আত-তওবা · 46/129
অনুবাদ উচ্চারণ — আত-তওবা
۞ وَلَوْ أَرَادُوا الْخُرُوجَ لَأَعَدُّوا لَهُ عُدَّةً وَلَٰكِن كَرِهَ اللَّهُ انبِعَاثَهُمْ فَثَبَّطَهُمْ وَقِيلَ اقْعُدُوا مَعَ الْقَاعِدِينَ ۝٤٦
Wa law araadul khurooja la-`addoo lahoo `uddatanw wa laakin karihal laahum bi`aasahum fasabbatahum wa qeelaq `udoo ma`al qaa`ideen
📖 বাংলা অর্থ
আর যদি তারা বের হবার সংকল্প নিত, তবে অবশ্যই কিছু সরঞ্জাম প্রস্তুত করতো। কিন্তু তাদের উত্থান আল্লাহর পছন্দ নয়, তাই তাদের নিবৃত রাখলেন এবং আদেশ হল বসা লোকদের সাথে তোমরা বসে থাক।
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • উদ্দাহ (عُدَّة): যুদ্ধের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, রসদ ও সওয়ারি প্রস্তুত করা।
  • ইনবি‘আস (انبِعَاث): দ্রুত বের হওয়া, যাত্রার জন্য উদ্যত হওয়া।
  • ফাসাব্বাতাহুম (فَثَبَّطَهُمْ): তাদেরকে পিছিয়ে রাখা, তাদের মনোবল ভেঙে দেয়া, কাজে অলসতা সৃষ্টি করা।
  • আল-কা‘ইদীন (الْقَاعِدِينَ): যারা বৈধ কারণে (অসুস্থ, দুর্বল, নারী, শিশু) ঘরে অবস্থানকারী।

তাফসীর:

হে নবী! এই মুনাফিকরা যদি সত্যিই জিহাদে বের হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করত, তবে তারা এর জন্য আগে থেকেই প্রস্তুতি নিত—যুদ্ধের অস্ত্রশস্ত্র, রসদপত্র এবং সওয়ারির ব্যবস্থা করত। কিন্তু তাদের অন্তরে জিহাদের কোনো আগ্রহই ছিল না। তারা মিথ্যা বলছিল যখন বলেছিল, “আমরা বের হতে চাই।” আল্লাহ তাআলা জানতেন যে, তাদের বের হওয়ার মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই; বরং তারা মুসলিমদের মধ্যে বিভেদ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে। তাই আল্লাহ তাদের বের হওয়াকে অপছন্দ করলেন এবং তাদের অন্তরে অলসতা ও ভীরুতা সৃষ্টি করে দিলেন—ফলে তারা নিজেরাই বের হওয়া থেকে পিছিয়ে থাকতে পছন্দ করল। এটি ছিল আল্লাহর কুদরতি ব্যবস্থা, যদিও শরীয়তের দৃষ্টিতে তাদেরকে জিহাদের আদেশ করা হয়েছিল। অতঃপর নবী (সা.)-এর মাধ্যমে তাদেরকে বলা হলো: “তোমরা ঘরে অবস্থানকারীদের (অসুস্থ, দুর্বল, নারী ও শিশুদের) সাথে বসে থাকো।” অর্থাৎ, যারা বৈধ ওজরে পিছিয়ে আছে, তাদের সাথে তোমরাও অবস্থান করো। এটি ছিল তাদের জন্য লজ্জা ও অপমানের বিষয়।


শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. সত্য ইচ্ছা থাকলে প্রস্তুতি থাকে: যে ব্যক্তি সত্যিই কোনো ভালো কাজ করতে চায়, সে তার জন্য সময়, সম্পদ ও প্রচেষ্টা ব্যয় করে। মুনাফিকদের মতো শুধু মুখে বলা যথেষ্ট নয়; কাজের মাধ্যমে প্রমাণ দিতে হয়।
  2. আল্লাহর ইচ্ছাই চূড়ান্ত: মানুষের ইচ্ছা তখনই ফলপ্রসূ হয়, যখন আল্লাহ তা চান। মুনাফিকরা বের হতে চাইলেও আল্লাহ তাদের পিছিয়ে রাখলেন। সুতরাং মুমিনের উচিত আল্লাহর সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট থাকা এবং তাঁর ইচ্ছার কাছে আত্মসমর্পণ করা।
  3. মুমিনের পরিচয় হলো আনুগত্য: প্রকৃত মুমিন যখন আল্লাহর আদেশ পায়, তখন সে দ্বিধা না করে তা পালন করে। কিন্তু মুনাফিকরা আদেশ পেয়েও অলসতা ও ভীরুতা দেখায়—এটাই তাদের মুনাফিকির লক্ষণ।
  4. বৈধ ওজরে পিছিয়ে থাকা দোষণীয় নয়: অসুস্থ, দুর্বল, নারী ও শিশুদের মতো যাদের জন্য জিহাদ ফরজ নয়, তারা ঘরে থাকতে পারে। কিন্তু সুস্থ ও সক্ষম ব্যক্তির জন্য জিহাদ ত্যাগ করা কাপুরুষতা ও গুনাহের কাজ।
  5. আল্লাহর অপছন্দই যথেষ্ট: কোনো কাজ যদি আল্লাহর কাছে অপছন্দনীয় হয়, তবে তা কতই না বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। মুনাফিকদের জন্য আল্লাহর অপছন্দই তাদের পিছিয়ে থাকার মূল কারণ ছিল। তাই মুমিনের সর্বদা চেষ্টা করা উচিত—যেন তার কাজ আল্লাহর পছন্দ অনুযায়ী হয়।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 44-48 — আত-তওবা

44لَا يَسْتَأْذِنُكَ الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ أَن يُجَاهِدُوا بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنفُسِهِمْ ۗ وَاللَّهُ عَلِيمٌ بِالْمُتَّقِينَ
আল্লাহ ও রোজ কেয়ামতের প্রতি যাদের ঈমান রয়েছে তারা মাল ও জান দ্বারা জেহাদ করা থেকে আপনার কাছে অব্যাহতি কামনা করবে না, আর আল্লাহ সাবধানীদের ভাল জানেন।
45إِنَّمَا يَسْتَأْذِنُكَ الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَارْتَابَتْ قُلُوبُهُمْ فَهُمْ فِي رَيْبِهِمْ يَتَرَدَّدُونَ
নিঃসন্দেহে তারাই আপনার কাছে অব্যাহতি চায়, যারা আল্লাহ ও রোজ কেয়ামতে ঈমান রাখে না এবং তাদের অন্তর সন্দেহগ্রস্ত হয়ে পড়েছে, সুতরাং সন্দেহের আবর্তে তারা ঘুরপাক খেয়ে চলেছে।
46۞ وَلَوْ أَرَادُوا الْخُرُوجَ لَأَعَدُّوا لَهُ عُدَّةً وَلَٰكِن كَرِهَ اللَّهُ انبِعَاثَهُمْ فَثَبَّطَهُمْ وَقِيلَ اقْعُدُوا مَعَ الْقَاعِدِينَ
আর যদি তারা বের হবার সংকল্প নিত, তবে অবশ্যই কিছু সরঞ্জাম প্রস্তুত করতো। কিন্তু তাদের উত্থান আল্লাহর পছন্দ নয়, তাই তাদের নিবৃত রাখলেন এবং আদেশ হল বসা লোকদের সাথে তোমরা বসে থাক।
47لَوْ خَرَجُوا فِيكُم مَّا زَادُوكُمْ إِلَّا خَبَالًا وَلَأَوْضَعُوا خِلَالَكُمْ يَبْغُونَكُمُ الْفِتْنَةَ وَفِيكُمْ سَمَّاعُونَ لَهُمْ ۗ وَاللَّهُ عَلِيمٌ بِالظَّالِمِينَ
যদি তোমাদের সাথে তারা বের হত, তবে তোমাদের অনিষ্ট ছাড়া আর কিছু বৃদ্ধি করতো না, আর অশ্ব ছুটাতো তোমাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির উদ্দেশে। আর তোমাদের মাঝে রয়েছে তাদের গুপ্তচর। বস্তুতঃ আল্লাহ যালিমদের ভালভাবেই জানেন।
48لَقَدِ ابْتَغَوُا الْفِتْنَةَ مِن قَبْلُ وَقَلَّبُوا لَكَ الْأُمُورَ حَتَّىٰ جَاءَ الْحَقُّ وَظَهَرَ أَمْرُ اللَّهِ وَهُمْ كَارِهُونَ
তারা পূর্বে থেকেই বিভেদ সৃষ্টির সুযোগ সন্ধানে ছিল এবং আপনার কার্যসমূহ উল্টা-পাল্টা করে দিচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত সত্য প্রতিশ্রুতি এসে গেল এবং জয়ী হল আল্লাহর হুকুম, যে অবস্থায় তারা মন্দবোধ করল।
আত-তওবাকুরআন সূচী
129আয়াত
মাদানীRevelation
46আয়াত

অনুবাদ — আত-তওবা 46

সূরা আত-তওবা আয়াত 46 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : আর যদি তারা বের হবার সংকল্প নিত, তবে অবশ্যই কিছু…

সূরা আয়াত 46/129 — আত-তওবা التوبة (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আত-তওবা শুনুন, আত-তওবা অনুবাদ, আত-তওবা mp3, আত-তওবা pdf. আয়াত 44–48. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না