Wa maa kaana lahoo `alaihim min sultaanin illaa lina`lama mai yu minu bil Aakhirati mimman huwa minhaa fee shakk; wa Rabbuka `alaa kulli shai`in Hafeez
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
তাদের উপর শয়তানের কোন ক্ষমতা ছিল না, তবে কে পরকালে বিশ্বাস করে এবং কে তাতে সন্দেহ করে, তা প্রকাশ করাই ছিল আমার উদ্দেশ্য। আপনার পালনকর্তা সব বিষয়ে তত্ত্বাবধায়ক।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
और शैतान का उन लोगों पर कुछ क़ाबू तो था नहीं मगर ये (मतलब था) कि हम उन लोगों को जो आख़ेरत का यक़ीन रखते हैं उन लोगों से अलग देख लें जो उसके बारे में शक में (पड़े) हैं और तुम्हारा परवरदिगार तो हर चीज़ का निगरॉ है
তাদের উপর শয়তানের কোন ক্ষমতা ছিল না, তবে কে পরকালে বিশ্বাস করে এবং কে তাতে সন্দেহ করে, তা প্রকাশ করাই ছিল আমার উদ্দেশ্য। আপনার পালনকর্তা সব বিষয়ে তত্ত্বাবধায়ক।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
সুলতান — ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, প্রভাব।
লি-না‘লাম — যাতে আমরা জানতে পারি (অর্থাৎ, যাতে প্রকাশ পায়)।
শাক্ক — সন্দেহ।
তাফসির:
আয়াতটি শয়তানের ক্ষমতা সম্পর্কে আলোচনা করছে। আল্লাহ তা‘আলা স্পষ্ট করে দিচ্ছেন যে, শয়তানের মানুষের উপর তেমন কোনো বাস্তব ক্ষমতা বা কর্তৃত্ব ছিল না, যা দিয়ে সে তাদেরকে জোরপূর্বক কুফরি বা পাপের দিকে ঠেলে দিতে পারত। তার কাজ ছিল কেবল প্রলোভন দেখানো, মন্দ কাজকে সুন্দর করে উপস্থাপন করা এবং মানুষকে ভুল পথে পরিচালিত করার চেষ্টা করা। কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মানুষের নিজের হাতে — সে শয়তানের ডাকে সাড়া দেবে নাকি আল্লাহর নির্দেশ মেনে চলবে।
আল্লাহ তা‘আলা শয়তানকে মানুষের জন্য পরীক্ষাস্বরূপ সৃষ্টি করেছেন। এর মাধ্যমে আল্লাহর পূর্ব-নির্ধারিত জ্ঞান অনুযায়ী প্রকাশ পায় যে, কে সত্যিই আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখে — অর্থাৎ মৃত্যুর পর পুনরুত্থান, জান্নাত-জাহান্নাম, প্রতিদান ও শাস্তির উপর দৃঢ় বিশ্বাস রাখে — আর কে আখিরাতের ব্যাপারে সন্দেহে নিমজ্জিত। শয়তানের প্রলোভন একটি পরীক্ষার মাধ্যম, যার মাধ্যমে মুমিন ও সন্দেহকারী স্পষ্টভাবে পৃথক হয়ে যায়।
আয়াতের শেষে আল্লাহ তা‘আলা বলছেন, আপনার রব প্রতিটি জিনিসের উপর হিফাযতকারী বা তত্ত্বাবধায়ক। তিনি প্রতিটি মানুষের কাজ, কথা ও বিশ্বাস সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত আছেন এবং কাউকে অবহেলা করেন না। তিনি সবকিছু সংরক্ষণ করেন এবং প্রত্যেককে তার কাজের উপযুক্ত প্রতিদান দেবেন।
শিক্ষা ও উপকারিতা:
শয়তান কোনো জোর-জবরদস্তি করতে পারে না; সে কেবল প্রলোভন দেখায়। তাই পাপের দায় আমাদের নিজেদের — শয়তানকে দোষ দিয়ে আমরা পরিত্রাণ পেতে পারি না।
এই দুনিয়ার জীবন একটি পরীক্ষা। শয়তানের প্রলোভন সেই পরীক্ষারই একটি অংশ, যার মাধ্যমে প্রকৃত মুমিন ও সন্দেহকারী চিহ্নিত হয়।
আখিরাতের প্রতি দৃঢ় ঈমানই মানুষকে শয়তানের প্রলোভন থেকে রক্ষা করে। যে ব্যক্তি মৃত্যুর পরের জীবনে নিশ্চিত বিশ্বাস রাখে, সে দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী লোভ-লালসার কাছে নিজেকে বিকিয়ে দেয় না।
আল্লাহ প্রতিটি বিষয়ে তত্ত্বাবধায়ক। আমাদের কোনো কাজ, এমনকি অন্তরের গোপন বিশ্বাসও তাঁর অগোচরে নয়। এই জ্ঞান আমাদেরকে সতর্ক করে এবং আল্লাহর কাছে হিসাব দেওয়ার ভয় জাগ্রত করে।
শয়তান যতই প্রলোভন দেখাক, আল্লাহর হিফাযত চাওয়া মুমিনের সবচেয়ে বড় অস্ত্র। যে আল্লাহর উপর ভরসা করে, আল্লাহ তাকে শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে রক্ষা করেন।
অতঃপর তারা বলল, হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের ভ্রমণের পরিসর বাড়িয়ে দাও। তারা নিজেদের প্রতি জুলুম করেছিল। ফলে আমি তাদেরকে উপাখ্যানে পরিণত করলাম এবং সম্পূর্ণরূপে ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন করে দিলাম। নিশ্চয় এতে প্রত্যেক ধৈর্যশীল কৃতজ্ঞের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে।
তাদের উপর শয়তানের কোন ক্ষমতা ছিল না, তবে কে পরকালে বিশ্বাস করে এবং কে তাতে সন্দেহ করে, তা প্রকাশ করাই ছিল আমার উদ্দেশ্য। আপনার পালনকর্তা সব বিষয়ে তত্ত্বাবধায়ক।
বলুন, তোমরা তাদেরকে আহবান কর, যাদেরকে উপাস্য মনে করতে আল্লাহ ব্যতীত। তারা নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডলের অনু পরিমাণ কোন কিছুর মালিক নয়, এতে তাদের কোন অংশও নেই এবং তাদের কেউ আল্লাহর সহায়কও নয়।
যার জন্যে অনুমতি দেয়া হয়, তার জন্যে ব্যতীত আল্লাহর কাছে কারও সুপারিশ ফলপ্রসূ হবে না। যখন তাদের মন থেকে ভয়-ভীতি দূর হয়ে যাবে, তখন তারা পরস্পরে বলবে, তোমাদের পালনকর্তা কি বললেন? তারা বলবে, তিনি সত্য বলেছেন এবং তিনিই সবার উপরে মহান।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।