Qaala yaa Moosaaa innis tafaituka `alan naasi bi Risaalaatee wa bi kalaamee fakhuz maaa aataituka wa kum minash shaakireen
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
(পরওয়ারদেগার) বললেন, হে মূসা, আমি তোমাকে আমার বার্তা পাঠানোর এবং কথা বলার মাধ্যমে লোকদের উপর বিশিষ্টতা দান করেছি। সুতরাং যা কিছু আমি তোমাকে দান করলাম, গ্রহণ কর এবং কৃতজ্ঞ থাক।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
ख़ुदा ने फरमाया ऐ मूसा मैने तुमको तमाम लोगों पर अपनी पैग़म्बरी और हम कलामी (का दरजा देकर) बरगूज़ीदा किया है तब जो (किताब तौरैत) हमने तुमको अता की है उसे लो और शुक्रगुज़ार रहो
(পরওয়ারদেগার) বললেন, হে মূসা, আমি তোমাকে আমার বার্তা পাঠানোর এবং কথা বলার মাধ্যমে লোকদের উপর বিশিষ্টতা দান করেছি। সুতরাং যা কিছু আমি তোমাকে দান করলাম, গ্রহণ কর এবং কৃতজ্ঞ থাক।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
اصْطَفَيْتُكَ — আমি তোমাকে মনোনীত/নির্বাচিত করেছি।
بِرِسَالَاتِي — আমার পয়গম্বরী/রিসালাতের মাধ্যমে।
بِكَلَامِي — আমার সাথে সরাসরি কথা বলার সম্মানের মাধ্যমে।
فَخُذْ — অতএব তুমি গ্রহণ কর।
مَا آتَيْتُكَ — যা আমি তোমাকে দান করেছি।
مِنَ الشَّاكِرِينَ — কৃতজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত।
তাফসীর:
আল্লাহ তাআলা তাঁর নবী মুসা (আ.)-কে সম্বোধন করে বললেন: হে মুসা! নিশ্চয়ই আমি তোমাকে তোমার যুগের সকল মানুষের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি এবং মনোনীত করেছি দুটি বিশেষ কারণে—এক. আমার পয়গম্বরী/রিসালাতের দায়িত্ব প্রদানের মাধ্যমে, অর্থাৎ আমি তোমাকে আমার বান্দাদের কাছে প্রেরণ করেছি; দুই. আমার সাথে সরাসরি কথা বলার সম্মান দান করেছি, কোনো মাধ্যম বা প্রতিনিধি ছাড়াই। এটি ছিল অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ বিশেষ সম্মান, যা অন্য কোনো নবীকে এভাবে দেওয়া হয়নি।
এরপর আল্লাহ তাকে নির্দেশ দিলেন: সুতরাং আমি তোমাকে যা কিছু দান করেছি—আদেশ-নিষেধ, তাওরাতের বিধান এবং অন্যান্য নেয়ামত—তা দৃঢ়ভাবে গ্রহণ কর, তা আঁকড়ে ধর এবং সে অনুযায়ী আমল কর। আর আল্লাহর এই মহান অনুগ্রহের জন্য তুমি কৃতজ্ঞ বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হও। অর্থাৎ শুধু মুখে শুকরিয়া আদায় করবে না, বরং এই নেয়ামতের যথাযথ মূল্যায়ন করবে এবং আল্লাহর আনুগত্য ও ইবাদতে তা প্রকাশ করবে।
শিক্ষা ও উপকারিতা:
আল্লাহ তাআলা যাকে ইচ্ছা নিজের বিশেষ অনুগ্রহে সম্মানিত করেন। এটি তাঁর ইচ্ছা ও হিকমতের ওপর নির্ভরশীল। তাই আমাদের উচিত আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত যেকোনো সম্মান ও নেয়ামতকে মূল্যায়ন করা।
নবী-রাসূলগণও আল্লাহর নেয়ামতের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতেন এবং শুকরিয়া আদায়ের নির্দেশ পেয়েছেন। এটি আমাদের জন্য শিক্ষা যে, আল্লাহর যেকোনো নেয়ামত পাওয়ার পর আমাদের কর্তব্য কৃতজ্ঞ হওয়া।
আল্লাহর দেওয়া বিধান ও নির্দেশনা দৃঢ়ভাবে গ্রহণ করা এবং তা মেনে চলা ঈমানের দাবি। শুধু জানা যথেষ্ট নয়, বরং আমল করাও জরুরি।
আল্লাহর সাথে সরাসরি কথা বলার সম্মান ছিল মুসা (আ.)-এর বিশেষ মর্যাদা। এটি প্রমাণ করে যে, আল্লাহ তাঁর নেক বান্দাদের বিভিন্নভাবে সম্মানিত করেন এবং তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করেন।
কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলে আল্লাহ আরও নেয়ামত বাড়িয়ে দেন। তাই আমাদের উচিত প্রতিটি নেয়ামতের জন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা এবং তা নিয়ে অহংকার না করা।
আর আমি মূসাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি ত্রিশ রাত্রির এবং সেগুলোকে পূর্ন করেছি আরো দশ দ্বারা। বস্তুতঃ এভাবে চল্লিশ রাতের মেয়াদ পূর্ণ হয়ে গেছে। আর মূসা তাঁর ভাই হারুনকে বললেন, আমার সম্প্রদায়ে তুমি আমার প্রতিনিধি হিসাবে থাক। তাদের সংশোধন করতে থাক এবং হাঙ্গামা সৃষ্টিকারীদের পথে চলো না।
তারপর মূসা যখন আমার প্রতিশ্রুত সময় অনুযায়ী এসে হাযির হলেন এবং তাঁর সাথে তার পরওয়ারদেগার কথা বললেন, তখন তিনি বললেন, হে আমার প্রভু, তোমার দীদার আমাকে দাও, যেন আমি তোমাকে দেখতে পাই। তিনি বললেন, তুমি আমাকে কস্মিনকালেও দেখতে পাবে না, তবে তুমি পাহাড়ের দিকে দেখতে থাক, সেটি যদি স্বস্থানে দঁড়িয়ে থাকে তবে তুমিও আমাকে দেখতে পাবে। তারপর যখন তার পরওয়ারদগার পাহাড়ের উপর আপন জ্যোতির বিকিরণ ঘটালেন, সেটিকে বিধ্বস্ত করে দিলেন এবং মূসা অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেলেন। অতঃপর যখন তাঁর জ্ঞান ফিরে এল; বললেন, হে প্রভু! তোমার সত্তা পবিত্র, তোমার দরবারে আমি তওবা করছি এবং আমিই সর্বপ্রথম বিশ্বাস স্থাপন করছি।
(পরওয়ারদেগার) বললেন, হে মূসা, আমি তোমাকে আমার বার্তা পাঠানোর এবং কথা বলার মাধ্যমে লোকদের উপর বিশিষ্টতা দান করেছি। সুতরাং যা কিছু আমি তোমাকে দান করলাম, গ্রহণ কর এবং কৃতজ্ঞ থাক।
আর আমি তোমাকে পটে লিখে দিয়েছি সর্বপ্রকার উপদেশ ও বিস্তারিত সব বিষয়। অতএব, এগুলোকে দৃঢ়ভাবে ধারণ কর এবং স্বজাতিকে এর কল্যাণকর বিষয়সমূহ দৃঢ়তার সাথে পালনের নির্দেশ দাও।
আমি আমার নিদর্শনসমূহ হতে তাদেরকে ফিরিয়ে রাখি, যারা পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে গর্ব করে। যদি তারা সমস্ত নিদর্শন প্রত্যক্ষ করে ফেলে, তবুও তা বিশ্বাস করবে না। আর যদি হেদায়েতের পথ দেখে, তবে সে পথ গ্রহণ করে না। অথচ গোমরাহীর পথ দেখলে তাই গ্রহণ করে নেয়। এর কারণ, তারা আমার নিদর্শনসমূহকে মিথ্যা বলে মনে করেছে এবং তা থেকে বেখবর রয়ে গেছে।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।