আল-আহযাব · 4/73
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আল-আহযাব
مَّا جَعَلَ اللَّهُ لِرَجُلٍ مِّن قَلْبَيْنِ فِي جَوْفِهِ ۚ وَمَا جَعَلَ أَزْوَاجَكُمُ اللَّائِي تُظَاهِرُونَ مِنْهُنَّ أُمَّهَاتِكُمْ ۚ وَمَا جَعَلَ أَدْعِيَاءَكُمْ أَبْنَاءَكُمْ ۚ ذَٰلِكُمْ قَوْلُكُم بِأَفْوَاهِكُمْ ۖ وَاللَّهُ يَقُولُ الْحَقَّ وَهُوَ يَهْدِي السَّبِيلَ ۝٤
Maa ja`alal laahu lirajulim min qalbaini fee jawfih; wa maa ja`ala azwaajakumul laaa`ee tuzaahiroona minhunna ummahaatikum; wa maa ja`ala ad`iyaaa`akum abnaaa`akum; zaalikum qawlukum bi afwaa hikum wallaahu yaqoolul haqqa wa Huwa yahdis sabeel
📖 বাংলা অর্থ
আল্লাহ কোন মানুষের মধ্যে দুটি হৃদয় স্থাপন করেননি। তোমাদের স্ত্রীগণ যাদের সাথে তোমরা যিহার কর, তাদেরকে তোমাদের জননী করেননি এবং তোমাদের পোষ্যপুত্রদেরকে তোমাদের পুত্র করেননি। এগুলো তোমাদের মুখের কথা মাত্র। আল্লাহ ন্যায় কথা বলেন এবং পথ প্রদর্শন করেন।

🎧 শুনুন
📜

অনুবাদ — Tafsir

কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দের অর্থ:

  • تُظَاهِرُونَ (যিহার করা): স্ত্রীকে বলা যে, “তুমি আমার কাছে আমার মায়ের পিঠের মতো” অর্থাৎ তুমি আমার জন্য হারাম। এটি ছিল জাহিলিয়াতের একটি প্রথা, যা ইসলাম বাতিল করেছে।
  • أَدْعِيَاءَكُمْ (পোষ্য/দত্তক পুত্র): যাদেরকে নিজের ছেলে বলে ডাকা হতো, অথচ তারা প্রকৃত ছেলে ছিল না।
  • الظِّهَار (যিহার): স্ত্রীকে মা, বোন বা এমন কোনো মহিলার সাথে তুলনা করা যাকে চিরতরে বিয়ে করা হারাম।

আয়াতের বিস্তারিত তাফসির:

আল্লাহ তাআলা এই আয়াতে তিনটি মৌলিক সত্য তুলে ধরেছেন, যা জাহিলিয়াতের যুগের ভ্রান্ত ধারণাগুলোকে শিকড়সহ উপড়ে ফেলে:

প্রথমত: আল্লাহ কোনো মানুষের শরীরে দুটি হৃদয় সৃষ্টি করেননি। মক্কার এক ব্যক্তি (আবু মা'মার জামিল বিন মা'মার আল-ফিহরি) গর্ব করে বলত, “আমার মধ্যে দুটি হৃদয় আছে, যা দিয়ে আমি মুহাম্মদ (সা.)-এর চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান।” আল্লাহ তা'আলা এই আয়াতে তার এ দাবিকে মিথ্যা প্রমাণ করে দেন। এর মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে যে, যেমন মানুষের শরীরে দুটি হৃদয় থাকা অসম্ভব, তেমনি কিছু জাহিলি প্রথাকেও সত্য বলে মেনে নেওয়া অসম্ভব।

দ্বিতীয়ত: যিহার প্রথার বাতিলকরণ। জাহিলিয়াতের যুগে কোনো পুরুষ তার স্ত্রীকে বলত, “তুমি আমার কাছে আমার মায়ের পিঠের মতো” — এতে স্ত্রী তার জন্য চিরতরে হারাম হয়ে যেত। ইসলাম এই ঘৃণ্য প্রথাকে বাতিল করে দিয়েছে। স্ত্রী কখনো মা হতে পারে না। এটি শুধু মুখের কথা, যার কোনো বাস্তবতা নেই। তবে ইসলাম সম্পূর্ণরূপে এটাকে উপেক্ষাও করেনি; বরং এর জন্য কাফফারা (প্রায়শ্চিত্ত) নির্ধারণ করেছে, যাতে মানুষ এ ধরনের কথা বলা থেকে বিরত থাকে।

তৃতীয়ত: দত্তক পুত্র প্রথার বাতিলকরণ। জাহিলিয়াতের যুগে কেউ কোনো ছেলেকে দত্তক নিলে তাকে নিজের ছেলের মতোই মনে করা হতো এবং সে স্ত্রী-সন্তান, উত্তরাধিকার ইত্যাদি সব ক্ষেত্রে প্রকৃত ছেলের মতোই গণ্য হতো। এমনকি দত্তক পিতার স্ত্রীকে বিয়ে করাও নিষিদ্ধ ছিল। আল্লাহ তা'আলা এই প্রথা বাতিল করে দেন। দত্তক পুত্রকে নিজের ছেলে বলা সম্পূর্ণ ভুল। তার প্রকৃত পিতার দিকেই তাকে সম্পৃক্ত করতে হবে। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে যায়েদ বিন হারেসা (রা.)-কে দত্তক পুত্র হিসেবে ডাকা হতো। আল্লাহ এই আয়াতের মাধ্যমে সেই প্রথারও অবসান ঘটান।

সর্বশেষে আল্লাহ বলেন, “এগুলো তোমাদের মুখের কথা মাত্র” — অর্থাৎ যিহার বলা এবং দত্তক পুত্রকে ছেলে বলা — এসবের কোনো বাস্তবতা নেই। আল্লাহ সত্য বলেন এবং তিনি সঠিক পথ দেখান। অর্থাৎ আল্লাহই সত্যের মাপকাঠি, তিনিই মানুষকে সঠিক পথে পরিচালিত করেন।


শিক্ষা ও দাওয়াত:

এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, ইসলাম এমন একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা যা মানুষের জীবনের প্রতিটি ভ্রান্ত ধারণা ও কুসংস্কার দূর করে। আল্লাহ আমাদের জন্য যা নির্ধারণ করেছেন, তা-ই সত্য ও কল্যাণকর। জাহিলিয়াতের যেকোনো প্রথা, যতই পুরনো বা সমাজে প্রচলিত হোক না কেন, ইসলামের আলোকে তা পরীক্ষা করতে হবে। আল্লাহর বিধানই চূড়ান্ত সত্য, আর তিনিই আমাদের সরল পথ দেখান। আসুন, আমরা সব বিষয়ে আল্লাহর নির্দেশকে প্রাধান্য দিই এবং তাঁর দেখানো পথে চলি — এটাই আমাদের সফলতার চাবিকাঠি।



📜 আয়াত 2-6 — সূরা আল-আহযাব

2وَاتَّبِعْ مَا يُوحَىٰ إِلَيْكَ مِن رَّبِّكَ ۚ إِنَّ اللَّهَ كَانَ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرًا
আপনার পালনকর্তার পক্ষ থেকে যা অবতীর্ণ হয়, আপনি তার অনুসরণ করুন। নিশ্চয় তোমরা যা কর, আল্লাহ সে বিষয়ে খবর রাখেন।
3وَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ ۚ وَكَفَىٰ بِاللَّهِ وَكِيلًا
আপনি আল্লাহর উপর ভরসা করুন। কার্যনির্বাহীরূপে আল্লাহই যথেষ্ট।
4مَّا جَعَلَ اللَّهُ لِرَجُلٍ مِّن قَلْبَيْنِ فِي جَوْفِهِ ۚ وَمَا جَعَلَ أَزْوَاجَكُمُ اللَّائِي تُظَاهِرُونَ مِنْهُنَّ أُمَّهَاتِكُمْ ۚ وَمَا جَعَلَ أَدْعِيَاءَكُمْ أَبْنَاءَكُمْ ۚ ذَٰلِكُمْ قَوْلُكُم بِأَفْوَاهِكُمْ ۖ وَاللَّهُ يَقُولُ الْحَقَّ وَهُوَ يَهْدِي السَّبِيلَ
আল্লাহ কোন মানুষের মধ্যে দুটি হৃদয় স্থাপন করেননি। তোমাদের স্ত্রীগণ যাদের সাথে তোমরা যিহার কর, তাদেরকে তোমাদের জননী করেননি এবং তোমাদের পোষ্যপুত্রদেরকে তোমাদের পুত্র করেননি। এগুলো তোমাদের মুখের কথা মাত্র। আল্লাহ ন্যায় কথা বলেন এবং পথ প্রদর্শন করেন।
5ادْعُوهُمْ لِآبَائِهِمْ هُوَ أَقْسَطُ عِندَ اللَّهِ ۚ فَإِن لَّمْ تَعْلَمُوا آبَاءَهُمْ فَإِخْوَانُكُمْ فِي الدِّينِ وَمَوَالِيكُمْ ۚ وَلَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ فِيمَا أَخْطَأْتُم بِهِ وَلَٰكِن مَّا تَعَمَّدَتْ قُلُوبُكُمْ ۚ وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَّحِيمًا
তোমরা তাদেরকে তাদের পিতৃপরিচয়ে ডাক। এটাই আল্লাহর কাছে ন্যায়সঙ্গত। যদি তোমরা তাদের পিতৃ-পরিচয় না জান, তবে তারা তোমাদের ধর্মীয় ভাই ও বন্ধুরূপে গণ্য হবে। এ ব্যাপারে তোমাদের কোন বিচ্যুতি হলে তাতে তোমাদের কোন গোনাহ নেই, তবে ইচ্ছাকৃত হলে ভিন্ন কথা। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
6النَّبِيُّ أَوْلَىٰ بِالْمُؤْمِنِينَ مِنْ أَنفُسِهِمْ ۖ وَأَزْوَاجُهُ أُمَّهَاتُهُمْ ۗ وَأُولُو الْأَرْحَامِ بَعْضُهُمْ أَوْلَىٰ بِبَعْضٍ فِي كِتَابِ اللَّهِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُهَاجِرِينَ إِلَّا أَن تَفْعَلُوا إِلَىٰ أَوْلِيَائِكُم مَّعْرُوفًا ۚ كَانَ ذَٰلِكَ فِي الْكِتَابِ مَسْطُورًا
নবী মুমিনদের নিকট তাদের নিজেদের অপেক্ষা অধিক ঘনিষ্ঠ এবং তাঁর স্ত্রীগণ তাদের মাতা। আল্লাহর বিধান অনুযায়ী মুমিন ও মুহাজিরগণের মধ্যে যারা আত্নীয়, তারা পরস্পরে অধিক ঘনিষ্ঠ। তবে তোমরা যদি তোমাদের বন্ধুদের প্রতি দয়া-দাক্ষিণ্য করতে চাও, করতে পার। এটা লওহে-মাহফুযে লিখিত আছে।
আল-আহযাবকুরআন সূচী
73আয়াত
মাদানীRevelation
4আয়াত

অনুবাদ — আল-আহযাব 4

সূরা আল-আহযাব আয়াত 4 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : আল্লাহ কোন মানুষের মধ্যে দুটি হৃদয় স্থাপন করেননি। তোমাদের স্ত্রীগণ…

সূরা আয়াত 4/73 — সূরা আল-আহযাব الأحزاب (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আল-আহযাব শুনুন, সূরা আল-আহযাব অনুবাদ, সূরা আল-আহযাব mp3, সূরা আল-আহযাব pdf. আয়াত 2–6. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, September 8, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না