আল-মায়িদা · 96/120
অনুবাদ উচ্চারণ — আল-মায়িদা
أُحِلَّ لَكُمۡ صَيۡدُ ٱلۡبَحۡرِ وَطَعَامُهُۥ مَتَٰعًا لَّكُمۡ وَلِلسَّيَّارَةِۖ وَحُرِّمَ عَلَيۡكُمۡ صَيۡدُ ٱلۡبَرِّ مَا دُمۡتُمۡ حُرُمًاۗ وَٱتَّقُواْ ٱللَّهَ ٱلَّذِيٓ إِلَيۡهِ تُحۡشَرُونَ  ۝٩٦
Uhilla lakum saidul bahri wa ta`aamuhoo mataa`al lakum wa lissaiyaarati wa hurrima `alaikum saidul barri maa dumtum hurumaa; wattaqul laahal lazeee ilaihi tuhsharoon
📖 বাংলা অর্থ
তোমাদের জন্য সমুদ্রের শিকার ও সুমুদ্রের খাদ্য হালাল করা হয়েছে তোমাদের উপকারার্থে এবং তোমাদের এহরামকারীদের জন্যে হারাম করা হয়েছে স্থল শিকার যতক্ষণ এহরাম অবস্থায় থাক। আল্লাহকে ভয় কর, যার কাছে তোমরা একত্রিত হবে।
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • صَيْدُ الْبَحْرِ – সমুদ্রের শিকার; অর্থাৎ যে প্রাণী সমুদ্র থেকে জীবিত অবস্থায় ধরা হয়।
  • وَطَعَامُهُ – এর খাদ্য; অর্থাৎ সমুদ্র থেকে যা পাওয়া যায় তা খাওয়া, তা জীবিত হোক বা মৃত (যেমন মাছ মরে ভেসে উঠলে)।
  • مَتَاعًا – উপকরণ বা জীবনোপকরণ হিসেবে।
  • لِلسَّيَّارَةِ – পথিকদের জন্য; যারা সফরে থাকে।
  • صَيْدُ الْبَرِّ – স্থলভাগের শিকার; যেমন হরিণ, খরগোশ ইত্যাদি।
  • حُرُمًا – ইহরাম অবস্থায়; হজ বা ওমরার ইহরাম বাঁধা অবস্থায়।
  • تُحْشَرُونَ – তোমাদেরকে একত্র করা হবে (কিয়ামতের দিন)।

তাফসির (ব্যাখ্যা):

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মতের প্রতি অনুগ্রহ করে ঘোষণা করেছেন যে, সমুদ্রের শিকার এবং তা থেকে প্রাপ্ত খাদ্য তোমাদের জন্য সম্পূর্ণ হালাল করা হয়েছে। এর অর্থ হলো—সমুদ্রে জীবিত মাছ বা অন্য জলজ প্রাণী শিকার করা এবং সমুদ্র থেকে মৃত অবস্থায় যা ভেসে ওঠে তা খাওয়া—সবই বৈধ। এই অনুমতি শুধু তোমাদের জন্য নয়, বরং পথিক ও মুসাফিরদের জন্যও, যারা সফরে এই খাদ্য সংরক্ষণ করে নিয়ে যেতে পারে। এটি তোমাদের জীবনধারণের একটি সহজ উপায় হিসেবে দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু এর বিপরীতে, যতক্ষণ তোমরা ইহরাম অবস্থায় থাকবে (হজ বা ওমরার জন্য), ততক্ষণ স্থলভাগের শিকার করা সম্পূর্ণ হারাম। অর্থাৎ হরিণ, পাখি বা অন্য কোনো স্থলজ প্রাণী শিকার করা বা তাতে সাহায্য করা নিষিদ্ধ। তবে ইহরাম অবস্থায় সমুদ্রের শিকার বৈধ থাকবে—এতে কোনো অসুবিধা নেই।

শেষে আল্লাহ তাআলা তাকওয়া অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলছেন: তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, তাঁর আদেশ মেনে চলো এবং নিষেধ থেকে বিরত থাকো। কারণ একদিন তোমাদের সবাইকে তাঁরই সামনে একত্রিত করা হবে, আর তখন প্রত্যেককে নিজ নিজ আমলের হিসাব দিতে হবে। সেই দিনের ভয়ই যেন তোমাদেরকে এই বিধান মেনে চলতে উদ্বুদ্ধ করে।

শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা, যা মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী সহজ ও নমনীয় বিধান দিয়েছে। সমুদ্রের শিকার হালাল করে আল্লাহ মানুষের জীবনযাত্রাকে সহজ করেছেন।
  2. ইহরাম অবস্থায় স্থল শিকার নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা মানুষকে আত্মনিয়ন্ত্রণ, ধৈর্য এবং পবিত্রতার শিক্ষা দেন। এটি প্রমাণ করে যে, ইবাদতের সময়ও মানুষকে আল্লাহর নির্দেশের প্রতি পূর্ণ অনুগত থাকতে হয়।
  3. এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, জীবিকার উপায় আল্লাহ নির্ধারণ করে দিয়েছেন, এবং তিনি চান তার বান্দারা বৈধ উপায়ে জীবিকা অর্জন করুক।
  4. তাকওয়া বা আল্লাহভীতি是人类 জীবনের সর্বোচ্চ গুণ। যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে এবং তাঁর বিধান মেনে চলে, সে দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জায়গায় সফলকাম হবে।
  5. কিয়ামতের দিনে সবাইকে একত্রিত হওয়ার স্মরণ আমাদেরকে সর্বদা সতর্ক রাখে এবং নেক কাজে উদ্বুদ্ধ করে। এই বিশ্বাসই মানুষকে অন্যায়, পাপ ও সীমালঙ্ঘন থেকে বিরত রাখে।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 94-98 — আল-মায়িদা

94يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ لَيَبۡلُوَنَّكُمُ ٱللَّهُ بِشَيۡءٍ مِّنَ ٱلصَّيۡدِ تَنَالُهُۥٓ أَيۡدِيكُمۡ وَرِمَاحُكُمۡ لِيَعۡلَمَ ٱللَّهُ مَن يَخَافُهُۥ بِٱلۡغَيۡبِۚ فَمَنِ ٱعۡتَدَىٰ بَعۡدَ ذَٰلِكَ فَلَهُۥ عَذَابٌ أَلِيمٌ 
হে মুমিনগণ, আল্লাহ তোমাদেরকে এমন কিছু শিকারের মাধ্যমে পরীক্ষা করবেন, যে শিকার পর্যন্ত তোমাদের হাত ও বর্শা সহজেই পৌছতে পারবে-যাতে আল্লাহ বুঝতে পারেন যে, কে তাকে অদৃশ্যভাবে ভয়করে। অতএব, যে ব্যক্তি এরপর সীমা অতিক্রম করবে, তার জন্য যন্ত্রনাদায়ক শাস্তি রয়েছে।
95يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ لَا تَقۡتُلُواْ ٱلصَّيۡدَ وَأَنتُمۡ حُرُمٌۚ وَمَن قَتَلَهُۥ مِنكُم مُّتَعَمِّدًا فَجَزَآءٌ مِّثۡلُ مَا قَتَلَ مِنَ ٱلنَّعَمِ يَحۡكُمُ بِهِۦ ذَوَا عَدۡلٍ مِّنكُمۡ هَدۡيَۢا بَٰلِغَ ٱلۡكَعۡبَةِ أَوۡ كَفَّٰرَةٌ طَعَامُ مَسَٰكِينَ أَوۡ عَدۡلُ ذَٰلِكَ صِيَامًا لِّيَذُوقَ وَبَالَ أَمۡرِهِۦۗ عَفَا ٱللَّهُ عَمَّا سَلَفَۚ وَمَنۡ عَادَ فَيَنتَقِمُ ٱللَّهُ مِنۡهُۚ وَٱللَّهُ عَزِيزٌ ذُو ٱنتِقَامٍ 
মুমিনগণ, তোমরা এহরাম অবস্থায় শিকার বধ করো না। তোমাদের মধ্যে যে জেনেশুনে শিকার বধ করবে, তার উপর বিনিময় ওয়াজেব হবে, যা সমান হবে ঐ জন্তুর, যাকে সে বধ করেছে। দু’জন নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি এর ফয়সালা করবে-বিনিময়ের জন্তুটি উৎসর্গ হিসেবে কাবায় পৌছাতে হবে। অথবা তার উপর কাফফারা ওয়াজেব-কয়েকজন দরিদ্রকে খাওয়ানো অথবা তার সমপরিমাণ রোযা রাখতে যাতে সে স্বীয় কৃতকর্মের প্রতিফল আস্বাদন করে। যা হয়ে গেছে, তা আল্লাহ মাফ করেছেন। যে পুনরায় এ কান্ড করবে, আল্লাহ তার কাছ থেকে প্রতিশোধ নিবেন। আল্লাহ পরাক্রান্ত, প্রতিশোধ গ্রহণে সক্ষম।
96أُحِلَّ لَكُمۡ صَيۡدُ ٱلۡبَحۡرِ وَطَعَامُهُۥ مَتَٰعًا لَّكُمۡ وَلِلسَّيَّارَةِۖ وَحُرِّمَ عَلَيۡكُمۡ صَيۡدُ ٱلۡبَرِّ مَا دُمۡتُمۡ حُرُمًاۗ وَٱتَّقُواْ ٱللَّهَ ٱلَّذِيٓ إِلَيۡهِ تُحۡشَرُونَ 
তোমাদের জন্য সমুদ্রের শিকার ও সুমুদ্রের খাদ্য হালাল করা হয়েছে তোমাদের উপকারার্থে এবং তোমাদের এহরামকারীদের জন্যে হারাম করা হয়েছে স্থল শিকার যতক্ষণ এহরাম অবস্থায় থাক। আল্লাহকে ভয় কর, যার কাছে তোমরা একত্রিত হবে।
97۞ جَعَلَ ٱللَّهُ ٱلۡكَعۡبَةَ ٱلۡبَيۡتَ ٱلۡحَرَامَ قِيَٰمًا لِّلنَّاسِ وَٱلشَّهۡرَ ٱلۡحَرَامَ وَٱلۡهَدۡيَ وَٱلۡقَلَٰٓئِدَۚ ذَٰلِكَ لِتَعۡلَمُوٓاْ أَنَّ ٱللَّهَ يَعۡلَمُ مَا فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِي ٱلۡأَرۡضِ وَأَنَّ ٱللَّهَ بِكُلِّ شَيۡءٍ عَلِيمٌ 
আল্লাহ সম্মানিত গৃহ কাবাকে মানুষের স্থীতিশীলতার কারণ করেছেন এবং সম্মানিত মাসসমূকে, হারাম কোরবানীর জন্তুকে ও যাদের গলায় আবরণ রয়েছে। এর কারণ এই যে, যাতে তোমরা জেনে নাও যে, আল্লাহ নভোমন্ডল ও ভুমন্ডলের সব কিছু জানেন এবং আল্লাহ সর্ব বিষয়ে মহাজ্ঞানী।
98ٱعۡلَمُوٓاْ أَنَّ ٱللَّهَ شَدِيدُ ٱلۡعِقَابِ وَأَنَّ ٱللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ 
জেনে নাও, নিশ্চয় আল্লাহ কঠোর শাস্তি দাতা ও নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল-দয়ালূ।
আল-মায়িদাকুরআন সূচী
120আয়াত
মাদানীRevelation
96আয়াত

অনুবাদ — আল-মায়িদা 96

সূরা আয়াত 96/120 — আল-মায়িদা المائدة (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আল-মায়িদা শুনুন, আল-মায়িদা অনুবাদ, আল-মায়িদা mp3, আল-মায়িদা pdf. আয়াত 94–98. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না