Ud`oohum li aabaaa`ihim huwa aqsatu `indal laah; fa illam ta`lamooo aabaaa`ahum fa ikhwaanukum fid deeni wa mawaaleekum; wa laisa `alaikum junaahun feemaaa akhtaatum bihee wa laakim maa ta`ammadat quloobukum; wa kaanal laahu Ghafoorar Raheemaa
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
তোমরা তাদেরকে তাদের পিতৃপরিচয়ে ডাক। এটাই আল্লাহর কাছে ন্যায়সঙ্গত। যদি তোমরা তাদের পিতৃ-পরিচয় না জান, তবে তারা তোমাদের ধর্মীয় ভাই ও বন্ধুরূপে গণ্য হবে। এ ব্যাপারে তোমাদের কোন বিচ্যুতি হলে তাতে তোমাদের কোন গোনাহ নেই, তবে ইচ্ছাকৃত হলে ভিন্ন কথা। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
लिये पालकों का उनके (असली) बापों के नाम से पुकारा करो यही खुदा के नज़दीक बहुत ठीक है हाँ अगर तुम लोग उनके असली बापों को न जानते हो तो तुम्हारे दीनी भाई और दोस्त हैं (उन्हें भाई या दोस्त कहकर पुकारा करो) और हाँ इसमें भूल चूक जाओ तो अलबत्ता उसका तुम पर कोई इल्ज़ाम नहीं है मगर जब तुम दिल से जानबूझ कर करो (तो ज़रूर गुनाह है) और खुदा तो बड़ा बख्शने वाला मेहरबान है।
তোমরা তাদেরকে তাদের পিতৃপরিচয়ে ডাক। এটাই আল্লাহর কাছে ন্যায়সঙ্গত। যদি তোমরা তাদের পিতৃ-পরিচয় না জান, তবে তারা তোমাদের ধর্মীয় ভাই ও বন্ধুরূপে গণ্য হবে। এ ব্যাপারে তোমাদের কোন বিচ্যুতি হলে তাতে তোমাদের কোন গোনাহ নেই, তবে ইচ্ছাকৃত হলে ভিন্ন কথা। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
أَخْطَأْتُمْ – ভুলবশত করা (অজ্ঞতা বা বিস্মৃতির কারণে)।
تَعَمَّدَتْ – ইচ্ছাকৃতভাবে সংকল্প করা।
তাফসীর (ব্যাখ্যা):
আয়াতটি ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও পারিবারিক বিধান স্পষ্ট করেছে। জাহিলিয়াতের যুগে প্রচলিত ছিল যে, কেউ কাউকে দত্তক পুত্র বানালে তাকে তার (দত্তক পিতার) নামে ডাকা হতো এবং সে প্রকৃত পুত্রের মতোই উত্তরাধিকারসহ সব অধিকার পেত। ইসলাম এই প্রথা বাতিল করে ঘোষণা করে—তোমরা যাদেরকে নিজের সন্তান বলে ডাকতে, তাদেরকে তাদের প্রকৃত পিতার নামে ডাকো। এটি আল্লাহর কাছে সর্বাধিক ন্যায়সংগত ও সঠিক পদ্ধতি। কেননা বংশপরিচয় আল্লাহর সৃষ্ট একটি বাস্তবতা, আর মিথ্যা সম্পর্ক স্থাপন করা অন্যায় ও বিভ্রান্তির কারণ।
যদি কারো প্রকৃত পিতার পরিচয় জানা না থাকে (যেমন: পরিত্যক্ত শিশু বা যার বংশ পরিচয় অজ্ঞাত), তাহলে তাকে 'দ্বীনি ভাই' বা 'আপনজন' হিসেবে ডাকবে। অর্থাৎ, ইসলামি ভ্রাতৃত্বের বন্ধনই হবে তার পরিচয়ের ভিত্তি। তাকে 'ওহে আমার দ্বীনি ভাই' বা 'ওহে আমার বন্ধু' বলে সম্বোধন করা যাবে, তাকে কোনো কাল্পনিক পিতার দিকে সম্পৃক্ত করা যাবে না।
এরপর আল্লাহ তায়ালা একটি সহজতা ও করুণার ঘোষণা দিয়েছেন—যদি কেউ ভুলে বা অজান্তে কাউকে ভুল নামে ডেকে ফেলে (যেমন: ভুলে বলে ফেলে 'ওহে আমার ছেলে'), তাহলে তার ওপর কোনো পাপ নেই। পাপ তখনই হবে যখন কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে জেনে-শুনে মিথ্যা সম্পর্ক স্থাপন করবে বা কাউকে তার প্রকৃত পিতার পরিবর্তে অন্য পিতার নামে ডাকবে। আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়ালু—তিনি ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করেন এবং তওবাকারীদের প্রতি দয়া করেন।
শিক্ষা ও উপকারিতা:
ইসলাম সত্য ও ন্যায়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত; এমনকি পারিবারিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও মিথ্যা ও অসত্যকে প্রশ্রয় দেয় না। বংশপরিচয় সংরক্ষণ করা একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
দত্তক সন্তান লালন-পালন একটি মহৎ কাজ, কিন্তু তা সত্ত্বেও তাকে প্রকৃত পিতার নামে ডাকতে হবে। এটি শিশুর মানসিক ও সামাজিক পরিচয় রক্ষার জন্য অপরিহার্য।
ইসলামি ভ্রাতৃত্বের বন্ধন রক্তের সম্পর্কের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়; যার পরিচয় অজ্ঞাত, সে মুসলিম উম্মাহরই সদস্য এবং তার সম্মান ও মর্যাদা সুরক্ষিত।
আল্লাহর রহমত অপরিসীম—ভুলের কারণে কাউকে শাস্তি দেওয়া হয় না, তবে ইচ্ছাকৃত অন্যায়ের জন্য জবাবদিহি করতে হবে। এটি মুমিনের জন্য আশার বার্তা।
এই আয়াত শেখায় যে, সামাজিক সম্পর্ক গঠনে সততা ও স্বচ্ছতা কত গুরুত্বপূর্ণ। মিথ্যা সম্পর্ক বা পরিচয় গোপন করা সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, আর সত্য বলাই শান্তি ও বরকতের চাবিকাঠি।
আল্লাহ কোন মানুষের মধ্যে দুটি হৃদয় স্থাপন করেননি। তোমাদের স্ত্রীগণ যাদের সাথে তোমরা যিহার কর, তাদেরকে তোমাদের জননী করেননি এবং তোমাদের পোষ্যপুত্রদেরকে তোমাদের পুত্র করেননি। এগুলো তোমাদের মুখের কথা মাত্র। আল্লাহ ন্যায় কথা বলেন এবং পথ প্রদর্শন করেন।
তোমরা তাদেরকে তাদের পিতৃপরিচয়ে ডাক। এটাই আল্লাহর কাছে ন্যায়সঙ্গত। যদি তোমরা তাদের পিতৃ-পরিচয় না জান, তবে তারা তোমাদের ধর্মীয় ভাই ও বন্ধুরূপে গণ্য হবে। এ ব্যাপারে তোমাদের কোন বিচ্যুতি হলে তাতে তোমাদের কোন গোনাহ নেই, তবে ইচ্ছাকৃত হলে ভিন্ন কথা। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
নবী মুমিনদের নিকট তাদের নিজেদের অপেক্ষা অধিক ঘনিষ্ঠ এবং তাঁর স্ত্রীগণ তাদের মাতা। আল্লাহর বিধান অনুযায়ী মুমিন ও মুহাজিরগণের মধ্যে যারা আত্নীয়, তারা পরস্পরে অধিক ঘনিষ্ঠ। তবে তোমরা যদি তোমাদের বন্ধুদের প্রতি দয়া-দাক্ষিণ্য করতে চাও, করতে পার। এটা লওহে-মাহফুযে লিখিত আছে।
যখন আমি পয়গম্বরগণের কাছ থেকে, আপনার কাছ থেকে এবং নূহ, ইব্রাহীম, মূসা ও মরিয়ম তনয় ঈসার কাছ থেকে অঙ্গীকার নিলাম এবং অঙ্গীকার নিলাম তাদের কাছ থেকে দৃঢ় অঙ্গীকার।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।