আর যে কেউ সীমালঙ্ঘন কিংবা জুলুমের বশবর্তী হয়ে এরূপ করবে, তাকে খুব শীঘ্রই আগুনে নিক্ষেপ করা হবে। এটা আল্লাহর পক্ষে খুবই সহজসাধ্য।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
উদওয়ান (عُدْوَانًا): সীমালঙ্ঘন করা, ন্যায়সঙ্গত সীমা অতিক্রম করা।
যুলম (ظُلْمًا): অন্যায় করা, জিনিসকে তার সঠিক স্থান থেকে সরিয়ে অন্য স্থানে রাখা।
নুসলীহি (نُصْلِيهِ): তাকে আগুনে প্রবেশ করাবো, জ্বালিয়ে দেবো।
ইয়াছীর (يَسِيرًا): সহজ, অতি সাধারণ।
তাফসীর:
যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে সীমালঙ্ঘন করে এবং জেনে-বুঝে অন্যায়ভাবে আল্লাহর নিষিদ্ধ কাজগুলো করে — যেমন অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করা, ছিনতাই, প্রতারণা, বা অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করা — এবং তা করে সীমা অতিক্রমকারী হয়ে, অজ্ঞতা বা ভুলবশত নয় বরং জেনে-শুনে ও বিদ্রোহী মনোভাব নিয়ে, তাহলে আল্লাহ তাকে কিয়ামতের দিন অগ্নিতে নিক্ষেপ করবেন। সেখানে সে আগুনের তীব্র তাপ ও যন্ত্রণা ভোগ করবে। আর আল্লাহর জন্য এটা অত্যন্ত সহজ, কারণ তিনি সর্বশক্তিমান, তাঁর কাছে কিছুই কঠিন নয়। তিনি যাকে ইচ্ছা শাস্তি দিতে পারেন এবং তাঁর শাস্তি থেকে কেউ বাঁচতে পারবে না।
শিক্ষা ও উপদেশ:
ইসলাম মানুষের সম্পদ, জীবন ও মর্যাদাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। অন্যের হক নষ্ট করা ও সীমালঙ্ঘন করা কবিরা গুনাহ।
আল্লাহর শাস্তি অত্যন্ত কঠিন, কিন্তু তাঁর রহমতও অপরিসীম। যে ব্যক্তি তওবা করে ফিরে আসে, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন।
জেনে-শুনে অন্যায় করা আর ভুলে বা অজ্ঞতাবশত করা — ইসলাম এ দুটোর মধ্যে পার্থক্য করে। ইচ্ছাকৃত অন্যায়ের শাস্তি বেশি কঠিন।
আল্লাহর কাছে কিছুই কঠিন নয়। তিনি চাইলেই যে-কাউকে শাস্তি দিতে পারেন, আবার চাইলেই ক্ষমা করতে পারেন। তাই আমাদের উচিত তাঁর আদেশ-নিষেধ মেনে চলা এবং তাঁর শাস্তি থেকে বাঁচার চেষ্টা করা।
এই আয়াত আমাদের সতর্ক করে যে, দুনিয়ার কোনো সম্পদ বা লোভ যেন আমাদেরকে আল্লাহর নিষিদ্ধ কাজে লিপ্ত না করে। পরকালের চিরস্থায়ী শাস্তির তুলনায় দুনিয়ার সাময়িক লাভ কিছুই নয়।
হে ঈমানদারগণ! তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না। কেবলমাত্র তোমাদের পরস্পরের সম্মতিক্রমে যে ব্যবসা করা হয় তা বৈধ। আর তোমরা নিজেদের কাউকে হত্যা করো না। নিঃসন্দেহে আল্লাহ তা’আলা তোমাদের প্রতি দয়ালু।
যেগুলো সম্পর্কে তোমাদের নিষেধ করা হয়েছে যদি তোমরা সেসব বড় গোনাহ গুলো থেকে বেঁচে থাকতে পার। তবে আমি তোমাদের ক্রটি-বিচ্যুতিগুলো ক্ষমা করে দেব এবং সম্মান জনক স্থানে তোমাদের প্রবেশ করার।
আর তোমরা আকাঙ্ক্ষা করো না এমন সব বিষয়ে যাতে আল্লাহ তা’আলা তোমাদের একের উপর অপরের শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। পুরুষ যা অর্জন করে সেটা তার অংশ এবং নারী যা অর্জন করে সেটা তার অংশ। আর আল্লাহর কাছে তাঁর অনুগ্রহ প্রার্থনা কর। নিঃসন্দেহে আল্লাহ তা’আলা সর্ব বিষয়ে জ্ঞাত।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।