Iz yaqoolul munaafiqoona wallazeena fee quloobihim maradun gharra haaa`ulaaa`i deenuhum; wa mai yatawakkal `alal laahi fa innal laaha `azee zun Hakeem
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
যখন মোনাফেকরা বলতে লাগল এবং যাদের অন্তর ব্যাধিগ্রস্ত, এরা নিজেদের ধর্মের উপর গর্বিত। বস্তুতঃ যারা ভরসা করে আল্লাহর উপর, সে নিশ্চিন্ত, কেননা আল্লাহ অতি পরাক্রমশীল, সুবিজ্ঞ।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
(ये वक्त था) जब मुनाफिक़ीन और जिन लोगों के दिल में (कुफ्र का) मर्ज़ है कह रहे थे कि उन मुसलमानों को उनके दीन ने धोके में डाल रखा है (कि इतराते फिरते हैं हालॉकि जो शख़्स ख़ुदा पर भरोसा करता है (वह ग़ालिब रहता है क्योंकि) ख़ुदा तो यक़ीनन ग़ालिब और हिकमत वाला है
যখন মোনাফেকরা বলতে লাগল এবং যাদের অন্তর ব্যাধিগ্রস্ত, এরা নিজেদের ধর্মের উপর গর্বিত। বস্তুতঃ যারা ভরসা করে আল্লাহর উপর, সে নিশ্চিন্ত, কেননা আল্লাহ অতি পরাক্রমশীল, সুবিজ্ঞ।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
الْمُنَافِقُونَ – মুনাফিকরা, যারা মুখে ঈমান আনে কিন্তু অন্তরে কুফরি লুকিয়ে রাখে।
الَّذِينَ فِي قُلُوبِهِم مَّرَضٌ – যাদের অন্তরে দুর্বল বিশ্বাস ও সন্দেহের রোগ রয়েছে (যেমন দুর্বল ঈমানদার বা মক্কার মুশরিকরা)।
غَرَّ – প্রতারিত করেছে, ধোঁকা দিয়েছে।
يَتَوَكَّلْ – ভরসা করে, নির্ভর করে।
عَزِيزٌ – পরাক্রমশালী, যাঁকে কেউ পরাজিত করতে পারে না।
حَكِيمٌ – প্রজ্ঞাময়, যিনি প্রতিটি কাজ প্রজ্ঞার সাথে করেন।
তাফসির (ব্যাখ্যা):
আল্লাহ তাআলা মুসলিমদের স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন সেই মুহূর্তের কথা, যখন বদরের যুদ্ধের প্রাক্কালে মুনাফিকরা এবং যাদের অন্তরে বিশ্বাসের দুর্বলতা ছিল—তারা মুসলিমদের অল্প সংখ্যা ও দুর্বল অস্ত্রশস্ত্র দেখে বলেছিল: “এই মুসলিমদেরকে তাদের ধর্মই প্রতারিত করেছে!” অর্থাৎ তারা মনে করেছিল, মুসলিমরা তাদের ধর্মের কারণে এমন বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে নিজেদেরকে নিক্ষেপ করেছে, অথচ তাদের শত্রু সংখ্যায় অনেক বেশি এবং শক্তিতে অনেক প্রবল। তারা ভাবত, এই অসম যুদ্ধে মুসলিমরা নিশ্চয়ই ধ্বংস হয়ে যাবে।
কিন্তু আল্লাহ তাআলা এই ভুল ধারণার জবাবে ঘোষণা করছেন: যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর সত্যিকারের তাওয়াক্কুল করে এবং তাঁর ওয়াদার উপর পূর্ণ আস্থা রাখে, আল্লাহ তাকে কখনো একা ছাড়বেন না। তিনি তার জন্য এমন ব্যবস্থা করবেন যা সে কল্পনাও করতে পারে না। কারণ আল্লাহ পরাক্রমশালী—তাঁর ক্ষমতার সামনে কোনো শক্তিই টিকতে পারে না, এবং তিনি প্রজ্ঞাময়—তিনি প্রতিটি কাজ যথাযথ সময়ে, যথাযথ উপায়ে সম্পন্ন করেন। তাই মুসলিমদের অল্প সংখ্যা দেখে হতাশ হওয়ার কিছু নেই; বিজয় নির্ভর করে সংখ্যার উপর নয়, বরং আল্লাহর উপর ভরসার উপর।
ফায়দা (শিক্ষা ও উপদেশ):
মুনাফিক ও দুর্বল বিশ্বাসীদের কথা কখনো মুমিনের সাহস কেড়ে নিতে পারে না। তারা যতই নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা করুক, মুমিনের ভরসা কেবল আল্লাহর উপরই থাকা উচিত।
আল্লাহর উপর সত্যিকারের তাওয়াক্কুলই সাফল্যের চাবিকাঠি। সংখ্যায় কম হলেও আল্লাহর সাহায্যে বিজয় সম্ভব, যেমনটি বদরের যুদ্ধে প্রমাণিত হয়েছে।
আল্লাহর গুণাবলী ‘আযীয’ (পরাক্রমশালী) এবং ‘হাকীম’ (প্রজ্ঞাময়) আমাদের আশ্বস্ত করে যে, তিনি আমাদের জন্য যা কিছুই নির্ধারণ করেন, তা আমাদের মঙ্গলের জন্যই। তাই তাঁর সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট থাকা এবং তাঁর উপর নির্ভর করাই মুমিনের কর্তব্য।
এই আয়াত মুসলিমদের শেখায় যে, দুনিয়ার শক্তি-সামর্থ্যের দিকে তাকিয়ে ভয় পাওয়া উচিত নয়; বরং আল্লাহর ওয়াদার দিকে তাকিয়ে সাহস সঞ্চয় করা উচিত। যারা আল্লাহর উপর ভরসা করে, আল্লাহই তাদের যথেষ্ট।
আর তাদের মত হয়ে যেয়ো না, যারা বেরিয়েছে নিজেদের অবস্থান থেকে গর্বিতভাবে এবং লোকদেরকে দেখাবার উদ্দেশে। আর আল্লাহর পথে তারা বাধা দান করত। বস্তুতঃ আল্লাহর আয়ত্বে রয়েছে সে সমস্ত বিষয় যা তারা করে।
আর যখন সুদৃশ্য করে দিল শয়তান তাদের দৃষ্টিতে তাদের কার্যকলাপকে এবং বলল যে, আজকের দিনে কোন মানুষই তোমাদের উপর বিজয়ী হতে পারবে না আর আমি হলাম তোমাদের সমর্থক, অতঃপর যখন সামনাসামনী হল উভয় বাহিনী তখন সে অতি দ্রুত পায়ে পেছনে দিকে পালিয়ে গেল এবং বলল, আমি তোমাদের সাথে না-আমি দেখছি, যা তোমরা দেখছ না; আমি ভয় করি আল্লাহকে। আর আল্লাহর আযাব অত্যন্ত কঠিন।
যখন মোনাফেকরা বলতে লাগল এবং যাদের অন্তর ব্যাধিগ্রস্ত, এরা নিজেদের ধর্মের উপর গর্বিত। বস্তুতঃ যারা ভরসা করে আল্লাহর উপর, সে নিশ্চিন্ত, কেননা আল্লাহ অতি পরাক্রমশীল, সুবিজ্ঞ।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।