Wa kazaalika anzalnaahu hukman `Arabiyyaa; wa la`init taba`ta ahwaaa `ahum ba`da maa jaaa`aka minal `ilmi maa laka minal laahi minw waliyinw wa laa waaq
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
এমনিভাবেই আমি এ কোরআনকে আরবী ভাষায় নির্দেশরূপে অবতীর্ণ করেছি। যদি আপনি তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করেন আপনার কাছে জ্ঞান পৌঁছার পর, তবে আল্লাহর কবল থেকে আপনার না কোন সাহায্যকারী আছে এবং না কোন রক্ষাকারী।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
और यूँ हमने उस क़ुरान को अरबी (ज़बान) का फरमान नाज़िल फरमाया और (ऐ रसूल) अगर कहीं तुमने इसके बाद को तुम्हारे पास इल्म (क़ुरान) आ चुका उन की नफसियानी ख्वाहिशों की पैरवी कर ली तो (याद रखो कि) फिर ख़ुदा की तरफ से न कोई तुम्हारा सरपरस्त होगा न कोई बचाने वाला
এমনিভাবেই আমি এ কোরআনকে আরবী ভাষায় নির্দেশরূপে অবতীর্ণ করেছি। যদি আপনি তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করেন আপনার কাছে জ্ঞান পৌঁছার পর, তবে আল্লাহর কবল থেকে আপনার না কোন সাহায্যকারী আছে এবং না কোন রক্ষাকারী।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
حُكْمًا عَرَبِيًّا – আরবি ভাষায় চূড়ান্ত ফয়সালা/শাসনবিধি।
أَهْوَاءَهُم – তাদের (অবিশ্বাসীদের) খেয়াল-খুশি ও মনগড়া আকাঙ্ক্ষা।
وَلِيٍّ – সাহায্যকারী, অভিভাবক, রক্ষক।
وَاقٍ – রক্ষাকারী, বাধা প্রদানকারী (যে শাস্তি থেকে রক্ষা করে)।
তাফসির (ব্যাখ্যা):
আল্লাহ তাআলা বলেন, যেমনিভাবে আমি পূর্ববর্তী নবীদের প্রতি তাদের নিজ নিজ জাতির ভাষায় কিতাব নাজিল করেছিলাম, ঠিক তেমনিভাবে আমি আপনার প্রতি কুরআন নাজিল করেছি—আরবি ভাষায়, যা একটি পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত বিধান। এটি এমন এক গ্রন্থ যা সত্য ও মিথ্যার মধ্যে স্পষ্ট ফয়সালা করে দেয় এবং মানুষের জীবন পরিচালনার জন্য সম্পূর্ণ আইন প্রদান করে। এর মাধ্যমে আপনি মানুষের মধ্যে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবেন এবং তাদের পার্থিব ও আখিরাতের কল্যাণের পথ দেখাবেন।
এরপর আল্লাহ তাআলা নবী করিম ﷺ-কে সতর্ক করে বলছেন—যদিও তিনি নিষ্পাপ ও সংরক্ষিত, তবুও উম্মতকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য এই ভাষায় সম্বোধন করা হয়েছে—যে, আপনার কাছে সত্য জ্ঞান ও স্পষ্ট প্রমাণ পৌঁছে যাওয়ার পরও যদি আপনি তাদের (মুশরিক ও আহলে কিতাবদের) খেয়াল-খুশির অনুসরণ করেন—যেমন তারা চেয়েছিল কিবলা পরিবর্তন, কিছু বিধান তাদের মনমতো পরিবর্তন বা অন্যান্য আপস—তবে আল্লাহর পক্ষ থেকে আপনার কোনো অভিভাবক থাকবে না যে আপনাকে রক্ষা করবে এবং কোনো রক্ষাকারীও থাকবে না যে আপনাকে আল্লাহর শাস্তি থেকে বাঁচাতে পারবে। অর্থাৎ, সত্য প্রকাশের পর কারো খেয়াল-খুশির অনুসরণ করলে আল্লাহর সাহায্য ও সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হতে হবে।
এখানে মূল কথা হলো—কুরআন একটি চূড়ান্ত ও অপরিবর্তনীয় বিধান। মানুষের মনগড়া আকাঙ্ক্ষার সাথে এর কোনো আপস নেই। সত্য স্পষ্ট হওয়ার পর কারো প্ররোচনা বা চাপে বিচ্যুত হওয়া সম্পূর্ণ ধ্বংসের কারণ।
শিক্ষা ও উপকারিতা:
কুরআন আরবি ভাষায় নাজিলের মধ্যে বড় হিকমত হলো—এটি সংরক্ষিত থাকবে এবং যুগে যুগে মানুষ এর অর্থ বুঝতে পারবে। এটি প্রমাণ করে যে, কুরআন সর্বকালের জন্য একটি চিরন্তন বিধান।
ইসলামে সত্য ও মিথ্যার মধ্যে কোনো আপস নেই। মানুষের খেয়াল-খুশি, সামাজিক চাপ বা পার্থিব স্বার্থের কারণে ধর্মীয় বিধানে পরিবর্তন আনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
আল্লাহর সুরক্ষা ও সাহায্য তখনই পাওয়া যায়, যখন বান্দা সত্যের উপর অটল থাকে। সত্য ত্যাগ করলে আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো রক্ষাকারী নেই।
এই আয়াত আমাদের শেখায়—দ্বীনের ব্যাপারে দৃঢ়তা ও অবিচলতা অপরিহার্য। যেকোনো পরিস্থিতিতে সত্যের পথে অবিচল থাকলে আল্লাহ নিজেই আমাদের রক্ষাকারী হবেন।
নবী ﷺ-কে সম্বোধন করে এই সতর্কবাণী উম্মতের জন্য একটি বড় শিক্ষা—যদি নবীকে এই ভাষায় সতর্ক করা হয়, তবে সাধারণ মুমিনদের তো আরও বেশি সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
পরহেযগারদের জন্যে প্রতিশ্রুত জান্নাতের অবস্থা এই যে, তার নিম্নে নির্ঝরিণীসমূহ প্রবাহিত হয়। তার ফলসমূহ চিরস্থায়ী এবং ছায়াও। এটা তাদের প্রতিদান, যারা সাবধান হয়েছে এবং কাফেরদের প্রতিফল অগ্নি।
এবং যাদেরকে আমি গ্রন্থ দিয়েছি, তারা আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে, তজ্জন্যে আনন্দিত হয় এবং কোন কোন দল এর কোন কোন বিষয় অস্বীকার করে। বলুন, আমাকে এরূপ আদেশই দেয়া হয়েছে যে, আমি আল্লাহর এবাদত করি। এবং তাঁর সাথে অংশীদার না করি। আমি তাঁর দিকেই দাওয়াত দেই এবং তাঁর কাছেই আমার প্রত্যাবর্তন।
এমনিভাবেই আমি এ কোরআনকে আরবী ভাষায় নির্দেশরূপে অবতীর্ণ করেছি। যদি আপনি তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করেন আপনার কাছে জ্ঞান পৌঁছার পর, তবে আল্লাহর কবল থেকে আপনার না কোন সাহায্যকারী আছে এবং না কোন রক্ষাকারী।
আপনার পূর্বে আমি অনেক রসূল প্রেরণ করেছি এবং তাঁদেরকে পত্নী ও সন্তান-সন্ততি দিয়েছি। কোন রসূলের এমন সাধ্য ছিল না যে আল্লাহর নির্দেশ ছাড়া কোন নিদর্শন উপস্থিত করে। প্রত্যেকটি ওয়াদা লিখিত আছে।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।