Laa ta`taziroo qad kafartum ba`da eemaanikum; in na`fu `an taaa`ifatim minkum nu`az zib taaa`ifatam bi annahum kaanoo mujrimeen
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
ছলনা কর না, তোমরা যে কাফের হয়ে গেছ ঈমান প্রকাশ করার পর। তোমাদের মধ্যে কোন কোন লোককে যদি আমি ক্ষমা করে দেইও, তবে অবশ্য কিছু লোককে আযাবও দেব। কারণ, তারা ছিল গোনাহগার।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
अब बातें न बनाओं हक़ तो ये हैं कि तुम ईमान लाने के बाद काफ़िर हो बैठे अगर हम तुममें से कुछ लोगों से दरगुज़र भी करें तो हम कुछ लोगों को सज़ा ज़रूर देगें इस वजह से कि ये लोग कुसूरवार ज़रूर हैं
ছলনা কর না, তোমরা যে কাফের হয়ে গেছ ঈমান প্রকাশ করার পর। তোমাদের মধ্যে কোন কোন লোককে যদি আমি ক্ষমা করে দেইও, তবে অবশ্য কিছু লোককে আযাবও দেব। কারণ, তারা ছিল গোনাহগার।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ (কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দের অর্থ):
لَا تَعْتَذِرُوا – তোমরা ওজর-আপত্তি পেশ করো না, অজুহাত দিয়ো না।
হে মুনাফিকরা! তোমরা এই মিথ্যা অজুহাতগুলো পেশ করো না, কারণ তোমাদের অজুহাত গ্রহণযোগ্য নয়। তোমরা যে কথা বলেছ (রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করে) তার মাধ্যমে তোমরা ঈমান আনার পর কুফরি করেছ। অর্থাৎ, মুখে ঈমান প্রকাশ করার পর তোমাদের এই বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য প্রমাণ করে দিয়েছে যে, তোমাদের অন্তরে প্রকৃত ঈমান ছিল না। তাই তোমাদের অজুহাত কোনো কাজে আসবে না।
তবে আল্লাহর রহমত ও দয়া অসীম। তিনি বলেন: যদি আমরা তোমাদের মধ্যকার একটি দলকে ক্ষমা করি—যারা প্রকৃত তাওবা করেছে, নিজেদের ভুল বুঝতে পেরেছে এবং আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে ফিরে এসেছে—তাহলে অপর একটি দলকে অবশ্যই শাস্তি দেওয়া হবে। কারণ তারা মুনাফিকির উপর অটল ছিল, তাদের অপরাধ ও পাপাচারে লিপ্ত ছিল এবং তাওবা করেনি। তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি।
শিক্ষা ও উপদেশ (ফায়দা):
মুমিনের ভাষা ও আচরণ পবিত্র হতে হবে: রাসূলুল্লাহ ﷺ এবং ইসলামের পবিত্র বিষয়গুলোকে নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করা মারাত্মক গুনাহ এবং তা ঈমানহানির কারণ। একজন প্রকৃত মুমিন কখনো এমন কাজ করতে পারে না।
তাওবার দরজা সবসময় খোলা: আল্লাহ তা‘আলা অত্যন্ত দয়ালু। তিনি চান না বান্দা ধ্বংস হোক। তাই যে ব্যক্তি আন্তরিকভাবে তাওবা করে, আল্লাহ তার তাওবা কবুল করেন এবং তাকে ক্ষমা করে দেন। হতাশ হওয়া যাবে না।
অপরাধে অটল থাকা ধ্বংসের কারণ: যারা ভুল বুঝতে পেরেও তা থেকে ফিরে আসে না এবং পাপে লিপ্ত থাকে, তাদের জন্য আল্লাহর শাস্তি অবধারিত। আল্লাহ কারো প্রতি জুলুম করেন না; বরং মানুষ নিজেই নিজের জন্য শাস্তি ডেকে আনে।
মুনাফিকির পরিণাম: মুনাফিকি তথা মুখে ঈমান ও অন্তরে কুফরি লুকিয়ে রাখা একটি ভয়াবহ অপরাধ। আল্লাহ তা‘আলা মুনাফিকদের সম্পর্কে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তাদের অজুহাত কখনো গ্রহণযোগ্য হবে না, যতক্ষণ না তারা সত্যিকারের তাওবা করে।
আল্লাহর বিচার ন্যায়পরায়ণ: আল্লাহ তা‘আলা ন্যায়বিচারক। তিনি ভালো ও মন্দ, মুমিন ও মুনাফিককে এক করে দেখেন না। যারা তাওবা করবে তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা, আর যারা অপরাধে অটল থাকবে তাদের জন্য রয়েছে শাস্তি। এটি আল্লাহর ন্যায়বিচারেরই প্রতিফলন।
মুনাফেকরা এ ব্যাপারে ভয় করে যে, মুসলমানদের উপর না এমন কোন সূরা নাযিল হয়, যাতে তাদের অন্তরের গোপন বিষয় অবহিত করা হবে। সুতরাং আপনি বলে দিন, ঠাট্টা-বিদ্রপ করতে থাক; আল্লাহ তা অবশ্যই প্রকাশ করবেন যার ব্যাপারে তোমরা ভয় করছ।
আর যদি তুমি তাদের কাছে জিজ্ঞেস কর, তবে তারা বলবে, আমরা তো কথার কথা বলছিলাম এবং কৌতুক করছিলাম। আপনি বলুন, তোমরা কি আল্লাহর সাথে, তাঁর হুকুম আহকামের সাথে এবং তাঁর রসূলের সাথে ঠাট্টা করছিলে?
ছলনা কর না, তোমরা যে কাফের হয়ে গেছ ঈমান প্রকাশ করার পর। তোমাদের মধ্যে কোন কোন লোককে যদি আমি ক্ষমা করে দেইও, তবে অবশ্য কিছু লোককে আযাবও দেব। কারণ, তারা ছিল গোনাহগার।
মুনাফেক নর-নারী সবারই গতিবিধি একরকম; শিখায় মন্দ কথা, ভাল কথা থেকে বারণ করে এবং নিজ মুঠো বন্ধ রাখে। আল্লাহকে ভুলে গেছে তার, কাজেই তিনিও তাদের ভূলে গেছেন নিঃসন্দেহে মুনাফেকরাই নাফরমান।
ওয়াদা করেছেন আল্লাহ, মুনাফেক পুরুষ ও মুনাফেক নারীদের এবং কাফেরদের জন্যে দোযখের আগুনের-তাতে পড়ে থাকবে সর্বদা। সেটাই তাদের জন্যে যথেষ্ট। আর আল্লাহ তাদের প্রতি অভিসম্পাত করেছেন এবং তাদের জন্যে রয়েছে স্থায়ী আযাব।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।