Wa bashshiril lazeena aamanoo wa `amilus saalihaati anna lahum jannaatin tajree min tahtihal anhaaru kullamaa riziqoo minhaa min samaratir rizqan qaaloo haazal lazee ruziqnaa min qablu wa utoo bihee mutashaabihaa, wa lahum feehaaa azwaajum mutahhara tunw wa hum feehaa khaalidoon
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
আর হে নবী (সাঃ), যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজসমূহ করেছে, আপনি তাদেরকে এমন বেহেশতের সুসংবাদ দিন, যার পাদদেশে নহরসমূহ প্রবাহমান থাকবে। যখনই তারা খাবার হিসেবে কোন ফল প্রাপ্ত হবে, তখনই তারা বলবে, এতো অবিকল সে ফলই যা আমরা ইতিপূর্বেও লাভ করেছিলাম। বস্তুতঃ তাদেরকে একই প্রকৃতির ফল প্রদান করা হবে। এবং সেখানে তাদের জন্য শুদ্ধচারিনী রমণীকূল থাকবে। আর সেখানে তারা অনন্তকাল অবস্থান করবে।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
और जो लोग ईमान लाए और उन्होंने नेक काम किए उनको (ऐ पैग़म्बर) खुशख़बरी दे दो कि उनके लिए (बेहिश्त के) वह बाग़ात हैं जिनके नीचे नहरे जारी हैं जब उन्हें इन बाग़ात का कोई मेवा खाने को मिलेगा तो कहेंगे ये तो वही (मेवा है जो पहले भी हमें खाने को मिल चुका है) (क्योंकि) उन्हें मिलती जुलती सूरत व रंग के (मेवे) मिला करेंगे और बेहिश्त में उनके लिए साफ सुथरी बीवियाँ होगी और ये लोग उस बाग़ में हमेशा रहेंगे
আর হে নবী (সাঃ), যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজসমূহ করেছে, আপনি তাদেরকে এমন বেহেশতের সুসংবাদ দিন, যার পাদদেশে নহরসমূহ প্রবাহমান থাকবে। যখনই তারা খাবার হিসেবে কোন ফল প্রাপ্ত হবে, তখনই তারা বলবে, এতো অবিকল সে ফলই যা আমরা ইতিপূর্বেও লাভ করেছিলাম। বস্তুতঃ তাদেরকে একই প্রকৃতির ফল প্রদান করা হবে। এবং সেখানে তাদের জন্য শুদ্ধচারিনী রমণীকূল থাকবে। আর সেখানে তারা অনন্তকাল অবস্থান করবে।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
بَشِّرْ — সুসংবাদ দান করা।
الصَّالِحَاتِ — সৎকর্মসমূহ।
جَنَّاتٍ — জান্নাতসমূহ, যেখানে ফলদায়ক বৃক্ষরাজি রয়েছে।
تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ — যার নিচ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত।
رُزِقُوا — তাদেরকে খাদ্য/রিজিক দেওয়া হয়।
مُتَشَابِهًا — আকৃতি ও নামে সাদৃশ্যপূর্ণ, কিন্তু স্বাদে ভিন্ন।
أَزْوَاجٌ مُطَهَّرَةٌ — পবিত্র স্ত্রীগণ, সকল প্রকার অপবিত্রতা ও দোষ-ত্রুটি থেকে মুক্ত।
خَالِدُونَ — চিরস্থায়ী, যারা কখনো মৃত্যুবরণ করবে না।
তাফসীর:
হে নবী! যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, তাদেরকে এমন সুসংবাদ দিন যা তাদের অন্তরকে আনন্দে ভরে দেবে — তাদের জন্য রয়েছে জান্নাতসমূহ, যার পাদদেশ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত হয়, তার উচ্চ প্রাসাদ ও ছায়াময় বৃক্ষরাজির নিচ দিয়ে। যখনই তাদেরকে জান্নাতের কোনো ফল খেতে দেওয়া হবে, তারা বিস্ময় ও আনন্দে বলবে, “এ তো সেই ফল, যা আগে আমাদেরকে দেওয়া হয়েছিল!” কিন্তু যখন তারা তা আস্বাদন করবে, দেখবে এর স্বাদ ও লাবণ্য সম্পূর্ণ নতুন ও ভিন্ন — যদিও রং, চেহারা ও নামের দিক থেকে তা পূর্বের ফলের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। এই সাদৃশ্যের কারণ হলো, তারা যেন পরিচিত রূপে ফল দেখে সহজেই তা গ্রহণ করতে পারে, কিন্তু প্রকৃত স্বাদ হবে দুনিয়ার কোনো ফলের সাথে তুলনাহীন। আর তাদের জন্য জান্নাতে থাকবে পবিত্র স্ত্রীগণ — যারা প্রতিটি দৈহিক অপবিত্রতা (যেমন মাসিক, মল-মূত্র) এবং নৈতিক ত্রুটি (যেমন মিথ্যা, খারাপ চরিত্র) থেকে সম্পূর্ণ পবিত্র। তারা জান্নাতে চিরকাল থাকবে — সেখানে তাদের মৃত্যু নেই, বহিষ্কার নেই, আর তাদের সুখ-শান্তি কখনো শেষ হবে না। এটি দুনিয়ার নশ্বর সুখের বিপরীত, যা ক্ষণস্থায়ী এবং দুঃখ-কষ্টে মিশ্রিত।
উপকারিতা ও শিক্ষা:
ঈমান ও সৎকর্মের সমন্বয়ই জান্নাত লাভের মূল চাবিকাঠি — ঈমান ছাড়া আমল গ্রহণযোগ্য নয়, আর আমল ছাড়া ঈমান অসম্পূর্ণ।
জান্নাতের নিয়ামত দুনিয়ার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হলেও তার প্রকৃত স্বাদ ও আনন্দ সম্পূর্ণ ভিন্ন ও অতুলনীয় — এটি মুমিনের জন্য আশার বাণী।
জান্নাতের স্ত্রীগণ পবিত্রতা ও সৌন্দর্যের চূড়ান্ত আদর্শ — এটি মুমিনদেরকে পাপমুক্ত ও পবিত্র জীবনযাপনে উৎসাহিত করে।
জান্নাতের স্থায়িত্ব আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, দুনিয়ার কষ্ট ও পরিশ্রম ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু তার প্রতিদান চিরন্তন — তাই ধৈর্য ও আমলের মাধ্যমে আখিরাতের সাফল্য অর্জন করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
এই আয়াত মুমিনদের অন্তরে এমন এক আশা জাগায় যা তাদেরকে দুনিয়ার কঠিন পরিস্থিতিতেও ধৈর্যশীল ও কর্মঠ রাখে, কারণ তারা জানে তাদের জন্য অপেক্ষা করছে অনন্ত সুখের জান্নাত।
এতদসম্পর্কে যদি তোমাদের কোন সন্দেহ থাকে যা আমি আমার বান্দার প্রতি অবতীর্ণ করেছি, তাহলে এর মত একটি সূরা রচনা করে নিয়ে এস। তোমাদের সেসব সাহায্যকারীদেরকে সঙ্গে নাও-এক আল্লাহকে ছাড়া, যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকো।
আর যদি তা না পার-অবশ্য তা তোমরা কখনও পারবে না, তাহলে সে দোযখের আগুন থেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা কর, যার জ্বালানী হবে মানুষ ও পাথর। যা প্রস্তুত করা হয়েছে কাফেরদের জন্য।
আর হে নবী (সাঃ), যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজসমূহ করেছে, আপনি তাদেরকে এমন বেহেশতের সুসংবাদ দিন, যার পাদদেশে নহরসমূহ প্রবাহমান থাকবে। যখনই তারা খাবার হিসেবে কোন ফল প্রাপ্ত হবে, তখনই তারা বলবে, এতো অবিকল সে ফলই যা আমরা ইতিপূর্বেও লাভ করেছিলাম। বস্তুতঃ তাদেরকে একই প্রকৃতির ফল প্রদান করা হবে। এবং সেখানে তাদের জন্য শুদ্ধচারিনী রমণীকূল থাকবে। আর সেখানে তারা অনন্তকাল অবস্থান করবে।
আল্লাহ পাক নিঃসন্দেহে মশা বা তদুর্ধ্ব বস্তু দ্বারা উপমা পেশ করতে লজ্জাবোধ করেন না। বস্তুতঃ যারা মুমিন তারা নিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করে যে, তাদের পালনকর্তা কর্তৃক উপস্থাপিত এ উপমা সম্পূর্ণ নির্ভূল ও সঠিক। আর যারা কাফের তারা বলে, এরূপ উপমা উপস্থাপনে আল্লাহর মতলবই বা কি ছিল। এ দ্বারা আল্লাহ তা’আলা অনেককে বিপথগামী করেন, আবার অনেককে সঠিক পথও প্রদর্শন করেন। তিনি অনুরূপ উপমা দ্বারা অসৎ ব্যক্তিবর্গ ভিন্ন কাকেও বিপথগামী করেন না।
(বিপথগামী ওরাই) যারা আল্লাহর সঙ্গে অঙ্গীকারাবদ্ধ হওয়ার পর তা ভঙ্গ করে এবং আল্লাহ পাক যা অবিচ্ছিন্ন রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন, তা ছিন্ন করে, আর পৃথিবীর বুকে অশান্তি সৃষ্টি করে। ওরা যথার্থই ক্ষতিগ্রস্ত।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।