Wa maaa arsalnaa mir Rasoolin illaa bilisaani qawmihee liyubaiyina lahum faiudillul laahu mai yashaaa`u wa yahde mai yashaaa`; wa Huwal `Azeezul Hakeem
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
আমি সব পয়গম্বরকেই তাদের স্বজাতির ভাষাভাষী করেই প্রেরণ করেছি, যাতে তাদেরকে পরিষ্কার বোঝাতে পারে। অতঃপর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা, পথঃভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা সৎপথ প্রদর্শন করেন। তিনি পরাক্রান্ত, প্রজ্ঞাময়।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
और हमने जब कभी कोई पैग़म्बर भेजा तो उसकी क़ौम की ज़बान में बातें करता हुआ (ताकि उसके सामने (हमारे एहक़ाम) बयान कर सके तो यही ख़ुदा जिसे चाहता है गुमराही में छोड़ देता है और जिस की चाहता है हिदायत करता है वही सब पर ग़ालिब हिकमत वाला है
আমি সব পয়গম্বরকেই তাদের স্বজাতির ভাষাভাষী করেই প্রেরণ করেছি, যাতে তাদেরকে পরিষ্কার বোঝাতে পারে। অতঃপর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা, পথঃভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা সৎপথ প্রদর্শন করেন। তিনি পরাক্রান্ত, প্রজ্ঞাময়।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
لِسَانِ قَوْمِهِ — তার সম্প্রদায়ের ভাষা।
لِيُبَيِّنَ لَهُمْ — তাদের কাছে স্পষ্টভাবে বোঝানোর জন্য।
فَيُضِلُّ اللهُ — আল্লাহ পথভ্রষ্ট করেন।
يَهْدِي — পথপ্রদর্শন করেন।
الْعَزِيزُ — পরাক্রমশালী, যাঁকে কেউ পরাস্ত করতে পারে না।
الْحَكِيمُ — প্রজ্ঞাময়, যিনি সব কাজ প্রজ্ঞার সাথে করেন।
তাফসীর:
হে নবী! আমরা আপনার পূর্বে যে সমস্ত রাসূল প্রেরণ করেছি, তাদের প্রত্যেককেই তার নিজ সম্প্রদায়ের ভাষায় প্রেরণ করেছি, যাতে তিনি তাদের কাছে আল্লাহর নির্দেশ ও শরীয়তের বিধান স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেন এবং তাদের উপর দলীল-প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়। রাসূলের দায়িত্ব শুধু স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেওয়া; তিনি কাউকে জোর করে ঈমান আনার জন্য বাধ্য করেন না। এরপর আল্লাহ নিজ ইচ্ছা অনুযায়ী যাকে চান — তার ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে — হিদায়াতের পথ থেকে বিচ্যুত রাখেন, আর যাকে চান — তার অনুগ্রহে — সত্যের পথে পরিচালিত করেন। আল্লাহ পরাক্রমশালী, তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে কেউ দাঁড়াতে পারে না, আর তিনি প্রজ্ঞাময় — তাঁর পথভ্রষ্ট করা বা পথপ্রদর্শন করা সবই গভীর হিকমত ও প্রজ্ঞার ভিত্তিতে হয়, নিছক অযথা নয়।
শিক্ষা ও উপকারিতা:
প্রতিটি জাতির কাছে তাদের নিজ ভাষায় দাওয়াত পৌঁছে দেওয়া আল্লাহর সুন্নাত (রীতি), তাই দ্বীনের দাওয়াত মানুষের বোধগম্য ভাষায় ও সহজ পদ্ধতিতে পৌঁছানো উচিত।
রাসূলদের দায়িত্ব শুধু দ্বীন স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেওয়া, মানুষকে জোর করে মুসলমান বানানো নয় — এটি ইসলামের সহনশীলতা ও মানবতার প্রতি সম্মানের প্রমাণ।
হিদায়াত ও গোমরাহি সম্পূর্ণ আল্লাহর হাতে; তাই আমাদের উচিত আল্লাহর কাছে হিদায়াত চাওয়া এবং নিজের প্রচেষ্টার পাশাপাশি তাঁর উপর ভরসা রাখা।
আল্লাহর প্রতিটি কাজ প্রজ্ঞাময়; তিনি কাউকে পথভ্রষ্ট করেন না বা কাউকে হিদায়াত দেন না অযথা, বরং প্রতিটি সিদ্ধান্তের পেছনে গভীর হিকমত রয়েছে — এতে মুমিনের অন্তর প্রশান্ত হয়।
এই আয়াত প্রমাণ করে যে, ইসলাম একটি সার্বজনীন দ্বীন, যা প্রতিটি জাতির ভাষা ও সংস্কৃতিকে সম্মান করে এবং মানুষের কাছে তাদের নিজ নিজ ভাষায় দ্বীনের বাণী পৌঁছানোর গুরুত্ব দেয়।
আমি সব পয়গম্বরকেই তাদের স্বজাতির ভাষাভাষী করেই প্রেরণ করেছি, যাতে তাদেরকে পরিষ্কার বোঝাতে পারে। অতঃপর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা, পথঃভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা সৎপথ প্রদর্শন করেন। তিনি পরাক্রান্ত, প্রজ্ঞাময়।
আমি মূসাকে নিদর্শনাবলী সহ প্রেরণ করেছিলাম যে, স্বজাতিকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে আনয়ন এবং তাদেরকে আল্লাহর দিনসমূহ স্মরণ করান। নিশ্চয় এতে প্রত্যেক ধৈর্যশীল কৃতজ্ঞের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে।
যখন মূসা স্বজাতিকে বললেনঃ তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ স্মরণ কর যখন তিনি তোমাদেরকে ফেরাউনের সম্প্রদায়ের কবল থেকে মুক্তি দেন। তারা তোমাদেরকে অত্যন্ত নিকৃষ্ট ধরনের শাস্তি দিত, তোমাদের ছেলেদেরকে হত্যা করত এবং তোমাদের মেয়েদেরকে জীবিত রাখত। এবং এতে তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে বিরাট পরীক্ষা হয়েছিল।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।