অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
- أَعْجَمِيًّا — অনারব ভাষায়, আরবি নয় এমন ভাষায়।
- فُصِّلَتْ — বিশদভাবে বর্ণনা করা হতো, স্পষ্টভাবে খোলাসা করা হতো।
- وَقْرٌ — বধিরতা, ভারী ভাব, শোনার অক্ষমতা।
- عَمًى — অন্ধত্ব, না দেখার অবস্থা, হৃদয়ের অজ্ঞতা।
- يُنَادَوْنَ مِن مَّكَانٍ بَعِيدٍ — দূরবর্তী স্থান থেকে ডাকা হচ্ছে, যেখানে ডাক শোনাই যায় না।
তাফসীর:
আল্লাহ তাআলা এ আয়াতে তাঁর অপরিসীম কুদরত ও রহমতের কথা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, যদি আমরা এই কিতাবকে আরবি ভাষার পরিবর্তে অনারব ভাষায় (আজমি ভাষায়) নাযিল করতাম, তবে মুশরিকরা অবশ্যই আপত্তি তুলত এবং বলত, “এর আয়াতগুলো আমাদের ভাষায় বিশদভাবে বিবৃত হলো না কেন? আমরা তো বুঝতে পারছি না! কী странно! কিতাবটি অনারবি ভাষায়, অথচ যার উপর নাযিল হয়েছে সে তো আরব!” অর্থাৎ তারা নানা অজুহাত খুঁজত।
এরপর আল্লাহ তাআলা নবী করিম ﷺ-কে নির্দেশ দিচ্ছেন, আপনি তাদের বলুন — এই কুরআন তাদের জন্য যারা ঈমান এনেছে, এটি তাদের জন্য হিদায়াত (পথপ্রদর্শক) এবং শিফা (আরোগ্য)। অর্থাৎ, যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে, এই কুরআন তাদের অন্তরের সংশয়, সন্দেহ, হিংসা, অহংকার — সব রোগের নিরাময়। এটি তাদেরকে পথভ্রষ্টতা থেকে সত্যের পথে আনে।
কিন্তু যারা ঈমান আনে না, তাদের অবস্থা হলো — তাদের কানে যেন বধিরতা রয়েছে, তারা কুরআনের বাণী শুনলেও তা তাদের হৃদয়ে প্রবেশ করে না। আর কুরআন তাদের জন্য অন্ধত্বস্বরূপ, অর্থাৎ তারা এর মাধ্যমে কোনো পথ খুঁজে পায় না, হিদায়াতের আলো তাদের চোখে পড়ে না। তাদের এই অবস্থার উপমা দিতে গিয়ে আল্লাহ বলেন, তাদেরকে যেন দূরবর্তী স্থান থেকে ডাকা হচ্ছে — যে ডাক তারা শুনতেই পাচ্ছে না, বুঝতেই পারছে না। ফলে তারা কোনো সাড়া দেয় না, কোনো উপকার পায় না।
শিক্ষা ও উপকারিতা:
- আল্লাহ তাআলা কুরআনকে আরবি ভাষায় নাযিল করেছেন, যেন তা সেই সম্প্রদায়ের কাছে স্পষ্ট ও সহজবোধ্য হয়, যাদের মাধ্যমে এটি বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ার ছিল। এটি আল্লাহর অপরিসীম রহমত ও প্রজ্ঞার নিদর্শন।
- যারা সত্য গ্রহণের আগ্রহ নিয়ে আসে, কুরআন তাদের জন্য সর্বোত্তম পথপ্রদর্শক এবং অন্তরের রোগের নিরাময়। ঈমানদারদের উচিত কুরআনকে বেশি বেশি পড়া, বোঝা এবং তার ওপর আমল করা।
- কুরআন থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া বা তা শোনার পরও অমান্য করা — এটি হৃদয়ের অন্ধত্বের লক্ষণ। আমাদের উচিত কুরআনের প্রতি পূর্ণ মনোযোগ দেওয়া এবং তা গ্রহণ করার জন্য অন্তরকে প্রস্তুত করা।
- যে ব্যক্তি সত্য গ্রহণ করে না, তার অবস্থা সেই ব্যক্তির মতো, যে দূর থেকে ডাক শুনতে পায় না — ফলে সে কখনো সঠিক পথ পাবে না। তাই আমাদের উচিত নিজেদের অন্তরকে কুরআনের আলোয় আলোকিত করা এবং অন্যদেরও এই আলোর দিকে আহ্বান করা।
📜 আয়াত 42-46 — ফুসসিলাত
অনুবাদ — ফুসসিলাত 44
সূরা ফুসসিলাত আয়াত 44 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : আমি যদি একে অনারব ভাষায় কোরআন করতাম, তবে অবশ্যই তারা…সূরা আয়াত 44/54 — ফুসসিলাত فصلت (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: ফুসসিলাত শুনুন, ফুসসিলাত অনুবাদ, ফুসসিলাত mp3, ফুসসিলাত pdf. আয়াত 42–46. বাংলা অর্থ: हिन्दी.
পবিত্র কুরআন
Tuesday, August 18, 2026
আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না








