ফুসসিলাত · 43/54
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা ফুসসিলাত
مَّا يُقَالُ لَكَ إِلَّا مَا قَدْ قِيلَ لِلرُّسُلِ مِن قَبْلِكَ ۚ إِنَّ رَبَّكَ لَذُو مَغْفِرَةٍ وَذُو عِقَابٍ أَلِيمٍ ۝٤٣
Maa yuqaalu laka illaa maa qad qeela lir Rusuli min qablik; inna Rabbaka lazoo maghfiratinw wa zoo `iqaabin aleem
📖 বাংলা অর্থ
আপনাকে তো তাই বলা হয়, যা বলা হত পূর্ববর্তী রসূলগনকে। নিশ্চয় আপনার পালনকর্তার কাছে রয়েছে ক্ষমা এবং রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

কয়েকটি শব্দের অর্থ:

  • مَا يُقَالُ لَكَ — তোমাকে যা বলা হয় (অর্থাৎ যে কথা বলা হয়)।
  • إِلَّا — ছাড়া, ব্যতীত।
  • لِلرُّسُلِ — রাসূলগণের জন্যে।
  • لَذُو مَغْفِرَةٍ — অবশ্যই তিনি ক্ষমাশীল।
  • عِقَابٍ أَلِيمٍ — যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।

তাফসীর (ব্যাখ্যা):

হে নবী! তোমার প্রতি কাফিররা যে কথা বলে থাকে—তোমাকে মিথ্যাবাদী বলা, তোমার উপর মিথ্যা অপবাদ দেওয়া, তোমার দাওয়াতকে বাধা দেওয়া—এসব কিছুই নতুন কিছু নয়। তোমার পূর্ববর্তী রাসূলগণকেও তাদের জাতির লোকেরা ঠিক একই ধরনের কথা বলেছিল এবং একই রকম কষ্ট দিয়েছিল। তারা সবাইকে মিথ্যাবাদী বলেছিল, তাদের উপর অত্যাচার করেছিল। তাই তুমি এতে বিচলিত হয়ো না এবং ধৈর্য ধারণ করো। কারণ তোমার রব অবশ্যই অত্যন্ত ক্ষমাশীল—যারা তওবা করে নিজেদের সংশোধন করে নেয়, তিনি তাদের গুনাহ মাফ করে দেন। আবার তিনি অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক শাস্তিদাতাও—যারা কুফরি ও মিথ্যার উপর অটল থাকে এবং তওবা না করে মৃত্যুবরণ করে, তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। অর্থাৎ, আল্লাহর পক্ষ থেকে রয়েছে ক্ষমা ও শাস্তি—দুইটি পথই খোলা; মানুষ নিজের কর্ম অনুযায়ী যে কোনো একটি পথ বেছে নেবে।

শিক্ষা ও উপকারিতা:

  1. নবীজির (সা.) জীবনে যেসব কষ্ট ও প্রতিকূলতা এসেছে, তা পূর্ববর্তী নবী-রাসূলদের জন্যও ছিল। এটি ইসলামের সত্যতা ও নবুওয়াতের ধারাবাহিকতার প্রমাণ বহন করে।
  2. দাওয়াতের পথে বাধা-বিপত্তি, কটু কথা ও অপবাদের সম্মুখীন হওয়া প্রতিটি নবীর সুন্নত; তাই এতে হতাশ না হয়ে ধৈর্য ধরা প্রতিটি মুমিনের কর্তব্য।
  3. আল্লাহ তাআলা যেমন ক্ষমাশীল, তেমনি তিনি কঠিন শাস্তিদাতাও। তাঁর ক্ষমা ও শাস্তি—উভয়ই সত্য। মানুষকে তাই সর্বদা সতর্ক থাকতে হবে এবং তওবার পথকে কখনো হাতছাড়া করা উচিত নয়।
  4. এই আয়াত মুমিনদের জন্য সান্ত্বনা যে, অন্যায়-অত্যাচার চিরস্থায়ী নয়; আল্লাহর নিকট রয়েছে ন্যায়বিচার, যিনি অত্যাচারীকে শাস্তি দেবেন এবং ধৈর্যশীলদেরকে পুরস্কৃত করবেন।
  5. ইসলামের ইতিহাসে নবী-রাসূলগণ সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েও দাওয়াতের কাজ চালিয়ে গেছেন; এতে আমাদের জন্য রয়েছে দাওয়াতি কাজে অটল থাকার অনুপ্রেরণা।


📜 আয়াত 41-45 — সূরা ফুসসিলাত

41إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا بِالذِّكْرِ لَمَّا جَاءَهُمْ ۖ وَإِنَّهُ لَكِتَابٌ عَزِيزٌ
নিশ্চয় যারা কোরআন আসার পর তা অস্বীকার করে, তাদের মধ্যে চিন্তা-ভাবনার অভাব রয়েছে। এটা অবশ্যই এক সম্মানিত গ্রন্থ।
42لَّا يَأْتِيهِ الْبَاطِلُ مِن بَيْنِ يَدَيْهِ وَلَا مِنْ خَلْفِهِ ۖ تَنزِيلٌ مِّنْ حَكِيمٍ حَمِيدٍ
এতে মিথ্যার প্রভাব নেই, সামনের দিক থেকেও নেই এবং পেছন দিক থেকেও নেই। এটা প্রজ্ঞাময়, প্রশংসিত আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।
43مَّا يُقَالُ لَكَ إِلَّا مَا قَدْ قِيلَ لِلرُّسُلِ مِن قَبْلِكَ ۚ إِنَّ رَبَّكَ لَذُو مَغْفِرَةٍ وَذُو عِقَابٍ أَلِيمٍ
আপনাকে তো তাই বলা হয়, যা বলা হত পূর্ববর্তী রসূলগনকে। নিশ্চয় আপনার পালনকর্তার কাছে রয়েছে ক্ষমা এবং রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।
44وَلَوْ جَعَلْنَاهُ قُرْآنًا أَعْجَمِيًّا لَّقَالُوا لَوْلَا فُصِّلَتْ آيَاتُهُ ۖ أَأَعْجَمِيٌّ وَعَرَبِيٌّ ۗ قُلْ هُوَ لِلَّذِينَ آمَنُوا هُدًى وَشِفَاءٌ ۖ وَالَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ فِي آذَانِهِمْ وَقْرٌ وَهُوَ عَلَيْهِمْ عَمًى ۚ أُولَٰئِكَ يُنَادَوْنَ مِن مَّكَانٍ بَعِيدٍ
আমি যদি একে অনারব ভাষায় কোরআন করতাম, তবে অবশ্যই তারা বলত, এর আয়াতসমূহ পরিস্কার ভাষায় বিবৃত হয়নি কেন? কি আশ্চর্য যে, কিতাব অনারব ভাষায় আর রসূল আরবী ভাষী! বলুন, এটা বিশ্বাসীদের জন্য হেদায়েত ও রোগের প্রতিকার। যারা মুমিন নয়, তাদের কানে আছে ছিপি, আর কোরআন তাদের জন্যে অন্ধত্ব। তাদেরকে যেন দূরবর্তী স্থান থেকে আহবান করা হয়।
45وَلَقَدْ آتَيْنَا مُوسَى الْكِتَابَ فَاخْتُلِفَ فِيهِ ۗ وَلَوْلَا كَلِمَةٌ سَبَقَتْ مِن رَّبِّكَ لَقُضِيَ بَيْنَهُمْ ۚ وَإِنَّهُمْ لَفِي شَكٍّ مِّنْهُ مُرِيبٍ
আমি মূসাকে কিতাব দিয়েছিলাম, অতঃপর তাতে মতভেদ সৃষ্টি হয়। আপনার পালনকর্তার পক্ষ থেকে পূর্ব সিদ্ধান্ত না থাকলে তাদের মধ্যে ফয়সালা হয়ে যেত। তারা কোরআন সমন্ধে এক অস্বস্তিকর সন্দেহে লিপ্ত।
ফুসসিলাতকুরআন সূচী
54আয়াত
মাক্কীঅবতরণস্থান
43আয়াত

অনুবাদ — ফুসসিলাত 43

সূরা ফুসসিলাত আয়াত 43 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : আপনাকে তো তাই বলা হয়, যা বলা হত পূর্ববর্তী রসূলগনকে।…

সূরা আয়াত 43/54 — সূরা ফুসসিলাত فصلت (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা ফুসসিলাত শুনুন, সূরা ফুসসিলাত অনুবাদ, সূরা ফুসসিলাত mp3, সূরা ফুসসিলাত pdf. আয়াত 41–45. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Tuesday, September 29, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না