অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
- أَزْوَاجًا = স্ত্রীগণ (বিবাহিত জীবনসঙ্গী)
- ذُرِّيَّةً = সন্তান-সন্ততি
- آيَةً = নিদর্শন বা মু'জিযা
- أَجَلٍ = নির্ধারিত সময় বা মেয়াদ
- كِتَابٌ = লিখিত বিধান বা নির্ধারিত ফয়সালা
তাফসীর:
হে নবী! মুশরিকরা যখন আপনার বিবাহ ও সন্তান-সন্ততি থাকায় আপত্তি তুলেছিল এবং বলেছিল, “আপনি তো সাধারণ মানুষের মতোই বিবাহ করেন এবং সন্তান রাখেন, তাহলে আপনি কীভাবে রাসূল হলেন?” — তখন তাদের এই আপত্তির জবাবে আল্লাহ তা'আলা বলছেন: আমি আপনার আগেও অনেক রাসূল প্রেরণ করেছি, যাঁরা সবাই মানুষ ছিলেন এবং তাঁদেরও আমি স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততি দিয়েছিলাম। তাঁরা কেউই ফেরেশতা ছিলেন না যে বিবাহ করবেন না বা সন্তান হবেন না। বরং তাঁরা সাধারণ মানুষের মতোই জীবনযাপন করেছেন, বিবাহ করেছেন এবং সন্তান রেখেছেন। সুতরাং আপনার বিবাহ ও সন্তান থাকা আপনার রিসালাতের বিপরীত কিছু নয়, বরং এটি পূর্ববর্তী রাসূলদের সুন্নাতেরই অনুসরণ।
আর তারা যদি বলে, “আপনি যদি সত্যিই রাসূল হন, তবে আমাদের চাওয়া অনুযায়ী কোনো বিশেষ মু'জিযা নিয়ে আসুন” — তবে জেনে রাখুন, কোনো রাসূলের নিজের ইচ্ছায় মু'জিযা আনার ক্ষমতা নেই। আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কোনো রাসূলই কোনো নিদর্শন বা মু'জিযা উপস্থাপন করতে পারেন না। মু'জিযা আনা সম্পূর্ণ আল্লাহর ইচ্ছা ও এখতিয়ারের বিষয়। তিনি যখন চান এবং যেভাবে চান, তবেই তা প্রকাশ করেন।
আর প্রতিটি বিষয়ের জন্য আল্লাহর কাছে একটি নির্ধারিত সময় ও লিখিত বিধান রয়েছে। প্রতিটি ঘটনা, প্রতিটি ফয়সালা এবং প্রতিটি মু'জিযার একটি নির্দিষ্ট সময় আছে, যা আল্লাহর জ্ঞানে লিপিবদ্ধ। তা নির্ধারিত সময়ের আগে ঘটবে না এবং পরে হবে না। সুতরাং মুশরিকরা যে সময়ে মু'জিযা চেয়েছিল, আল্লাহর হিকমত অনুযায়ী সেই সময়ে তা প্রকাশ করা প্রয়োজন ছিল না।
শিক্ষা ও উপকারিতা:
- নবী-রাসূলগণ সকলেই মানুষ ছিলেন এবং তাঁদের স্বাভাবিক মানবিক প্রয়োজন ও জীবনধারা ছিল। এটি তাদের মর্যাদা কমায় না, বরং মানুষের জন্য তাদের অনুসরণকে সহজ করে দেয়।
- বিবাহ ও সন্তান-সন্ততি রাখা একটি মহান সুন্নাত এবং নবীগণের পথ। এটি দুনিয়ার কোনো দোষ বা ত্রুটি নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ ও বরকতময় জীবনধারা।
- মু'জিযা বা অলৌকিক ঘটনা আল্লাহর ইচ্ছার অধীন, কোনো নবীর নিজস্ব ক্ষমতা নয়। তাই আমাদের উচিত আল্লাহর উপর পূর্ণ ভরসা রাখা এবং তাঁর সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট থাকা।
- প্রতিটি বিষয়ের একটি নির্ধারিত সময় রয়েছে। ধৈর্য ধরা এবং আল্লাহর সময়ের অপেক্ষা করা মুমিনের বৈশিষ্ট্য। আল্লাহ যা কিছু করেন, তা তাঁর অসীম জ্ঞান ও হিকমতের ভিত্তিতে করেন।
- এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, মানুষের সমালোচনা বা আপত্তি যতই আসুক না কেন, সত্যের পথে অবিচল থাকতে হবে এবং আল্লাহর বিধানকে প্রাধান্য দিতে হবে।
📜 আয়াত 36-40 — আর-রাদ
অনুবাদ — আর-রাদ 38
সূরা আর-রাদ আয়াত 38 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : আপনার পূর্বে আমি অনেক রসূল প্রেরণ করেছি এবং তাঁদেরকে পত্নী…সূরা আয়াত 38/43 — আর-রাদ الرعد (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আর-রাদ শুনুন, আর-রাদ অনুবাদ, আর-রাদ mp3, আর-রাদ pdf. আয়াত 36–40. বাংলা অর্থ: हिन्दी.
পবিত্র কুরআন
Tuesday, August 18, 2026
আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না








