এরপর আল্লাহ যাদের প্রতি ইচ্ছা তওবার তওফীক দেবেন, আর আল্লাহ অতীব ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
ثُمَّ يَتُوبُ اللهُ – এরপর আল্লাহ তাওবা কবুল করবেন।
مِن بَعْدِ ذَٰلِكَ – এর পরে (অর্থাৎ শত্রুদের উপর বিজয় ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের পর)।
عَلَىٰ مَن يَشَاءُ – যার প্রতি তিনি ইচ্ছা করেন (তাওবার তাওফিক দান করেন)।
غَفُورٌ رَّحِيمٌ – অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
তাফসির:
এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন যে, কাফির ও মুশরিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, তাদেরকে হত্যা, বন্দি করা এবং তাদের উপর বিজয় লাভের পরও যদি তাদের মধ্যে কেউ কুফরি ও শিরক থেকে ফিরে এসে আন্তরিকভাবে ইসলাম গ্রহণ করে, তবে আল্লাহ তার তাওবা কবুল করবেন। অর্থাৎ, শত্রুতা ও যুদ্ধের পরও ইসলামের দরজা সবার জন্য উন্মুক্ত। যে ব্যক্তি সত্য বুঝতে পেরে ভুল পথ ছেড়ে সঠিক পথে ফিরে আসবে, আল্লাহ তার সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন এবং তাকে জান্নাতের পথ দেখাবেন। এটি আল্লাহর অপরিসীম করুণারই বহিঃপ্রকাশ যে, তিনি বান্দার অতীতের সমস্ত অপরাধ ক্ষমা করে দেন, যখনই সে আন্তরিকভাবে তাওবা করে। আল্লাহর ক্ষমা ও দয়া এতই ব্যাপক যে, সবচেয়ে বড় গুনাহকারীও যদি তার কাছে ফিরে আসে, তিনি তাকে গ্রহণ করেন এবং তার উপর রহমত বর্ষণ করেন।
শিক্ষা ও উপদেশ:
ইসলামের দরজা সর্বদা খোলা—যত বড় পাপী বা কাফিরই হোক না কেন, আন্তরিক তাওবার মাধ্যমে সে আল্লাহর ক্ষমা লাভ করতে পারে। এটি আল্লাহর রহমতের অসীম দরজা।
নিরাশ হওয়া যাবে না—মানুষ যত বড় ভুলই করুক না কেন, আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া সম্পূর্ণ অনুচিত। তাওবা করলেই আল্লাহ ক্ষমা করেন।
এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, অন্যদের ভুলের জন্য আমরা যেন ঘৃণা না করি, বরং তাদের হেদায়েতের জন্য দোয়া করি, কারণ আল্লাহ যাকে চান হেদায়েত দেন এবং তার তাওবা কবুল করেন।
আল্লাহর গুনাহ মাফের প্রতিশ্রুতি মুমিনের জন্য চরম প্রশান্তির বিষয়—এটি ইসলামের সৌন্দর্য যে, এখানে হতাশার কোনো স্থান নেই, বরং প্রতিটি মুহূর্তে ফিরে আসার সুযোগ রয়েছে।
আল্লাহ তোমাদের সাহায্য করেছেন অনেক ক্ষেত্রে এবং হোনাইনের দিনে, যখন তোমাদের সংখ্যধিক্য তোমাদের প্রফুল্ল করেছিল, কিন্তু তা তোমাদের কোন কাজে আসেনি এবং পৃথিবী প্রশস্ত হওয়া সত্তেও তোমাদের জন্য সংকুচিত হয়েছিল। অতঃপর পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে পলায়ন করেছিলে।
তারপর আল্লাহ নাযিল করেন নিজের পক্ষ থেকে সান্ত্বনা, তাঁর রসূল ও মুমিনদের প্রতি এবং অবতীর্ণ করেন এমন সেনাবাহিনী যাদের তোমরা দেখতে পাওনি। আর শাস্তি প্রদান করেন কাফেরদের এবং এটি হল কাফেরদের কর্মফল।
হে ঈমানদারগণ! মুশরিকরা তো অপবিত্র। সুতরাং এ বছরের পর তারা যেন মসজিদুল-হারামের নিকট না আসে। আর যদি তোমরা দারিদ্রে?480; আশংকা কর, তবে আল্লাহ চাইলে নিজ করুনায় ভবিষ্যতে তোমাদের অভাবমুক্ত করে দেবেন। নিঃসন্দেহে আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
তোমরা যুদ্ধ কর আহলে-কিতাবের ঐ লোকদের সাথে, যারা আল্লাহ ও রোজ হাশরে ঈমান রাখে না, আল্লাহ ও তাঁর রসূল যা হারাম করে দিয়েছেন তা হারাম করে না এবং গ্রহণ করে না সত্য ধর্ম, যতক্ষণ না করজোড়ে তারা জিযিয়া প্রদান করে।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।