আন-নিসা · 32/176
অনুবাদ উচ্চারণ — আন-নিসা
وَلَا تَتَمَنَّوْا مَا فَضَّلَ اللَّهُ بِهِ بَعْضَكُمْ عَلَىٰ بَعْضٍ ۚ لِّلرِّجَالِ نَصِيبٌ مِّمَّا اكْتَسَبُوا ۖ وَلِلنِّسَاءِ نَصِيبٌ مِّمَّا اكْتَسَبْنَ ۚ وَاسْأَلُوا اللَّهَ مِن فَضْلِهِ ۗ إِنَّ اللَّهَ كَانَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمًا ۝٣٢
Wa laa tatamannaw maa faddalal laahu bihee ba`dakum `alaa ba`d; lirrijaali naseebum mimak tasaboo wa linnisaaa`i naseebum mimmak tasabna; was`alullaaha min fadlih; innal laaha kaana bikulli shai`in `Aleemaa
📖 বাংলা অর্থ
আর তোমরা আকাঙ্ক্ষা করো না এমন সব বিষয়ে যাতে আল্লাহ তা’আলা তোমাদের একের উপর অপরের শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। পুরুষ যা অর্জন করে সেটা তার অংশ এবং নারী যা অর্জন করে সেটা তার অংশ। আর আল্লাহর কাছে তাঁর অনুগ্রহ প্রার্থনা কর। নিঃসন্দেহে আল্লাহ তা’আলা সর্ব বিষয়ে জ্ঞাত।

🎧 শুনুন
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • لَا تَتَمَنَّوْا – তোমরা কামনা করো না, আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করো না।
  • فَضَّلَ – মর্যাদা দান করেছেন, শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন।
  • نَصِيبٌ – অংশ, প্রাপ্য।
  • اكْتَسَبُوا / اكْتَسَبْنَ – তারা (পুরুষরা) উপার্জন করেছে / তারা (নারীরা) উপার্জন করেছে।
  • فَضْلِهِ – তাঁর অনুগ্রহ, দান।

তাফসীর (ব্যাখ্যা):

হে ঈমানদারগণ! আল্লাহ তাআলা জীবিকা, সম্পদ, জ্ঞান, শক্তি, সৌন্দর্য, সন্তান-সন্ততি ইত্যাদি বিষয়ে তোমাদের মধ্যে কাউকে কারো ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। এই পার্থক্য তাঁর নিজস্ব হিকমত ও ইচ্ছায়। তাই তোমরা এমন জিনিসের পেছনে আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করো না বা মনগড়া কামনা করো না যা আল্লাহ তোমাদের মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টির জন্য নির্ধারণ করেছেন। কারণ এরূপ কামনা-বাসনা অন্তরে হিংসা-বিদ্বেষ ও অসন্তুষ্টির জন্ম দেয় এবং আল্লাহর বণ্টন ব্যবস্থার প্রতি আস্থা নষ্ট করে।

আল্লাহ তাআলা প্রত্যেকের জন্য তার কাজের উপযুক্ত অংশ নির্ধারণ করেছেন। পুরুষদের জন্য রয়েছে তাদের উপার্জিত ও অর্জিত বিষয়ের অংশ, আর নারীদের জন্যও রয়েছে তাদের উপার্জিত ও অর্জিত বিষয়ের অংশ। প্রত্যেকে নিজ নিজ কাজ অনুযায়ী পুরস্কার বা ফল পাবে। একজনের প্রাপ্য আরেকজন পাবে না, এবং একজনের অংশ অন্যকে দেওয়া হবে না। তাই অন্যের প্রতি ঈর্ষা না করে নিজের কাজে মনোযোগ দেওয়া উচিত।

আর তোমরা যদি কিছু পেতে চাও, তবে অন্যের সম্পদ বা মর্যাদার প্রতি লোভ না করে আল্লাহর কাছে তাঁর অনুগ্রহ প্রার্থনা করো। তাঁর দরবারে চাও, তিনি অফুরন্ত দানশীল। কেননা আল্লাহ তাআলা প্রতিটি বিষয় সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত। তিনি জানেন কার জন্য কী উপযুক্ত, কার জন্য কোন বিষয় কল্যাণকর। তাঁর এই জ্ঞানের ভিত্তিতেই তিনি প্রত্যেককে যথাযথ দান করেছেন।

শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. আল্লাহর বণ্টন ব্যবস্থার প্রতি সন্তুষ্ট থাকা এবং অন্যের প্রতি হিংসা না করা মুমিনের অন্যতম গুণ। হিংসা অন্তরকে ধ্বংস করে এবং সমাজে অশান্তি সৃষ্টি করে।
  2. প্রত্যেক ব্যক্তি তার নিজের কাজের জন্য দায়ী। পুরুষ হোক বা নারী, সবার জন্য তাদের নিজ নিজ আমল অনুযায়ী প্রতিদান রয়েছে। ইসলাম নারী-পুরুষের মধ্যে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেছে।
  3. অন্যের সম্পদ বা মর্যাদার প্রতি লোভ না করে আল্লাহর কাছে দুআ করা এবং তাঁর অনুগ্রহ প্রার্থনা করা সর্বোত্তম পথ। আল্লাহর দান সীমাহীন, তিনি যাকে ইচ্ছা দান করেন।
  4. আল্লাহ সবকিছু জানেন, তাই তাঁর সিদ্ধান্ত সর্বদা সঠিক ও কল্যাণকর। আমরা যা বুঝি বা চাই, তার চেয়ে আল্লাহ যা নির্ধারণ করেছেন তা-ই আমাদের জন্য উত্তম।


📜 আয়াত 30-34 — আন-নিসা

30وَمَن يَفْعَلْ ذَٰلِكَ عُدْوَانًا وَظُلْمًا فَسَوْفَ نُصْلِيهِ نَارًا ۚ وَكَانَ ذَٰلِكَ عَلَى اللَّهِ يَسِيرًا
আর যে কেউ সীমালঙ্ঘন কিংবা জুলুমের বশবর্তী হয়ে এরূপ করবে, তাকে খুব শীঘ্রই আগুনে নিক্ষেপ করা হবে। এটা আল্লাহর পক্ষে খুবই সহজসাধ্য।
31إِن تَجْتَنِبُوا كَبَائِرَ مَا تُنْهَوْنَ عَنْهُ نُكَفِّرْ عَنكُمْ سَيِّئَاتِكُمْ وَنُدْخِلْكُم مُّدْخَلًا كَرِيمًا
যেগুলো সম্পর্কে তোমাদের নিষেধ করা হয়েছে যদি তোমরা সেসব বড় গোনাহ গুলো থেকে বেঁচে থাকতে পার। তবে আমি তোমাদের ক্রটি-বিচ্যুতিগুলো ক্ষমা করে দেব এবং সম্মান জনক স্থানে তোমাদের প্রবেশ করার।
32وَلَا تَتَمَنَّوْا مَا فَضَّلَ اللَّهُ بِهِ بَعْضَكُمْ عَلَىٰ بَعْضٍ ۚ لِّلرِّجَالِ نَصِيبٌ مِّمَّا اكْتَسَبُوا ۖ وَلِلنِّسَاءِ نَصِيبٌ مِّمَّا اكْتَسَبْنَ ۚ وَاسْأَلُوا اللَّهَ مِن فَضْلِهِ ۗ إِنَّ اللَّهَ كَانَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمًا
আর তোমরা আকাঙ্ক্ষা করো না এমন সব বিষয়ে যাতে আল্লাহ তা’আলা তোমাদের একের উপর অপরের শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। পুরুষ যা অর্জন করে সেটা তার অংশ এবং নারী যা অর্জন করে সেটা তার অংশ। আর আল্লাহর কাছে তাঁর অনুগ্রহ প্রার্থনা কর। নিঃসন্দেহে আল্লাহ তা’আলা সর্ব বিষয়ে জ্ঞাত।
33وَلِكُلٍّ جَعَلْنَا مَوَالِيَ مِمَّا تَرَكَ الْوَالِدَانِ وَالْأَقْرَبُونَ ۚ وَالَّذِينَ عَقَدَتْ أَيْمَانُكُمْ فَآتُوهُمْ نَصِيبَهُمْ ۚ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ شَهِيدًا
পিতা-মাতা এবং নিকটাত্নীয়গণ যা ত্যাগ করে যান সেসবের জন্যই আমি উত্তরাধিকারী নির্ধারণ করে দিয়েছি। আর যাদের সাথে তোমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়েছ তাদের প্রাপ্য দিয়ে দাও। আল্লাহ তা’আলা নিঃসন্দেহে সব কিছুই প্রত্যক্ষ করেন।
34الرِّجَالُ قَوَّامُونَ عَلَى النِّسَاءِ بِمَا فَضَّلَ اللَّهُ بَعْضَهُمْ عَلَىٰ بَعْضٍ وَبِمَا أَنفَقُوا مِنْ أَمْوَالِهِمْ ۚ فَالصَّالِحَاتُ قَانِتَاتٌ حَافِظَاتٌ لِّلْغَيْبِ بِمَا حَفِظَ اللَّهُ ۚ وَاللَّاتِي تَخَافُونَ نُشُوزَهُنَّ فَعِظُوهُنَّ وَاهْجُرُوهُنَّ فِي الْمَضَاجِعِ وَاضْرِبُوهُنَّ ۖ فَإِنْ أَطَعْنَكُمْ فَلَا تَبْغُوا عَلَيْهِنَّ سَبِيلًا ۗ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيًّا كَبِيرًا
পুরুষেরা নারীদের উপর কৃর্তত্বশীল এ জন্য যে, আল্লাহ একের উপর অন্যের বৈশিষ্ট্য দান করেছেন এবং এ জন্য যে, তারা তাদের অর্থ ব্যয় করে। সে মতে নেককার স্ত্রীলোকগণ হয় অনুগতা এবং আল্লাহ যা হেফাযতযোগ্য করে দিয়েছেন লোক চক্ষুর অন্তরালেও তার হেফাযত করে। আর যাদের মধ্যে অবাধ্যতার আশঙ্কা কর তাদের সদুপদেশ দাও, তাদের শয্যা ত্যাগ কর এবং প্রহার কর। যদি তাতে তারা বাধ্য হয়ে যায়, তবে আর তাদের জন্য অন্য কোন পথ অনুসন্ধান করো না। নিশ্চয় আল্লাহ সবার উপর শ্রেষ্ঠ।
আন-নিসাকুরআন সূচী
176আয়াত
মাদানীRevelation
32আয়াত

অনুবাদ — আন-নিসা 32

সূরা আন-নিসা আয়াত 32 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : আর তোমরা আকাঙ্ক্ষা করো না এমন সব বিষয়ে যাতে আল্লাহ…

সূরা আয়াত 32/176 — আন-নিসা النساء (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আন-নিসা শুনুন, আন-নিসা অনুবাদ, আন-নিসা mp3, আন-নিসা pdf. আয়াত 30–34. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না