আল-বাকারা · 134/286
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আল-বাকারা
تِلْكَ أُمَّةٌ قَدْ خَلَتْ ۖ لَهَا مَا كَسَبَتْ وَلَكُم مَّا كَسَبْتُمْ ۖ وَلَا تُسْأَلُونَ عَمَّا كَانُوا يَعْمَلُونَ ۝١٣٤
Tilka ummatun qad khalat lahaa maa kasabat wa lakum maa kasabtum wa laa tus`aloona `ammaa kaano ya`maloon
📖 বাংলা অর্থ
আমরা সবাই তাঁর আজ্ঞাবহ। তারা ছিল এক সম্প্রদায়-যারা গত হয়ে গেছে। তারা যা করেছে, তা তাদেরই জন্যে। তারা কি করত, সে সম্পর্কে তোমরা জিজ্ঞাসিত হবে না।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • তিলকা = সেই (সম্প্রদায় বা দল)
  • উম্মাতুন = একটি জাতি বা দল
  • খালাত = অতীত হয়ে গেছে, চলে গেছে
  • কাসাবাত = সে অর্জন করেছে (কর্মের ফল)
  • কাসাবতুম = তোমরা অর্জন করছ
  • লা তুসআলূন = তোমাদের জিজ্ঞাসা করা হবে না

তাফসীর:

এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মতকে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দিচ্ছেন। পূর্ববর্তী উম্মতদের সম্পর্কে আলোচনা প্রসঙ্গে বলা হচ্ছে— যারা পূর্বে গত হয়ে গেছে, তারা নিজেদের কর্মের জন্য দায়ী ছিল। তাদের যা কিছু তারা অর্জন করেছে (সৎ বা অসৎ কর্ম), তার ফল তারা পেয়েছে বা পাবে। আর তোমাদের জন্য রয়েছে তোমাদের নিজেদের কর্ম। তোমাদেরকে তাদের কর্ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে না, আর তাদেরকেও তোমাদের কর্ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে না।

অর্থাৎ, প্রত্যেক ব্যক্তি নিজ নিজ কর্মের জন্য দায়ী। কেউ কারো পাপের বোঝা বহন করবে না। পূর্ববর্তী জাতিদের গৌরব বা তাদের ভুল-ত্রুটি কারো জন্য দায়বদ্ধতা তৈরি করে না। প্রত্যেকের ভাগ্য নির্ধারিত হবে তার নিজের কর্ম দ্বারা। তাই পূর্বপুরুষদের কথা ভেবে অহংকার করা বা তাদের কর্মের কারণে কাউকে দোষারোপ করা— কোনটিই সঠিক নয়। বরং প্রত্যেকের উচিত নিজের কর্মের দিকে নজর দেওয়া।

শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. ব্যক্তিগত দায়িত্ব: ইসলামে প্রত্যেক মানুষ তার নিজের কর্মের জন্য দায়ী। কারো পাপ বা পুণ্য অন্যের উপর চাপিয়ে দেওয়া যায় না। এটি একটি ন্যায়নিষ্ঠ ও সুন্দর ব্যবস্থা।
  2. পূর্বপুরুষের অন্ধ অনুকরণ পরিহার: অনেক সময় মানুষ পূর্বপুরুষদের অন্ধ অনুকরণ করে ভুল পথে চলে যায়। এই আয়াত স্পষ্ট করে দেয় যে, পূর্বপুরুষদের কর্ম আমাদের জন্য দলিল নয়। আমাদের নিজেদের বিবেক ও শরিয়তের আলোকে সঠিক পথ বেছে নিতে হবে।
  3. আশার বার্তা: যে কেউ চাইলে তার ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারে। অতীতের ভুল বা পূর্বপুরুষের অবস্থা যাই হোক না কেন, বর্তমান থেকে সঠিক পথে চললে সাফল্য অর্জন সম্ভব।
  4. ন্যায়বিচারের নীতি: এই আয়াত আল্লাহর ন্যায়বিচারের পরিচয় বহন করে। কাউকে অন্যের অপরাধের জন্য শাস্তি দেওয়া হবে না। এটি একটি সুবিচারপূর্ণ ব্যবস্থা, যা মানবজাতির জন্য প্রশান্তিদায়ক।
  5. আমলই আসল: মানুষের মর্যাদা তার বংশ, গোত্র বা পূর্বপুরুষের কারণে নয়, বরং তার নিজের ঈমান ও আমলের কারণে। তাই আমাদের উচিত নিজের আমলকে সুন্দর করা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করা।


📜 আয়াত 132-136 — সূরা আল-বাকারা

132وَوَصَّىٰ بِهَا إِبْرَاهِيمُ بَنِيهِ وَيَعْقُوبُ يَا بَنِيَّ إِنَّ اللَّهَ اصْطَفَىٰ لَكُمُ الدِّينَ فَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنتُم مُّسْلِمُونَ
এরই ওছিয়ত করেছে ইব্রাহীম তার সন্তানদের এবং ইয়াকুবও যে, হে আমার সন্তানগণ, নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের জন্য এ ধর্মকে মনোনীত করেছেন। কাজেই তোমরা মুসলমান না হয়ে কখনও মৃত্যুবরণ করো না।
133أَمْ كُنتُمْ شُهَدَاءَ إِذْ حَضَرَ يَعْقُوبَ الْمَوْتُ إِذْ قَالَ لِبَنِيهِ مَا تَعْبُدُونَ مِن بَعْدِي قَالُوا نَعْبُدُ إِلَٰهَكَ وَإِلَٰهَ آبَائِكَ إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَاقَ إِلَٰهًا وَاحِدًا وَنَحْنُ لَهُ مُسْلِمُونَ
তোমরা কি উপস্থিত ছিলে, যখন ইয়াকুবের মৃত্যু নিকটবর্তী হয়? যখন সে সন্তানদের বললঃ আমার পর তোমরা কার এবাদত করবে? তারা বললো, আমরা তোমার পিতৃ-পুরুষ ইব্রাহীম, ইসমাঈল ও ইসহাকের উপাস্যের এবাদত করব। তিনি একক উপাস্য।
134تِلْكَ أُمَّةٌ قَدْ خَلَتْ ۖ لَهَا مَا كَسَبَتْ وَلَكُم مَّا كَسَبْتُمْ ۖ وَلَا تُسْأَلُونَ عَمَّا كَانُوا يَعْمَلُونَ
আমরা সবাই তাঁর আজ্ঞাবহ। তারা ছিল এক সম্প্রদায়-যারা গত হয়ে গেছে। তারা যা করেছে, তা তাদেরই জন্যে। তারা কি করত, সে সম্পর্কে তোমরা জিজ্ঞাসিত হবে না।
135وَقَالُوا كُونُوا هُودًا أَوْ نَصَارَىٰ تَهْتَدُوا ۗ قُلْ بَلْ مِلَّةَ إِبْرَاهِيمَ حَنِيفًا ۖ وَمَا كَانَ مِنَ الْمُشْرِكِينَ
তারা বলে, তোমরা ইহুদী অথবা খ্রীষ্টান হয়ে যাও, তবেই সুপথ পাবে। আপনি বলুন, কখনই নয়; বরং আমরা ইব্রাহীমের ধর্মে আছি যাতে বক্রতা নেই। সে মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিল না।
136قُولُوا آمَنَّا بِاللَّهِ وَمَا أُنزِلَ إِلَيْنَا وَمَا أُنزِلَ إِلَىٰ إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَاقَ وَيَعْقُوبَ وَالْأَسْبَاطِ وَمَا أُوتِيَ مُوسَىٰ وَعِيسَىٰ وَمَا أُوتِيَ النَّبِيُّونَ مِن رَّبِّهِمْ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِّنْهُمْ وَنَحْنُ لَهُ مُسْلِمُونَ
তোমরা বল, আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহর উপর এবং যা অবতীর্ণ হয়েছে আমাদের প্রতি এবং যা অবতীর্ণ হয়েছে ইব্রাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকুব এবং তদীয় বংশধরের প্রতি এবং মূসা, ঈসা, অন্যান্য নবীকে পালনকর্তার পক্ষ থেকে যা দান করা হয়েছে, তৎসমুদয়ের উপর। আমরা তাদের মধ্যে পার্থক্য করি না। আমরা তাঁরই আনুগত্যকারী।
আল-বাকারাকুরআন সূচী
286আয়াত
মাদানীঅবতরণস্থান
134আয়াত

অনুবাদ — আল-বাকারা 134

সূরা আল-বাকারা আয়াত 134 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : আমরা সবাই তাঁর আজ্ঞাবহ। তারা ছিল এক সম্প্রদায়-যারা গত হয়ে…

সূরা আয়াত 134/286 — সূরা আল-বাকারা البقرة (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আল-বাকারা শুনুন, সূরা আল-বাকারা অনুবাদ, সূরা আল-বাকারা mp3, সূরা আল-বাকারা pdf. আয়াত 132–136. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Tuesday, September 29, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না