे उजड़ते हैं)
আর আমি তোমাকে পটে লিখে দিয়েছি সর্বপ্রকার উপদেশ ও বিস্তারিত সব বিষয়। অতএব, এগুলোকে দৃঢ়ভাবে ধারণ কর এবং স্বজাতিকে এর কল্যাণকর বিষয়সমূহ দৃঢ়তার সাথে পালনের নির্দেশ দাও।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
الْأَلْوَاحِ (আল-আলওয়াহ): পাথর বা কাঠের ফলকসমূহ, যাতে তাওরাত লিখিত ছিল।
مَوْعِظَةً (মাও‘ইযাহ): উপদেশ, যা মানুষকে খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখে এবং ভালো কাজের প্রতি উদ্বুদ্ধ করে।
تَفْصِيلًا (তাফসীলান): বিস্তারিত বিবরণ, যা প্রতিটি বিষয়কে স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করে।
بِقُوَّةٍ (বি-কুওয়্যাহ): দৃঢ়তা, গুরুত্ব সহকারে, আন্তরিকতা ও অধ্যবসায়ের সাথে।
بِأَحْسَنِهَا (বি-আহসানিহা): এর মধ্যে যা উত্তম ও সর্বোত্তম, যেমন ক্ষমা করা, ধৈর্য ধারণ করা ইত্যাদি।
دَارَ الْفَاسِقِينَ (দারাল-ফাসিকীন): সত্যত্যাগী ও অবাধ্যদের আবাসস্থল, অর্থাৎ জাহান্নাম বা ধ্বংসের স্থান।
তাফসীর (ব্যাখ্যা):
আল্লাহ তাআলা মূসা (আঃ)-এর জন্য ফলকসমূহে লিখে দিয়েছিলেন এমন সব বিষয় যা বনী ইসরাঈলের ধর্মীয় ও পার্থিব জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় ছিল। এর মধ্যে ছিল উপদেশ, যা তাদেরকে ভয় দেখাত এবং খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখত, আরও ছিল প্রতিটি বিষয়ের বিস্তারিত বিবরণ—হালাল-হারাম, আদেশ-নিষেধ, আকীদা, কাহিনী এবং ভবিষ্যতের সংবাদ সম্পর্কে। এরপর আল্লাহ মূসা (আঃ)-কে নির্দেশ দিলেন যে, তিনি যেন এই তাওরাতকে দৃঢ়তা ও গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করেন, অর্থাৎ এর বিধানগুলো বাস্তবায়নে পূর্ণ যত্নবান হন এবং কোনো প্রকার শৈথিল্য না করেন। আর তিনি যেন তার সম্প্রদায় বনী ইসরাঈলকে আদেশ করেন যে, তারা যেন এই কিতাবের মধ্যে যা উত্তম ও সর্বোত্তম তা গ্রহণ করে, যেমন ক্ষমা করা, ধৈর্য ধরা, ন্যায়পরায়ণতা ও ইহসান করা। আল্লাহ তাদেরকে সতর্ক করে বললেন, যারা আল্লাহর আদেশ অমান্য করবে এবং সত্যত্যাগ করবে, আমি তাদেরকে ফাসিকদের আবাসস্থল দেখাব—ফেরাউন ও তার সম্প্রদায়ের ধ্বংসপ্রাপ্ত অবস্থা অথবা আখিরাতে জাহান্নামের শাস্তি, যাতে তারা শিক্ষা গ্রহণ করে।
ফায়দা (উপকারিতা):
আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু; তিনি তাদের জন্য এমন নির্দেশনা লিখে দেন যা তাদের দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ নিশ্চিত করে। এটি প্রমাণ করে যে, আল্লাহর কিতাব是人类 জীবনের পূর্ণাঙ্গ পথনির্দেশ।
উপদেশ ও বিস্তারিত বিবরণ—এই দুটি বিষয় কিতাবের মূল উপাদান। উপদেশ মানুষকে ভয় দেখায় এবং বিবরণ পথ দেখায়; তাই কুরআন ও সুন্নাহকে গুরুত্ব সহকারে পড়া ও বোঝা প্রতিটি মুমিনের কর্তব্য।
আল্লাহর নির্দেশ পালনে দৃঢ়তা ও আন্তরিকতা অপরিহার্য। দুর্বলতা ও উদাসীনতা দিয়ে দ্বীনের কাজ সফল হয় না; বরং পূর্ণ যত্ন ও অধ্যবসায়ের প্রয়োজন।
ভালো কাজের মধ্যে সর্বোত্তমটি বেছে নেওয়া—যেমন ক্ষমা করা প্রতিশোধের চেয়ে উত্তম, ধৈর্য ধরা প্রতিহিংসার চেয়ে উত্তম—এটি ইসলামের সৌন্দর্য ও উচ্চতর নৈতিকতার পরিচয়।
ফাসিক ও অবাধ্যদের পরিণাম ভয়াবহ; তাদের ধ্বংস থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত। এটি মুমিনকে সতর্ক করে যে, আল্লাহর আদেশ অমান্য করা কখনোই লাভজনক নয়, বরং এর পরিণাম দুনিয়া ও আখিরাতে অত্যন্ত ক্ষতিকর।
এই আয়াত প্রমাণ করে যে, ইসলাম শুধু ব্যক্তিগত আমলের উপর জোর দেয় না, বরং সমাজকে ভালো কাজের আদেশ দেওয়ার নির্দেশ দেয়—যা দাওয়াত ও সমাজ সংস্কারের মূল ভিত্তি।
তারপর মূসা যখন আমার প্রতিশ্রুত সময় অনুযায়ী এসে হাযির হলেন এবং তাঁর সাথে তার পরওয়ারদেগার কথা বললেন, তখন তিনি বললেন, হে আমার প্রভু, তোমার দীদার আমাকে দাও, যেন আমি তোমাকে দেখতে পাই। তিনি বললেন, তুমি আমাকে কস্মিনকালেও দেখতে পাবে না, তবে তুমি পাহাড়ের দিকে দেখতে থাক, সেটি যদি স্বস্থানে দঁড়িয়ে থাকে তবে তুমিও আমাকে দেখতে পাবে। তারপর যখন তার পরওয়ারদগার পাহাড়ের উপর আপন জ্যোতির বিকিরণ ঘটালেন, সেটিকে বিধ্বস্ত করে দিলেন এবং মূসা অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেলেন। অতঃপর যখন তাঁর জ্ঞান ফিরে এল; বললেন, হে প্রভু! তোমার সত্তা পবিত্র, তোমার দরবারে আমি তওবা করছি এবং আমিই সর্বপ্রথম বিশ্বাস স্থাপন করছি।
(পরওয়ারদেগার) বললেন, হে মূসা, আমি তোমাকে আমার বার্তা পাঠানোর এবং কথা বলার মাধ্যমে লোকদের উপর বিশিষ্টতা দান করেছি। সুতরাং যা কিছু আমি তোমাকে দান করলাম, গ্রহণ কর এবং কৃতজ্ঞ থাক।
আর আমি তোমাকে পটে লিখে দিয়েছি সর্বপ্রকার উপদেশ ও বিস্তারিত সব বিষয়। অতএব, এগুলোকে দৃঢ়ভাবে ধারণ কর এবং স্বজাতিকে এর কল্যাণকর বিষয়সমূহ দৃঢ়তার সাথে পালনের নির্দেশ দাও।
আমি আমার নিদর্শনসমূহ হতে তাদেরকে ফিরিয়ে রাখি, যারা পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে গর্ব করে। যদি তারা সমস্ত নিদর্শন প্রত্যক্ষ করে ফেলে, তবুও তা বিশ্বাস করবে না। আর যদি হেদায়েতের পথ দেখে, তবে সে পথ গ্রহণ করে না। অথচ গোমরাহীর পথ দেখলে তাই গ্রহণ করে নেয়। এর কারণ, তারা আমার নিদর্শনসমূহকে মিথ্যা বলে মনে করেছে এবং তা থেকে বেখবর রয়ে গেছে।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।