ফুসসিলাত · 45/54
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা ফুসসিলাত
وَلَقَدْ آتَيْنَا مُوسَى الْكِتَابَ فَاخْتُلِفَ فِيهِ ۗ وَلَوْلَا كَلِمَةٌ سَبَقَتْ مِن رَّبِّكَ لَقُضِيَ بَيْنَهُمْ ۚ وَإِنَّهُمْ لَفِي شَكٍّ مِّنْهُ مُرِيبٍ ۝٤٥
Wa laqad aatainaa Moosal Kitaaba fakhtulifa fee; wa lawlaa Kalimatun sabaqat mir Rabbika laqudiya bainahum; wa innahum lafee shakkim minhu mureeb
📖 বাংলা অর্থ
আমি মূসাকে কিতাব দিয়েছিলাম, অতঃপর তাতে মতভেদ সৃষ্টি হয়। আপনার পালনকর্তার পক্ষ থেকে পূর্ব সিদ্ধান্ত না থাকলে তাদের মধ্যে ফয়সালা হয়ে যেত। তারা কোরআন সমন্ধে এক অস্বস্তিকর সন্দেহে লিপ্ত।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • আতায়না = আমরা দান করেছিলাম
  • ফাখতুলিফা ফীহি = অতঃপর তাতে মতভেদ সৃষ্টি হয়েছিল
  • কালিমাতুন সাবাকাত = একটি পূর্বনির্ধারিত বাণী/সিদ্ধান্ত
  • লাকুদিয়া বাইনাহুম = তাদের মধ্যে ফয়সালা করে দেওয়া হতো
  • মুরীব = সন্দেহজনক, যা মনে সন্দেহ সৃষ্টি করে

তাফসীর:

নিশ্চয়ই আমরা মূসা (আঃ)-কে তাওরাত কিতাব দান করেছিলাম, যেমনটি আপনাকে কুরআন দান করেছি। কিন্তু তার সম্প্রদায় তাতে মতভেদ সৃষ্টি করেছিল—কেউ তা বিশ্বাস করেছিল, আবার কেউ তা অস্বীকার করেছিল। একইভাবে আপনার উম্মতের কিছু লোক কুরআনে বিশ্বাস করবে এবং কিছু লোক তা প্রত্যাখ্যান করবে। এটি নতুন কিছু নয়, বরং পূর্ববর্তী নবীদের বেলাতেও এমনটি ঘটেছে।

যদি আপনার রবের পক্ষ থেকে একটি পূর্বনির্ধারিত সিদ্ধান্ত না থাকত—যে চূড়ান্ত ফয়সালা কিয়ামতের দিন হবে—তাহলে এখনই তাদের মধ্যে ফয়সালা করে দেওয়া হতো, অর্থাৎ সত্যবাদীদের বিজয়ী এবং মিথ্যাবাদীদের ধ্বংস করে দেওয়া হতো। কিন্তু আল্লাহ তা'আলা একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সবকিছু স্থগিত রেখেছেন।

আর এই কাফির সম্প্রদায় কুরআন সম্পর্কে এমন সন্দেহে নিমজ্জিত রয়েছে যা তাদের মনে গভীর সংশয় ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। তারা সত্যকে স্পষ্টভাবে দেখেও তা মেনে নিতে রাজি নয়।

শিক্ষা ও উপকারিতা:

  1. নবী-রাসূলগণের প্রতি ঈমান আনা এবং তাদের উপর নাজিলকৃত কিতাবসমূহের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা প্রতিটি মুমিনের কর্তব্য। মূসা (আঃ) ও মুহাম্মদ (সাঃ)-এর প্রতি বিশ্বাস একই শৃঙ্খলের অংশ।
  2. সত্যের পথে মতভেদ ও বিরোধিতা নতুন কিছু নয়; পূর্ববর্তী উম্মতরাও এ পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছে। তাই সত্যের পথে অবিচল থাকতে হবে এবং প্রতিকূলতা দেখে হতাশ হওয়া যাবে না।
  3. আল্লাহর ফয়সালা ও বিচার অত্যন্ত ন্যায়পরায়ণ। তিনি কাউকে অবিলম্বে শাস্তি দিয়ে ফেলেন না, বরং মানুষকে সুযোগ দেন। কিয়ামতের দিনই হবে চূড়ান্ত বিচার—সেখানে প্রতিটি সত্য-মিথ্যার চূড়ান্ত ফয়সালা হবে।
  4. কুরআন সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করা মানুষের নিজস্ব দুর্বলতা ও অহংকারের ফল। প্রকৃত অনুসন্ধিৎসু ব্যক্তি কুরআনের সত্যতা উপলব্ধি করতে পারে, কিন্তু যারা অহংকারে আচ্ছন্ন, তারা সন্দেহের অন্ধকারে ডুবে থাকে।
  5. ধৈর্য ও সহনশীলতা—আল্লাহর রাসূলগণের অন্যতম গুণ। সত্য প্রচারের পথে বাধা-বিপত্তি এলেও ধৈর্য ধরে প্রচার চালিয়ে যেতে হবে, কারণ চূড়ান্ত সাফল্য সত্যের অনুসারীদেরই হবে।


📜 আয়াত 43-47 — সূরা ফুসসিলাত

43مَّا يُقَالُ لَكَ إِلَّا مَا قَدْ قِيلَ لِلرُّسُلِ مِن قَبْلِكَ ۚ إِنَّ رَبَّكَ لَذُو مَغْفِرَةٍ وَذُو عِقَابٍ أَلِيمٍ
আপনাকে তো তাই বলা হয়, যা বলা হত পূর্ববর্তী রসূলগনকে। নিশ্চয় আপনার পালনকর্তার কাছে রয়েছে ক্ষমা এবং রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।
44وَلَوْ جَعَلْنَاهُ قُرْآنًا أَعْجَمِيًّا لَّقَالُوا لَوْلَا فُصِّلَتْ آيَاتُهُ ۖ أَأَعْجَمِيٌّ وَعَرَبِيٌّ ۗ قُلْ هُوَ لِلَّذِينَ آمَنُوا هُدًى وَشِفَاءٌ ۖ وَالَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ فِي آذَانِهِمْ وَقْرٌ وَهُوَ عَلَيْهِمْ عَمًى ۚ أُولَٰئِكَ يُنَادَوْنَ مِن مَّكَانٍ بَعِيدٍ
আমি যদি একে অনারব ভাষায় কোরআন করতাম, তবে অবশ্যই তারা বলত, এর আয়াতসমূহ পরিস্কার ভাষায় বিবৃত হয়নি কেন? কি আশ্চর্য যে, কিতাব অনারব ভাষায় আর রসূল আরবী ভাষী! বলুন, এটা বিশ্বাসীদের জন্য হেদায়েত ও রোগের প্রতিকার। যারা মুমিন নয়, তাদের কানে আছে ছিপি, আর কোরআন তাদের জন্যে অন্ধত্ব। তাদেরকে যেন দূরবর্তী স্থান থেকে আহবান করা হয়।
45وَلَقَدْ آتَيْنَا مُوسَى الْكِتَابَ فَاخْتُلِفَ فِيهِ ۗ وَلَوْلَا كَلِمَةٌ سَبَقَتْ مِن رَّبِّكَ لَقُضِيَ بَيْنَهُمْ ۚ وَإِنَّهُمْ لَفِي شَكٍّ مِّنْهُ مُرِيبٍ
আমি মূসাকে কিতাব দিয়েছিলাম, অতঃপর তাতে মতভেদ সৃষ্টি হয়। আপনার পালনকর্তার পক্ষ থেকে পূর্ব সিদ্ধান্ত না থাকলে তাদের মধ্যে ফয়সালা হয়ে যেত। তারা কোরআন সমন্ধে এক অস্বস্তিকর সন্দেহে লিপ্ত।
46مَّنْ عَمِلَ صَالِحًا فَلِنَفْسِهِ ۖ وَمَنْ أَسَاءَ فَعَلَيْهَا ۗ وَمَا رَبُّكَ بِظَلَّامٍ لِّلْعَبِيدِ
যে সৎকর্ম করে, সে নিজের উপকারের জন্যেই করে, আর যে অসৎকর্ম করে, তা তার উপরই বর্তাবে। আপনার পালনকর্তা বান্দাদের প্রতি মোটেই যুলুম করেন না।
47۞ إِلَيْهِ يُرَدُّ عِلْمُ السَّاعَةِ ۚ وَمَا تَخْرُجُ مِن ثَمَرَاتٍ مِّنْ أَكْمَامِهَا وَمَا تَحْمِلُ مِنْ أُنثَىٰ وَلَا تَضَعُ إِلَّا بِعِلْمِهِ ۚ وَيَوْمَ يُنَادِيهِمْ أَيْنَ شُرَكَائِي قَالُوا آذَنَّاكَ مَا مِنَّا مِن شَهِيدٍ
কেয়ামতের জ্ঞান একমাত্র তাঁরই জানা। তাঁর জ্ঞানের বাইরে কোন ফল আবরণমুক্ত হয় না। এবং কোন নারী গর্ভধারণ ও সন্তান প্রসব করে না। যেদিন আল্লাহ তাদেরকে ডেকে বলবেন, আমার শরীকরা কোথায়? সেদিন তারা বলবে, আমরা আপনাকে বলে দিয়েছি যে, আমাদের কেউ এটা স্বীকার করে না।
ফুসসিলাতকুরআন সূচী
54আয়াত
মাক্কীঅবতরণস্থান
45আয়াত

অনুবাদ — ফুসসিলাত 45

সূরা ফুসসিলাত আয়াত 45 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : আমি মূসাকে কিতাব দিয়েছিলাম, অতঃপর তাতে মতভেদ সৃষ্টি হয়। আপনার…

সূরা আয়াত 45/54 — সূরা ফুসসিলাত فصلت (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা ফুসসিলাত শুনুন, সূরা ফুসসিলাত অনুবাদ, সূরা ফুসসিলাত mp3, সূরা ফুসসিলাত pdf. আয়াত 43–47. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Tuesday, September 29, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না