Wa iny yamsaskal laahu bidurrin falaa kaashifa lahoo illaa Huwa wa iny yuridka bikhairin falaa raaadda lifadlih; yuseebu bihee man yashaaa`u min `ibaadih; wa huwal Ghafoorur Raheem
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
আর আল্লাহ যদি তোমার উপর কোন কষ্ট আরোপ করেন তাহলে কেউ নেই তা খন্ডাবার মত তাঁকে ছাড়া। পক্ষান্তরে যদি তিনি কিছু কল্যাণ দান করেন, তবে তার মেহেরবানীকে রহিত করার মতও কেউ নেই। তিনি যার প্রতি অনুগ্রহ দান করতে চান স্বীয় বান্দাদের মধ্যে তাকেই দান করেন; বস্তুত; তিনিই ক্ষমাশীল দয়ালু।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
और (याद रखो कि) अगर ख़ुदा की तरफ से तुम्हें कोई बुराई छू भी गई तो फिर उसके सिवा कोई उसका दफा करने वाला नहीं होगा और अगर तुम्हारे साथ भलाई का इरादा करे तो फिर उसके फज़ल व करम का लपेटने वाला भी कोई नहीं वह अपने बन्दों में से जिसको चाहे फायदा पहुँचाएँ और वह बड़ा बख्शने वाला मेहरबान है
আর আল্লাহ যদি তোমার উপর কোন কষ্ট আরোপ করেন তাহলে কেউ নেই তা খন্ডাবার মত তাঁকে ছাড়া। পক্ষান্তরে যদি তিনি কিছু কল্যাণ দান করেন, তবে তার মেহেরবানীকে রহিত করার মতও কেউ নেই। তিনি যার প্রতি অনুগ্রহ দান করতে চান স্বীয় বান্দাদের মধ্যে তাকেই দান করেন; বস্তুত; তিনিই ক্ষমাশীল দয়ালু।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
يَمْسَسْكَ = তোমাকে স্পর্শ করে / আক্রান্ত করে
بِضُرٍّ = কষ্ট, বিপদ-আপদ, ক্ষতি
كَاشِفَ = দূরকারী, অপসারণকারী
يُرِدْكَ = তোমার জন্য ইচ্ছা করে
رَادَّ = প্রতিরোধকারী, বাধাদানকারী
فَضْلِهِ = তাঁর অনুগ্রহ, কল্যাণ
يُصِيبُ = পৌঁছান, প্রদান করেন
তাফসীর (ব্যাখ্যা):
হে নবী! আল্লাহ তা‘আলা যদি তোমাকে কোনো কষ্ট, রোগ-ব্যাধি, দারিদ্র্য বা বিপদ-আপদ দ্বারা স্পর্শ করেন, তাহলে তা দূর করার বা অপসারণ করার কোনো ক্ষমতা কারো নেই—আল্লাহ ছাড়া। সমগ্র সৃষ্টিজগতের সকল শক্তি একত্র হলেও আল্লাহর দেওয়া কোনো বিপদ ঠেকাতে পারবে না। আর যদি আল্লাহ তোমার জন্য কল্যাণ, সুখ-সমৃদ্ধি, স্বাস্থ্য বা প্রাচুর্য ইচ্ছা করেন, তাহলে কেউই তাঁর সেই অনুগ্রহ ও কল্যাণকে বাধা দিতে বা ফিরিয়ে দিতে পারবে না।
আল্লাহ তা‘আলা তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে চান কল্যাণ দান করেন এবং যাকে চান পরীক্ষা স্বরূপ কষ্ট দেন। এতে কারো কোনো হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। তিনি সম্পূর্ণ স্বাধীন ও ক্ষমতাবান। আর তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল—যারা তাঁর কাছে তাওবা করে ফিরে আসে তাদের গুনাহ মাফ করেন; এবং তিনি অত্যন্ত দয়ালু—যারা তাঁর উপর ঈমান আনে এবং তাঁর আনুগত্য করে তাদের প্রতি বিশেষ রহমত বর্ষণ করেন।
শিক্ষা ও উপকারিতা:
এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, সকল বিষয় আল্লাহর হাতে। বিপদ-আপদ ও কল্যাণ—সবকিছু তাঁরই ইচ্ছায় ঘটে। তাই মুমিনের উচিত সর্বাবস্থায় আল্লাহর উপর নির্ভর করা এবং তাঁর কাছে সাহায্য চাওয়া।
যখনই কোনো বিপদ আসে, তখন আমাদের মনে রাখতে হবে—আল্লাহ ছাড়া কেউ তা দূর করতে পারবে না। তাই মানুষের কাছে সাহায্য চাওয়ার পরিবর্তে আল্লাহর কাছেই বেশি প্রার্থনা করা উচিত।
কল্যাণ ও সাফল্য লাভ করলে আমাদের অহংকারী না হয়ে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা উচিত, কারণ সেই নেয়ামত তিনিই দিয়েছেন এবং কেউ তা রুখতে পারে না।
এই আয়াত মুমিনের অন্তরে আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও ভরসা জাগ্রত করে। যখন আমরা জানি যে, সবকিছু আল্লাহর নিয়ন্ত্রণে, তখন আমাদের মন প্রশান্ত থাকে এবং জীবনের প্রতিটি পরিস্থিতিতে আমরা ধৈর্য ধারণ করতে পারি।
আয়াতের শেষে আল্লাহর দুটি সুন্দর গুণ—‘ক্ষমাশীল’ ও ‘দয়ালু’—উল্লেখ করে আমাদের জানানো হচ্ছে যে, আল্লাহ শুধু ক্ষমতাবানই নন, তিনি অত্যন্ত দয়ালু ও ক্ষমাশীল। তাই আমরা যত বড় গুনাহই করি না কেন, তাঁর দরবারে তাওবা করলে তিনি আমাদের ক্ষমা করবেন। এটি আমাদের জন্য অশেষ সুসংবাদ এবং আল্লাহর রহমতের প্রতি আশাবাদী করে তোলে।
আর নির্দেশ হয়েছে আল্লাহ ব্যতীত এমন কাউকে ডাকবে না, যে তোমার ভাল করবে না মন্দও করবে না। বস্তুতঃ তুমি যদি এমন কাজ কর, তাহলে তখন তুমিও জালেমদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।
আর আল্লাহ যদি তোমার উপর কোন কষ্ট আরোপ করেন তাহলে কেউ নেই তা খন্ডাবার মত তাঁকে ছাড়া। পক্ষান্তরে যদি তিনি কিছু কল্যাণ দান করেন, তবে তার মেহেরবানীকে রহিত করার মতও কেউ নেই। তিনি যার প্রতি অনুগ্রহ দান করতে চান স্বীয় বান্দাদের মধ্যে তাকেই দান করেন; বস্তুত; তিনিই ক্ষমাশীল দয়ালু।
বলে দাও, হে মানবকুল, সত্য তোমাদের কাছে পৌঁছে গেছে তোমাদের পরওয়ারদেগারের তরফ থেকে। এমন যে কেউ পথে আসে সেপথ প্রাপ্ত হয় স্বীয় মঙ্গলের জন্য। আর যে বিভ্রান্ত ঘুরতে থাকে, সে স্বীয় অমঙ্গলের জন্য বিভ্রান্ত অবস্থায় ঘুরতে থাকবে। অনন্তর আমি তোমাদের উপর অধিকারী নই।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।