In tajtaniboo kabaaa`ira maa tunhawna `anhu nukaffir `ankum saiyiaatikum wa nudkhilkum mudkhalan kareemaa
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
যেগুলো সম্পর্কে তোমাদের নিষেধ করা হয়েছে যদি তোমরা সেসব বড় গোনাহ গুলো থেকে বেঁচে থাকতে পার। তবে আমি তোমাদের ক্রটি-বিচ্যুতিগুলো ক্ষমা করে দেব এবং সম্মান জনক স্থানে তোমাদের প্রবেশ করার।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
जिन कामों की तुम्हें मनाही की जाती है अगर उनमें से तुम गुनाहे कबीरा से बचते रहे तो हम तुम्हारे (सग़ीरा) गुनाहों से भी दरगुज़र करेंगे और तुमको बहुत अच्छी इज्ज़त की जगह पहुंचा देंगे
যেগুলো সম্পর্কে তোমাদের নিষেধ করা হয়েছে যদি তোমরা সেসব বড় গোনাহ গুলো থেকে বেঁচে থাকতে পার। তবে আমি তোমাদের ক্রটি-বিচ্যুতিগুলো ক্ষমা করে দেব এবং সম্মান জনক স্থানে তোমাদের প্রবেশ করার।
📜
অনুবাদ — Tafsir
কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দের অর্থ:
কাবায়ির (كبائر): বড় বড় গুনাহ বা কবিরা গুনাহ। যেসব পাপের জন্য ইসলামী শরিয়তে নির্দিষ্ট শাস্তির বিধান রয়েছে, অথবা যেসব পাপ সম্পর্কে কুরআন-হাদিসে কঠিন শাস্তির ভয় দেখানো হয়েছে।
সাইয়্যিআত (سيئات): ছোট ছোট গুনাহ বা পাপসমূহ।
নুকাফফির (نكفر): আমরা ক্ষমা করে দেব, মিটিয়ে দেব।
মুদখালান কারিমান (مدخلا كريما): সম্মানজনক স্থানে প্রবেশ করানো, অর্থাৎ জান্নাত।
তাফসির:
হে ঈমানদারগণ! তোমাদেরকে যে সকল বিষয় থেকে নিষেধ করা হয়েছে, তার মধ্যে যেসব বড় বড় গুনাহ রয়েছে—যেমন আল্লাহর সাথে শিরক করা, পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া, অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করা, সুদ খাওয়া, মিথ্যা বলা, মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া ইত্যাদি—যদি তোমরা সেগুলো থেকে বিরত থাকো, তাহলে আল্লাহ তাআলা তোমাদের ছোট ছোট গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেবেন এবং সেগুলোকে মিটিয়ে দেবেন। আর তোমাদেরকে তিনি এমন এক সম্মানজনক স্থানে প্রবেশ করাবেন, যা অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ—সেটিই হলো জান্নাত। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বিশাল অনুগ্রহ, যেখানে তিনি বান্দার ছোট খাটো ভুল-ত্রুটিগুলোকে ক্ষমা করে দিয়ে তাকে চিরস্থায়ী সুখ-শান্তির আবাসে প্রবেশ করান।
শিক্ষা ও উপকারিতা:
এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, ইসলাম কখনো মানুষকে নিরাশ করে না। বান্দা যত বড় গুনাহকারীই হোক না কেন, যদি সে বড় পাপগুলো থেকে তাওবা করে বিরত থাকে, তবে আল্লাহ তার ছোট ছোট ভুলগুলো ক্ষমা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এটি আল্লাহর অশেষ রহমত ও দয়ার পরিচয়।
কবিরা গুনাহ থেকে দূরে থাকা মুমিনের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। ছোট গুনাহের ব্যাপারে সতর্ক থাকার পাশাপাশি বড় গুনাহগুলোকে চিহ্নিত করে সেগুলো থেকে বেঁচে থাকা প্রতিটি মুমিনের কর্তব্য।
এই আয়াত মুমিনের অন্তরে আশা ও চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। এটি জানায় যে, জান্নাত লাভের পথ কিন্তু একান্তই সহজসাধ্য—শুধু বড় পাপগুলো থেকে বেঁচে থাকো, আর আল্লাহ তোমার ছোট ছোট ত্রুটিগুলো ক্ষমা করে দেবেন।
আয়াতটি আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা ও ভরসা জাগ্রত করে। কারণ, তিনি তাঁর বান্দাদের প্রতি এতই দয়ালু যে, সামান্য চেষ্টাতেই তিনি তাদের জীবনের হিসাব সহজ করে দেন এবং তাদেরকে জান্নাতের মতো সম্মানজনক স্থানে প্রবেশ করানোর ওয়াদা করেন।
হে ঈমানদারগণ! তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না। কেবলমাত্র তোমাদের পরস্পরের সম্মতিক্রমে যে ব্যবসা করা হয় তা বৈধ। আর তোমরা নিজেদের কাউকে হত্যা করো না। নিঃসন্দেহে আল্লাহ তা’আলা তোমাদের প্রতি দয়ালু।
যেগুলো সম্পর্কে তোমাদের নিষেধ করা হয়েছে যদি তোমরা সেসব বড় গোনাহ গুলো থেকে বেঁচে থাকতে পার। তবে আমি তোমাদের ক্রটি-বিচ্যুতিগুলো ক্ষমা করে দেব এবং সম্মান জনক স্থানে তোমাদের প্রবেশ করার।
আর তোমরা আকাঙ্ক্ষা করো না এমন সব বিষয়ে যাতে আল্লাহ তা’আলা তোমাদের একের উপর অপরের শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। পুরুষ যা অর্জন করে সেটা তার অংশ এবং নারী যা অর্জন করে সেটা তার অংশ। আর আল্লাহর কাছে তাঁর অনুগ্রহ প্রার্থনা কর। নিঃসন্দেহে আল্লাহ তা’আলা সর্ব বিষয়ে জ্ঞাত।
পিতা-মাতা এবং নিকটাত্নীয়গণ যা ত্যাগ করে যান সেসবের জন্যই আমি উত্তরাধিকারী নির্ধারণ করে দিয়েছি। আর যাদের সাথে তোমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়েছ তাদের প্রাপ্য দিয়ে দাও। আল্লাহ তা’আলা নিঃসন্দেহে সব কিছুই প্রত্যক্ষ করেন।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।