আত-তওবা · 66/129
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আত-তওবা
لَا تَعْتَذِرُوا قَدْ كَفَرْتُم بَعْدَ إِيمَانِكُمْ ۚ إِن نَّعْفُ عَن طَائِفَةٍ مِّنكُمْ نُعَذِّبْ طَائِفَةً بِأَنَّهُمْ كَانُوا مُجْرِمِينَ ۝٦٦
Laa ta`taziroo qad kafartum ba`da eemaanikum; in na`fu `an taaa`ifatim minkum nu`az zib taaa`ifatam bi annahum kaanoo mujrimeen
📖 বাংলা অর্থ
ছলনা কর না, তোমরা যে কাফের হয়ে গেছ ঈমান প্রকাশ করার পর। তোমাদের মধ্যে কোন কোন লোককে যদি আমি ক্ষমা করে দেইও, তবে অবশ্য কিছু লোককে আযাবও দেব। কারণ, তারা ছিল গোনাহগার।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ (কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দের অর্থ):

  • لَا تَعْتَذِرُوا – তোমরা ওজর-আপত্তি পেশ করো না, অজুহাত দিয়ো না।
  • قَدْ كَفَرْتُم – নিশ্চয়ই তোমরা কুফরি করেছ (অস্বীকার করেছ)।
  • بَعْدَ إِيمَانِكُمْ – তোমাদের ঈমান আনার পর (অর্থাৎ ঈমান প্রকাশের পর)।
  • طَائِفَةٍ – একটি দল, একটি সম্প্রদায়।
  • نَعْفُ – আমরা ক্ষমা করি।
  • نُعَذِّبْ – আমরা শাস্তি দেব।
  • مُجْرِمِينَ – অপরাধী, যারা অপরাধে লিপ্ত।

তাফসীর (ব্যাখ্যা):

হে মুনাফিকরা! তোমরা এই মিথ্যা অজুহাতগুলো পেশ করো না, কারণ তোমাদের অজুহাত গ্রহণযোগ্য নয়। তোমরা যে কথা বলেছ (রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করে) তার মাধ্যমে তোমরা ঈমান আনার পর কুফরি করেছ। অর্থাৎ, মুখে ঈমান প্রকাশ করার পর তোমাদের এই বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য প্রমাণ করে দিয়েছে যে, তোমাদের অন্তরে প্রকৃত ঈমান ছিল না। তাই তোমাদের অজুহাত কোনো কাজে আসবে না।

তবে আল্লাহর রহমত ও দয়া অসীম। তিনি বলেন: যদি আমরা তোমাদের মধ্যকার একটি দলকে ক্ষমা করি—যারা প্রকৃত তাওবা করেছে, নিজেদের ভুল বুঝতে পেরেছে এবং আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে ফিরে এসেছে—তাহলে অপর একটি দলকে অবশ্যই শাস্তি দেওয়া হবে। কারণ তারা মুনাফিকির উপর অটল ছিল, তাদের অপরাধ ও পাপাচারে লিপ্ত ছিল এবং তাওবা করেনি। তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি।


শিক্ষা ও উপদেশ (ফায়দা):

  1. মুমিনের ভাষা ও আচরণ পবিত্র হতে হবে: রাসূলুল্লাহ ﷺ এবং ইসলামের পবিত্র বিষয়গুলোকে নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করা মারাত্মক গুনাহ এবং তা ঈমানহানির কারণ। একজন প্রকৃত মুমিন কখনো এমন কাজ করতে পারে না।
  2. তাওবার দরজা সবসময় খোলা: আল্লাহ তা‘আলা অত্যন্ত দয়ালু। তিনি চান না বান্দা ধ্বংস হোক। তাই যে ব্যক্তি আন্তরিকভাবে তাওবা করে, আল্লাহ তার তাওবা কবুল করেন এবং তাকে ক্ষমা করে দেন। হতাশ হওয়া যাবে না।
  3. অপরাধে অটল থাকা ধ্বংসের কারণ: যারা ভুল বুঝতে পেরেও তা থেকে ফিরে আসে না এবং পাপে লিপ্ত থাকে, তাদের জন্য আল্লাহর শাস্তি অবধারিত। আল্লাহ কারো প্রতি জুলুম করেন না; বরং মানুষ নিজেই নিজের জন্য শাস্তি ডেকে আনে।
  4. মুনাফিকির পরিণাম: মুনাফিকি তথা মুখে ঈমান ও অন্তরে কুফরি লুকিয়ে রাখা একটি ভয়াবহ অপরাধ। আল্লাহ তা‘আলা মুনাফিকদের সম্পর্কে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তাদের অজুহাত কখনো গ্রহণযোগ্য হবে না, যতক্ষণ না তারা সত্যিকারের তাওবা করে।
  5. আল্লাহর বিচার ন্যায়পরায়ণ: আল্লাহ তা‘আলা ন্যায়বিচারক। তিনি ভালো ও মন্দ, মুমিন ও মুনাফিককে এক করে দেখেন না। যারা তাওবা করবে তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা, আর যারা অপরাধে অটল থাকবে তাদের জন্য রয়েছে শাস্তি। এটি আল্লাহর ন্যায়বিচারেরই প্রতিফলন।


📜 আয়াত 64-68 — সূরা আত-তওবা

64يَحْذَرُ الْمُنَافِقُونَ أَن تُنَزَّلَ عَلَيْهِمْ سُورَةٌ تُنَبِّئُهُم بِمَا فِي قُلُوبِهِمْ ۚ قُلِ اسْتَهْزِئُوا إِنَّ اللَّهَ مُخْرِجٌ مَّا تَحْذَرُونَ
মুনাফেকরা এ ব্যাপারে ভয় করে যে, মুসলমানদের উপর না এমন কোন সূরা নাযিল হয়, যাতে তাদের অন্তরের গোপন বিষয় অবহিত করা হবে। সুতরাং আপনি বলে দিন, ঠাট্টা-বিদ্রপ করতে থাক; আল্লাহ তা অবশ্যই প্রকাশ করবেন যার ব্যাপারে তোমরা ভয় করছ।
65وَلَئِن سَأَلْتَهُمْ لَيَقُولُنَّ إِنَّمَا كُنَّا نَخُوضُ وَنَلْعَبُ ۚ قُلْ أَبِاللَّهِ وَآيَاتِهِ وَرَسُولِهِ كُنتُمْ تَسْتَهْزِئُونَ
আর যদি তুমি তাদের কাছে জিজ্ঞেস কর, তবে তারা বলবে, আমরা তো কথার কথা বলছিলাম এবং কৌতুক করছিলাম। আপনি বলুন, তোমরা কি আল্লাহর সাথে, তাঁর হুকুম আহকামের সাথে এবং তাঁর রসূলের সাথে ঠাট্টা করছিলে?
66لَا تَعْتَذِرُوا قَدْ كَفَرْتُم بَعْدَ إِيمَانِكُمْ ۚ إِن نَّعْفُ عَن طَائِفَةٍ مِّنكُمْ نُعَذِّبْ طَائِفَةً بِأَنَّهُمْ كَانُوا مُجْرِمِينَ
ছলনা কর না, তোমরা যে কাফের হয়ে গেছ ঈমান প্রকাশ করার পর। তোমাদের মধ্যে কোন কোন লোককে যদি আমি ক্ষমা করে দেইও, তবে অবশ্য কিছু লোককে আযাবও দেব। কারণ, তারা ছিল গোনাহগার।
67الْمُنَافِقُونَ وَالْمُنَافِقَاتُ بَعْضُهُم مِّن بَعْضٍ ۚ يَأْمُرُونَ بِالْمُنكَرِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمَعْرُوفِ وَيَقْبِضُونَ أَيْدِيَهُمْ ۚ نَسُوا اللَّهَ فَنَسِيَهُمْ ۗ إِنَّ الْمُنَافِقِينَ هُمُ الْفَاسِقُونَ
মুনাফেক নর-নারী সবারই গতিবিধি একরকম; শিখায় মন্দ কথা, ভাল কথা থেকে বারণ করে এবং নিজ মুঠো বন্ধ রাখে। আল্লাহকে ভুলে গেছে তার, কাজেই তিনিও তাদের ভূলে গেছেন নিঃসন্দেহে মুনাফেকরাই নাফরমান।
68وَعَدَ اللَّهُ الْمُنَافِقِينَ وَالْمُنَافِقَاتِ وَالْكُفَّارَ نَارَ جَهَنَّمَ خَالِدِينَ فِيهَا ۚ هِيَ حَسْبُهُمْ ۚ وَلَعَنَهُمُ اللَّهُ ۖ وَلَهُمْ عَذَابٌ مُّقِيمٌ
ওয়াদা করেছেন আল্লাহ, মুনাফেক পুরুষ ও মুনাফেক নারীদের এবং কাফেরদের জন্যে দোযখের আগুনের-তাতে পড়ে থাকবে সর্বদা। সেটাই তাদের জন্যে যথেষ্ট। আর আল্লাহ তাদের প্রতি অভিসম্পাত করেছেন এবং তাদের জন্যে রয়েছে স্থায়ী আযাব।
আত-তওবাকুরআন সূচী
129আয়াত
মাদানীঅবতরণস্থান
66আয়াত

অনুবাদ — আত-তওবা 66

সূরা আত-তওবা আয়াত 66 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : ছলনা কর না, তোমরা যে কাফের হয়ে গেছ ঈমান প্রকাশ…

সূরা আয়াত 66/129 — সূরা আত-তওবা التوبة (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আত-তওবা শুনুন, সূরা আত-তওবা অনুবাদ, সূরা আত-তওবা mp3, সূরা আত-তওবা pdf. আয়াত 64–68. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Monday, September 28, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না