بِالْآخِرَةِ — আখিরাতের (পরকালের) চিরস্থায়ী জীবনের বিনিময়ে।
يُخَفَّفُ — লাঘব করা, হালকা করা।
يُنصَرُونَ — সাহায্য পাওয়া, রক্ষা করা।
তাফসির (ব্যাখ্যা):
এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা সেই সমস্ত লোকের পরিচয় তুলে ধরেছেন, যারা ঈমান আনার পর কুফরি ও মুনাফিকির পথ বেছে নিয়েছিল। তারা দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী সুখ-সাচ্ছন্দ্য, ধন-সম্পদ, পদ-মর্যাদা ও প্রবৃত্তির চাহিদাকে আখিরাতের অনন্ত সুখ ও সাফল্যের ওপর প্রাধান্য দিয়েছে। অর্থাৎ, তারা যেন দুনিয়ার সামান্য সম্পদের বিনিময়ে আখিরাতের চিরস্থায়ী জান্নাত ও মুক্তিকে বিক্রি করে দিয়েছে। তারা নিজেদের ইচ্ছায় এবং নিজেদের পছন্দে এই লেনদেন করেছে—পার্থিব জীবনের মোহে আখিরাতকে ত্যাগ করেছে।
তাদের এই ভুল পছন্দের পরিণতি সম্পর্কে আল্লাহ ঘোষণা করেছেন যে, আখিরাতে তাদের শাস্তি কিছুতেই লাঘব করা হবে না। তাদের ওপর থেকে আযাবের মাত্রা একটুও কমানো হবে না, কোনো ধরনের রহমত বা অবকাশও দেওয়া হবে না। আর সেদিন তাদের জন্য কোনো সাহায্যকারীও থাকবে না—না কোনো বন্ধু, না কোনো আত্মীয়, না কোনো উপাস্য, যে তাদেরকে আল্লাহর আযাব থেকে রক্ষা করতে পারবে। তারা সম্পূর্ণ অসহায় ও নিঃসঙ্গ অবস্থায় কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হবে।
শিক্ষা ও উপদেশ:
একজন মুমিনের উচিত দুনিয়াকে আখিরাতের চেয়ে প্রাধান্য না দেওয়া। দুনিয়া হলো পরীক্ষার স্থান, আর আখিরাত হলো চিরস্থায়ী জীবন। যারা দুনিয়ার মোহে আখিরাত ভুলে যায়, তারা সবচেয়ে বড় ক্ষতির সম্মুখীন হয়।
এই আয়াত আমাদের সতর্ক করে যে, দুনিয়ার সামান্য সুখ-সম্ভোগের জন্য যদি কেউ ঈমান ও সৎকর্ম ত্যাগ করে, তবে তার ক্ষতি কোনোভাবেই পূরণ হবে না। আখিরাতে তার জন্য রয়েছে অবর্ণনীয় যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।
আল্লাহর শাস্তি থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় হলো তাঁর নির্দেশ মেনে চলা এবং নবী (সা.)-এর দেখানো পথে জীবন পরিচালনা করা। দুনিয়ার কোনো শক্তি, সম্পদ বা প্রভাব-প্রতিপত্তিই সেদিন কাজে আসবে না।
এই আয়াত আমাদেরকে পরকালের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস রাখতে এবং দুনিয়ার জীবনে এমন আমল করতে উৎসাহিত করে, যাতে আখিরাতে আমরা আল্লাহর রহমত ও জান্নাত লাভ করতে পারি। প্রকৃত সফলতা হলো আখিরাতের সফলতা, আর প্রকৃত ক্ষতি হলো আখিরাতের ক্ষতি।
যখন আমি তোমাদের কাছ থেকে অঙ্গীকার নিলাম যে, তোমরা পরস্পর খুনাখুনি করবে না এবং নিজেদেরকে দেশ থেকে বহিস্কার করবে না, তখন তোমরা তা স্বীকার করেছিলে এবং তোমরা তার সাক্ষ্য দিচ্ছিলে।
অতঃপর তোমরাই পরস্পর খুনাখুনি করছ এবং তোমাদেরই একদলকে তাদের দেশ থেকে বহিস্কার করছ। তাদের বিরুদ্ধে পাপ ও অন্যায়ের মাধ্যমে আক্রমণ করছ। আর যদি তারাই কারও বন্দী হয়ে তোমাদের কাছে আসে, তবে বিনিময় নিয়ে তাদের মুক্ত করছ। অথচ তাদের বহিস্কার করাও তোমাদের জন্য অবৈধ। তবে কি তোমরা গ্রন্থের কিয়দংশ বিশ্বাস কর এবং কিয়দংশ অবিশ্বাস কর? যারা এরূপ করে পার্থিব জীবনে দূগর্তি ছাড়া তাদের আর কোনই পথ নেই। কিয়ামতের দিন তাদের কঠোরতম শাস্তির দিকে পৌঁছে দেয়া হবে। আল্লাহ তোমাদের কাজ-কর্ম সম্পর্কে বে-খবর নন।
অবশ্যই আমি মূসাকে কিতাব দিয়েছি। এবং তার পরে পর্যায়ক্রমে রসূল পাঠিয়েছি। আমি মরিয়ম তনয় ঈসাকে সুস্পষ্ট মোজেযা দান করেছি এবং পবিত্র রূহের মাধ্যমে তাকে শক্তিদান করেছি। অতঃপর যখনই কোন রসূল এমন নির্দেশ নিয়ে তোমাদের কাছে এসেছে, যা তোমাদের মনে ভাল লাগেনি, তখনই তোমরা অহংকার করেছ। শেষ পর্যন্ত তোমরা একদলকে মিথ্যাবাদী বলেছ এবং একদলকে হত্যা করেছ।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।