Wa laa tad`u min doonil laahi maa laa yanfa`uka wa laa yadurruka fa in fa`alta fa innaka izam minaz zaalimeen
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
আর নির্দেশ হয়েছে আল্লাহ ব্যতীত এমন কাউকে ডাকবে না, যে তোমার ভাল করবে না মন্দও করবে না। বস্তুতঃ তুমি যদি এমন কাজ কর, তাহলে তখন তুমিও জালেমদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
और ख़ुदा को छोड़ ऐसी चीज़ को पुकारना जो न तुझे नफा ही पहुँचा सकती हैं न नुक़सान ही पहुँचा सकती है तो अगर तुमने (कहीं ऐसा) किया तो उस वक्त तुम भी ज़ालिमों में (शुमार) होगें
تدعُ – ডাকা, আহ্বান করা; এখানে অর্থ ইবাদত করা বা সাহায্য প্রার্থনা করা।
من دون الله – আল্লাহকে বাদ দিয়ে, আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুকে।
لا ينفعك – যে তোমার উপকার করতে পারে না।
ولا يضرك – এবং যে তোমার ক্ষতিও করতে পারে না।
الظالمين – অত্যাচারী, সীমালঙ্ঘনকারী; এখানে অর্থ নিজের প্রতি অত্যাচারকারী (কারণ শিরক নিজের আত্মার প্রতি সবচেয়ে বড় অত্যাচার)।
তাফসির (ব্যাখ্যা):
হে নবী! তুমি আল্লাহকে বাদ দিয়ে এমন কোনো কিছুকে ডেকো না বা তার ইবাদত করো না—যে তোমার কোনো উপকার করতে পারে না এবং তোমার কোনো ক্ষতিও করতে পারে না। মূর্তি, পাথর, গাছ, কবর, জিন বা অন্য যেকোনো সৃষ্টিজীব—এদের কারো হাতে উপকার-অপকারের ক্ষমতা নেই। তারা সম্পূর্ণ শক্তিহীন ও অসহায়। তুমি যদি তাদের ডাকো বা তাদের কাছে সাহায্য চাও, তবে তুমি আল্লাহর সাথে শিরক করলে, যা সবচেয়ে বড় জুলুম। কেননা আল্লাহই একমাত্র উপকার-অপকারের মালিক, তিনিই সবকিছুর স্রষ্টা ও রিজিকদাতা। তাঁর পরিবর্তে অন্য কাউকে ডাকা মানে নিজের আত্মার প্রতি চরম অত্যাচার করা এবং আল্লাহর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করা। এই নির্দেশ যদিও নবী (সা.)-কে সম্বোধন করে বলা হয়েছে, কিন্তু এর উদ্দেশ্য সমগ্র উম্মতকে শিক্ষা দেওয়া—যাতে কেউ আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুকে ডাকার বা তার কাছে প্রার্থনা করার সাহস না করে।
শিক্ষা ও উপকারিতা:
তাওহিদ (একত্ববাদ) হলো ইসলামের মূল ভিত্তি—শুধু আল্লাহকেই ডাকতে হবে, সাহায্য চাইতে হবে এবং তাঁরই কাছে প্রার্থনা করতে হবে।
শিরক হলো সবচেয়ে বড় অন্যায় ও জুলুম, যা মানুষের আত্মাকে ধ্বংস করে এবং তাকে আল্লাহর রহমত থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।
যে বস্তু বা সত্তার উপকার-অপকারের কোনো ক্ষমতা নেই, তার কাছে কিছু চাওয়া সম্পূর্ণ অর্থহীন ও নির্বুদ্ধিতার কাজ।
আল্লাহ অত্যন্ত দয়ালু—তিনি তাঁর বান্দাদের এমন পথ থেকে বিরত রাখছেন যা তাদের ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়, এবং এমন পথ দেখাচ্ছেন যা তাদের সফলতা ও শান্তির দিকে নিয়ে যায়।
এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে আমাদের নির্ভরতা শুধু আল্লাহর উপরই রাখতে হবে—কোনো মানুষের উপর নয়, কোনো বস্তুর উপর নয়, কোনো শক্তির উপর নয়।
আর নির্দেশ হয়েছে আল্লাহ ব্যতীত এমন কাউকে ডাকবে না, যে তোমার ভাল করবে না মন্দও করবে না। বস্তুতঃ তুমি যদি এমন কাজ কর, তাহলে তখন তুমিও জালেমদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।
বলে দাও-হে মানবকুল, তোমরা যদি আমার দ্বীনের ব্যাপারে সন্দিহান হয়ে থাক, তবে (জেনো) আমি তাদের এবাদত করি না যাদের এবাদত তোমরা কর আল্লাহ ব্যতীত। কিন্তু আমি এবাদত করি আল্লাহ ত’য়ালার, যিনি তুলে নেন তোমাদেরকে। আর আমার প্রতি নির্দেশ হয়েছে যাতে আমি ঈমানদারদের অন্তর্ভুক্ত থাকি।
আর নির্দেশ হয়েছে আল্লাহ ব্যতীত এমন কাউকে ডাকবে না, যে তোমার ভাল করবে না মন্দও করবে না। বস্তুতঃ তুমি যদি এমন কাজ কর, তাহলে তখন তুমিও জালেমদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।
আর আল্লাহ যদি তোমার উপর কোন কষ্ট আরোপ করেন তাহলে কেউ নেই তা খন্ডাবার মত তাঁকে ছাড়া। পক্ষান্তরে যদি তিনি কিছু কল্যাণ দান করেন, তবে তার মেহেরবানীকে রহিত করার মতও কেউ নেই। তিনি যার প্রতি অনুগ্রহ দান করতে চান স্বীয় বান্দাদের মধ্যে তাকেই দান করেন; বস্তুত; তিনিই ক্ষমাশীল দয়ালু।
বলে দাও, হে মানবকুল, সত্য তোমাদের কাছে পৌঁছে গেছে তোমাদের পরওয়ারদেগারের তরফ থেকে। এমন যে কেউ পথে আসে সেপথ প্রাপ্ত হয় স্বীয় মঙ্গলের জন্য। আর যে বিভ্রান্ত ঘুরতে থাকে, সে স্বীয় অমঙ্গলের জন্য বিভ্রান্ত অবস্থায় ঘুরতে থাকবে। অনন্তর আমি তোমাদের উপর অধিকারী নই।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।