আর-রাদ · 37/43
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আর-রাদ
وَكَذَٰلِكَ أَنزَلْنَاهُ حُكْمًا عَرَبِيًّا ۚ وَلَئِنِ اتَّبَعْتَ أَهْوَاءَهُم بَعْدَمَا جَاءَكَ مِنَ الْعِلْمِ مَا لَكَ مِنَ اللَّهِ مِن وَلِيٍّ وَلَا وَاقٍ ۝٣٧
Wa kazaalika anzalnaahu hukman `Arabiyyaa; wa la`init taba`ta ahwaaa `ahum ba`da maa jaaa`aka minal `ilmi maa laka minal laahi minw waliyinw wa laa waaq
📖 বাংলা অর্থ
এমনিভাবেই আমি এ কোরআনকে আরবী ভাষায় নির্দেশরূপে অবতীর্ণ করেছি। যদি আপনি তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করেন আপনার কাছে জ্ঞান পৌঁছার পর, তবে আল্লাহর কবল থেকে আপনার না কোন সাহায্যকারী আছে এবং না কোন রক্ষাকারী।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • حُكْمًا عَرَبِيًّا – আরবি ভাষায় চূড়ান্ত ফয়সালা/শাসনবিধি।
  • أَهْوَاءَهُم – তাদের (অবিশ্বাসীদের) খেয়াল-খুশি ও মনগড়া আকাঙ্ক্ষা।
  • وَلِيٍّ – সাহায্যকারী, অভিভাবক, রক্ষক।
  • وَاقٍ – রক্ষাকারী, বাধা প্রদানকারী (যে শাস্তি থেকে রক্ষা করে)।

তাফসির (ব্যাখ্যা):

আল্লাহ তাআলা বলেন, যেমনিভাবে আমি পূর্ববর্তী নবীদের প্রতি তাদের নিজ নিজ জাতির ভাষায় কিতাব নাজিল করেছিলাম, ঠিক তেমনিভাবে আমি আপনার প্রতি কুরআন নাজিল করেছি—আরবি ভাষায়, যা একটি পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত বিধান। এটি এমন এক গ্রন্থ যা সত্য ও মিথ্যার মধ্যে স্পষ্ট ফয়সালা করে দেয় এবং মানুষের জীবন পরিচালনার জন্য সম্পূর্ণ আইন প্রদান করে। এর মাধ্যমে আপনি মানুষের মধ্যে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবেন এবং তাদের পার্থিব ও আখিরাতের কল্যাণের পথ দেখাবেন।

এরপর আল্লাহ তাআলা নবী করিম ﷺ-কে সতর্ক করে বলছেন—যদিও তিনি নিষ্পাপ ও সংরক্ষিত, তবুও উম্মতকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য এই ভাষায় সম্বোধন করা হয়েছে—যে, আপনার কাছে সত্য জ্ঞান ও স্পষ্ট প্রমাণ পৌঁছে যাওয়ার পরও যদি আপনি তাদের (মুশরিক ও আহলে কিতাবদের) খেয়াল-খুশির অনুসরণ করেন—যেমন তারা চেয়েছিল কিবলা পরিবর্তন, কিছু বিধান তাদের মনমতো পরিবর্তন বা অন্যান্য আপস—তবে আল্লাহর পক্ষ থেকে আপনার কোনো অভিভাবক থাকবে না যে আপনাকে রক্ষা করবে এবং কোনো রক্ষাকারীও থাকবে না যে আপনাকে আল্লাহর শাস্তি থেকে বাঁচাতে পারবে। অর্থাৎ, সত্য প্রকাশের পর কারো খেয়াল-খুশির অনুসরণ করলে আল্লাহর সাহায্য ও সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হতে হবে।

এখানে মূল কথা হলো—কুরআন একটি চূড়ান্ত ও অপরিবর্তনীয় বিধান। মানুষের মনগড়া আকাঙ্ক্ষার সাথে এর কোনো আপস নেই। সত্য স্পষ্ট হওয়ার পর কারো প্ররোচনা বা চাপে বিচ্যুত হওয়া সম্পূর্ণ ধ্বংসের কারণ।

শিক্ষা ও উপকারিতা:

  1. কুরআন আরবি ভাষায় নাজিলের মধ্যে বড় হিকমত হলো—এটি সংরক্ষিত থাকবে এবং যুগে যুগে মানুষ এর অর্থ বুঝতে পারবে। এটি প্রমাণ করে যে, কুরআন সর্বকালের জন্য একটি চিরন্তন বিধান।
  2. ইসলামে সত্য ও মিথ্যার মধ্যে কোনো আপস নেই। মানুষের খেয়াল-খুশি, সামাজিক চাপ বা পার্থিব স্বার্থের কারণে ধর্মীয় বিধানে পরিবর্তন আনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
  3. আল্লাহর সুরক্ষা ও সাহায্য তখনই পাওয়া যায়, যখন বান্দা সত্যের উপর অটল থাকে। সত্য ত্যাগ করলে আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো রক্ষাকারী নেই।
  4. এই আয়াত আমাদের শেখায়—দ্বীনের ব্যাপারে দৃঢ়তা ও অবিচলতা অপরিহার্য। যেকোনো পরিস্থিতিতে সত্যের পথে অবিচল থাকলে আল্লাহ নিজেই আমাদের রক্ষাকারী হবেন।
  5. নবী ﷺ-কে সম্বোধন করে এই সতর্কবাণী উম্মতের জন্য একটি বড় শিক্ষা—যদি নবীকে এই ভাষায় সতর্ক করা হয়, তবে সাধারণ মুমিনদের তো আরও বেশি সতর্ক থাকা প্রয়োজন।


📜 আয়াত 35-39 — সূরা আর-রাদ

35۞ مَّثَلُ الْجَنَّةِ الَّتِي وُعِدَ الْمُتَّقُونَ ۖ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ ۖ أُكُلُهَا دَائِمٌ وَظِلُّهَا ۚ تِلْكَ عُقْبَى الَّذِينَ اتَّقَوا ۖ وَّعُقْبَى الْكَافِرِينَ النَّارُ
পরহেযগারদের জন্যে প্রতিশ্রুত জান্নাতের অবস্থা এই যে, তার নিম্নে নির্ঝরিণীসমূহ প্রবাহিত হয়। তার ফলসমূহ চিরস্থায়ী এবং ছায়াও। এটা তাদের প্রতিদান, যারা সাবধান হয়েছে এবং কাফেরদের প্রতিফল অগ্নি।
36وَالَّذِينَ آتَيْنَاهُمُ الْكِتَابَ يَفْرَحُونَ بِمَا أُنزِلَ إِلَيْكَ ۖ وَمِنَ الْأَحْزَابِ مَن يُنكِرُ بَعْضَهُ ۚ قُلْ إِنَّمَا أُمِرْتُ أَنْ أَعْبُدَ اللَّهَ وَلَا أُشْرِكَ بِهِ ۚ إِلَيْهِ أَدْعُو وَإِلَيْهِ مَآبِ
এবং যাদেরকে আমি গ্রন্থ দিয়েছি, তারা আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে, তজ্জন্যে আনন্দিত হয় এবং কোন কোন দল এর কোন কোন বিষয় অস্বীকার করে। বলুন, আমাকে এরূপ আদেশই দেয়া হয়েছে যে, আমি আল্লাহর এবাদত করি। এবং তাঁর সাথে অংশীদার না করি। আমি তাঁর দিকেই দাওয়াত দেই এবং তাঁর কাছেই আমার প্রত্যাবর্তন।
37وَكَذَٰلِكَ أَنزَلْنَاهُ حُكْمًا عَرَبِيًّا ۚ وَلَئِنِ اتَّبَعْتَ أَهْوَاءَهُم بَعْدَمَا جَاءَكَ مِنَ الْعِلْمِ مَا لَكَ مِنَ اللَّهِ مِن وَلِيٍّ وَلَا وَاقٍ
এমনিভাবেই আমি এ কোরআনকে আরবী ভাষায় নির্দেশরূপে অবতীর্ণ করেছি। যদি আপনি তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করেন আপনার কাছে জ্ঞান পৌঁছার পর, তবে আল্লাহর কবল থেকে আপনার না কোন সাহায্যকারী আছে এবং না কোন রক্ষাকারী।
38وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا رُسُلًا مِّن قَبْلِكَ وَجَعَلْنَا لَهُمْ أَزْوَاجًا وَذُرِّيَّةً ۚ وَمَا كَانَ لِرَسُولٍ أَن يَأْتِيَ بِآيَةٍ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ ۗ لِكُلِّ أَجَلٍ كِتَابٌ
আপনার পূর্বে আমি অনেক রসূল প্রেরণ করেছি এবং তাঁদেরকে পত্নী ও সন্তান-সন্ততি দিয়েছি। কোন রসূলের এমন সাধ্য ছিল না যে আল্লাহর নির্দেশ ছাড়া কোন নিদর্শন উপস্থিত করে। প্রত্যেকটি ওয়াদা লিখিত আছে।
39يَمْحُو اللَّهُ مَا يَشَاءُ وَيُثْبِتُ ۖ وَعِندَهُ أُمُّ الْكِتَابِ
আল্লাহ যা ইচ্ছা মিটিয়ে দেন এবং বহাল রাখেন এবং মূলগ্রন্থ তাঁর কাছেই রয়েছে।
আর-রাদকুরআন সূচী
43আয়াত
মাদানীঅবতরণস্থান
37আয়াত

অনুবাদ — আর-রাদ 37

সূরা আর-রাদ আয়াত 37 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : এমনিভাবেই আমি এ কোরআনকে আরবী ভাষায় নির্দেশরূপে অবতীর্ণ করেছি। যদি…

সূরা আয়াত 37/43 — সূরা আর-রাদ الرعد (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আর-রাদ শুনুন, সূরা আর-রাদ অনুবাদ, সূরা আর-রাদ mp3, সূরা আর-রাদ pdf. আয়াত 35–39. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Wednesday, September 30, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না