Mishary Rashid Alafasy
✓
Mahmoud Khalil Al-Husary
✓
Abdurrahman As-Sudais
✓
Mohamed Siddiq Al-Minshawi
✓
Abdul Basit Abdul Samad
✓
Ali Al-Hudhaify
✓
Ahmed ibn Ali al-Ajamy
✓
Abu Bakr Ash-Shaatree
✓
Muhammad Ayyoub
✓
Abdullah Basfar
✓
Abdullah Al-Juhani
✓
Maher Al Muaiqly
✓
অনুবাদ — Tafsir
কয়েকটি শব্দের অর্থ:
- وَدَّ (ওয়াদ্দা) - কামনা করা, ইচ্ছা করা
- حَسَدًا (হাসাদান) - হিংসা-বিদ্বেষের কারণে
- فَاعْفُوا (ফা'ফু) - ক্ষমা করে দাও
- وَاصْفَحُوا (ওয়াসফাহু) - উপেক্ষা করো, মার্জনা দেখাও
- تَبَيَّنَ (তাবাইয়ানা) - স্পষ্ট হয়ে গেছে, প্রকাশ হয়ে গেছে
তাফসীর:
এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা মুমিনদেরকে আহলে কিতাবদের (ইয়াহুদী ও নাসারাদের) একটি গভীর ষড়যন্ত্র ও কুমন্ত্রণার কথা জানিয়ে দিচ্ছেন। তারা দৃঢ়ভাবে কামনা করে যে, তোমরা ঈমান আনার পর আবার কুফরীর দিকে ফিরে যাও এবং পূর্বের মতো মূর্তিপূজা শুরু করো। কিন্তু কেন এমন কামনা? এর কারণ তাদের অন্তরে জ্বলন্ত হিংসা-বিদ্বেষ। তারা জানে যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রকৃতই আল্লাহর রাসূল এবং তার আনা দ্বীনই সত্য। তাদের নিজেদের কিতাব তাওরাত-ইঞ্জিলেও এর সত্যতার প্রমাণ রয়েছে। তবুও হিংসার আগুন তাদের অন্তরে এতটাই প্রজ্বলিত যে, সত্য স্পষ্ট হওয়ার পরও তারা তা মেনে নিতে পারছে না এবং মুমিনদেরকে পথভ্রষ্ট করার চেষ্টা করছে।
এখানে আল্লাহ তাআলা মুমিনদের জন্য অত্যন্ত সুন্দর একটি নির্দেশ দিয়েছেন—তোমরা তাদের এই আচরণের প্রতি ক্ষমা প্রদর্শন করো এবং তাদের অজ্ঞতা ও মন্দ আচরণ উপেক্ষা করো। তবে এই ক্ষমা ও উপেক্ষা চিরস্থায়ী নয়; বরং এটি একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত, যতক্ষণ না আল্লাহ নিজের ফয়সালা নিয়ে আসেন। আর আল্লাহর সেই ফয়সালাই এসেছে—তাদের বিরুদ্ধে জিহাদের আদেশ, যার ফলে বনী কুরাইযা ও বনী নাযীরের মতো গোত্রদের শাস্তি দেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তীতে ইসলামের বিস্তারের মাধ্যমে তাদের ষড়যন্ত্রের মূলোৎপাটন হয়েছে।
আয়াতের শেষে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করছেন—নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান। তিনি চাইলে যেকোনো সময় তাদেরকে শাস্তি দিতে পারেন, কিন্তু তাঁর হিকমতের কারণে তিনি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অবকাশ দেন। এটি মুমিনদের জন্য একদিকে যেমন ধৈর্য ও সহনশীলতার শিক্ষা, অন্যদিকে আত্মবিশ্বাস যে, আল্লাহর সাহায্য অবশ্যই আসবে এবং সত্যের জয় হবে।
এই আয়াত থেকে আমরা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পাই:
প্রথমত: সত্যের পথে থাকলে শত্রুদের হিংসা-বিদ্বেষ বাড়তে থাকে। এটি একটি স্বাভাবিক পরীক্ষা যা আল্লাহ মুমিনদের জন্য নির্ধারণ করেছেন।
দ্বিতীয়ত: ক্ষমা ও সহনশীলতা ইসলামের একটি মৌলিক গুণ। এমনকি শত্রুদের প্রতিও যতক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহর পক্ষ থেকে স্পষ্ট নির্দেশ না আসে, ততক্ষণ ধৈর্য ও সহনশীলতা দেখানো উচিত।
তৃতীয়ত: আল্লাহর ফয়সালা অবশ্যই আসবে। মুমিনদের উচিত ধৈর্য ধারণ করা এবং নিশ্চিত থাকা যে, আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় আসবেই। তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান, তাঁর কোনো কিছুই অসম্ভব নয়।
চতুর্থত: এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, শত্রুর ষড়যন্ত্র যতই ভয়ংকর হোক না কেন, আল্লাহর উপর ভরসা রাখলে এবং তাঁর নির্দেশ মেনে চললে সাফল্য অবশ্যম্ভাবী। আল্লাহর শক্তি ও ক্ষমতার সামনে শত্রুদের সকল ষড়যন্ত্র নিষ্ফল হয়ে যায়।
আজকের যুগেও আমরা দেখি, ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র চলছে। কিন্তু আল্লাহর এই ওয়াদা আমাদের জন্য সান্ত্বনা—তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান, এবং তাঁর সাহায্য অবশ্যই আসবে, ইনশাআল্লাহ।
📜 আয়াত 107-111 — সূরা আল-বাকারা
অনুবাদ — আল-বাকারা 109
সূরা আল-বাকারা আয়াত 109 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : আহলে কিতাবদের অনেকেই প্রতিহিংসাবশতঃ চায় যে, মুসলমান হওয়ার পর তোমাদেরকে…সূরা আয়াত 109/286 — সূরা আল-বাকারা البقرة (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আল-বাকারা শুনুন, সূরা আল-বাকারা অনুবাদ, সূরা আল-বাকারা mp3, সূরা আল-বাকারা pdf. আয়াত 107–111. বাংলা অর্থ: हिन्दी.
সূরা আল-বাকারা
পবিত্র কুরআন
Monday, September 28, 2026
আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না


