হুদ · 6/123
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা হুদ
۞ وَمَا مِن دَابَّةٍ فِي الْأَرْضِ إِلَّا عَلَى اللَّهِ رِزْقُهَا وَيَعْلَمُ مُسْتَقَرَّهَا وَمُسْتَوْدَعَهَا ۚ كُلٌّ فِي كِتَابٍ مُّبِينٍ ۝٦
Wa maa min daaabbatin fil ardi illaa `alal laahi rizquhaa wa ya`lamu mustaqarrahaa wa mustawda`ahaa; kullun fee Kitaabim Mubeen
📖 বাংলা অর্থ
আর পৃথিবীতে কোন বিচরণশীল নেই, তবে সবার জীবিকার দায়িত্ব আল্লাহ নিয়েছেন তিনি জানেন তারা কোথায় থাকে এবং কোথায় সমাপিত হয়। সবকিছুই এক সুবিন্যস্ত কিতাবে রয়েছে।

🎧 শুনুন
📜

অনুবাদ — Tafsir

কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দের অর্থ:

  • দাব্বাহ (دَابَّة): যে কোনো প্রাণী যে মাটিতে বিচরণ করে, চলে। এর মধ্যে মানুষ, পশু-পাখি, পোকা-মাকড় সবকিছুই অন্তর্ভুক্ত।
  • মুস্তাকার (مُسْتَقَرَّ): যে স্থানে প্রাণী স্থায়ীভাবে বসবাস করে বা জীবনের শেষ পর্যায়ে অবস্থান করে।
  • মুস্তাওদা' (مُسْتَوْدَع): যে স্থানে প্রাণীকে অস্থায়ীভাবে রাখা হয়, যেমন মায়ের গর্ভ, পিতার পিঠ (বংশপরম্পরায়) অথবা মৃত্যুর পর কবর।
  • কিতাবুম মুবিন (كِتَابٍ مُبِين): সুস্পষ্ট ও প্রকাশ্য কিতাব, যা হলো লাওহে মাহফুজ।

আয়াতের তাফসির:

এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা তাঁর অপরিসীম রহমত ও দয়ালুতা বর্ণনা করেছেন। তিনি ঘোষণা করছেন যে, পৃথিবীর বুকে বিচরণকারী প্রতিটি প্রাণীর—তা সে ক্ষুদ্র পিঁপড়া হোক বা বিশাল হাতি, আকাশে উড়ন্ত পাখি হোক বা সমুদ্রের গভীরে লুকানো মাছ—সবার রিজিকের দায়িত্ব আল্লাহ নিজেই গ্রহণ করেছেন। এটি তাঁর পক্ষ থেকে নিছক অনুগ্রহ, কোনো বাধ্যবাধকতা নয়, বরং তিনি নিজেই নিজের ওপর তা আবশ্যক করেছেন।

আল্লাহ শুধু রিজিকের ব্যবস্থাই করেন না, বরং তিনি প্রতিটি প্রাণীর অবস্থান সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত। তিনি জানেন কোথায় তার স্থায়ী আবাস, কোথায় সে বিশ্রাম নেবে, কোথায় সে মৃত্যুবরণ করবে। তিনি জানেন তার উৎস কোথায়—কোন পিতার পিঠে বা কোন মায়ের গর্ভে সে অবস্থান করছিল। এমনকি মৃত্যুর পর তার কবর কোথায় হবে, তাও তাঁর জানা। এই সমস্ত কিছু—প্রাণীর অস্তিত্ব, তার রিজিক, তার স্থান—সবকিছুই লাওহে মাহফুজ নামক সুস্পষ্ট কিতাবে পূর্বেই লিপিবদ্ধ হয়ে গেছে।

এটি মুমিনের জন্য চরম প্রশান্তির বিষয়। যখন একজন মানুষ জানে যে, তার রিজিক আল্লাহ তাআলার জিম্মায়, তখন সে জীবিকার জন্য অস্থির হয় না, অন্যায় পথে ধাবিত হয় না। সে নিশ্চিত থাকে যে, তাকে যে রিজিক দেওয়া হয়েছে তা কোনো শক্তিই আটকাতে পারবে না, আর যে রিজিক তার জন্য নির্ধারিত নয়, তা সে যতই চেষ্টা করুক না পাবে না।

আল্লাহ তাআলা আমাদের প্রত্যেকের রিজিকের ব্যবস্থা করেছেন, আমাদের অবস্থান জানেন, আমাদের প্রয়োজন বোঝেন। তাহলে আমরা কেন তাঁকে ভয় পাব? কেন আমরা তাঁর ওপর ভরসা করব না? এই আয়াত আমাদের শিক্ষা দেয় যে, জীবিকার চিন্তায় আমরা যেন কখনো হতাশ না হই, বরং আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে তাঁর দেওয়া হালাল পথে চেষ্টা চালিয়ে যাই। কারণ, যে আল্লাহ এত ক্ষুদ্র প্রাণীরও রিজিকের দায়িত্ব নিয়েছেন, তিনি তাঁর বান্দাদের অবশ্যই রিজিক দেবেন। আসুন, আমরা এই প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস স্থাপন করি এবং আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহর ওপর ভরসা করি।



📜 আয়াত 4-8 — সূরা হুদ

4إِلَى اللَّهِ مَرْجِعُكُمْ ۖ وَهُوَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
আল্লাহর সান্নিধ্যেই তোমাদেরকে ফিরে যেতে হবে। আর তিনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান।
5أَلَا إِنَّهُمْ يَثْنُونَ صُدُورَهُمْ لِيَسْتَخْفُوا مِنْهُ ۚ أَلَا حِينَ يَسْتَغْشُونَ ثِيَابَهُمْ يَعْلَمُ مَا يُسِرُّونَ وَمَا يُعْلِنُونَ ۚ إِنَّهُ عَلِيمٌ بِذَاتِ الصُّدُورِ
জেনে রাখ, নিশ্চয়ই তারা নিজেদের বক্ষদেশ ঘুরিয়ে দেয় যেন আল্লাহর নিকট হতে লুকাতে পারে। শুন, তারা তখন কাপড়ে নিজেদেরকে আচ্ছাদিত করে, তিনি তখনও জানেন যা কিছু তারা চুপিসারে বলে আর প্রকাশ্যভাবে বলে। নিশ্চয় তিনি জানেন যা কিছু অন্তর সমূহে নিহিত রয়েছে।
6۞ وَمَا مِن دَابَّةٍ فِي الْأَرْضِ إِلَّا عَلَى اللَّهِ رِزْقُهَا وَيَعْلَمُ مُسْتَقَرَّهَا وَمُسْتَوْدَعَهَا ۚ كُلٌّ فِي كِتَابٍ مُّبِينٍ
আর পৃথিবীতে কোন বিচরণশীল নেই, তবে সবার জীবিকার দায়িত্ব আল্লাহ নিয়েছেন তিনি জানেন তারা কোথায় থাকে এবং কোথায় সমাপিত হয়। সবকিছুই এক সুবিন্যস্ত কিতাবে রয়েছে।
7وَهُوَ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ وَكَانَ عَرْشُهُ عَلَى الْمَاءِ لِيَبْلُوَكُمْ أَيُّكُمْ أَحْسَنُ عَمَلًا ۗ وَلَئِن قُلْتَ إِنَّكُم مَّبْعُوثُونَ مِن بَعْدِ الْمَوْتِ لَيَقُولَنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا إِنْ هَٰذَا إِلَّا سِحْرٌ مُّبِينٌ
তিনিই আসমান ও যমীন ছয় দিনে তৈরী করেছেন, তাঁর আরশ ছিল পানির উপরে, তিনি তোমাদেরকে পরীক্ষা করতে চান যে, তোমাদের মধ্যে কে সবচেয়ে ভাল কাজ করে। আর যদি আপনি তাদেরকে বলেন যে, "নিশ্চয় তোমাদেরকে মৃত্যুর পরে জীবিত ওঠানো হবে, তখন কাফেরেরা অবশ্য বলে এটা তো স্পষ্ট যাদু!";
8وَلَئِنْ أَخَّرْنَا عَنْهُمُ الْعَذَابَ إِلَىٰ أُمَّةٍ مَّعْدُودَةٍ لَّيَقُولُنَّ مَا يَحْبِسُهُ ۗ أَلَا يَوْمَ يَأْتِيهِمْ لَيْسَ مَصْرُوفًا عَنْهُمْ وَحَاقَ بِهِم مَّا كَانُوا بِهِ يَسْتَهْزِئُونَ
আর যদি আমি এক নির্ধারিত মেয়াদ পর্যন্ত তাদের আযাব স্থগিত রাখি, তাহলে তারা নিশ্চয়ই বলবে কোন জিনিসে আযাব ঠেকিয়ে রাখছে? শুনে রাখ, যেদিন তাদের উপর আযাব এসে পড়বে, সেদিন কিন্তু তা ফিরে যাওয়ার নয়; তারা যে ব্যাপারে উপহাস করত তাই তাদেরকে ঘিরে ফেলবে।
হুদকুরআন সূচী
123আয়াত
মাক্কীRevelation
6আয়াত

অনুবাদ — হুদ 6

সূরা হুদ আয়াত 6 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : আর পৃথিবীতে কোন বিচরণশীল নেই, তবে সবার জীবিকার দায়িত্ব আল্লাহ…

সূরা আয়াত 6/123 — সূরা হুদ هود (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা হুদ শুনুন, সূরা হুদ অনুবাদ, সূরা হুদ mp3, সূরা হুদ pdf. আয়াত 4–8. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Monday, September 7, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না