Huwal lazee ja`alash shamsa diyaaa`anw walqamara nooranw wa qaddarahoo manaaz zila lita`lamoo `adadas sineena walhisaab; maa khalaqal laahu zaalika illa bilhaqq; yufassilul aayaati liqawminw ya`lamoon
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
তিনিই সে মহান সত্তা, যিনি বানিয়েছেন সুর্যকে উজ্জল আলোকময়, আর চন্দ্রকে স্নিগ্ধ আলো বিতরণকারীরূপে এবং অতঃপর নির্ধারিত করেছেন এর জন্য মনযিল সমূহ, যাতে করে তোমরা চিনতে পার বছরগুলোর সংখ্যা ও হিসাব। আল্লাহ এই সমস্ত কিছু এমনিতেই সৃষ্টি করেননি, কিন্তু যথার্থতার সাথে। তিনি প্রকাশ করেন লক্ষণসমূহ সে সমস্ত লোকের জন্য যাদের জ্ঞান আছে।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
वही वह (ख़ुदाए क़ादिर) है जिसने आफ़ताब को चमकदार और महताब को रौशन बनाया और उसकी मंज़िलें मुक़र्रर की ताकि तुम लोग बरसों की गिनती और हिसाब मालूम करो ख़ुदा ने उसे हिकमत व मसलहत से बनाया है वह (अपनी) आयतों का वाक़िफ़कार लोगों के लिए तफ़सीलदार बयान करता है
তিনিই সে মহান সত্তা, যিনি বানিয়েছেন সুর্যকে উজ্জল আলোকময়, আর চন্দ্রকে স্নিগ্ধ আলো বিতরণকারীরূপে এবং অতঃপর নির্ধারিত করেছেন এর জন্য মনযিল সমূহ, যাতে করে তোমরা চিনতে পার বছরগুলোর সংখ্যা ও হিসাব। আল্লাহ এই সমস্ত কিছু এমনিতেই সৃষ্টি করেননি, কিন্তু যথার্থতার সাথে। তিনি প্রকাশ করেন লক্ষণসমূহ সে সমস্ত লোকের জন্য যাদের জ্ঞান আছে।
📜
অনুবাদ — Tafsir
### শব্দার্থ (معاني الكلمات):
ضِيَاءً (দিয়া) — উজ্জ্বল আলো; সূর্যের তীব্র আলো।
نُورًا (নূরান) — মৃদু আলো; চাঁদের আলো।
قَدَّرَهُ (ক্বাদ্দারাহু) — তাকে নির্ধারিত করেছেন; চাঁদের গতিপথ ও অবস্থানসমূহ নির্ধারণ করেছেন।
مَنَازِلَ (মানাযিলা) — নির্দিষ্ট অবস্থান বা পর্যায়; চাঁদের আটাশটি কক্ষপথ।
الْحِسَابَ (আল-হিছাব) — হিসাব-নিকাশ; মাস, বছর ও সময়ের হিসাব।
بِالْحَقِّ (বিল-হাক্বক্ব) — সত্য ও ন্যায়সংগতভাবে; উদ্দেশ্যহীন নয়, বরং গভীর প্রজ্ঞার সাথে।
يُفَصِّلُ (ইউফাচ্ছিলু) — বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেন; স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেন।
### تفسير (তাফসীর):
আল্লাহ তাআলাই সেই সত্তা, যিনি সূর্যকে সৃষ্টি করেছেন উজ্জ্বল আলোর উৎস হিসেবে, যা দিনের বেলা পৃথিবীকে আলোকিত করে এবং জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি ও উষ্ণতা সরবরাহ করে। আর চাঁদকে সৃষ্টি করেছেন মৃদু আলোর বস্তু হিসেবে, যা রাতের অন্ধকারে মানুষকে পথ দেখায় এবং পরিবেশকে শান্ত ও আরামদায়ক করে তোলে। এরপর তিনি চাঁদের জন্য নির্দিষ্ট কয়েকটি অবস্থান (আটাশটি মনযিল) নির্ধারণ করেছেন, যার মাধ্যমে চাঁদ এক অবস্থান থেকে আরেক অবস্থানে ক্রমান্বয়ে চলতে থাকে। এই নির্ধারিত গতিপথের কারণেই মানুষ মাস, বছর এবং সময়ের হিসাব রাখতে সক্ষম হয়। সূর্যের মাধ্যমে দিন গণনা করা হয়, আর চাঁদের মাধ্যমে মাস ও বছর গণনা করা হয়।
আল্লাহ তাআলা সূর্য ও চাঁদকে অযথা বা খেলার জন্য সৃষ্টি করেননি; বরং এগুলো সৃষ্টি করেছেন গভীর প্রজ্ঞা, সত্য ও ন্যায়ের সাথে। এ সৃষ্টির মাধ্যমে তাঁর অসীম ক্ষমতা, জ্ঞান ও একত্বের প্রমাণ প্রকাশ পায়। তিনি তাঁর নিদর্শনসমূহ বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেন সেইসব লোকদের জন্য, যারা জ্ঞান-বুদ্ধি দিয়ে চিন্তা করে এবং এসব নিদর্শন থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে। তারা সূর্য-চাঁদের এই সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা দেখে আল্লাহর অস্তিত্ব ও তাঁর একত্ব উপলব্ধি করতে পারে।
### فوائد (ফায়দা):
এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, সূর্য ও চাঁদের সৃষ্টি কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়; বরং এগুলো আল্লাহর পরিপূর্ণ জ্ঞান ও প্রজ্ঞার নিদর্শন। তাই আমাদের উচিত এসব সৃষ্টির প্রতি গভীরভাবে চিন্তা করা এবং স্রষ্টার ক্ষমতা সম্পর্কে উপলব্ধি করা।
সময়ের হিসাব রাখার জন্য আল্লাহ সূর্য ও চাঁদকে নির্দিষ্ট নিয়মে পরিচালিত করেছেন। এটি আমাদের জীবনের প্রতিটি কাজে সময়ের গুরুত্ব শেখায় এবং নিয়মানুবর্তিতা ও শৃঙ্খলার শিক্ষা দেয়।
প্রকৃতির এই সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা দেখে আমাদের ঈমান আরও মজবুত হয়। যিনি এত বড় মহাবিশ্বকে এত সুন্দরভাবে পরিচালনা করছেন, তিনি অবশ্যই আমাদের সকল কাজের হিসাব নেবেন। তাই আমাদের উচিত তাঁর আদেশ-নিষেধ মেনে চলা এবং তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করা।
যারা জ্ঞান ও বুদ্ধি দিয়ে চিন্তা করে, তারা আল্লাহর নিদর্শনসমূহ থেকে উপকৃত হয়। তাই আমাদের উচিত কুরআন ও প্রকৃতির আয়াতসমূহ নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করা, যাতে আমাদের জ্ঞান ও ঈমান উভয়ই বৃদ্ধি পায়।
নিশ্চয়ই তোমাদের পালনকর্তা আল্লাহ যিনি তৈরী করেছেন আসমান ও যমীনকে ছয় দিনে, অতঃপর তিনি আরশের উপর অধিষ্ঠিত হয়েছেন। তিনি কার্য পরিচালনা করেন। কেউ সুপারিশ করতে পাবে না তবে তাঁর অনুমতি ছাড়া ইনিই আল্লাহ তোমাদের পালনকর্তা। অতএব, তোমরা তাঁরই এবাদত কর। তোমরা কি কিছুই চিন্তা কর না ?
তাঁর কাছেই ফিরে যেতে হবে তোমাদের সবাইকে, আল্লাহর ওয়াদা সত্য, তিনিই সৃষ্টি করেন প্রথমবার আবার পুনর্বার তৈরী করবেন তাদেরকে বদলা দেয়ার জন্য যারা ঈমান এনেছে এবং নেক কাজ করেছে ইনসাফের সাথে। আর যারা কাফের হয়েছে, তাদের পান করতে হবে ফুটন্ত পানি এবং ভোগ করতে হবে যন্ত্রনাদায়ক আযাব এ জন্যে যে, তারা কুফরী করছিল।
তিনিই সে মহান সত্তা, যিনি বানিয়েছেন সুর্যকে উজ্জল আলোকময়, আর চন্দ্রকে স্নিগ্ধ আলো বিতরণকারীরূপে এবং অতঃপর নির্ধারিত করেছেন এর জন্য মনযিল সমূহ, যাতে করে তোমরা চিনতে পার বছরগুলোর সংখ্যা ও হিসাব। আল্লাহ এই সমস্ত কিছু এমনিতেই সৃষ্টি করেননি, কিন্তু যথার্থতার সাথে। তিনি প্রকাশ করেন লক্ষণসমূহ সে সমস্ত লোকের জন্য যাদের জ্ঞান আছে।
অবশ্যই যেসব লোক আমার সাক্ষাৎ লাভের আশা রাখে না এবং পার্থিব জীবন নিয়েই উৎফুল্ল রয়েছে, তাতেই প্রশান্তি অনুভব করেছে এবং যারা আমার নির্দশনসমূহ সম্পর্কে বেখবর।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।