Inna fee khalqis samaawaati wal ardi wakhtilaafil laili wannahaari walfulkil latee tajree fil hahri bimaa yanfa`unnaasa wa maaa anzalal laahu minas samaaa`i mim maaa`in fa ahyaa bihil arda ba`da mawtihaa wa bas sa feehaa min kulli daaabbatinw wa tasreefir riyaahi wassahaabil musakhkhari bainas samaaa`i wal ardi la aayaatil liqawminy ya`qiloon
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
নিশ্চয়ই আসমান ও যমীনের সৃষ্টিতে, রাত ও দিনের বিবর্তনে এবং নদীতে নৌকাসমূহের চলাচলে মানুষের জন্য কল্যাণ রয়েছে। আর আল্লাহ তা’ আলা আকাশ থেকে যে পানি নাযিল করেছেন, তদ্দ্বারা মৃত যমীনকে সজীব করে তুলেছেন এবং তাতে ছড়িয়ে দিয়েছেন সবরকম জীব-জন্তু। আর আবহাওয়া পরিবর্তনে এবং মেঘমালার যা তাঁরই হুকুমের অধীনে আসমান ও যমীনের মাঝে বিচরণ করে, নিশ্চয়ই সে সমস্ত বিষয়ের মাঝে নিদর্শন রয়েছে বুদ্ধিমান সম্প্রদায়ের জন্যে।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
बेशक आसमान व ज़मीन की पैदाइश और रात दिन के रद्दो बदल में और क़श्तियों जहाज़ों में जो लोगों के नफे क़ी चीज़े (माले तिजारत वगैरह दरिया) में ले कर चलते हैं और पानी में जो ख़ुदा ने आसमान से बरसाया फिर उस से ज़मीन को मुर्दा (बेकार) होने के बाद जिला दिया (शादाब कर दिया) और उस में हर क़िस्म के जानवर फैला दिये और हवाओं के चलाने में और अब्र में जो आसमान व ज़मीन के दरमियान ख़ुदा के हुक्म से घिरा रहता है (इन सब बातों में) अक्ल वालों के लिए बड़ी बड़ी निशानियाँ हैं
নিশ্চয়ই আসমান ও যমীনের সৃষ্টিতে, রাত ও দিনের বিবর্তনে এবং নদীতে নৌকাসমূহের চলাচলে মানুষের জন্য কল্যাণ রয়েছে। আর আল্লাহ তা’ আলা আকাশ থেকে যে পানি নাযিল করেছেন, তদ্দ্বারা মৃত যমীনকে সজীব করে তুলেছেন এবং তাতে ছড়িয়ে দিয়েছেন সবরকম জীব-জন্তু। আর আবহাওয়া পরিবর্তনে এবং মেঘমালার যা তাঁরই হুকুমের অধীনে আসমান ও যমীনের মাঝে বিচরণ করে, নিশ্চয়ই সে সমস্ত বিষয়ের মাঝে নিদর্শন রয়েছে বুদ্ধিমান সম্প্রদায়ের জন্যে।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
فُلْك – জাহাজসমূহ।
بَثَّ – ছড়িয়ে দিয়েছেন, বিস্তার করেছেন।
دَابَّة – যেকোনো প্রাণী যা মাটিতে চলাফেরা করে।
تَصْرِيفِ الرِّيَاحِ – বায়ুকে বিভিন্ন দিক থেকে বিভিন্নভাবে পরিচালনা করা (যেমন: দক্ষিণ, উত্তর, গরম, ঠান্ডা, প্রবল ও মৃদু)।
مُسَخَّرٍ – অনুগত ও আজ্ঞাধীন, যা আল্লাহর আদেশে চলছে।
তাফসীর:
নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলার একত্ব ও পরিপূর্ণ ক্ষমতার উপর অসংখ্য প্রমাণ রয়েছে তাঁর সৃষ্টির মধ্যে। তিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন—আকাশের সুউচ্চতা ও বিস্তৃতি এবং পৃথিবীর পর্বত, সমতল ভূমি ও সমুদ্রসহ। রাত ও দিনের পরিবর্তন—একটি অন্ধকার নিয়ে আসে, অন্যটি আলো নিয়ে আসে; কখনো দিন দীর্ঘ হয়, রাত ছোট হয়, আবার কখনো এর বিপরীত হয়—এ সবই তাঁর ইঙ্গিত বহন করে। আরও রয়েছে সেই জাহাজসমূহ যা সমুদ্রে চলাচল করে মানুষের প্রয়োজনীয় পণ্য, খাদ্য ও ব্যবসায়িক মালামাল বহন করে, অথচ পানির উপর ভাসমান থাকে এবং ডুবে যায় না। আল্লাহ আকাশ থেকে বৃষ্টির পানি বর্ষণ করেন, যার মাধ্যমে মৃত ও শুষ্ক পৃথিবীকে সজীব করেন এবং তাতে নানা ধরনের উদ্ভিদ জন্মায়। এরপর তিনি পৃথিবীতে ছড়িয়ে দেন অসংখ্য প্রাণী—স্থলচর, জলচর ও উড়ন্ত প্রাণী। আরও রয়েছে বায়ুর পরিবর্তন—কখনো তা গরম, কখনো ঠান্ডা, কখনো প্রবল, কখনো মৃদু—এবং মেঘমালা যা আল্লাহর আদেশে আকাশ ও পৃথিবীর মাঝে চলাচল করে এবং যেখানে ইচ্ছা বৃষ্টি বর্ষণ করে। এসবের প্রতিটিই আল্লাহর একত্ব, তাঁর জ্ঞান ও ক্ষমতার স্পষ্ট নিদর্শন—কিন্তু শুধুমাত্র সেইসব লোকদের জন্য যারা বুদ্ধি দিয়ে চিন্তা করে, উপলব্ধি করে এবং এসব প্রমাণ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে।
উপকারিতা ও শিক্ষা:
মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তু—আকাশ, পৃথিবী, রাত-দিন, সমুদ্র, বায়ু, মেঘ—সবকিছু আল্লাহর ক্ষমতা ও একত্বের সাক্ষ্য দেয়। তাই একজন মুমিনের উচিত এসব সৃষ্টির প্রতি গভীর দৃষ্টি দেওয়া এবং চিন্তা করা।
প্রকৃতির এই নিয়মগুলো আল্লাহর রহমত ও দয়ার প্রকাশ। তিনি মানুষের কল্যাণের জন্যই এসব সৃষ্টি করেছেন—জাহাজে চলাচল, বৃষ্টিতে ফসল, বায়ুতে জীবন—সুতরাং আমাদের উচিত আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়া।
কুরআন মানুষকে চিন্তা-গবেষণার আহ্বান জানায়; যে ব্যক্তি বুদ্ধি দিয়ে চিন্তা করে, সে-ই প্রকৃত জ্ঞানী এবং আল্লাহকে চিনতে পারে।
এই আয়াত প্রমাণ করে যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই; কারণ এসব সৃষ্টি কেবল তাঁরই পক্ষ থেকে সম্ভব। তাই আমাদের উচিত একমাত্র তাঁরই ইবাদত করা এবং তাঁর নির্দেশ মেনে চলা।
পৃথিবীর মৃত্যুর পর পুনর্জীবন দেওয়া আল্লাহর পক্ষে সহজ—যেভাবে তিনি শুষ্ক ভূমিকে বৃষ্টির মাধ্যমে সজীব করেন, তেমনি তিনি মৃত্যুর পর মানুষকে পুনরুত্থিত করবেন। এটি আমাদের আখিরাতের প্রতি বিশ্বাস ও প্রস্তুতির শিক্ষা দেয়।
নিশ্চয়ই আসমান ও যমীনের সৃষ্টিতে, রাত ও দিনের বিবর্তনে এবং নদীতে নৌকাসমূহের চলাচলে মানুষের জন্য কল্যাণ রয়েছে। আর আল্লাহ তা’ আলা আকাশ থেকে যে পানি নাযিল করেছেন, তদ্দ্বারা মৃত যমীনকে সজীব করে তুলেছেন এবং তাতে ছড়িয়ে দিয়েছেন সবরকম জীব-জন্তু। আর আবহাওয়া পরিবর্তনে এবং মেঘমালার যা তাঁরই হুকুমের অধীনে আসমান ও যমীনের মাঝে বিচরণ করে, নিশ্চয়ই সে সমস্ত বিষয়ের মাঝে নিদর্শন রয়েছে বুদ্ধিমান সম্প্রদায়ের জন্যে।
আর কোন লোক এমনও রয়েছে যারা অন্যান্যকে আল্লাহর সমকক্ষ সাব্যস্ত করে এবং তাদের প্রতি তেমনি ভালবাসা পোষণ করে, যেমন আল্লাহর প্রতি ভালবাসা হয়ে থাকে। কিন্তু যারা আল্লাহর প্রতি ঈমানদার তাদের ভালবাসা ওদের তুলনায় বহুগুণ বেশী। আর কতইনা উত্তম হ’ত যদি এ জালেমরা পার্থিব কোন কোন আযাব প্রত্যক্ষ করেই উপলব্ধি করে নিত যে, যাবতীয় ক্ষমতা শুধুমাত্র আল্লাহরই জন্য এবং আল্লাহর আযাবই সবচেয়ে কঠিনতর।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।